Blog

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস শুরু করে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের প্রতি সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কাউন্সিল বা চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা থাকলেও, আজ থেকেই এ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে তারা।

    রপ্তানির সাম্প্রতিক ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একেকটি পণ্য নির্ভরশীল। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হলে রপ্তানি পণ্য বিচিত্র করতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়াও সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে আছেন। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরো খুবই কম, ভুল হওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতি দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও এর পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের কাছে রয়েছে, আবার পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় পণ্যও রয়েছে। এ কারণে বাজারে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে জানান তিনি।

    রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রশ্নে, তিনি জানান, তিনি শুধু কথা বলতে চান না, কাজে দেখাতে চান। বলেন, আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।

    প্রথমে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। মানুষ মাসের শুরুতেই বেশ বড় পরিমাণে বাজার করে নেয়, এটি খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, এ প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের ওপর মন্তব্য করে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসে না। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগের শর্ত পূরণ হয় না। তিনি আরও জানান, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরোনো না গেলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রমজানের শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, রমজান আগে থেকেই একটা বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে, এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এটি ব্যক্তি বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের প্রশ্ন। এ জন্য সরকারকে সবাইকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। ভুল হলে তা ধরিয়ে দিতে সবাইকে অনুরোধ করেন, বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। সম্প্রতি কাঁচা পাটের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে অনেক মিল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলো আর্থিক লোকসানে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন প্রায় দেড় মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কাঁচা পাটের সংকটের কারণে তারা কাজে যোগ দিতে পারছেন না। একই পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য মিলগুলোতেও। কিছু কিছু মিল সীমিত আকারে কাজ চালিয়ে গেলেও বেশিরভাগই কার্যক্রম বন্ধ বা স্থবির। শ্রমিকরা মনে করছেন, এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, পঁচিশ দিন ধরে তিনি মিলের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। কাঁচা পাটের অভাবে মিল চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যদি এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে যায়, তাহলে তিনি হয়তো নতুন কোনো কাজ খুঁজে পাবেন না। অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, আগে মিলের কাজে প্রতিদিন শ্রমিকরা ২ টাকা আয় করতেন, এ বছরের প্রথম দিকে মিল চালু ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেড় মাস ধরে তারা কাজ করছেন না, আর মালিক যদি নিজেদের বেঁচে থাকেন, তবে শ্রমিকদের বাঁচানোর আশা কতটা! তিনি বলেন, কাঁচা পাটের এই সংকট দূর করতে দ্রুত সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

    মিল মালিকদের মতে, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের মূল্য মণপ্রতি প্রায় ৩২০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা দরে পৌঁছেছে ৫২০০ টাকা, অর্থাৎ দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। এতে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মোল্লা জানান, বেশি দামে পাট কিনে মিল চালানো এখন অসম্ভব। আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতেন ৮০ টাকায়, সেখানে এখন পাটের দাম ৫২০০ টাকা, এবং উৎপাদন খরচ এক বস্তার জন্য ১২০ টাকারও বেশি। তবে বিক্রির মূল্য মানছেন না, ফলে মিলে কার্যক্রম বন্ধ।

    শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বছরের কাঁচা পাটের উৎপাদন গত বছরের মতোই ছিল, কিন্তু দাম বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট রচনায় সক্রিয় হয়েছেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে মোট পাটের উৎপাদন প্রায় সমান। তবে ব্যবসায়ীরা মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে তোলায় দাম বাড়ছে।

    বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, সরকার যেন বাজারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, ভর্তুকি বাড়িয়ে এবং তদারকি জোরদার করে এই সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা পাট মজুত করে রেখেছে, ফলে বাজার অস্থিতিশীল এবং মূল্য বাড়ছে। ব্যাংক ঋণের জন্য যেখানে সুবিধা কম, সেখানে সরকারের উদ্যোগ বাধ্যতামূলক বলে মনে করছেন তারা।

    পাট অধিদফতর থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, একজন আড়তদার বা ডিলার মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, এবং বেশি মজুত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, যার ফলে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগই বিদেশে রফতানি হয়। কিন্তু বর্তমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রফতানিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আপশোস প্রকাশ করেছেন।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের রাজনৈতিক নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য আরও বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই বাংলাদেশে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি ডলার)। আশা করা যাচ্ছে, এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে মাসশেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে বাড়তি খরচ ও পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতির কারণে প্রবাসীরা পরিবারের খরচ চালানোর জন্য বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার এসেছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল মার্চ মাসে যেখানে ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, মূলত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে।

    সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক আয় বিশ্লেষণে দেখা যায়– জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সমান সময়ে তুলনায় ২২% বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতির হিসেব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি বাড়তে শুরু করে। ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে গেছে। এছাড়া, ব্যাংকিং চ্যানেল দিয়ে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা আরও বেশি করে বৈধ পথে অর্থ পাঠাচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা দিয়েছে যে তারা দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছেন। এখন থেকে প্রতি ভরি সোনা বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এর ফলে, উন্নত মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন বেড়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দাম সেই সময় থেকেই কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্যগত বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে এর দাম সমন্বয় করে বাড়ানো হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি মূল্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    একইসাথে, সোনার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের একটি ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    বিশ্ব বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার দামের ঊর্ধ্বমুখী тенденা চলছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ডলার মূল্য ছিল ৫ হাজার ২০০ এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    উল্লেখ্য, গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ করে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে। ২৯ জানুয়ারির সকালে এক ভরি স্বর্ণের মূল্য ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চ মূল্য। এর ফলশ্রুতিতে, আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে উচ্চতর দামে পৌঁছেছে দেশের স্বর্ণের দাম।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বেড়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, যা আগে ছিল অনেক কম। এটি দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার সোনার দাম বৃদ্ধি পেল।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এই ঘোষণা দেয়। নতুন মূল্য এখন থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের দাবি, দেশের বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিপ্রেক্ষিতে সোনার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দরে, ২২ ক্যারেটের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। তবে এই মূল্যগুলোর সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মান ভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

    চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে এবং ১২ দফায় কমেছে। গত বছর (২০২৫) মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার কমেছিল।

    অপরদিকে, সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রয়মূল্য ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বাড়ে এবং ৭ বার কমে গেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং ৩ বার কমে যায়।

  • ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন

    ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিসে পতাকা উত্তোলন

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঠিক উৎসবের সময় জামালপুরের বকশীগঞ্জে বগারচর ইউনিয়ন এলাকায় নাটকীয় ঘটনায় দেখা গেছে। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। তারা এই অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করেন।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই ঘটনা ঘটেছে দলীয় কার্যালয়ের সামনে, যেখানে তারা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। এই সময় তারা ভাষা আন্দোলনে শহীদদের জন্য বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পতাকা উত্তোলন ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সক্রিয় নেতাদের সমর্থন ও নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

    পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল, ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।

    তবে পতাকা উত্তোলনের পরে নেতাকর্মীরা দ্রুত কার্যালয় থেকে সটকে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগারচর ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মহল এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছেন।

    বিশেষ করে, গণঅধিকার পরিষদের বকশিগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দিয়ে আনন্দ উদযাপন করে। এর জন্য দায়ী আওয়ামী রাঘববোয়ালদের বিচারে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে এইসব নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দোষীদের গ্রেফতার দাবি করেন। না হলে ছাত্রজনতা উপযুক্ত জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি রীতিমতো তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ও নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

  • হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    হৃদরোগে আক্রান্ত সেলিমা রহমান, হাসপাতালে ভর্তি

    রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বর্তমানে হাসপাতালটির সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়েছে। ওই পোস্টে জানানো হয়েছে, সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। সেলিমা রহমান ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তৎকালীন বিএনপি সরকারে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং ভাইস-চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, এমনকি কয়েকবার কারাভোগও করতে হয়েছে তাকে।

  • আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলতে শুরু করেছেন। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা আর সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেছেন, সরকারের সঙ্গে এই কার্যালয় খোলার কোনো অনুমোদন নেই। তিনি জানান, বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই কথা বলেন তিনি। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর, তিনি প্রথমবারের মতো দলের কার্যালয় পরিদর্শনে যান।

    এ সময় মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই কার্যালয়েই তিনি প্রয়াত নেত্রীর সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন। তাঁর স্মৃতি স্মরণ করে দোয়া ও মাগফেরাত কামনা করেন।

    ফখরুল স্বীকার করেন, সরকার ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় অনুমতি দেয়নি, কারণ আইনগতভাবে দলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। তিনি মনে করেন, তার নেতৃত্বে দেশ নতুন সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখছে এবং দল ও সরকার একসঙ্গে সুসংগঠিত ও সফল হবে।

    মির্জা ফখরুল গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ ইতিহাসে লেখা থাকবে।

    নির্বাচন নিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য মন্ত্রণালয়ের কিছু নিয়ম রয়েছে, সেগুলো শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, দলের সদস্য নারীদের মনোনয়নও দেওয়া হবে।

    এ সময় বিএনপি নেতা মুনির হোসেন ও মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি বাড়ালেন

    সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি বাড়ালেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক, সারজিস আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায়, এনসিপির দপ্তর সেল থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়।

    অংশ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সদস্যসচিব হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া অন্য সদস্যরা হলেন আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ এবং অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। সব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকগণ এক্স-অফিসিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটিকে সার্বিক সহায়তা দেবেন, তা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বলেছেন, “সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন—যাঁরা প্রার্থী হতে চান, প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে।” তিনি আরও জানান, এই কমিটির দ্রুত কার্যক্রম শুরু ও প্রার্থী সন্ধানের উদ্যোগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিকে ত্বরান্বিত করবে।

    এভাবে, দলের এই উদ্যোগ নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক ও জোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক ও জোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এখনই ঘোষণা করছে যে, তারা বেশিরভাগ আসনেই এককভাবে প্রার্থী দিতে প্রস্তুত, তবে প্রয়োজন হলে তারা দেশের স্বার্থে অন্য দলগুলোর সাথে জোট গঠিত করে নির্বাচনে অংশ নেবে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদের পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বিভিন্ন সাংগঠনিক অঞ্চলে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই করবেন। বর্তমানে দলটি এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ১১ দলের জোট যদি একত্রে অংশ নেয়, তবে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হতে পারে।

    সারজিস আলম বলেন, “আমরা আশা করছি যে, প্রত্যেক স্থানেই আমরা এইবার এককভাবে প্রার্থী দেব। এখনো পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, আমরা এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেব। তবে শেষ মুহূর্তে যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সবাইকে বসে বৃহৎ স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের আশা, সাংগঠনিকভাবে কোনো সমস্যা হবে না।”

    অপরদিকে, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বললেন, “এবার আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন থাকবে না। সবাই ব্যক্তিগত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে। এনসিপি তাদের নির্ধারিত প্রার্থীদের সাথে সাংগঠনিক সমন্বয় করবে, যেগুলো নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নির্ধারণ করবে।”

    সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্র থেকে নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও আগ্রহী ব্যক্তিরাও যোগাযোগ করতে বলা হয়।

    সারজিস আলম উল্লেখ করেন, দেশের সময়ের অভাব ও শেষ মুহূর্তের জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে এনসিপি প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    তথ্যপ্রবাহে, আসিফ মহম্মদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদ উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তিনি দাবি করেন, এই ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদই শেষ হয়ে গেছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময় পার হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান।

    সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের নিন্দাও প্রকাশ করেন এনসিপির নেতারা। তারা বলেন, যৌক্তিক দাবি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংরক্ষিত সাংবিধানিক অধিকার। এগুলো হরণ হলে বিশৃঙ্খলা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি দেখা দেবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।