Blog

  • সিরিজ জিতে র‌্যাংকিংয়ে সুখবর পেল বাংলাদেশ

    সিরিজ জিতে র‌্যাংকিংয়ে সুখবর পেল বাংলাদেশ

    রাজনৈতিক কারণে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের ফেরাটা দারুণ হয়েছে। ঘরের মঞ্চে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয় করে বাংলাদেশকে উৎসাহী ভক্তদের সামনে তা উদযাপন করার সুযোগ মিলেছে। একই সঙ্গে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের দৌড়ে তারা এক ধাপ এগোতে পেরেছে।

    সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে নিশ্চয়ই হতাশার মুখ দেখেছিল দলটি। তৃতীয় ও निर्णায়ক ম্যাচে হবে রোমাঞ্চ—সেই রোমাঞ্চটি ফুটে উঠল শেষ পর্যন্ত, ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে শুধু সিরিজ জিতল না, র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করেও তারা নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।

    আগামী বছরের ৩১ মার্চ র‌্যাংকিংয়ের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে কোন দলগুলো সরাসরি খেলার যোগ্য হবে বিশ্বকাপে। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র‌্যাংকিংয়ের অন্যান্য শীর্ষ ৮ দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে; পাশাপাশি আরেক স্বাগতিক নামিবিয়াও স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলবে। যদি দক্ষিণ আফ্রিকা র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ আটের মধ্যে থাকে, তাহলে সরাসরি সুযোগ পাবে র‌্যাংকিংয়ের নবম অবস্থানও — ফলে বাংলাদেশের জন্য জরুরি হলো অন্তত শীর্ষ ৯-এ উঠে থাকা। আপাতত তারা সেই অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

    পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ে ওঠানামা চোখে পড়ল। পাকিস্তানকে হারানোর পরে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে উঠেছে এবং এখন আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে রয়েছে। আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পরও র‌্যাংকিংয়ে তারা ছিল দশে; তখন ক্যারিবীয়দের সঙ্গে রেটিং পয়েন্টের ফারাক ছিল মাত্র ১।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরুর সময় বাংলাদেশের রেটিং ছিল ৭৬ পয়েন্ট। ২-১ গোলে সিরিজ জয়ে তাদের পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৭৯। উল্টো দিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং নেমে গেছে ৭৭ পয়েন্টে ও তারা এখন দশে অবস্থান করছে। পাকিস্তান সিরিজ হারলেও র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান চতুর্থেই রয়ে গেছে; তবে তাদের রেটিং পয়েন্ট ১০৫ থেকে কমে হয়েছে ১০২।

    এই ফলাফলগুলো বাংলাদেশকে আগামী বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতার দৌড়ে নিজেদের পথে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে। দলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টের আগে প্রতিটি সিরিজই এখন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে।

  • রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

    তৃতীয় এবং সিরিজ নির্ধারণী ওয়ানডে ম্যাচে ২৯১ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তানকে শুরু থেকেই চাপে ফেলেন বাংলাদেশের পেসাররা। ম্যাচ মাঠে গড়াতে গড়াতে শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চের এক মোড় ঘুরে বাংলাদেশ ১১ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ২-১ এ জিতেছে।

    পাকিস্তানের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। টপ অর্ডারের তিনজন ব্যাটসম্যান মাত্র ১৭ রানের ভিতেই ফেরান বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ সাহিবজাদা ফারহানকে বোল্ড করে আউট করেন। পরের ওভারে নাহিদ রানার বলে মাজ সাদাকাতকে ফেরান নাহিদ নিজেই। তাসকিনের দ্বিতীয় ওভারেই রিজওয়ানকে ফেরানো যোগ করেন, ফলে সফরকারীরা দ্রুতই ছন্দ হারায়।

    চাপে পড়ার পর গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ চেষ্টা করেন দলের সংগ্রহ গড়তে, কিন্তু তারা স্থিতিশীল প্রতিরোধ গড়তে পারেননি—ঘুরি ৩৯ বল করে ২৯ ও সামাদ ৪৫ বল করে ৩৪ রান করে ফেরেন। একশর আগেই পাঁচ উইকেট চলে যাওয়ার পরই দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা; সাদ মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ৭৯ রানের জুটি গড়ে দলের আশা জাগান। সাদ মাসুদ দারুণ শুরু করে ৩৮ রানে মুস্তাফিজুর রহমানের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন; এরপর সালমানও নির্ধারক মুহূর্তে বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। ফাহিম আশরাফও আসেন এবং আলাদা কিছু সময়ের জন্য দলকে সামলান, তবে তাসকিন তাকে বোল্ড করে ফেরান—ফাহিম ৯ রানই করতে পারেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ; একাই চারটি উইকেট নেন তিনি এবং ইনিংসের সামনে থেকে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দেন। মুস্তাফিজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, বিশেষ করে সাদ মাসুদকে ফিরিয়ে তিনি ম্যাচ মোড়কে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

    এর আগের ইনিংসে অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন-আপ ঝলমল করেছিল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে দলকে শক্ত শুরুর ভিত্তি দেন ওপেনাররা—প্রথম উইকেটে আসে ১০৫ রানের জুটি। সাইফ সাইদ (৫৫ বলে ৩৬) ১৯তম ওভারের একজন প্রতিরোধ তৈরির চেষ্টায় শাহীন আফ্রিদির সামনে ব্যাটের লাইন মিস করে বোল্ড হন। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে ফিরলেও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি কেড়ে নেন; দ্রুত গতিতে তিনি ১০৭ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন যাতে ছিল ছয় চারে ও সাত ছক্কা। তার প্রস্থানেও দলের পুঁজি দৃঢ় থাকায় লিটন কুমার দাস ও তাওহিদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলের জন্য বড় সংগ্রহ গড়ে তোলেন। লিটন ৪১ রান করেই ফেরেন, আর রিশাদ হোসেন প্রথম বলেই বোল্ড। পরের দিকে তাওহিদ অপরাজিত ৪৮ ও আফিফ অপরাজিত ৫ নিয়ে ইনিংস শেষ করেন।

    পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ তিনটি উইকেট নেন; আবরার ও শাহীন আফ্রিদি এক করে উইকেট লাভ করেন।

    ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের খেলোয়াররা উল্লাস দেখিয়েছে—এই জয়ের মাধ্যমে তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে টানা জয়ের নজির গড়ল; өмнতি দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি হয়েছিল ২০১৫ সালে, সেবার বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৩-০ দিয়ে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। আজকের জয় ভারতের মাঠে নয়, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে যে উৎসাহ দেখাল তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা।

  • ৯৮তম অস্কারে সেরার খেতাব পেলেন যারা

    ৯৮তম অস্কারে সেরার খেতাব পেলেন যারা

    হলিউডের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান অস্কার ২০২৬-র ৯৮তম আসর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডলবি থিয়েটারে। রোববার (১৫ মার্চ) রাতে অনুষ্ঠিত গালায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসেরা তারকারা, এবং বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন উপস্থাপক ও কমেডিয়ান কোনান ও’ব্রায়েন। বাংলাদেশের সময় অনুসারে নামসমূহ ঘোষণা করা হয় সোমবার ভোরে।

    এই বছরের আসরে কয়েকটি ছবিই বেশ দাপট দেখিয়েছে—বিশেষ করে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ও ‘সিনার্স’—যা বিভিন্ন প্রধান বিভাগে পুরস্কার নিয়েছে। নিচে ৯৮তম অস্কারের প্রধান ক্যাটাগরির বিজয়ীদের পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো:

    সেরা ছবি: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা পরিচালক: পল টমাস অ্যান্ডারসন

    সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি. জর্ডান (সিনার্স)

    সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলি (হ্যামনেট)

    সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)

    সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যামি ম্যাডিগান (ওয়েপনস)

    চিত্রনাট্য ও প্রযুক্তি বিভাগ:

    সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: সিনার্স

    সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপ্টেড): ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা সম্পাদনা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: সিনার্স

    সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন

    সেরা কস্টিউম ডিজাইন: ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন

    সেরা মেকাপ ও হেয়ারস্টাইলিং: ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন

    সেরা ভিজুয়াল ইফেক্টস: অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ

    সেরা সাউন্ড: এফ১

    অ্যানিমেশন ও সংগীত:

    সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম: কেপপ ডেমন হান্টার্স

    সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড: দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস

    সেরা মৌলিক গান: গোল্ডেন (কেপপ ডেমন হান্টার্স)

    সেরা মৌলিক সংগীত: সিনার্স

    ডকুমেন্টারি ও আন্তর্জাতিক বিভাগ:

    সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম: মিস্টার নোবডি এগেনস্ট পুতিন

    সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ও ‘সিনার্স’ একাধিক বিভাগে স্বীকৃতি পেল—যেখানে ছবি, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও সংগীতসহ বিভিন্ন খাতে তারা সফল হয়েছে। রাতভর উপস্থিত তারকারা, আবেগঘন বক্তব্য ও কখনও হাস্যরস মিলে অনুষ্ঠানটি দর্শকদের মনে রেখার মতো হয়ে ওঠে। বিজয়ীরা নিজেদের কৃতিত্বের কথা বলতে গিয়েও দর্শক ও同行দের কৃতজ্ঞতা জানান—এটাই ছিল ৯৮তম অস্কারের মূল সুর।

  • শহীদ মিনারে গুলিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব নিহত, একজন আটক

    শহীদ মিনারে গুলিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব নিহত, একজন আটক

    রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রবিবার রাতে দূর্বৃত্তদের গুলিতে মোহাম্মদ রাকিব (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন এবং শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    ঘটনা ঘটে ১৫ মার্চ রবিবার রাত around ৯টার দিকে। সেখানে থাকা কয়েকজন পথচারী এবং বন্ধুরা রাকিবকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে দশটায় হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপানোর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা এক যুবককে আটক করে শাহবাগ থানায় দেন। আটককের নাম সিহাব হোসেন। ওই যুবকের বাড়ি খুলনায় বলে জানা গেছে।

    আহত অবস্থায় রাকিবকে হাসপাতালে আনেন তার বন্ধু জিএম ইশান। তিনি জানান, রাতে তারা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন ও চা খাচ্ছিলেন। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হলে এগিয়ে গিয়ে দেখেন রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    রাকিবের বন্ধু মো. রনি জানান, রাতের বেলায় রাকিবসহ কয়েকজন শহীদ মিনারের পাশে চায়ের কুশিতে ছিলেন। এসময় এক যুবক রাকিবকে ডেকে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে তারা উপরে গিয়ে দেখেন রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার মাথায় গুলিবিদ্ধসহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত রয়েছে। পরে সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে একজনকে ধরে ফেলেন। ওই ব্যক্তি বর্তমানে শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছেন।

    শাহবাগ থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেছেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন একটি যুবককে আটক করে পুলিশকে উদ্ধার করেন। আহত রাকিবকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে দশটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাকিব পুরান ঢাকার নিমতলিতে থাকতেন এবং তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন।

    পুলিশ ঘটনার পর বিভিন্ন দিক থেকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত শুরু করেছে। কাছের সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাব্য সকল ব্যক্তি-সম্ভাব্য সাক্ষীদের খুঁজে বের করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • স্পিকার ঘোষণা: সংসদ অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি

    স্পিকার ঘোষণা: সংসদ অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

    শনিবার নয়, রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষে স্পিকার এ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, সংসদের বৈঠক ২৯ মার্চ (রোববার) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো এবং সবাইকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। স্পিকার সবাইকে অগ্রিম ঈদ মোবারকও জানান।

    আঠারো তারিখের উক্তির পরিবর্তে—এ দিন বেলা ১১টায় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।

    অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

    গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে কেন্দ্র করে জমানায় দেওয়াল দেখা যায়; জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কিছু বিরোধীদলীয় সদস্য সংসদে বিক্ষোভ দেখান এবং পরে কতিপয় সদস্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    স্পিকারের মুলতবি ঘোষণার ফলে পরবর্তী অধিবেশনের তারিখ হলে তা নিয়ে জানানো হবে।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডেকলে রাজপথে নামবে জামায়াতসহ ১১ দল

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকা হলে রাজপথে আন্দোলন প্রচলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেছেন, আগামীকাল পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান ড. হামিদুর রহমান আজাদ। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে; যদিও নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হয়েছে, তবু অনেকে মনে করেন ভোটাধিকার পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পর্ষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সংসদ অধিবেশন ডাকা হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা নিয়ে জোটের মধ্যেই উদ্বেগ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’

    ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামতেই বাধ্য হবে। জোট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে শীঘ্রই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

    তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে; ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করা হতে পারে।

    একই সময়ে তিনি ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ ও প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। এসব সিদ্ধান্ত জনমনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে—এই নিয়ম প্রত্যাহার করে নির্বাচন-ভিত্তিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন প্রশাসন চালাতে পারেন, সেই দাবি জানান তিনি।

    সংসদে বিরোধীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’

  • হানজালার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘আমি খোঁচা দিলেই দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    হানজালার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘আমি খোঁচা দিলেই দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না’

    মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ও রাতেই ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার বাহাদুরপুর গ্রামে কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হানজালা। অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানা রকম হুঁশিয়ারি দেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে হানজালাকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি (হানজালা) যদি বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করি, এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’’ ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, শিবচরের মানুষকে তিনি বাকস্বাধীনতা দিয়েছেন এবং বিরোধী নেতাদের অকারণ হুমকি-ধমকির অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রতি সতর্ক হতে বলেন।

    বক্তব্যে হানজালা দাবি করেন যে তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘‘আমি চুপ করে আছি কারণ আমি শান্তি চাই। আমার চুপ থাকা কোনো দুর্বলতা নয়—আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, অন্য কাউকে এক্ষেত্রে স্থাপন করলে শিবচরের মানুষ নির্দ্বিধায় চলতে পারত না।

    এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিবচর উপজেলা বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য-সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি ও তাঁর পরিবার আগের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিবচরে উগ্রভাবের উত্থান ঘটাতে চাইছেন বলে তিনি মনে করেন। সোহেল রানা দাবি করেন, শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এমন বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে এবং আশা ব্যক্ত করেন হানজালা তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। শিবচর উপজেলা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ করার কথাও জানিয়েছে।

    হানজালা নিজের বক্তব্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর মূল উদ্দেশ্য শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বলা ছিল। তিনি দাবি করেছেন যে কিছু মানুষ তাঁর কথা কেটে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে কেউ আমাকে বলেছেন আমি বিএনপি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করি—তাই সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে আমি এমন কিছু বলেছি। কিন্তু ‘দেশে বিএনপি থাকবে না’ বলতে দেশের কথা বোঝানো হয়নি।’’

    নোট: প্রতিবেদনে বিএনপি নেত্রী হিসেবে এক জায়গায় নাদিরা আক্তার নামে ও অন্যত্র নাদিরা চৌধুরী নামে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে নামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবারের নির্বাচনে খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাদিরা (প্রতিবেদনভেদে নাম ভিন্নভাবে উল্লেখিত)কে পরাজিত করে শিবচর থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হন। তিনি মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। হানজালার পারিবারিক পটভূমির বিষয়ে উল্লেখ আছে যে তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।

    ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জনমত ও রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি নিয়ে আরও বিবৃতি দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

  • দুদক চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত শুরু

    দুদক চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগবিষয়ক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত শিপিং করপোরেশনের এমডি থাকাকালীন সময়ে ২,৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধু চারটি জাহাজ কেনা হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দুদক উল্লেখ করেছে।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১,৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারী দল বলেছে, তদন্তের স্বার্থে সব প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঘটনাসমূহের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করতে ‘প্রাক-মামলা’ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশ

    খেলাপি ঋণ আদায় দ্রুত করতে ‘প্রাক-মামলা’ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে নির্দেশ

    বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি (শেডিউল) ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগে ‘প্রাক‑মামলা’ ভিত্তিক মধ্যস্থতা (এডিআর) পদ্ধতিতে সমাধানের জন্য দক্ষ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুধবার এ সম্পর্কিত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নিষ্পত্তি করতে হবে। এই সময়সীমা চলতি অর্থবছরের শেষ দিন বিবেচনায় রেখে দেওয়া হয়েছে এবং এতে ব্যাংক সেক্টরের তারল্য ও আর্থিক স্থিতি উন্নয়নের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় মামলার চাপ কমানো যাবে এবং অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ ও দেউলিয়া আইন, ১৯৯৭-এ পড়তে পারে এমন মামলাগুলো আদালতে যাওয়ার আগেই সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের ঋণ পুনরুদ্ধারের জাতীয় কর্মসূচিতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রথম ধাপে উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে এই ১ শতাংশ লক্ষ্যকে দেখা হচ্ছে।

    নতুন নির্দেশনায় ২০২৪ সালের ২২ মে জারি করা বিএরপিডি সার্কুলার নং-১১-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে, কিন্তু এবার বিশেষভাবে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন অনুসারে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি প্যানেল থেকেই মধ্যস্থতাকারী বাছাই করতে হবে।

    প্যানেলে সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা থাকবেন। সার্কুলারে মধ্যস্থতাকারী নির্বাচনের জন্য ১০টি যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে—যেগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্যানেল সদস্যপদ যাচাই, নিরপেক্ষতা, পেশাগত সুনাম, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, মধ্যস্থতা সম্পর্কিত জ্ঞান ও প্রমাণিত অভিজ্ঞতা, পরিষ্কার আইনি রেকর্ড, আর্থিক সততা, ঋণখেলাপি না হওয়া এবং আর্থিক সক্ষমতা।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগে কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে হলফনামা ও অঙ্গীকারপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া, এসব মধ্যস্থতা সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহক ও পক্ষগুলিকে সক্রিয়ভাবে তথ্য দেওয়া এবং ব্যবস্থার সুবিধা ও ধাপ সম্পর্কে জানানো ব্যাংকগুলোর দ্বায়িত্ব রাখা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার বদলে একটি কার্যকর, অর্থ‑সম্মত ও সময়পালক বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও ঋণ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

  • রিয়াদ ও আল-ধাফরাকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ

    রিয়াদ ও আল-ধাফরাকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ

    ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের আকাশে পৌঁছানোর আগেই কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে রোববার (১৫ মার্চ) বলা হয়েছে, রিয়াদ মহানগর এলাকায় চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, আল-ধাফরা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও অজ্ঞাতসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে—এই তারিখে দাবি করা হয়েছে যে লক্ষ্য সেই স্থাপনাকেই ছিল। এসব দাবি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে; আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলোতে জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও জনবহুল এলাকা লক্ষ্য হতে পারে বলে বলা হয়েছে। ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত সৌদিতে অন্তত দুইজন নিহত ও ১২জন আহত হয়েছেন, এমন খবর পাওয়া গেছে।

    একই সময়ে ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে—টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে ওই সময় আহত ১০৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের সুনির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিত জানায়নি; ধারণা করা হচ্ছে দফায় দফায় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা লেবানন থেকে নিক্ষিপ্ত রকেটের আঘাত,বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে আহত হওয়ার ঘটনাও থাকতে পারে।

    সরকারি ও মিডিয়া সূত্র মিলিয়ে বলা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৮১ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।