তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ওয়ানডে জিতে ১-০ এগিয়ে থাকলেও পরের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজটা হারতে হল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কা লক্ষ্য তাড়া করে ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়, জয়ের জন্য তাদের কাছে ছিল ২১ বল ও সাত উইকেট।
রাজশাহীতে টসে জেতা বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১৩ রান সংগ্রহ করে। দলের সর্বোচ্চ একক ইনিংস ছিল সোবহানা মোস্তারির ৮০ বলের ৭৪ রান। শুরুটা ভালো হয়েছিল দুই ওপেনার ফারজানা হক ও শারমিন সুলতানার ব্যাটে, কিন্তু সেই প্রাণবন্ত শুরুকে বড় ইনিংসে বদলে দিতে পারেননি তারা—ফারজানা ফিরেছেন ১১ রানে, শারমিন ছেড়েছেন ১৭ রান করে রান আউট।
৩৪ রানে দুই ওপেনার ফিরে গেলে দলের দায়িত্বে নামেন শারমিন আক্তার ও জ্যোতি। দুজনের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দল হাল ধরেও ইনিংস বড় করার লড়াইটা কঠিন ছিল—শারমিন করলেন ৩৬ বলে ২৫, সড়স্ত্যটা ধরে রাখলেন অধিনায়ক যিনি ৯০ বলে ৪০ রান করেন। জ্যোতির ইনিংসে প্রচুর ডট বল ছিল, যার প্রভাব পড়ে দলের রানরেটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণ বাড়িয়ে সোবহানা সফল হন; ৬০ বল খেলে তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করে ৮০ বল থেকে ৭৪ রানে ব্যাটসম্যানি শেষ করেন। শেষদিকে রিতু মণি ১৬ বলে ২০ রানের দুর্দান্ত ঝটপট ইনিংস খেলেছেন।
জবাবে শ্রীলঙ্কা রান তাড়া করতে নেমে দলের ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারায়; শুরুতেই অধিনায়ক চামারি আতাপাতু ১০ রানে সাজঘরে ফিরে যান, উইকেটটি তুলে দেন সোবহানা মোস্তারিকে। প্রথম ধাক্কা সামলিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে সুচারুভাবে জুটি গড়েন ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি; তারা মিলিয়ে ১০৮ রানের বড় জোট গড়ে জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন। দুলানি ফিফটি পূরণের পর ৫৬ রানে থামে।
তৃতীয় উইকেটে নামা হারশিথা সামারাবিক্রমা এবং হাসিনি পেরেরা ৭৮ রানের জুটি করে। হাসিনি সেঞ্চুরির সুযোগ থেকে মাত্র পাঁচ রানে থেকে যান—ব্যক্তিগত ৯৫ রানে তিনি সোবহানা মোস্তারির করা বলে রাবেয়া খানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এরপর সামারাবিক্রমা ৪৪ ও হানসিমা অপরাজিত ২ রানে থেকে দলকে কঠিন লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।
বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার নেন সর্বোচ্চ দুটি উইকেট, আর সোবহানা মোস্তারি নেন একটি উইকেট।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার কাছে শেষ হয় আত্মবিশ্বাসী জয়ে: নির্ধারিত লক্ষ্য তাড়া করে তারা ২১ বল হাতে রেখে এবং সাত উইকেট হাতে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেয়।
