Blog

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে মন্তব্য করেছেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে সংসদে মন্তব্য করেছেন মনিরুল হক চৌধুরী

    বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত এবং এনসিপি বিষয়ক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরও একসময় একটি মেধাবী শ্রেণি উপস্থিত হয়েছিল, যারা জাসদ গঠন করেছিল। কিন্তু বাড়াবাড়ি করে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। আমরা যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক পাই।’’

    মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘৯১ সালের সংসদে আমি আপনারা—আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের নেতৃত্বে। যখন আপনারা প্রশ্ন তোলেন, মনে হয় এই দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি নেই। কিন্তু দেশনেত্রী অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছেন। রাজনীতিকে যেখানে নিয়ে এসেছেন, তার পেছনে তার অবদানও একটু স্মরণ করবেন।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘‘একসময় জাসদ মনে করত আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ—এভাবে ইতিহাসকে বিবেচনা করার মতো বুদ্ধি-বিদ্যা প্রত্যেকের আছে।’’

    পিছনে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিও প্রকাশ করেন। ‘‘আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম। আজ যারা বিরোধী, তাদের আমি এখনও পুরোপুরি চিনি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বলেছিলেন ‘কঠিন নির্বাচন’, অনেকেই তখন বুঝতে পারেননি; আমি তখন বুঝেছিলাম। পরে নির্বাচন করতে গিয়ে বুঝেছি আমরা সত্যিই কঠিন নির্বাচন পেরেছি।’’

    মনিরুল হক বলেন, ‘‘এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকেই। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা এখনও জীবিত, তাদের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হোক—মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদি অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে, তার এক আলাদা আলোচনা আছে।’’

    শেষে তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এবং এনসিপিসহ তরুণ নেতাদের মন্তব্যে বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর বা এনসিপির মতো অংশগুলোর নেতারা বয়সে ছোটও হতে পারেন, তবু আমি তাদেরই সম্মান করি—কারণ তারা সাহসী সন্তান, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এগিয়ে আসে।’’

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বাড়লো ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এটি নিশ্চিত করেছেন।

    গত কয়েক বছরে দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ বহন কমে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা ও ব্যবহার প্রসারিত হওয়ায় এই খাতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো এবং আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী নিয়মাবলী হালনাগাদ করা প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পুরনো নীতিমালা সংশোধন করে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান ও নগদবিহীন লেনদেনে স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহক যোগ্যতার মানদণ্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্য গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    নতুন নির্দেশনার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো। আগের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লাখ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। অনিরাপদ ঋণের (non-secured) সীমাও ১০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া গ্রাহক অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং কার্ড লেনদেনের পরিশোধে সৃষ্ট জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নির্দেশনা সংযোজিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ গ্রাহক সেবার মান বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রিত।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, হালনাগাদ গাইডলাইন প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড সেবা আরও বিশ্বস্ত ও সুসংগঠিত হবে এবং গ্রাহকের অধিকার ও নিরাপত্তা শক্তভাবে রক্ষা পাবে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম তদন্তে দুদক

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম তদন্তে দুদক

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (১৫ মার্চ) থেকে এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি এবং উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় তিনি যখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবু শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজ কেনার কারণে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলেই দুদকের তথ্য।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দের সঙ্গে জড়িয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পের দুর্নীতি ও প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে বরাদ্দের মিল না মেলাকে কেন্দ্র করে তদন্ত দলের দৃষ্টি সন্নিবেশ করেছে।

    দুদক জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অনুসন্ধান কমিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে রিপোর্ট দেবে এবং প্রয়োজনে আরও তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    দুদকের এই পদক্ষেপটি বন্দর ও শিপিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সম্পদের অনুকূল ব্যবহার নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্ররা জানিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া ও ফলাফল সম্পর্কে দুদক পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে।

  • ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

    ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

    ইরানের পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী গোপনভাবে বিদেশী সংবাদমাধ্যম ও প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তথ্য গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান।

    রাদান বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫০ জনকে বিশেষভাবে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার তালিকায় কিছু সময়ের জন্য ছদ্ম-অপরাধী কার্যক্রম চলাচলকারী আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যক্তি তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা-উসকানি ছড়াতে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে ভূমিকা রেখেছে।

    ইরান ২০২২ সালে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান অভিযোগ করে যে এই চ্যানেলটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকানি দেয় এবং সরকারবিরোধী প্রপাগান্ডা চালায় — তবে এসব অভিযোগ ইরান ইন্টারন্যাশনাল পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করে আসছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক কूटনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ধারাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেহরান ব্যাপকভাবে আলোচনায় নেমেছিল; দুই পক্ষের সংলাপ গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এবং কোনো সমঝোতা ছাড়া বন্ধ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘‘অপারেশন এপিক ফিউরি’’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’’ নামে কার্যক্রম চালায়।

    উত্তেজনার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে, যা এখনও চলছে—ইরান-মেডিয়া ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইরানে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি

  • ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব দেশ

    ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যেসব দেশ

    ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার ওই আহ্বানে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ প্রকাশ্যে সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে লিখেছেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ এই সংকটের প্রভাবিত হতে পারে, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে মিল করে হরমুজ প্রণালে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এনবিসিকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প যে দেশগুলোর নাম নিয়েছেন তাদের কয়েকটির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তিনি আশাবাদী যে চীন প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। তবু এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সরাসরি নৌবাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

    চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেঙ্গু বলেন, জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব এবং উত্তেজনা কমাতে বেইজিং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করবে।

    অন্যদিকে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তাদের সামরিক বাহিনী প্রণালির কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়। ইরান জানিয়েছে, তাদের দৃষ্টিতে প্রণালিটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ছাড়া অন্য দেশগুলোর জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন টেলিভিশন সিবিএসকে বলেছেন, নিরাপদে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে কয়েকটি দেশ তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রমনিয়াম জয়শংকর বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ফলে শনিবার দুইটি ভারতীয় পতাকাবাহী গ্যাসবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। তিনি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনাই ভারতের পছন্দের পথ।

    এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পরও অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান স্পষ্ট রেখে তাদের দেওয়া সামরিক সহায়তার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিমান সরবরাহ করাও রয়েছে। জাপানও একইভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালে তেলবাহী জাহাজগুলোর পাহারাদিতে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই।

    সংক্ষিপ্ত সময়ে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক চেষ্টার তীব্রতা বেড়েছে। কিন্তু এখনও বিশ্ব শক্তিগুলো মিলিতভাবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।

  • জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক: উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক: উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে

    খুলনা জেলা পরিষদে নবনিযুক্ত প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীর দায়িত্ব গ্রহণকালে বক্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসক নিয়োগের ফলে জেলা পরিষদের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত গতি লাভ করবে এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

    সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে খুলনা সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা পরিষদগুলো সচল করতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ ঈদের আগে গুরুত্বপূর্ন বার্তা দিয়েছে এবং খুলনা জেলায় উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে নিজেও সিটি করপোরেশনে দায়িত্ব পেয়েছেন; এখন মিলে খুলনা মহানগরী ও জেলার মানুষের কল্যাণে কাজ করবে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা।

    নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী দায়িত্ব গ্রহণপূর্ব বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ স্বৈরশাসন-পীড়নের পরে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সরকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে স্থবির হয়ে পড়া জেলা পরিষদকে সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিচালনা করে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মনিরুল হাসান বাপ্পী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে খুলনা জেলা পরিষদ দুর্নীতির কবলে পড়ে ছিল, সেখানে নিয়ম-নীতি কার্যকর ছিল না। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন—দুর্নীতিবাজদের কোনো ঠাঁই থাকবে না, জেলা পরিষদকে জনকল্যাণমুখী ও স্বচ্ছ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান করা হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করবেন।

    দায়িত্ব হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান এবং জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু।

    অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাদের পরিবারসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে ও ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিবেদিত প্রাণদের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া আয়োজিত হয়। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু—এবং দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী। খুলনা জেলার নয়টি উপজেলা ও দুই পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকরা আনন্দঘন পরিবেশে অংশ নিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা দেন। খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আলি আসগর লবির পক্ষেও ফুল তুলে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী তাঁর অফিস কক্ষে বসে আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন এবং জনগণের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার জন্য কার্যক্রম প্রশাসনিকভাবে মনিটরিং ও বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। তিনি জেলাবাসী ও দলের কর্মীদের সহযোগিতা চান এবং উন্নয়ন ও সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথাও জানান।

  • চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ‘ডিবি’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ২ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ‘ডিবি’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ২ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ডিবি পুলিশের পরিচয় প্রদর্শন করে সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে দুই ভুয়া ডিবিকে স্থানীয়রা আটক করেছেন। পরে তারা গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের চেংড়িখালী ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে। স্থানীয়রা জানান, কিছু লোক নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন সুজুকি মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যান থামিয়ে নগদ টাকা আদায় করছিলেন।

    সন্দেহ হলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে ঘিরে ধরে; তখন তারা ডিবি লেখা জ্যাকেট পরে ছিল। এক পর্যায়ে গণধোলাই দিয়ে দুইজনকে আটক করে এলাকাবাসী পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনাস্থল থেকে আরও ২-৩ জন সহযোগী পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

    আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে—ঝিনাইদহ জেলা গাবতলা পাড়ার আক্কাস আলীর ছেলে আহাদ (৩৫) এবং কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়ার ইউসুফ আলীর ছেলে রিজভী সালমান (২৯)।

    জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান শেখ জানান, ওই দুইজনকে বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা নিচ্ছেন বলে আটকের পর থানায় রাখা হয়েছে। ঘটনায় পলাতক অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় একদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিব্র প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ; শেষ পর্যন্ত ১১ রানে জয় পেয়ে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলো টাইগাররা। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তানের সামনে ২৯১ রানের লক্ষ্য রেখে দেয়।

    টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটিং ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে। উন্মুক্ত শুরুতেই দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নেন; মাত্র ১৭ রানে হারায় সফরকারীরা তাদের প্রথম তিন উইকেট। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান, পরের ওভারে নাহিদ মাজ সাদাকাতকে বাইরে পাঠান এবং নিজের দ্বিতীয় ওভারে রিজওয়ানকেও ফেরান।

    দলকে বিপদ থেকে টেনে তুলতে একাই লড়াই করেন সালমান আলি আগা; সঙ্গে ছিলেন সাদ মাসুদ। তারা আচমকা ভাঙাচোরা অবস্থায় ইনিংসকে দায়িত্বশীলভাবে সামলান এবং পাকিস্তানকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান। কিন্তু শেষের দিকে তীব্র উত্তেজনায় পাকিস্তান পুরো শেষ রূপটা কাজে লাগাতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত ১১ রানে হারতে হয়। মুস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ ওভার করায় আক্রমণকে শক্ত রাখেন।

    বাংলাদেশের বোলিং ঝাঁজাই ছিলেন সবচেয়ে সফল—তাসকিন আহমেদ একাই চারটি উইকেট নেন এবং সামগ্রিকভাবে পেসারদের অবস্থানই ছয় হারের মধ্যে পাকিস্তানকে আটকে দেয়। পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন; আবরার ও শাহীন আফ্রিদি একজন করে উইকেট নেন।

    এ ম্যাচটি দিয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টানা জয় করার রেকর্ডও গড়ল। এর আগের বাংলা-পাক দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ ছিল ২০১৫ সালে, যখন বাংলাদেশ সেই সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল।

    ব্যাটিংয়ে বাংলাদশের শুরু অপ্রতিরোধ্য ছিল। টস জিতে পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নেমেই উদ্বোধনী জুটিতে ১০৫ রান জমিয়ে নেয়। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত খেলেন—ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১০৭ রান করে ফেরেন (১০৭ বল; ইনিংসে ৬ চার ও ৭ ছক্কা)।

    উদ্বোধনী সঙ্গী সাইফও ভালো শুরু করেছিলেন; ৫৫ বল খেলে ৩৬ রানে ফিরে যান। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে আউট হন। এরপর লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের সহায়ক জুটি গড়েন; লিটন ৪১ রানে ফেরেন। পরের পর্যায়ে তাওহীদ ও আফিফ মিলে ইনিংস শেষ করেন—তাওহীদ অপরাজিত থাকেন ৪৪ বলের ৪৮ রানে, আর আফিফ অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

    পুরো ম্যাচ জুড়ে নাটক ও প্রতিরোধের মিশ্রণে দর্শকরা আকর্ষণীয় শেষের অপেক্ষায় ছিলেন; শেষ পর্যায়ের টেকসই বোলিংই বাংলাদেশকে সংগ্রহে টিকিয়ে রাখে এবং সিরিজ জয়ের পথে নেতৃত্ব দেয়। ম্যাচ শেষে দলের আনন্দ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো—এক ম্যাচের কনটেস্টে থ্রিল ছিল এবং বাংলাদেশের কৌশলগত আবর্তন সফল হয়ে উঠল।

  • দারুণ ফিরতি: সিরিজ জিতে র‌্যাংকিংয়ে এগল বাংলাদেশ

    দারুণ ফিরতি: সিরিজ জিতে র‌্যাংকিংয়ে এগল বাংলাদেশ

    রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে জোরালো সুরে। ঘরের মাঠে তারা খেলেছে এক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ — সেটি জিতে মাঠে ফিরেই ভালো খবর দিলো জাতীয় দল। একই সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের দৌড়ে র‍্যাংকিংয়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে।

    সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে শুরুটা শক্তভাবে করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশাজনকভাবে হারতে হয়, কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে দারুণ লড়াই করে ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে শিরোপাও মােঁটানো হয় এবং র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি নিশ্চিত হয়।

    আগামী বছরের ৩১ মার্চ র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে কারা সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র‍্যাংকিংয়ে থাকা অন্য শীর্ষ ৮ দল সরাসরি যোগ্যতা পাবে; এছাড়া অন্য একটি স্বাগতিক দল নামিবিয়াও সরাসরি খেলবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকে, তাহলে সরাসরি সুযোগ পাবে সেরা নবম দলও — ফলে বাংলাদেশকে সরাসরি খেলার নিশ্চয়তার জন্য অন্তত সেরা ৯-এর মধ্যে থাকতে হবে। আপাতত ওই অবস্থানেই তারা উঠে এসেছে।

    গত শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পরও র‍্যাংকিংয় ছিল বাংলাদেশ ১০ নম্বরে, রেটিংয়ে ক্যারিবীয়দের সঙ্গে শুধু ১ পয়েন্টের ফারাক ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ে বড়সড় বদল এসেছে — তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলেছে এবং এখন আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে এসেছে।

    সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের রেটিং ছিল ৭৬ পয়েন্ট; ২-১ সিরিজ জয়ে সেটি এখন বেড়ে ৭৯। দুর্গতি হিসেবে ক্যারিবীয়রা এখন ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে নেমেছে। পাকিস্তান সিরিজ হারলেও তাদের অবস্থান চতুর্থেই রয়ে গেছে; তবে তাদের রেটিং ১০৫ থেকে কমে ১০২ পয়েন্টে নেমেছে।

    এই জয়ের ফলে বাংলাদেশ নকআউট রেসে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোতে পারবে। মার্চের র‍্যাংকিং প্রকাশের আগে প্রতিটি সিরিজই এখন আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

  • অরিজিতের পর শ্রেয়াও প্লেব্যাক থেকে অবসরের কথা ভাবছেন

    অরিজিতের পর শ্রেয়াও প্লেব্যাক থেকে অবসরের কথা ভাবছেন

    বছরের শুরুতে প্লেব্যাক থেকে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন জনপ্রিয় গায়ক অরিজিত সিং। এবার একই পথে হাঁটার ইশারা এল জনপ্রিয় গায়িকা শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানিয়েছেন যে তিনি বর্তমানে কষ্ট এবং ক্লান্তির অনুভূতি বোধ করছেন এবং ভবিষ্যতে গান থেকে সাময়িক বিরতির কথাও ভাবছেন।

    শ্রেয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গানের জগতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা সবসময় আনন্দদায়ক নয়। বিশেষত লাইভ কনসার্টে লিপ-সিঙ্ক বা যান্ত্রিক উপায়ে গান পরিবেশনার প্রবণতাকে তিনি মানতে পারছেন না। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “যেদিন আমাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিপ-সিঙ্ক করে গান গাইতে হবে, সেদিনই আমি গান গাওয়া ছেড়ে দেব।” এ ছাড়া তিনি আরও বলছেন যে মাঝেমধ্যে নিজেও বিরতি নিতে ইচ্ছুক হন।

    অরিজিতের সিদ্ধান্তটি যখন সংবাদ হয়েছে, তখন থেকেই চলচ্চিত্র ও সংগীত ভক্তরা ধীরে ধীরে বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। অরিজিত নিজে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন এবং জানিয়েছেন, “এখন থেকে প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর নতুন কোনো কাজ নেব না। এই সংগীত যাত্রা অত্যন্ত চমৎকার ছিল।”

    দুই শিল্পীর বর্তমান মনোভাব ও ইঙ্গিত অনেক ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীর মনে প্রশ্ন তুলেছে—প্লেব্যাক শিল্পীর জীবন ও চাপ নিয়ে শিল্পীদের কতটা বিবেচনা করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আমাদের প্রিয় শিল্পীরা сц сценায় কেমনভাবে উপস্থিত হবেন। শ্রেয়া নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন—তবে এই মুহূর্তে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে তিনি যেকোনো ধরনের আস্তিকতামূলক বা অনৈতিক উপায়ে গান পরিবেশন করতে রাজি নন।