ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার

ইরানের পুলিশ নিরাপত্তা বাহিনী গোপনভাবে বিদেশী সংবাদমাধ্যম ও প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তথ্য গতকাল ইরানের আধাসরকারি সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন পুলিশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান।

রাদান বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ২৫০ জনকে বিশেষভাবে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার তালিকায় কিছু সময়ের জন্য ছদ্ম-অপরাধী কার্যক্রম চলাচলকারী আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যক্তি তথ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা-উসকানি ছড়াতে এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালাতে ভূমিকা রেখেছে।

ইরান ২০২২ সালে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠন’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তেহরান অভিযোগ করে যে এই চ্যানেলটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকানি দেয় এবং সরকারবিরোধী প্রপাগান্ডা চালায় — তবে এসব অভিযোগ ইরান ইন্টারন্যাশনাল পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করে আসছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক কूटনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ধারাও গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তেহরান ব্যাপকভাবে আলোচনায় নেমেছিল; দুই পক্ষের সংলাপ গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এবং কোনো সমঝোতা ছাড়া বন্ধ হয়। এর পর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘‘অপারেশন এপিক ফিউরি’’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’’ নামে কার্যক্রম চালায়।

উত্তেজনার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে, যা এখনও চলছে—ইরান-মেডিয়া ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইরানে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি