Author: bangladiganta

  • বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হবেন হাবিবুল বাশার

    বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হবেন হাবিবুল বাশার

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দু’বছর মেয়াদে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। এরপর গত দুই বছর তিনি এই পদে কাজ করেছেন। তবে এখন তিনি আর এই দায়িত্বে থাকতেই আগ্রহী নন। চলতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে লিপু বিসিবিকে একটি চিঠি লিখে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে চেয়েছেন।

    চুক্তি অনুযায়ী, তার মেয়াদ এই মাসেই শেষ হচ্ছে। বিসিবি অবশ্য তার আরও লম্বা সময় ধরে থাকানোর জন্য চেষ্টা করেছিল। তবে পারিবারিক কারণে লিপু দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে স্বস্তির সাথে থাকতে চাননি। এর ফলে খুব দ্রুতই প্রধান নির্বাচকের পদ শূন্য হয়ে যাচ্ছে।

    অদূর ভবিষ্যতে, বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সাবেক নির্বাচক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিসিবি থেকে জানানো হয়েছে, মূলত ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ থেকেই এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

    বর্তমানে, বাশার এই প্রস্তাব পেলে এখনো তা গ্রহণ করতে চাননি। তিনি কিছু দিন সময় চান। তবে তিনি এই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী। অর্থাৎ, শীঘ্রই বিসিবির পরবর্তী প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুল বাশার নিযুক্ত হতে পারেন।

  • বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুট ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুট ওজিল এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

    আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছেছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুট ওজিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার’ এর আধুনিকায়ন এবং একটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছেন। ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজ উদ্দীন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান সহ অন্য অতিথিরা। মিনহাজ উদ্দীন জানিয়েছেন, আগামীকাল তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইফতার করতে যাবেন মেসুট ওজিল।

  • আইসিসি নিশ্চিত করেছে, ২০২৮ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ

    আইসিসি নিশ্চিত করেছে, ২০২৮ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ কি ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে? এই প্রশ্ন উঠেছিল, যখন ভারতের আসরটি এ বছর হয়নি এবং শ্রীলঙ্কার প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল। তবে এখন সবার জন্য স্পষ্ট হলো, বাংলাদেশ এই মহামেডানির অংশ হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যোগদান করবে। আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে, যেখানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে দেশের র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। ব্লুটির জন্য প্রস্তুত হয়েই, বুধবার কলম্বোতে নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের জয় এই সুপার এইটের লাইনআপ চূড়ান্ত করে দেয়। সাথে প্রবেশ করেছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, এই সুপার এইটে থাকা সব দল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০২৮ সালের বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড আয়োজকের দায়িত্ব পেয়ে আগেই নিশ্চিত ছিল। উল্টো দিকে, অস্ট্রেলিয়া এই সুপার এইটে উঠেনি, কিন্তু তারা স্বাগতিক হিসেবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, ২০ দলের এই বিশ্বকাপে মূল টুর্নামেন্টে যোগ দিতে বাছাইপর্বের মাধ্যমে ৮টি দল সুযোগ পাবে। এর মধ্যে ৯টি দল ইতিমধ্যে আশা জাগিয়েছে, র‌্যাঙ্কিং ও স্বাগতিক দেশের ভিত্তিতে। আর বাকি তিনটি দল নির্ধারিত হবে মার্চের ৯ তারিখের র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী। এই সিদ্ধান্তে নিশ্চিত হয়েছে, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বাইরে অন্য কোনো দল এই তিনটি স্থানে স্থান অর্জন করতে পারবে না। এই তিন দেশের র‌্যাঙ্কিং যথাক্রমে ৯, ১০ ও ১২ নম্বর। ফলে, মার্চের মধ্যে কোনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই তিন দেশের র‌্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তন না এলে, তাদের ২০২৮ আসরে নিশ্চিত খেলার সুবিধা থাকবে। এই অবস্থায়, বাংলাদেশের ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখনই নিশ্চিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৮ ক্রিকেটার, কত বেতন পাচ্ছেন জেনে নিন

    বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৮ ক্রিকেটার, কত বেতন পাচ্ছেন জেনে নিন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছরকের কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত চুক্তির আওতায় থাকা ক্রিকেটারদের নাম ও বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছে। এই বছরে মোট ২৮জন ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে স্থান পেয়েছেন। তবে এইবারের চুক্তিতে ‘এ’ ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত নেই, যা আগেও জানা ছিল। প্রথমবারের মতো চুক্তিতে স্থান পেয়েছেন পারভেজ ইমন, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ। আবার কিছু ক্রিকেটার যেমন সাইফ হাসান, নুরুল হাসান সোহান, নাঈম হাসান, শামীম হোসেন চুক্তিতে ফিরেছেন। তবে কোনো ক্রিকেটারই আগের চুক্তি থেকে বাদ যাননি।

    বিভাগ অনুযায়ী কারা কত বেতন পাচ্ছেন, সেটাও জানা গেছে। এ গ্রেডের ক্যাটাগরি (অর্থাৎ উচ্চমানের ক্রিকেটার) হিসেবে রয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, যারা প্রতি মাসে ৮ লাখ টাকা বেতন পাবেন।

    বি গ্রেডে (মধ্যম মানের ক্রিকেটার) রয়েছেন মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, তামিম ও রিশাদ হোসেন। এ ক্যাটাগরির বেতন ৬ লাখ টাকা।

    সি গ্রেডের ক্রিকেটারা (নিম্নমাধ্যমের তালিকা) হলেন সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, জাহিদ মুন্না। এই গ্রেডের বেতন ধার্য করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা।

    প্রতিযোগিতার সব পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ডি গ্রেডের ক্রিকেটাররা (সর্বনিম্ন) রয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাঈম হাসান, তানভীর ইসলাম, হাসান মুরাদ, নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন। এ গ্রেডের বেতন হলো ২ লাখ টাকা।

  • রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে ওজিলের গাড়িবহর দুর্ঘটনার কবলে

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে ওজিলের গাড়িবহর দুর্ঘটনার কবলে

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে জার্মানির সাবেক ফুটবলার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগের অন্যতম কেন্দ্র পৌছানোর পথে গুরুতর একটি দুর্ঘটনায় পড়েন মেসুত ওজিল ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানকে বহনকারী গাড়ির বহর। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া কুতুপালং এলাকায়।

    ঘটনাস্থলে ওজিল বা তার প্রতিনিধি দলের কেউ হতাহত না হলেও, দুর্ঘটনার শিকার হয় একটি অটোরিকশা। জানা গেছে, ওই অটোরিকশাটি বহরের গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশার চালক গুরুতর আহত হন; তবে তার নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

    উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে উচ্চ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক পরিবহনের এই গাড়িবহরটিকে ভিআইপি প্রোটোকল অস্বীকৃতি জানিয়ে একটি মোটরচালিত অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষে পড়তে হয়। এ ঘটনায় অটোরিকশাটির চালক আহত হন এবং সেটি জব্দ করা হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    এর আগেও জানা গেছে, মেসুত ওজিলসহ তার সঙ্গে থাকা তুরস্কের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিকেলে তারা ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সাথে ফুটবল খেলেন এবং সন্ধ্যায় ইফতারেও অংশ নেন।

  • এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বেড়েছে রণতরীর পর

    এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বেড়েছে রণতরীর পর

    আমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনও দূর প্রসারিত। দুটো দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা সম্পন্ন হলেও কোনও ফলাফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যাপক বাড়তি নজর দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫। তবে কেন এই শক্তি প্রদর্শনী, তা এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের মতে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি অনেকগুণ বেড়েছে, যা কেবল একেবারে নজরদারির জন্য নয়, সম্ভবত আরও শক্তিপ্রদর্শনের একটি অংশ। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মার্কিন শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন সহ তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। জানুয়ারির শেষের দিকে এই জাহাজগুলো এই অঞ্চলে গিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এর পাশপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন হয়েছে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। অন্যদিকে, এই শক্তিপ্রদর্শনের উত্তেজনা চলাকালে ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সেনার এই পদক্ষেপকে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা, যদিও ইরান দাবি করেছে এগুলো শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক। তবে অনেকের বিশ্বাস, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিছক পরীক্ষা নয়, বরং একপ্রকার প্ররোচনা। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলার পাশাপাশি, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বৈঠক থেকে ফলাফল স্পষ্ট নয়। আমেরিকা জানিয়েছে, তারা ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দিচ্ছে, আবার ইরান বলছে, ভবিষ্যতের আলোচনায় কোনও বড় অগ্রগতি ঘটেনি। ইরানের দাবি, তাদের সাথে আরও আলোচনা হবে, কিন্তু শীঘ্রই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

  • আল আকসায় প্রথম তারাবি নামাজ আদায় করলেন হাজারো মুসল্লি

    আল আকসায় প্রথম তারাবি নামাজ আদায় করলেন হাজারো মুসল্লি

    মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ফিলিস্তিনেও গতকাল মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে ইসলাম ধর্মের নিযম অনুযায়ী, গত রাতের সন্ধ্যার পর প্রথমবারের মতো তারাবির নামাজ সম্পন্ন করা হয় আল আকসা মসজিদে। এটি ছিল রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ। এই খবর তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

    গতকাল মঙ্গলবার আল আকসায় ইমামতি করেন খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনেহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশকিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, নিরাপত্তার কারণের জন্য বহু ইসরায়েলি পুলিশও আল আকসা চত্বরে মোতায়েন ছিলেন।

    ফিলিস্তিনের গেরাঁ্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইন চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, যা রমজানের শুরুকে চিহ্নিত করে। এই ঘোষণার পরে, ধর্মীয় রীতিনীতির পরিপূর্ণ অনুসারে, সন্ধ্যার সময় হাজার হাজার মুসল্লি আল আকসা মসজিদে জড়ো হন তারাবির নামাজ পড়তে।

    আল আকসা মসজিদ অবস্থিত পূর্ব জেরুজালেমে, যেখানে প্রাচীন সময় থেকে ফিলিস্তিনের রাজধানী বলে বিবেচিত। একসময় এই অঞ্চল ছিল মুক্ত, কিন্তু ১৯৫৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল এই এলাকাটি দখল করে নেয়। এখনো এই দুই দলের মধ্যে বিভাজন রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর থেকে জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েল। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতির পর থেকে কিছুটা শিথিলতা এসেছে।

    আমরা আশা করি, এই পবিত্র রমজান উপলক্ষে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত চালিয়ে যেতে পারবেন। এই ঐতিহাসিক স্থান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়গুলো মনে রাখতে হবে।

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধ্বসে নিহত ১৬

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধ্বসে নিহত ১৬

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনের বিস্ফোরণে трагির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    ঘটনাটি সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনির এক বাড়িতে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, 初তঃ গ্যাস লিকের কারণে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। খবর দিয়া ডন।

    সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ১৮ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    পুলিশের দাবি, এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ হয়েছে গ্যাস লাইনের লিক, যা দিনভর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। এলাকাটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনার খবর নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতের পরিবারে গভীর শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং ঘটনাস্থলের কারণ খতিয়ে দেখতে।

    তথ্য অনুযায়ী, করাচির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া উল হাসান এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ। এই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে উঠে আসে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটকানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছিলেন, তবে আদালত তাকে ৬৫ বছর বয়সের এই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    তবে এটি একমাত্র নয়। একই মামলায় দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবে, বলেও জানানো হয়।

    এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে তার দায়িত্বের সময় ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। ৬১ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী গণমাধ্যমগুলোকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তাছাড়া, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার জন্য দায়ী ছিলেন। তিনি ইউনের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় সদস্য।

    আর এই পুরো ঘটনাবলি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যখন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এর ফলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করে বরখাস্ত করা হয়, এবং পরে ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    সবশেষে, এই ঘটনাক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাবে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনের শাসন পরিস্থিতি আবারো আলোচনায় এসেছে।

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা

    গত নভেম্বরের এক দিনে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাউয়ালপুরে ঘটে যায় তারকা একটি জঘন্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তখন পাঞ্জাব পুলিশ ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) একটি সশস্ত্র দল বাড়ি ঢুকে মা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, পাশাপাশি তাদের তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে অপহরণ করে।

    ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হয় পাঁচজনের মরদেহ। নিহতরা হলেন জুবাইদা বিবির তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), ও আদনান (১৮)—সহ আরও দুজন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্তানের বৃহত্তম মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এর নথিপত্রে তালিকাভুক্ত হয়েছে। জুবাইদা বিবি মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘তারা ঝড়ের মতো বাহাউয়ালপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু নিয়ে যায়।’

    তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা তাদের পিছু পিছু লাহোর পর্যন্ত গিয়েও জেলখানার গেটে পৌঁছালাম, তবুও তাদের খুঁজে পেলাম না। পরের দিন আমাদের ছেলে ও জামাতাদের লাশ পেয়েছি।’

    অভিযোগের ভিত্তিতে তারা আদালতেও গিয়েছিলেন, কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের হুমকির মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার জানিয়েছেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি যে তারা আমাদের পরিবারকে এভাবে হত্যা করবে। তারা কোনও অপরাধী নয়, তারা ছিল খেটে খাওয়া মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।’

    ২০৫৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত হয় সিসিডি, যার লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবে সংগঠিত অপরাধ ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেছিলেন, ‘আমরা চাই সব অপরাধ দূর করে একটি নিরাপদ পাঞ্জাব গড়ে তুলতে।’ তবে, বাস্তবে দেখা যায়, সিসিডি কার্যক্রমের নেপথ্যে অলিখিত অনুমোদন ও এক ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। প্রেস ট্রাস্টের রিপোর্ট অনুসারে, গত ৮ মাসে পাঞ্জাবে নিখোঁজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯২৪ জনের বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে।

    সিসিডি গঠনের পরে থেকে শুরু হয় এই নির্যাতনের কল্পনা। এই বাহিনী, নির্মিত হয় মূলত অপরাধ দমন ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল হতে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এটি অনেক সময় অবৈধ হত্যা ও অপপ্রয়োগের আসরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব পরিস্থিতিতে তারা বিচারহীনতার সুবিধা নিয়ে দিনকে দিন অপরাধের মাত্রা বাড়াচ্ছে।

    প্রাদেশিক বাহিনীটির কার্যক্রম শুধুমাত্র পাঞ্জাবেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই অভিনেতা অন্য রাজ্যে কোনো কার্যক্রম চালায় না।

    বিশ্লেষকদের মতে, এইচআরসিপি’র প্রতিবেদনে বলেছে, এই বাহিনী একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ফারাহ জিয়া, এইচআরসিপির পরিচালক, আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ২০২৪ সালে, যেখানে শুধুমাত্র জানুয়ারি থেকে ডিসেম्बর পর্যন্ত ৩৪১টি such হত্যাকাণ্ডের নিদর্শন পাওয়া গেছে, সেখানে ২০২৫ সালে মাত্র ৮ মাসে ৯২৪টি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা আবশ্যক।’