Author: bangladiganta

  • দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে লড়াই বন্ধ

    দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে লড়াই বন্ধ

    থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া সীমান্তে চলমান ২০ দিন ধরে তীব্র সংঘাতের পর তারা শেষমেশ দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই লড়াই স্থগিত হয়েছে। শনিবার, চানথাবুড়ি প্রদেশের সীমান্তে থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাপন নার্কফানিট এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী টি সেইহা এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে দুই দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তখন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। দুই মন্ত্রী বলেন, “উভয় পক্ষ অক্ষরে অক্ষরে সম্মত যে, যেখানে সেনারা মোতায়েন রয়েছে, সেই অবস্থানে তারা থাকতে থাকবে, আর কোনো অচেনা বা আরও শক্তিশালী অবস্থানে কোনো স্থানান্তর করবে না।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিবৃতি প্রকাশ করতেই বলেছে, “যেকোনো শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।” রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তিন সপ্তাহের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০১ জন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘর্ষের একটি, যেখানে বিমান হামলা, রকেট ও ভারী কামানের গোলার ভিস্তার মধ্য দিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান কংসিরি বলেন, “আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী দুপুরের পর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং এখনও গোলাগুলির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।” পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় তিনি আশায় আ However, earlier, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভোরে থাই বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে আর কোনও সংঘর্ষের খবর আসেনি। এর আগে, চলতি বছর জুলাই মাসে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্ততায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে সে চুক্তি ভেঙে যায়। বিশ্বস্ত ঐতিহাসিক সূত্র বলছে, এক শতাব্দীরও বেশি আগে ফরাসিরা কম্বোডিয়ার দখল থেকে সরলেও, এরপর থেকে এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সীমান্তের কিছু অংশ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলমান ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে এই বিরোধ সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতিটি ‘আসিয়ান’ পর্যবেক্ষক দলের পাশাপাশি দুই দেশের সরাসরি সমন্বয়ে তদারকি করা হবে। থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নাথাপন বলেছেন, “নীতি নির্ধারিত পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ প্রক্রিয়া চালু থাকবে, যেখানে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতারা হটলাইন মাধ্যমে সংযোগ রাখবেন।” জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের যুদ্ধে ৪৮ জন নিহতের পর, ট্রাম্পের চেষ্টা দিয়ে আবারো সাময়িক বিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে সেই চুক্তি ভেঙে যাওয়ায়, আবার নতুন চুক্তির জন্য আলোচনা চলছিল। কুয়ালালামপুরে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ও তিন দিনের আলোচনা শেষে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়। চুক্তি অনুসারে, যদি পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা এই বিরতি বজায় থাকে, তবে জুলাইয়ে আটকে থাকা ১৮ জন কম্বোডীয় সেনাকে ফেরত দেওয়া হবে। থাইল্যান্ডের এয়ার চিফ মার্শাল প্রপাস সর্নজাইদি বলেন, “যুদ্ধ বা সংঘর্ষ যেকোনো দেশের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। আমি অবশ্যই বলতে চাই, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

  • সৌদি আরবে ভারতীয়দের বহিষ্কার দেশের চেয়েও বেশি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এগিয়ে দেখল সৌদি আরব

    সৌদি আরবে ভারতীয়দের বহিষ্কার দেশের চেয়েও বেশি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এগিয়ে দেখল সৌদি আরব

    গত পাঁচ বছরে সৌদি আরবের মাধ্যমে ভারতীয়দের দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

    রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর অভিবাসন নীতির পরোয়া না করলেও সৌদি আরব এই সময়ের মধ্যে অনেক বেশি ভারতীয়কে বহিষ্কার করেছে। এই বহিষ্কারগুলোর পেছনে মূল কারণগুলো হলো ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে থাকা (ভিসা ওভারস্টে), শ্রম আইন লঙ্ঘন, কাজের অনুমতি না নেওয়া, কাজের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে বা অননুমোদিতভাবে থাকা, পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি মামলায় অভিযোগ থাকা।

    ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং লোকসভায় জানান, মূলত ভিসা বা রেসিডেন্সি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বা অনুমতি না নিয়ে কাজ করলে, শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়োগকর্তার নজর এড়িয়ে পালানো এবং ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলার কারণে ভারতীয়দের বহিষ্কার করা হয়।

    রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় মিশনের তথ্যমতে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় একাধিক ভারতীয়কে সৌদি আরব থেকে ফিরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ৮৮৭৬ জন, ২০২২ সালে ১০২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১৪৮৬ জন, ২০২৪ সালে ৯০৬ জন এবং এ বছর এখন পর্যন্ত ৭১৯ জনকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

    অন্যদিকে, অভিবাসনে কঠোর নিয়ম থাকলেও সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে পাঠানো ভারতীয়দের সংখ্যা অনেক কম।

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে প্রায় ৩৪১৪ ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যদিও এটি গত বছরের চেয়ে বেশি হলেও, এই সংখ্যাটা সৌদি আরবের ফেরত পাঠানো সংখ্যার অর্ধেকেরও কম। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় শহর যেমন হিউস্টন (২৩৪ জন), সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক ও শিকাগোতেও এই ফেরত পাঠানোর সংখ্যা দুই বা তিন অঙ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

  • ভারতে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

    ভারতে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুফতি পরিবারের উদ্বেগ

    জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতি শুক্রবার বলেছেন, ভারত এখন যেন একধরনের ‘লিঞ্চিস্তান’ হয়ে গেছে। তার দাবি, দেশের মধ্যে অসহিষ্ণুতা আরও বাড়ছে এবং বাংলাদেশে লিঞ্চিং বা পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যারা সমালোচনা করছেন, তারাও যদি ভারতে এরকম ঘটনাগুলো শুনে থাকেন, তবুও তারা নীরব থাকছেন। অনলাইন টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ইংরেজি শব্দ “লিঞ্চিং” মানে পিটিয়ে হত্যা। ইলতিজা ‘এক্স’-এ এক পোস্টে ভারতকে সরাসরি আক্রমণ করে লিখেছেন, ‘না ইন্ডিয়া, না ভারত, না হিন্দুস্তান—তোমার নাম এখন লিঞ্চিস্তান।’ এই পোস্টে তিনি ওড়িশায় ১৯ বছর বয়সি এক বাঙালি মুসলিম শ্রমিক জুয়েল শেখের লিঞ্চিং বা পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটির ওপর একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন, যেখানে তাকে “বাংলাদেশি” বলে আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন।

    এমনকি তার মা, দেশটির দল পিডিপির প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতিও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের বিচার ব্যবস্থা গভীরভাবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে নয় এবং এই কারণে অনেক সময় বিচার কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে থাকে। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক রায়ের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

    মেহবুবা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলছি, দেশে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। লিঞ্চিং হচ্ছে। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তার জন্য আমাদের খুবই কষ্ট হয়। তবে যারা এর সমালোচনা করেন, তারা নিজ দেশে এই ধরনের ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী থাকলেও মুখ খুলছেন না। তিনি আরো জানিয়েছেন, গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হিমাচল, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানায় কাশ্মিরি শাল ব্যবসায়ীদের উপর হয়রানির তিনটি ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণপন্থী কর্মীরা তাদের বাধ্য করছেন জোরপূর্বক নির্দিষ্ট স্লোগান দিতে; যদি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে মারধর করতে শুরু করে।

    হাইকোর্টে তার জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) খারিজ হওয়ার প্রসঙ্গে মেহবুবা বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবিত। তিনি তার আবেদনে, বেআইনিভাবে, কাশ্মিরি হাজতিদের জম্মু-কাশ্মীরে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদনের চেয়ে এড়িয়ে গিয়ে বলেছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মেহবুবা মন্তব্য করেন, আমার চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা আদালত বা বিচারব্যবস্থার দায়িত্ব নয়; একজন রাজনীতিবিদের হিসাবে আমার এটা করার অধিকার আছে।

    প্রধান বিচারপতি অরুণ পালি ও বিচারপতি রাসনেশ ওসওয়ালের গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেন, তার আবেদনের মানদণ্ড পূরণ হয়নি এবং আবেদনটি ‘অপ্রমাণিত ও প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত’। আদালত আরও বলেন, এই মামলায় তিনি ‘রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বা নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর পক্ষ নেওয়ার’ জন্য করা হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে হতাশা প্রকাশ করেন মেহবুবা, বলেন, জনগণ যখন সহজেই পিআইএল করত পারছে, তখন একজন রাজনীতিবিদের কেন পারা উচিত নয়। তিনি যোগ করেন, রাজনীতিবিদরা তো মাঠের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকেন। আমি জানি, গরিব পরিবারের মানুষগুলো কীভাবে কষ্টে কাটাচ্ছে, তাদের জন্য আত্মীয়স্বজনের দেখা হওয়া কত কঠিন, আর বাইরের জেলে থাকা অবস্থায় তারা নিজের মামলা লড়তে কাকে বলে।

  • ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই ভোটাররা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে : আজাদ

    ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই ভোটাররা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে : আজাদ

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে এবং সমাজে নীতি ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামি কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং ইসলামী মূল্যবোধে ধ্রুবতুর সমাজ গঠন হোক। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং ইসলাম ভিক্তিক সমাজ গঠনে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ও একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই আসনে তারা দাঁড়িপাল্লার পক্ষেই রায় দেবেন। শনিবার সকালে কোরারার কয়রা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে কয়রা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কয়রা পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক। বক্তৃতা দেন উপজেলা আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, নায়েবে আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সাইফুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজা উদ্দিন, সমিতির উপদেষ্টা লুৎফর রহমান, সুন্দরবন নার্সিং হোমের পরিচালক কামরুজ্জামান টুকু, সহকারী সেক্রেটারি কামরাজ্জামান ও আমিনুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

  • আমি একজন সমাজসেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই: আজিজুল বারী হেলাল

    আমি একজন সমাজসেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই: আজিজুল বারী হেলাল

    বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি সব সময় মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে। আমাদের মূল লক্ষ্য মানবসেবা এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের পাশে দাড়ানো। তিনি আরও বলেন, রূপসা পাড়ের এই অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ আমরা একসাথে মিলেমিশে বাস করি। যদিও রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, তবে আমরা সবাই একই এলাকার সন্তান। আমি এখানে রাজনীতি করার জন্য আসিনি, বরং একজন সমাজসেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতেই চাই।

  • তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা

    তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশের ফেরার মধ্য দিয়ে দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করা জনগণের মাঝে কেটেছে। এই ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে নিরলসভাবে সংগ্রাম করে আসছি, ভোটাধিকার অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছি। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেষ পরিণতি হল ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান, যা স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে এবং ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের উদ্বোধন।

    শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সোনাডাঙ্গা থানার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুপাড়া নূরানীয়া বহুমুখি মাদ্রাসায় খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি মনিরুজ্জামান মনির। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরে সনাতন ধর্মের অনুসারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, যার সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল কুমার বিশ্বাস। সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু মন্ডল এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। রাত পৌনে ৮টায় রূপসা শ্মশানঘাট কালি মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, যেখানে তিনি বলেন, দেশ ও বিদেশের ষড়যন্ত্রকারীরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আবারও সক্রিয় করে তুলতে চাইছেন। তারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়ে গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে রুখে দিতে চায়। আমরা সবাই একসঙ্গে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল ও একরামুল হক হেলাল সহ আরও অনেকেই। বক্তারা দেশের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও ঐক্যের আহ্বান জানান। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • বাংলাদেশের পরিচয়: চিংড়ি ও ইলিশের দেশের স্বীকৃতি ও জিআই পণ্য

    বাংলাদেশের পরিচয়: চিংড়ি ও ইলিশের দেশের স্বীকৃতি ও জিআই পণ্য

    বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মৎস ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) আয়োজিত এই সভায় দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই এ্যাপোচের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের মৎস খাতের উন্নয়ন, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা শ্রীম্প টাওয়ারে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বক্তৃতায় বলেন, ব্যবসা শুধু লাভের জন্য নয়, দেশসেবার অন্যতম মাধ্যম। সরকারি আইনের সাহায্যে এ খাতের সুষ্ঠু উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তিনি আরও বলেন, চিংড়ি শুধুমাত্র একটি ব্যবসা নয়, এটি আমাদের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন আইনে নারীর কর্মসংস্থানসহ এ খাতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ রয়েছে। ফরিদা আখতার ব্যবসায় সততা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন, কারণ চিংড়ির অপ্রত্যাশিত বা ক্ষতিকর উপাদান থাকলে মানুষের স্বাস্থ্য বিপন্ন হয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চিংড়ি ও ইলিশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কারিগরি উন্নয়ন ও মনিটরিং আরও জোড়দার করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ চিংড়ি ও ইলিশের দেশ—এ দুটি পণ্য আমাদের আন্তর্জাতিক পরিচয়সহ জিআই পণ্য। চিংড়ি উৎপাদন আরও বাড়ানোর জন্য হ্যাচারির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগে সরকার প্রাথমিক সাপোর্ট দেবে, একই সঙ্গে আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো হবে। সভায় বিএফএফইএ’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট শেখ কামরুল আলমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ আবদুর রউফ, মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর; মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, বিএফএফইএ’র প্রেসিডেন্ট; মোঃ তারিকুল ইসলাম জহির, সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট; এবং বিএফএফইএ’র পরামর্শক সৈয়দ ইসতিয়াক, যিনি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সকাল-অপরাহ্নে মতবিনিময় সভায় বয়রা এলাকায় মৎস্য পরিদর্শন করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোয়ালিটি ল্যাবরেটরির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা দেশের রপ্তানি ও বাজারের ভিত্তি। সঠিক মানের পরীক্ষায় কোন ত্রুটি থাকলে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে পারে, সেটি সরকারের জন্য সর্বোচ্চ চিন্তার বিষয়। এ ক্ষেত্রে সততা ও পেশাদারিত্বের বিকল্প নেই। এর আগে, উপদেষ্টা রূপসা জাবুসা মোট ফুড প্রোসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড ও খুলনার ঘাগড়ামারী মৎস্য ঘের পরিদর্শন করেন এবং চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যাতে ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারিত হয়।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাইকেল শোরুম থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ব্যবসায়ী আটক

    চুয়াডাঙ্গায় সাইকেল শোরুম থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ ব্যবসায়ী আটক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, গোলা ও অন্যান্য অস্ত্র-সস্ত্রসহ এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে জীবননগর পৌর এলাকার নারায়নপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    জানা গেছে, ক্যাপ্টেন সৌমিক আহমেদ অয়নের নেতৃত্বে এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে জীবননগর থানার মডেল মসজিদের পাশে অবস্থিত গাজী জাহিদের চায়না সাইকেল শোরুমে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানকালে শোরুমের ভিতর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলি, একটি স্মার্টফোন, ১১টি সিম কার্ড ও এক সেট ব্যাটন উদ্ধার করা হয়। একই সাথে শোরুমের মালিক গাজী জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়।

    আটকব্যক্তি গাজী জাহিদ হাসান জীবননগর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহানগর দক্ষিণপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে।

    জোড়া সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার된 অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো অবৈধভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি হচ্ছে। এ বিষয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

    অভিযোগের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

  • দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম হিসেবে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি

    দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম হিসেবে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি

    বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এক تاریخی উচ্চতায় পৌঁছেছে। টানা তৃতীয় দফায় সোনার দাম বেড়ে গেছে। এবার ভরিতে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০ টাকা যোগ হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা দেশের সব চেয়ে বেশি।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এ তথ্য নিশ্চিত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। নতুন এই দাম কার্যকর হবে আগামী সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দর কিছুটা কমলেও, এর ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই উচ্চ দামের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

    এর আগে, ১৫ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় দফায় সোনার দর সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন বাজুস ভরি প্রতি ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দামে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক করেছিল।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দাম হাঁকে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৯ টাকা।

    যদিও সোনার দাম অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েই চললেও, রুপার দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকায়।

    অতিরিক্তভাবে, অন্যান্য ক্যারেটের জন্য রুপার দামগুলো হল: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর ঘোষণা আসছে জানুয়ারি থেকে

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমানোর ঘোষণা আসছে জানুয়ারি থেকে

    অর্থমন্ত্রণালয় এ_month_ জানুয়ারি থেকে আবারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন পাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রস্তাব পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টার স্বীকৃতি পেলেই, নতুন হার কার্যকর হবে। এরপর অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে।

    বর্তমানে, সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে শোনা যাচ্ছে, গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের মতো হার কমানোর পরিকল্পনা ধরা হয়েছে।

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রস্তাব এখনো তার কাছে পৌঁছায়নি। তবে, বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাংকরাও কিছুটা কমানোর দাবী জানিয়েছেন। সরকার সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার বিভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হবে। ছোটো অঙ্কের বিনিয়োগে বেশি এবং বড় অঙ্কের বিনিয়োগে কম মুনাফা ধার্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে উচ্চ হারে মুনাফা দেওয়া হবে, আর এর বেশি বিনিয়োগে হার কম থাকবে।

    গত ৩০ জুন, সরকার তার নিয়মিত মুনাফার হার নির্ধারণ করে, যেখানে গড়ে মাধ্যমিক হারে কমানো হয়। ওই সময়ে, ছয় মাসের ব্যবধানে নতুন হার কার্যকর করা হয়, যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।

    আইআরডি সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান জানান, এই মুহূর্তে মুনাফার হার বাড়বে না বা কমবে—এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে, অর্থ বিভাগের সুপারিশ পেলে পরিপত্র জারি হবে।

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে, এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর পর মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। আবার, ১ জুলাইয়ের আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশেরও বেশি।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বড় বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের জন্য এই হার যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮৩ ও ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এছাড়াও, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে কম বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে মুনাফা দেয়া হচ্ছে। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের মেয়াদি হিসাবেও এই একই হার বজায় রয়েছে।

    তবে, কোনো পরিবর্তন হয়নি ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং সাধারণ সঞ্চয় ব্যাংকের হিসাবের মুনাফার হার।

    অন্যদিকে, ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের উচ্চ মুনাফার কারণেই বড় অঙ্কের অর্থ সরকারির হাতে চলে যায়। হার কমলে, এ অর্থ ব্যাংকিং খাতে ফিরে আসবে, ফলে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    অর্থবছর ২০২৫-২৬ এর প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সরকারি সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে বাংলাদেশ মোট ২৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহ করেছে। এর আগের অর্থবছর (২০২৪-২৫) এ চিত্র ছিল ঋণাত্মক, প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবর মাস শেষে, সরকারের মোট সঞ্চয়পত্রের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।