Blog

  • ফকিরহাটে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামসহ ট্রাক ছিনতাই, দুইজন গ্রেপ্তার

    ফকিরহাটে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামসহ ট্রাক ছিনতাই, দুইজন গ্রেপ্তার

    বাগেরহাটের ফকিরহাটে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ক্রয় করা প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়ামবাহী একটি ভাড়া ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) ভোররাতে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মূলঘর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ছিনতাই হওয়া ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করে। একই সময়ে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তাররা হলেন— পাগলা উত্তরপাড়া এলাকার মো. জয়নাল আবেদিন (৩৮) ও নলধা গ্রামের মো. জুয়েল শিকদার (৩২)।

    পুলিশ ও মামলার বাদির বর্ণনা অনুযায়ী, রামপাল এলাকার মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান যৌথভাবে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ওই পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়াম ক্রয় করেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় মালামালগুলো একটি ভাড়া করা বিআরটিসি ট্রাকে তুলে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়।

    পথিমধ্যে রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয়রা ট্রাকটির গতিরোধ করে মালামাল যাচাই-বাছাই করে। তৎক্ষণাৎ কাগজপত্র ও মালামালের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ায় ট্রাকটিকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়।

    অল্প সময়ের পর রাত প্রায় একটার দিকে ট্রাকটি পুনরায় যাত্রা শুরু করলে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদল ট্রাকটি থামিয়ে চালক ও সঙ্গে থাকা লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাক ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

    ঘটনাস্থলের খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা দ্রুত অভিযান বাড়ায়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে মূলঘর এলাকার পরিত্যক্ত একটি ইটভাটা থেকে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মনিরুল ইসলাম (গৌরম্ভা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে) বাদি হয়ে অটলভাবে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

    ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি বলেন মামলার কার্যক্রম চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

  • শান্তের সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ — মিরপুরে বাংলাদেশের রঙিন দিন

    শান্তের সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ — মিরপুরে বাংলাদেশের রঙিন দিন

    ‘‘প্রথম ইনিংসে চারশোর বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো হবে।’’

    মিরপুর টেস্ট শুরুর একদিন আগে এমনটাই বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে আশা প্রথম দিনের খেলার শেষে প্রায় পূরণ হওয়ার পথে। প্রথম দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা চার উইকেট হারিয়ে ৩০১ রানে থেমে গেছে। দ্বিতীয় দিনের সকালে কিছু রান যোগ করতে পারলে সুখে থাকবেন শান্ত। সেই ভালো অবস্থার প্রধান নায়কও হলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। উইকেটে ছোঁয়া থাকলেও পাকিস্তানের পেসাররা যে সুইং–সিম নড়াচড়ে প্রত্যাশিত মাত্রায় করতে পারেনি, তা বাংলাদেশকে কাজে করেছে।

    সকালের শুরুতে পাকিস্তানের পেস আক্রমণে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম দুই ওপেনারকেই আউট করে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলী। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার পর থেকে সফরকারীরা তা ډولানিতে রাখতে পারেনি। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত; তার ব্যাটিংয়ের ওপরই দাঁড়িয়েছে বড় অংশ রান।

    ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই সুখসুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি জয়—১৯ বল খেলে ৮ রানের মাথায় শাহীন আফ্রিদির একটি বলে স্টাম্পের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১১তম ওভারে হাসান আলীর প্রথম বলেই সাদমানও ফেরেন; ৩০ বলে ১৩ রান করে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি।

    তৃতীয় ও চতুর্থ পজিশনে নামা মুমিনুল হক ও শান্ত মিলে পরের পর্যায়ে ম্যাচের ধারা পাল্টে দেন। প্রথম সেশনে আরও দুই উইকেট হারালেও উইন্ডো ভুলিয়ে ১০১ রান তুলে প্রথম দিনের দায়িত্বভার তারা হাতে রাখেন। লাঞ্চের পর শান্ত দ্রুত এক করে উঠেন—৭১ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন এবং এরপর গতিতে বাড়িয়ে ১২৯ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করেন; সেই হাসি–আনন্দ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কোর্টে।

    শান্তের সেঞ্চুরি কভার ড্রাইভে আসে, মোহাম্মদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরে দেওয়া বলে চার মেরে তিনি শতকে পৌঁছান। তবে শতরানের ঠিক পরই আব্বাসের আগত এক ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট আউট হন শান্ত; প্রথম আম্পায়ারের না দেওয়া সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায়। ১৩০ বল খেলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় শান্তর ইনিংস হয়েছে ১০১ রানের। তার বিদায়ে ভাঙে মুমিনুলের সঙ্গে তার ১৭০ রানের জুটি।

    মুমিনুলও দারুণ খেলে গেছেন; দিনের শেষে ১০ চারে ২০০ বলে ৯১ রান করে আউট হন তিনি। বাঁহাতি স্পিনারের নীচু ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বল প্যাডে লাগা দেখে আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন মুমিনুল—তবে রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।

    শান্ত ও মুমিনুলের পরে মুশফিকুর রহিমও শুরু থেকে সক্রিয় ছিলেন; দিনশেষে তিনি অপরাজিত ৪৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে থাকছেন। লিটন দাস ৩৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত; তারা দুজনে দ্বিতীয় দিনের সকালে ব্যাটিং শুরু করবেন। প্রথম দিনের এই পাওয়ায় বাংলাদেশ অপেক্ষা করবে আরও একদিনের কাজে—শান্তের চাহিদা ছিল প্রথম ইনিংসে বেশি রান, সেটাই শতরান ও দৃঢ় মুমিনুল–শান্ত জুটির মাধ্যমে কিছুটা হলেও মেলেছে।

  • ‘দাই দাই’ থিম সং নিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছেন শাকিরা

    ‘দাই দাই’ থিম সং নিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছেন শাকিরা

    ফুটবল বিশ্বকাপের কড়া কাগজে টিক টিক শুরু—আর এক মাসেরও খানেক দূরে বড় উৎসব। কোন গানের সঙ্গে গ্যালারি নেচে উঠবে, সেই উত্তেজনায় ছিলেন ভক্তরা। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন কলম্বীয় পপ স্টার শাকিরা। এবারের বিশ্বকাপের থিম সং ‘দাই দাই’-য়ের সঙ্গে ১৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    শাকিরা নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্ট করেছেন, যা মারাকানা স্টেডিয়ামে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৬৭ সেকেন্ডের এই ক্লিপে মাঠের নানা মোউভমেন্ট ও কাট দেখানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, শাকিরা হাত에는 ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ রেখে গানটির ইংরেজি অংশের কিছু লাইন পরিবেশন করছেন।

    ভিডিওতে তার সঙ্গে নৃত্যশিল্পীরা বিভিন্ন দলের জার্সি—যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার জার্সিও দেখা যায়। এর আগে রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতেও তিনি বিশাল জমায়েতের সামনে ফ্রি কনসার্ট করেছেন; সেখানে ২০ লাখ মানুষের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।

    নাইজেরিয়ান শিল্পী বুর্না বয়ের প্রযোজিত এই থিম সং আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে ১৪ মে। ফিফা তথা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টেও ওই ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে এবং ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘আমরা প্রস্তুত!’

    শাকিরা বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আইকনিক থিম সং ‘ওয়াকা ওয়াকা’ জনসম্মুখে তুলে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছিলেন। এরপরও তার সংগীত বিশ্বকাপের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে—২০১৪ সালের অনুষ্ঠানেও তার গান বিশেষভাবে সঙ্গী হয়েছিল।

    এবার ‘দাই দাই’- নিয়ে ফেরার ঘোষণায় ফুটবল-সঙ্গীত প্রিয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিশ্বকাপ মঞ্চে শাকিরার এফার উপস্থিতি কতটা কণ্ঠস্বর এবং উচ্ছ্বাস যোগ করবে, সেটা দেখার বিষয়।

  • এমজিআরের ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিজয়

    এমজিআরের ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগ বসালেন বিজয়

    নিজের প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে প্রবল সাফল্য পেয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গতকাল নাম লিখিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত নাম ‘থালাপতি বিজয়’। তিনি নিজে জয়লাভ করায় এবং তার নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) ১০৮টি আসনে জয়ী হওয়ায় ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রানের গড়া এক রেকর্ডের সঙ্গে সমানতালে উঠে এসেছেন বিজয়।

    ১৯৭৭ সালে নিজের সাজানো রাজনৈতিক দল এআইএডিএমকে থেকে মাঠে নামা এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ১৯৮৭ সালের মৃত্যু পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন। জয়ারললিতা যদিও পরে মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু তিনি নিজে কোনো নতুন দল গঠন করেই তা করেননি—বরং এমজিআর-এরই এআইএডিএমকে-র শীর্ষ নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর থেকে তামিলফিল্মের কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হননি।

    বিজয়ের এই সাফল্য তাই ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ধরা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪; সরকার গঠনের জন্য এককভাবে দরকার ১১৮ আসন। টিভিকে একা ঠিকমতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, কিন্তু ১০৮ আসনে কড়া অবস্থান তৈরি করে এবং জোট গঠনের শর্তে দলের প্রভাব কেন্দ্রে থাকবে—ফলে বিজয়ই সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনী ফল ও জোটবিচারনা শেষে শপথ গ্রহণের খবরে রাজ্য রাজনীতি দ্রুত রূপান্তরিত হবে।

    বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রাও ছিল পরিকল্পিত। ২০০৯ সাল থেকে নিজের ভক্ত শ্রেণিকে সংগঠিত করতে শুরু করেন তিনি। ভক্তদের এক করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’—যা পরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই সংগঠনটি এমজিআর-এর প্রতিষ্ঠিত দল এআইএডিএমকে-কে সমর্থন করেছে।

    তবে ২০২১ সালে সেই সমর্থন তুলে নিয়ে বিজয় নিজেকেই রাজনৈতিক ফ্রেমে আনতে মনোনিবেশ করেন। ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) নামে একটি দল ঘোষণা করেন এবং সেই দলকে নেতৃত্বে নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান। নতুন দলের জন্য নির্বাচনী এই ফলাফল রাজনৈতিক দিক থেকে বিস্ময়কর বলা চলে।

    এমজিআরের কৌশল—যেখানে তিনি তার বিশাল ভক্তশ্রেণীকে ভোটার এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন—বিজয়ও অনুকরণ করেছেন। দীর্ঘদিনের ভক্তকেন্দ্রিক সংগঠন, জনসংযোগ ও একক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে দ্রুত ও শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন। এখন রাজনৈতিক মঞ্চে তার ওঠা-নেমা, গঠিত জোট ও শপথ গ্রহণ এক্ষুনি নজরকাড়া হবে।

    এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও বিজয়ের ভূমিকার বিবেচনায় বলা যায়, ১৯৭৭ সালের এমজি রামাচন্দ্রানের রেকর্ডে ৪৯ বছর পর এবার সমমর্যাদা অর্জন করেছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—যা তামিলনাড়ু রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব, আমি সুস্থ ও বেঁচে আছি

    রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব, আমি সুস্থ ও বেঁচে আছি

    উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি অদ্ভুত এবং ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব গুজবের জবাব দিয়েই নিজেই ভক্তদের জানিয়েছেন তিনি সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমান সময়ে দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে অবস্থানরত রুনা লায়লার সম্পর্কে দেশে-বিদেশে মৃত্যুর খবর ছড়াতে থাকলে তা ব্যাপক ভ্রমের সৃষ্টি করে। বিষয়টি নজরে আসার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি সত্যতা স্পষ্ট করেছেন।

    পোস্টে রুনা লায়লা লিখেছেন, “আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, “আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। অনুগ্রহ করে এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করুন—এগুলো আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সবার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল।”

    শিল্পী নিজের সুস্থতার খবর জানিয়েই ভক্তদের শান্ত করার পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন।

    স্মরণীয়, ১৯৬০-এর দশকে টেলিভিশনে নিয়মিত পরিবেশনা করে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন রুনা লায়লা। ১৯৬৬ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা…’ গানটি দিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরে “ও মেরা বাবু চেল চাবিলা” এবং “দামা দম মাস্ত কালান্দার”সহ বহু জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানসহ উপমহাদেশে অম্লান সংগীতকীর্তি গড়ে তোলেন।

  • জাপানিজ এনসেফালাইটিসে সিভাসুর অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানার মৃত্যু

    জাপানিজ এনসেফালাইটিসে সিভাসুর অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানার মৃত্যু

    চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু)-র ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বিরল মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    পারিবারিক ও হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে তিনি হালকা জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ বোধ করেন। প্রথম দিকে যেন সাধারণ শীতজ্বর বা ফ্লু বলে মনে হলেও দ্রুত তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ ধরা পড়ে এবং লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, পৌঁছানোর সময় তিনি ক্লিনিক্যালি ব্রেইন ডেড অবস্থায় ছিলেন। ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ড. জুথির শারীরিক লক্ষণ ও দ্রুত স্নায়বিক জটিলতা বিবেচনায় তারা জাপানিজ এনসেফালাইটিসের সম্ভাব্যতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর স্নায়ুতন্ত্র গ্রাসের লক্ষণ ও স্ট্রোক দেখা দেয়; ক্লিনিকাল কন্ডিশন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকরা জাপানিজ এনসেফালাইটিসের প্রবল ধারণা করেন।

    জাপানিজ এনসেফালাইটিস সাধারণত কিউলেক্স প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি সরাসরি মস্তিষ্কে আক্রমণ করে—দরুন বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ।

    ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ সেশনের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন এবং কিউশু ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সিভাসুতে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

    তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্ণবও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। দম্পতির একটি পাঁচ বছর বয়সী সন্তান আছে।

    সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও শিক্ষককে হারিয়েছে; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • ডিএনএ-র জবাবে মুক্তি: ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষ ঘোষণা, আসল অভিযুক্ত কিশোরীর বড়ভাই

    ডিএনএ-র জবাবে মুক্তি: ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষ ঘোষণা, আসল অভিযুক্ত কিশোরীর বড়ভাই

    ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে এক কিশোরীর ধর্ষণ মামলায় ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) বিনাদোষী ঘোষণা করা হয়েছে। ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া গেছে বাস্তব আসল অভিযুক্তের ডিএনএ — কিশোরীর বড়ভাই মোরশেদের — ফলে মোজাফফরকে ওই মামলায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে আসে দীর্ঘ তদন্ত ও একাধিক ফরেনসিক পরীক্ষার পর। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে মক্তব শিক্ষক ও ইমাম হিসেবে পরিচিত মোজাফফরকে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি শুরু থেকেই নিজেকে সংযুক্ত না বলে দাবি করলেও গ্রামে ও সামাজিকভাবে তার ওপর নানান অপবাদ ছড়ায় এবং এক মাস দুই দিন জেলের নাজেহাল জীবন কাটাতে হয় তাকে।

    মোজাফফর জানিয়েছেন, এই সময় তিনি মসজিদের ইমামতির পদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। সামাজিক কলঙ্ক, মানহানি ও মামলার খরচ আঞ্জাম দিতে বাড়ির পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা—৫ শতক—বিক্রি করে দিতে হয়। তিনি বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অত্যধিক হেনস্তার শিকার হয়েছি। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।”

    ফরেনসিক পরীক্ষার প্রথম দফায় কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষা করে কোনো বীর্যের উপাদান শনাক্ত করা যায়নি। এরপর তদন্ত আরও গভীর করে পুলিশ। কিশোরীর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে এক পর্যায়ে স্বীকার করে যে তাকে ধর্ষণ করেছে তারই সহোদর ভাই মোরশেদ। তদন্তের এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদ (২২) গ্রেপ্তার হন এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন; পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

    পরে কিশোরী, তার সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু কন্যা এবং অভিযুক্ত মোরশেদের নমুনা ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হলে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট প্রদত্ত ডিএনএ রিপোর্টে বলা হয়—শিশুটির পিতা হিসেবে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলেছে। মোজাফফরের ডিএনএ শিশুটির সঙ্গে মিলেনি। এ রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে মোজাফফরের নাম অভিযোগপত্র থেকে প্রত্যাহার করে মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

    পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করার পর বাড়িতে থাকা অবস্থায় পাঁচ বছর না যাওয়া পর্যন্ত পরে অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরবর্তীতে সন্তান প্রসব করেন। ঘটনার প্রথম দফায় পরিবারের চাপ কিংবা প্রয়োজনে প্রকৃত দোষীর ওপর নজর রাখতে গিয়ে মোজাফফরের ওপর অভিযোগ চাপানো হয়—যার ফলে এক নির্দোষ মানুষ সমাজে, কাজ ও সংসারে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন।

    মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষকে ফাঁসানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটিত হয়েছে।”

    জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “তিনি জেনুইন একটি মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহসসঞ্চয় করার পাশাপাশি আর্থিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়া উচিত।”

    পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্টের আলোকে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ দেখে অভিযোগপত্র সংশোধন করা হয়েছে। নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে—এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

    কাহিনীর এই মোড় অত্যন্ত স্পর্শকাতর—একদিকে একটি কিশোরী ও তার শিশু সঠিক বিচার ও সুরক্ষা পাওয়ার দাবি, অন্যদিকে একজন নিরপরাধ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কলঙ্ক, কর্মহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়া ও ফরেনসিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এই ধরনের ভুল বুঝাবুঝি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তদন্তকারীরা মন্তব্য করেছেন।

    সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • কিছু হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    কিছু হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে যারা বারবার হতাশা থেকে বের হয়ে এসে সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে নিশানা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর বা পরিশীলিত নয়। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়েছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তনের চেষ্টাও করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সত্যিকারের পরিবর্তন আসেনি।’’

    শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের মূল পরিচয় হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম। আমরা ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে যে সক্রিয়তা ও পরিচয় অর্জন করেছি, সেটা সবসময় মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতা এমনি এমনি পাওয়া হয়নি—নয় মাস ধরে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্রও সংগ্রাম করে ফেরত আনা হয়েছে; সেটিও হঠাৎ ফিরে আসেনি।’’

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে সার্বিক সংগ্রাম করেছে, আমরা সেটাকে ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। তাতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে, মানুষ নতুন সরকারের কাছে আশা নিয়েছে। যে ঘুণ ধরে থাকা শাসন ব্যবস্থা ছিল, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে—অর্থনৈতিক লুটপাট হয়েছে, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে, প্রশাসন দুর্বল করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আজকের অবস্থায় পৌঁছেছি। কেউ কেউ চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনকে বিকৃত করে ভিন্ন খাতে নেওয়ার, ছোট ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার। আমরা চাই না দেশ যেন অস্থির হয়।’’

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ যখন এখানে অবস্থান করতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে একটি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিকভাবে উন্নয়নের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিলেন। এটা তাঁর জীবন, কাজ ও কবিতার চর্চার বাইরের একটি কার্য্যগত প্রমাণ। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক ও গানে তাঁর বিচরণ ছিল প্রকৃত আদর্শমানবকল্যাণে প্রবাহিত—গীতাঞ্জলি লিখে তিনি বিশ্বের মন কাড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও শেষ করা যায় না—এই অনুভূতিই আমার প্রায়ই হয়।’’

    আলোচনা সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ এন এম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ এর সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ এর সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ এর সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ এর সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

    আলোচনা সভার পরে ঢাকার এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশন হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়—দিনভর হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে ভিড় করেন।

  • পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে পারে — নাহিদ

    পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে পারে — নাহিদ

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িক অনুভূতি জাগিয়ে প্ররোচনা দেবে; তাই সবাইকে সতর্ক ও সংহত থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই স্মৃতি’ হলে এনসিপি আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, নির্বাচনের আগেই কয়েক লক্ষ ভোটারের নাগরিকত্ব বাতিল এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এদের বড় একটি ভুক্তভোগী অংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘‘আমি সংসদেও বলেছি, সেখানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    বাংলাদেশে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘দেশবিরোধী গোষ্ঠী নানা রকম উসকানি দিবে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াতে চেষ্টা করবে এবং প্রবল প্রোপাগান্ডা চালাবে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করবে।

    অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ দলের নেতা-কর্মীদের একতা ও ঐক্যের কথা বলেন। তিনি বলছিলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না। যে-ই যেখান থেকে আসুক, সকলকে এনসিপির পতাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’’ বক্তব্যের শেষে তিনি حاضرজনদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন—‘‘আমরা কি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব?’’ জবাবে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা এককথায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সমর্থন জানান।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় আবারও বেড়েছে সোনার দাম

    টানা দ্বিতীয় দফায় আবারও বেড়েছে সোনার দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার মুল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, प्रति ভরি সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংঘটনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি এখন দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মুল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত অন্য কট্টরের দামগুলো হল:

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: প্রতি ভরি এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা

    একই সাথে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৫ হাজার ৫৪০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৪ হাজার ৭২৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা

    বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা—বিশেষত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল মহাকাশীয় সংঘাতের প্রভাব—সোনার দাম উর্ধ্বমুখী রাখছে বলে মনেই করছে বিশ্লেষকরা। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে এখন এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলার। সূত্রটিতে জানানো হয়েছে, এর আগে ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি এক আউন্সের দাম ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার ঝটিকা মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশে পড়ে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একধাক্কায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম এক সময় দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল—যা দেশের ইতিহাসে একক দফায় সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি ছিল।