Blog

  • বাংলাদেশে সোনার মূল্য কমলো, ভরি কত দামে বিক্রি হচ্ছে?

    বাংলাদেশে সোনার মূল্য কমলো, ভরি কত দামে বিক্রি হচ্ছে?

    বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, দেশের বাজারে সোনার দাম হ্রাস করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, এখন প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। এর ফলে, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরি দাম এখন নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায়, যেখানে আগে সে দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই দাম পরিবর্তনের সঙ্গে সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই দাম কমানোর ফলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামে সুগম প্রভাব পড়েছে।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার নির্ধারিত দাম এখন দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। পাশাপাশি, অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও নিম্নমুখী হয়েছে—যেমন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২৯১৮টাকা কমে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি এদিক থেকে ১ হাজার ৬৫৫ টাকা কমে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    অপর দিকে, রুপার দাম স্থির রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার হার উর্ধ্বমুখী। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৫০৫ ডলার হয়েছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার। এই মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকলেও, বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম কমে আসায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

  • সোনার দাম আরও বাড়ল, নতুন মূল্য ঘোষণা

    সোনার দাম আরও বাড়ল, নতুন মূল্য ঘোষণা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিল। নতুন করে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি আজ আবার বাড়ে এবং এখন এর দাম হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এর আগে গতকাল অর্থাৎ ৬ মে এই মূল্য ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টায় বাজুস একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মার্কেটে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে তারা এই মূল্য সমন্বয় করেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। একই সঙ্গে, অন্য ক্যারেটের সোনার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামের নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    এছাড়াও, রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সোনার বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। এর পাশাপাশি, মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয় কারণে দর ওঠানামা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি আঙ্কলের সোনার দাম উঠেছে ৪ হাজার ৭০০ ডলার। অতীতে, গত জানুয়ারি মাসে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২১০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা বেড়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলার হয়।

    গত মাসের শেষদিকে বিশ্ববাজারে সোনার দামে ব্যাপক বৃদ্ধি দেখে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। ২৯ জানুয়ারি সকালে, বাজুস এক ধাপে ভরি প্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারিত করে, ফলে প্রথমবারের মতো ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য। একই সঙ্গে, এই রকম মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।

  • নিজামী পুত্রসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

    নিজামী পুত্রসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী কন্যা, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ কান্তি এবং ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্যের মধ্যে দাবি করা হয়, এ সময় তারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবে সবাই উপস্থিত ছিলেন না; সংবাদ সম্মেলনে এ टोलीের উপস্থিত ছিলেন প্রায় পঞ্চাশ সদস্য।সংবাদ সম্মেলনে হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন ব্রেক করে বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হওয়ার পরও আমি একনিষ্ঠভাবে এনসিপিতে কাজ করবো।” তিনি বলেন, “হাজী শরীয়তুল্লাহ কাউকে রাজা বা নেতা করতে আসেননি, তিনি সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতার আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা কাউকে ইবাদত করি না। আমরা দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল করে, তাকেও ফিরিয়ে আনতে পারি। এই দল হলো আমাদের সত্যের পথে থাকার অবলম্বন।”এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি। সংসদে বিএনপি প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করছে, এর ফল ভালো হবে না। আমরা অতি দ্রুত গণভোটের অভূতপূর্ব রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “সরকার স্থানীয় কেন্দ্রগুলোকে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটপাটের জন্য ব্যবহার করছে। দ্রুত সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌর নির্বাচন দিতে হবে, বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং সংসদে বুক ফুলিয়ে দাবি করছে। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যারা এভাবে প্রতারণা করেছে, তারা জনগণের রুষ্টির মুখোমুখি হবে।”সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “তাদের বলদয় হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সারা দেশে প্রশাসক নিয়োগ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিলেন; তারেক রহমানও ঠিক সেইভাবে রাষ্ট্র চালাতে চান। তারা বারবার গণতন্ত্রের অপব্যবহার করছে।”নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং তাদের ক্লান্তিহীন সংগ্রামের জন্য শুভকামনা জানানো হয়।

  • দেশবিরোধী গোষ্ঠীসমূহ সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে: নাহিদ

    দেশবিরোধী গোষ্ঠীসমূহ সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে: নাহিদ

    পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে বিএনপি’র চিপ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের ক্ষতিকর ও দেশবিরোধী কিছু গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে, তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলিঅ স্মৃতি হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেইসব বক্তব্য রাখেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আমাদের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও ভোটের আগে হাজার হাজার নাগরিকের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, এসব ভোটারদের মধ্যে বেশিরভাগ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের ছিল। তিনি আরও বলেন, আমি সংসদে বলেছি, সেইসব মুসলমানদের উপর বিনা কারণে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর প্রভাব আমাদের দেশের উপরও পড়তে পারে। নির্বাচনের পরে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অমানবিক নির্যাতনের খবরও তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করে বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা না করে, তার জন্য সবাইকে চোখ খোলা রাখতে হবে। এনসিপির এই নেতা বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। দেশের সব ধর্মের নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা ও সম্মান বজায় রাখতে আমাদের সকলে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসা জরুরি।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ সবুজ করে উঠবে। মুসলমান, দলিত, মতুয়া সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে দলের মধ্যে ঐক্য ও শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত দ্ব›দ্ব ভুলে গিয়ে সবাই যেন এক হয়ে কাজ করি। দলের পতাকাতলে সবাই এক পথে চলবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শেষে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমরা কি সবাই একসাথে থাকব?” এ প্রশ্নের উত্তরে সবাই সামিল হয় ‘ইনশাআল্লাহ’ বললে, এতে তাদের একতার প্রত্যয় প্রকাশ পায়।

  • মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

    মির্জা ফখরুলের মতে, হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়

    দেশের সমাজে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী অস্তিত্ব রয়েছে, যারা সারাক্ষণ হতাশায় ভোগে এবং বিভিন্ন সময় সমাজকে অস্থির করে তুলতে চায়। এই ব্যাপারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, বলেন যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করতে চান না, কারণ এর পেছনে সম্পূর্ণ রাজনীতি ক্রিয়াকলাপের বিষয় রয়েছে। আমাদের রাজনীতি এখনো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন সংবাদ নয়। বারবার মানুষ নিজেদের স্বার্থে পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তবে দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    বলেন, এই সবের পেছনে মূল ব্যর্থতা হলো আমাদের স্বাধীনতার মূল শহীদদের সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্যবোধের ক্ষতি। ৮ মে শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র বন্ধুপ্রতিষ্ঠানের রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফখরুল বলেন, আমাদের দেশের মূল পরিচিতি ও গর্বের বিষয় হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই স্বাধীন্ত্র্য অর্জনে আমাদের প্রাধান্য ও বিশ্বাসের জায়গা হলো বাংলাদেশের মূল সৈনিকরা। নয় মাসের সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, আর এই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা গণতন্ত্রও ফিরে পেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের লড়াইয়েও আমাদের নতুন সরকারের প্রতি আশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু বিশেষ শক্তি দেশে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক কাঠামো সৃষ্টি করে অর্থনীতি ও প্রশাসন ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অস্থিরতাকে একত্রে কাটিয়ে উঠতে এবং দেশের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি এও বলেন যে কিছু চরমপন্থি বা অশান্তির পেছনে যারা আছে, তারা দেশের শান্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তবে কেউই এই ধরনের অপচেষ্টা মেনে নেবে না।

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষণে উল্লেখ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন এই দেশে আসতেন, তখন তিনি কৃষকদের দুর্দশা লক্ষ্য করে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এই সবকিছু ছিল তার জীবন ও কাজের অংশ। রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান, নাটক এমনকি ‘গীতাঞ্জলি’ দিয়ে তিনি বিশ্বকে প্রভাবিত করেছেন। তিনি বিশ্বজনের কাছে একজন বিশ্বমনের কবি হিসেবে পরিচিত। এ কথা তিনি স্মরণ করে বলেন যে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও জীবন সব ক্ষেত্রেই অবাধ বিচরণ ছিল।

    রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্যগণ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

    আলোচনা শেষে স্থানীয় ও ঢাকা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পুরো দিনজুড়ে পতিসর রবীন্দ্রভূমিতে নানা জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভিড় জমে হয়েছিল। হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমীরা এ উৎসবের অংশ নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিকে স্মরণ ও সম্মান জানায়।

  • সরকার Juliা সনদ ইস্যুতে টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    সরকার Juliা সনদ ইস্যুতে টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার নানা ধরনের টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, এই বিষয়টি জনগণের স্বার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ—এটি কোনো কৌশলের আওতা নয়। সরকার যদি নিজস্ব অলিখিত অজুহাতের পেছনে লুকায়, তখন জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

    শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধিকার ও সংবিধানয় গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য এখনই প্রয়োজন দ্রুত পদক্ষেপ। তিনি অবিলম্বে সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের জন্য গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপি-কে নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি শীর্ষ নেতারা গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সেটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্য দিয়েই তারা জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে বলে তিনি আঙুল তুলে বলেন।

    অন্তর্বর্তী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও বাইরে আলোচনা ও কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি পূরণের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানান।

  • মন্ত্রী ছাড়াের এলাকা কি উন্নয়ন হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    মন্ত্রী ছাড়াের এলাকা কি উন্নয়ন হবে না? গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা ছাড়া দেশের অন্যান্য অংশে কি সত্যিই কোনো উন্নয়ন হবে না—এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকার নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বरাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রীর মত ভূমিকায় থাকছে না, সেই এলাকার কি উন্নয়ন হবে? উন্নয়নে বৈষম্য দূর করতে হলে সব অঞ্চলে সমান নজর দিতে হবে। এর জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার রেল ও সড়ক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা জরিপ করে দেশজুড়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সরকারের দায়িত্বভাগ গ্রহণ করতে হবে।’

    তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ‘জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু এখন আবার এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেখানে বৈষম্য দর্শনীয়। আন্দোলনের সময় যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময় হয়েছিল, তার মূল্যায়ন করে দেশের সমতা রক্ষা করতে হবে। কিন্তু বর্তমান সরকার উন্নয়নের নামে বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং শহীদদের স্বপ্নের উদ্দেশ্যকে ভুলিয়ে দিচ্ছে, যা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    দেশের রেল যোগাযোগের দুর্বিষহ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুর্নীতিকে দায়ী করে বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত সব দেশে রেল যোগাযোগের উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু আমাদের দেশের এই খাতটি এখনো আধুনিকায়ন হয়নি। এটা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। সরকারকে কঠোরভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং আগামী বাজেটে রেল ও অন্যান্য যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপোষ করব না। দেশের সিদ্ধান্ত নিজস্ব স্বাধীনতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। বিদেশি চাপ বা রিমোট কন্ট্রোলের সামনে মাথা নত করব না। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সব বাহ্যিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।’

    উদ্ধারণা শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংকুচিত করার নিন্দা জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকার শ্রমিকদের অধিকার অস্বীকার, ট্রেড ইউনিয়ন দমন করছে। একটি কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রার করতে পারবে না—এটি শ্রমিকের ন্যায্য দাবি দমনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা। এর পরিবর্তে, শ্রমিকেরা যেন বেশি সংগঠিত হতে পারে, কারখানাগুলোতে যেমন বড় আয়তনের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন সম্ভব, তেমনি শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে ন্যায্য আলোচনা ও দাবি আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

  • আইজিপির মত, সরকার পুলিশের প্রতি গভীর আন্তরিকতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করছে

    আইজিপির মত, সরকার পুলিশের প্রতি গভীর আন্তরিকতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করছে

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন যে, বর্তমান সরকার পুলিশের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় নতুন নির্মিত ৩০০ ফুট এলাকা পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান সরকার দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন আগে পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হতো, তবে এখন এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন সরকার তৎপরভাবে কাজ করছে এবং জনতার প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করছে।

    পুলিশ বাহিনীতে জনবল সংকটের ব্যাপারে আইজিপি জানান, নতুন বাজেটের আওতায় এই সমস্যা সমাধানে সরকার আশ্বাস দিয়েছে। জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি, যেখানে বাংলাদেশ পুলিশ এখন আরও আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় সার্বক্ষণিক সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এক্ষেত্রে জনতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

    পুলিশ সপ্তাহের আয়োজন প্রসঙ্গে আলী হোসেন ফকির বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য কারণে গত সময়ে পুলিশ সপ্তাহের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার নতুন সরকারের অধীনে এক নতুন আঙ্গিকে পুলিশ সপ্তাহ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, একসময় পুলিশ একটু বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই গুছিয়ে আনা হয়েছে।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৮ মে) রাত সোয়া ১১টার দিকে, কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিজিবি) এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জানা গেছে, তিনি হলেন মো. মোরছালিন (২২), যিনি কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে। মোরছালিন স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্য একজনের নাম এখনো জানা যায়নি। বিজিবি বলছে, নিহতরা চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিল।

    নিহত মোরছালিনের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাতে স্থানীয় কয়েকজন এসে তাদের ছেলে-মেয়েকে ডেকে সীমান্তে নিয়ে যায়। সীমান্তের ভারতের অংশে পৌঁছানোর পর বিএসএফের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মোরছালিন ঘটনাস্থলেই মারা যান, পরে বিএসএফ তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

    বিজিবি জানায়, গত রাত বাংলাদেশের অায়ুর কাছে প্রায় ১৫ জন চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে চোরাচালানের জন্য। পরে, মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তাদের বাধা দিলে, চোরাকারবারিরা বিএসএফের ওপর হামলা করে। এ সময় গুলির ঘটনায় দুই বাংলাদেশি – মো. মোরছালিনসহ অন্য একজন – গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

    বিজিবি আরও জানিয়েছে, তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে নোট পাঠানো হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়াও চলছে। এ ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • কাপাসিয়ায় পরিবারের পাঁচজনের নির্মম হত্যাকাণ্ড

    কাপাসিয়ায় পরিবারের পাঁচজনের নির্মম হত্যাকাণ্ড

    গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাজুড়ে। সকালে স্থানীয়রা বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিন শিশু, একজন নারী ও একজন যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে বিশ্লেষণের জন্য পাঠায়।

    শুক্রবার (৮ মে) রাতের কোনো এক সময় এই নিদারুণ হত্যাকাণ্ডটি ঘটে বলে প্রথমে ধারণা করা হচ্ছে। কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে পলাতক স্বামী ফুরকান মিয়া ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।

    নিহতরা হলেন— ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন বেগম (৩২), শ্যালক রসুল মিয়া (২২), তাদের মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)। তারা গোপালগঞ্জ জেলা থেকে জীবিকার সন্ধানে গাজীপুরের কাপাসিয়া রাউৎকোন গ্রামে ভাড়া থাকা বাসায় বাস করতেন।

    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে শুক্রবার গভীর রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে গেছে। তবে শনিবার ভোরে নিহতের স্বজনরা ফোন করে জানান, তারা ফুরকানকে খুঁজছেন—সে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মোবাইলে যোগাযোগ করেছে। এরপর সকালে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহগুলো দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশে খবর দেন, এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা গভীর শোক ও শোকের ছায়ায় আছেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা, আমান উল্লাহ বলেন, মাঝে মধ্যেই পারিবারিক ছোটোখাটো ঝগড়া-বিবাদ হতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া এত বড় অপরাধ করবে, এটা কেউ বিশ্বাস করতে পারত না। তিনি আরও বলেন, তার শ্যালক এই পরিবারের সঙ্গে থাকতেন এবং তিনটি ফুটফুটে বাচ্চাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা ভাবতেও কষ্ট হয়।

    একইভাবে একজন প্রতিবেশী, জাহানারা আক্তার বলেন, গতকাল বিকেলে বাচ্চারা বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। কে জানতো যে, এই রাতে তাদের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটবে। সকালে মানুষ চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেকটি মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এই খুনের পেছনে স্বামী ফুরকান মিয়া জড়িত। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ থাকতে পারেন—এমন একটি সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ফুরকানকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য কাজ চলছে।