চুয়াডাঙ্গায় এখন তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে হিমশীতল বাতাস, কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে। সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে জনজীবনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতা মোকাবেলা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস এবং ঘন কুয়াশা সকাল থেকে দিন পর্যন্ত শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে। সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। বাতাসের তীব্রতা এবং প্রবল ঠাণ্ডার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ক্ষুধার্ত ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে শীতের কারণে তাদের কষ্ট আরও বাড়ছে। এর পাশাপাশি, সড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে আসায় জীবনধারা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষজন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তীব্র শীতের ফলশ্রুতিতে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ধান চাষে প্রভাব ফেলতে পারে। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুরা ও বৃদ্ধরা, যেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদানে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। রোগীর চাপ এত বেশি যে, শয্যার অভাব এবং চিকিৎসাকক্ষে বরান্দা ও মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাতিকাটা গ্রামের ইজিবাইক চালক নুর ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছি, কিন্তু ভাড়া পাচ্ছি না। সড়কে উপস্থিতি কম থাকায় আয় কমে গেছে। শীত আর পেটের তাগিদে কষ্টে আছি।” অন্য এক পথচারী আব্দুল হালিম জানান, “শীত এতই তীব্র যে, শরীরে ছয়টি পোশাক পরেও ঠাণ্ডা কমছে না। শরীরের বিভিন্ন অংশ জমে যাচ্ছে আর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।” বৃদ্ধ ভ্যানচালক হাসমত আলি বলেন, “গরম চায়ের সঙ্গে শীতের রাত কাটাতে হচ্ছে। গরীবের জন্য পর্যাপ্ত গরম কাপড় থাকছে না, তাই এখনো পর্যন্ত কোন কম্বল পাইনি।” চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, আকাশ মেঘলা, কুয়াশাচ্ছন্ন ও উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা আরও কিছুদিন থাকতে পারে। তিনি জানান, শীতের মাত্রা আরও কমতে পারে, তাই সূর্যের দেখা মিলাও একদম কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও শীতের দাপট কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
Author: bangladiganta
-

খুবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা সরাসরি http://apply.ku.ac.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে তাদের নিজস্ব প্রোফাইলে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবেন।
মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ০১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে ০৩ জানুয়ারি (শনিবার) পর্যন্ত অনলাইনে তাদের ডিসিপ্লিন পছন্দের ক্রম নির্ধারণ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিসিপ্লিন পছন্দ তালিকা পূরণ না করলে তাদের ভর্তির সম্মতি গৃহীত হবে না। চূড়ান্ত ফাইনাল ফলাফল প্রকাশ করা হবে আগামী ০৮ জানুয়ারি। এরপর ১২ থেকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ৯:৩০ থেকে বিকাল ৫:০০ পর্যন্ত মেধা তালিকা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য আজ ২৯ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম এর নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় চারটি ইউনিটের ইউনিট প্রধানগণ ফলাফল উপস্থাপন করেন। চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও অনুমোদনের পর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী, সকল স্কুলের ডিনগণ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এবং ভর্তি কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অতীতে, গত ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ‘সি’ ইউনিট (কলা ও মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, শিক্ষা এবং চারুকলা স্কুল) ও ‘ডি’ ইউনিট (ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল) এবং ১৯ ডিসেম্বর (শুক্রবার) ‘এ’ ইউনিট (বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুল) ও ‘বি’ ইউনিট (জীববিজ্ঞান স্কুল) এর ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
-

কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বাচিত সরকারকে সবস্তরে সহযোগিতা করার ওপর জোর দেওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিগত সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছিল। এখন আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই অস্থিতিশীলতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি কল্যাণমুখী, সুখী ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠন করা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
-

১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কমার সম্ভাবনা
অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবারও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যা অর্থ উপদেষ্টা অনুমোদন দিলে নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইआरডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে। এখন পর্যন্ত জানা গেছে, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ৯.৭২ শতাংশ। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গড়ে মুনাফার হার ০.৫ শতাংশের কাছাকাছি কমানো হতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, এখনও তার কাছে প্রস্তাবনা পৌঁছায়নি। তবে ব্যাংকাররা বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্প, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে, ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, ক্ষুদ্র বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি মুনাফা নিশ্চিত করা হবে, যেখানে ৭.৫ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের উপর বেশি মুনাফা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বড় অংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা উচ্চ থাকবে, আর বেশি হলে হার কমবে।
দুর্ভাগ্যবশত, গত ৩০ জুন সরকারের ఆదান ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণের সময় গড়ে কিছুটা কম করে ঘোষণা করা হয়, এবং মনে করা হয় যে ছয় মাস পরে নতুন হার নির্ধারণ করা হবে। সেই সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানান, মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি করা হবে।
প্রখ্যাত পরিবার সঞ্চয়পত্র বর্তমানে সবার বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে সরকারি বিনিয়োগের উপর ১১.৯৩ শতাংশ এবং বড় বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রসহ অন্য কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার একই রকম রয়েছে, যেখানে ছোট বিনিয়োগে ১১.৯৮ শতাংশ, এবং বড় বিনিয়োগে ১১.৮০ শতাংশ। এছাড়াও, বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রে হার একইভাবেই রয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকের সংগঠন বিএবি-র চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার মন্তব্য করেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফার কারণে বড় অঙ্কের টাকা সরকারি খাতে চলে যায়, যা ব্যাংকিং খাতে ঋণ বৃদ্ধিতে কোনও প্রভাব ফেলে না। হার কমলে এই অর্থগুলো বেসরকারি খাতে ফিরবে, যা ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার ২৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে। এর predecessor অর্থবছর ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর শেষের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মোট সঞ্চয়পত্র ঋণের পরিমাণ এখন ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
-

সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে বেড়েছে ১৫৭৪ টাকা
দেশের বাজারে গত কয়েক দিনে সোনার দাম আবারও বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫৭৪ টাকা, যা এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। এটি এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সব থেকে উচ্চমূল্য। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সোনার বাজারে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। রোববার থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) থেকে নিশ্চিত করা হয়।
শনিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তা জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর সবচেয়ে মানানসই ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, যা এখন ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা করে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এর ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেকবারের মতো এবারও এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সোনার বাজারে নতুন এক উচ্চতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে, দেশের সব থেকে মানের ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। কোনোনোভাবেই এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে ভবিষ্যতের বাজার পরিস্থিতি প্রত্যাশা করছে। অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামও যথাক্রমে বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের ভরি সোনা ১ হাজার ৫১৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ হাজার ২৮৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১০৮ টাকা, এখন এর মূল্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৪ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ মানের সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকায় পৌঁছিয়েছিল। সে সময় অন্যান্য ক্যারেটের দামও যথাক্রমে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে সোনার বাজারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি বাজারের অনিশ্চয়তা ও চাহিদার সাক্ষ্য বহন করে।
-

রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক ছাড় ঘোষণা সরকার
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে খেজুরের সরবরাহ নিশ্চিত ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের আওতায় বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে সরকার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় চাহিদা ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কে ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং এটি আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এছাড়াও, বাজেট সংশোধনীতে খেজুরসহ অন্যান্য ফলের আমদানির জন্য প্রযোজ্য অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। গত বছর অগ্রিম আয়করে যে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা এ বছরেও আবার কার্যকর থাকবে।
এই শুল্ক ও আয়কর ছাড়ের ফলে রমজানের সময় খেজুরের আমদানি বাড়বে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে খুচরা বাজারে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলেও আশা ব্যক্ত করছে এনবিআর।
রমজানে ইফতারে খেজুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যা স্বাভাবিকভাবেই বাজারে এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তার পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
-

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তিন বিলিয়ন ডলার কিনেছে
চলতি বছরে প্রবাসী আয়ের ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশে। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত ডলার জমা হতে থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্তিশালী হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার সংগ্রহ করছে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকে এবং আর্থিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। শনিবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকগুলোর এক বিশেষ অপারেশনে, তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১১ কোটি ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ডলার কেনাকাটা মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ডলার এর বিনিময় মূল্য ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে একমাত্র এই মাসে তারা ৯২ কোটি ডলার কিনেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্থবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডলার কেনাকাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ডিসেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি। সদ্য সমাপ্ত এই অর্থবছরেও রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সময়ে প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কিনাকাটার উদ্যোগের পেছনে সরকারের hুন্ডি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন স্বস্তিতে আছে। গত নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় মূল্য প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকায় হিসাব করে)।
-

পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মারা গেছেন
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শামশাদ আখতার মারা গেছেন। তিনি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। এশিয়ার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে দেশবাসীর শোক প্রকাশ করেন সকলেই।
শামশাদ আখতার, যিনি নিজে দায়িত্ব পালন করেছেন পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান হিসেবে, তিনি পাকিস্তানের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো পরিচালনা করেছেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার কাঁধে ছিল।
তিনি একজন পরিচিত অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি সততা, পেশাদারিত্ব ও জনকল্যাণে বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, শামশাদ আখতার দেশের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন অর্থনৈতিক নেতাদের একজন, যিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শামশাদ আখতার মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে দেশটির অর্থনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরাও শোক প্রকাশ করছেন।
বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিবসহ তিনি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেছেন।
শামশাদ আখতার হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পড়াশোনা করাচি ও ইসলামাবাদে সম্পন্ন হয়। তিনি পাকিস্তানে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় ও পেইসলি কলেজে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত।
-

পবিত্র কোরআনের আয়াত স্মরণ করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করলেন এনসিপি নেত্রী ডা. মিতু
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই দলের ভিতরে অস্থিরতা চলছে। শীর্ষ নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাসনিম জারাসহ কয়েকজন ইতিমধ্যে দল ত্যাগ করেছেন। কিছু নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে, ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপির যুগ্ম-মুখ্য সংগঠক, পবিত্র কোরআনের আয়াত স্মরণ করে মহান আল্লাহর সাহায্য ও guidance চেয়েছেন। রোববার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেন, “নিশ্চয়ই আমার রব আমার সাথে আছেন। তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।” এই উক্তি হলো সূরা আশ-শু’আরা’র ৬২ নম্বর আয়াতের একটি অংশ, যেখানে হজরত মুসা (আ.) ফিরাউনের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বলেছিলেন, যখন তার সম্প্রদায় ভয় পেয়েছিল। এটি আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস ও ভরসার প্রতীক, যা যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে পথ দেখানোর আশ্বাস দেয়।
-

নওগাঁ-৫ আসনের নির্বাচনে সরে দাঁড়ালেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নওগাঁ-৫ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মনিরা শারমিন। 그러나 তিনি রোববার সন্ধ্যায় তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানিয়ে দিলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী মনোনয়ন ১০ ডিসেম্বর নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক মনিরা শারমিনকে দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তিনি তাঁর ফেসবুক দর্শকদের কাছে প্রকাশ করেন, দলীয় পরিবর্তনের কারণে তিনি নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাক্সক্ষায় গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একমাত্র মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। আগে আমি বিশ্বাস করেছিলাম, এই দল থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আমি নওগাঁ-৫ থেকে মনোনীত হতে পারব। তবে পোস্টের মাধ্যমে তিনি জানিয়ে দেন, দলের সঙ্গে জেএমএফের ৩০ আসনের সমঝোতা এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তুষ্ট। তিনি বলেন, যেহেতু এখন দলের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। তার মতে, তিনি এনসিপির স্বতন্ত্র শক্তিতে বিশ্বাসী এবং দলের প্রতি তাঁর অনুরাগ ও দায়বদ্ধতা অটুট থাকলেও, এখন তাঁর দেশের জন্য ও জনসাধারের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ—গণঅভ্যুত্থান ও দেশের মানুষের পাশে থাকা। মনিরা শারমিন আরও জানান, তিনি এখনও দল থেকে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, ‘এনসিপি কারো একার সম্পত্তি নয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের থেকেও আমার বেশি বিশ্বাস ও ভালোবাসা রয়েছে। আজ পর্যন্ত আমি এমন কিছু বলি নাই বা করি নাই যা দলকে বিতর্কের ঝুঁকিতে ফেলবে। আমি ব্যক্তিগত নৈতিকতা বিক্রি করে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে চাই না। ক্ষমতায় যেতে আমি আগ্রহী নই।’ এই ঘোষণা তার রাজনৈতিক চরিত্র ও স্বাধীনচেতা মনোভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন many pundits।
