হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়: তিন মাসে সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ

হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মঙ্গলবার ১৮৫ পৃষ্ঠার রায়ে নির্দেশ দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক একটি সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে গঠন করতে হবে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেছেন।

রায়ে আদালত আদেশ করেছেন যে, সরকার সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন সচিবালয় বাস্তবায়ন করবে এবং আদেশের তারিখ হতে তিন মাসের মধ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রায়ে পাশাপাশি বলা হয়েছে, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর দায়ভার পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে।

হাইকোর্ট রায়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনরায় বহাল করে সংশোধিত অনুচ্ছেদগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বিচারপতিগণ উল্লেখ করেছেন, ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী ও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর নির্দিষ্ট ধারাগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১৯৭২ সালে থাকা ১১৬ অনুচ্ছেদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে। এই পরিবর্তন ওই রায়ের দিন থেকেই কার্যকর হবে।

১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানগতকভাবে অধস্তন আদালতের বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ—কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি এবং শৃঙ্খলা বিষয়ক ব্যবস্থা—সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বাধীন থাকবে। রায়ে বলা হয়েছে, এসব দায়িত্ব আর রাষ্ট্রপতির নিকট কেন্দ্রীভূত থাকবেনা।

হাইকোর্ট একই সঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ভেবে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

রিটের পক্ষে যুক্তকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এই রায়ের ফলে অধস্তন আদালতের উপর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিশ্চিত হলো; তা আর রাষ্ট্রপতির ওপর শশস্ত্র থাকবে না।

বিষয়টির ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য — ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ সাত আইনজীবী এ সংক্রান্ত রিট করেছিলেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ২৭ অক্টোবর রুল জারি করেছিলেন এবং রুলে ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের বিধিমালার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে সেগুলো কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। রুলে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বরও একই বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ রায়ে সেই নির্দেশটি চূড়ান্ত হয়ে আইনগত বিধিবদ্ধ রূপ পাচ্ছে।