বিশ্বকাপ ফাইনালের এক টিকিট প্রায় ২৫ কোটি, চারটির দাম ১০০ কোটি ছাড়িয়ে

আরও কয়েক মাস অপেক্ষা—ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ মাঠে গড়াতে যাচ্ছে এবং গ্যালারিতে খেলা দেখার উন্মাদনা তুঙ্গে। কিন্তু ফাইনাল ম্যাচের পুনর্বিক্রয়ের (রিসেল) তালিকা দেখে অনেক ফুটবলপ্রেমীর চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে।

সিএনএন–এর প্রতিবেদনে জানা যায়, আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দেখার জন্য ‘‘ক্যাটাগরি-১’’ বিভাগের কয়েকটি আসন পুনর্বিক্রয়ে উঠেছে। এসব আসন লোয়ার ডেকের একেবারে উপরের সারিতে, গোলপোস্টের ঠিক পেছনে এবং এক্সিট পয়েন্টের কাছে—অর্থাৎ ভিউর দিক থেকে আকর্ষণীয় অবস্থান। একেকটি টিকিটের দাম তালিকাভুক্ত হয়েছে ২,২৯৯,৯৯৮.৮৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার মতো। ফলে চার বন্ধু মিললে একই সেকশনের চারটি টিকিট পেতে বিল দাঁড়াচ্ছে ১০০ কোটি টাকারও বেশি।

রিসেল তালিকায় একই দামের আরেকটি টিকিট দেখা গেছে, তবে সেটি ‘‘ক্যাটাগরি-৩’’—স্টেডিয়ামের উর্ধ্বতন ডেকের গোলপোস্টের পেছনের অংশে। অন্যদিকে, ওই ক্যাটাগরি-১ আসনের ঠিক দুই সারি সামনের কিছু টিকিট পুনর্বিক্রয়ে তুলনামূলকভাবে কম দামে—প্রায় ১৬ হাজার ডলারের একটু বেশি। মাঠের আরও কাছাকাছি কিছু টিকিটও দেখা যাচ্ছে ২৪ হাজার ডলারের মতো মূল্যে।

ফিফার নিজস্ব রিসেল প্ল্যাটফর্ম—‘‘রিসেল মার্কেটপ্লেস’’—এ এসব টিকিট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম যেখানে টিকিটধারীরা তাদের টিকিট অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারেন। তবে এখানে টিকিটের চূড়ান্ত মূল্য ফিফা নির্ধারণ করে না; বিক্রেতারাই দাম ঠিক করে দেন। প্রতিটি লেনদেন থেকে ফিফা উভয় পক্ষ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কেটে নেয়।

ফিফার এক মুখপাত্র সিএনএন স্পোর্টসকে বলেছেন, রিসেল মার্কেটপ্লেস সমর্থকদের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করে এবং প্রযোজ্য ফি উত্তর আমেরিকার ক্রীড়া ও বিনোদন খাতের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্ল্যাটফর্মটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত, যদিও স্থানীয় নিয়মের কারণে মেক্সিকোর নাগরিকরা গায়ের দামের চাইতে বেশি দাবি করতে পারবেন না।

এই মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে ফাইনাল ম্যাচের সাধারণ টিকিটগুলোর সর্বনিম্ন পুনর্বিক্রয় মূল্য প্রায় ১১ হাজার ডলার। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সংরক্ষিত টিকিটগুলোর ন্যূনতম দাম পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার ডলারে। এদিকে, ফিফা সম্প্রতি তাদের অফিশিয়াল সাইটে ফাইনালের নতুন কিছু টিকিট ছেড়েছিল, প্রতিটির আনুপাতে মূল্য ছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার।

বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে ‘‘সাশ্রয়ী’’ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও এই রিসেল দামের উত্থান সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শুধু টিকিটের মূল্য নয়—টুর্নামেন্ট চলাকালীন ভ্রমণ ও আবাসনের খরচও অনেকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফিফা আশা প্রকাশ করছে যে আয়কৃত অর্থ ফুটবল উন্নয়নের কাজে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে, এবং রিসেল প্ল্যাটফর্ম সমর্থকদের জন্য সহজ ও নিরাপদ বাজার হিসেবে কাজ করবে। তবু অনেক দর্শক এখনও ভাবছেন, বিশ্বকাপ উপভোগ করা কি আর তাদের জন্য এতটাই দূরসাধ্য হয়ে পড়েছে কি না।