ফকিরহাটে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়ামসহ ট্রাক ছিনতাই, দুইজন গ্রেপ্তার

বাগেরহাটের ফকিরহাটে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ক্রয় করা প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়ামবাহী একটি ভাড়া ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) ভোররাতে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মূলঘর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ছিনতাই হওয়া ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করে। একই সময়ে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন— পাগলা উত্তরপাড়া এলাকার মো. জয়নাল আবেদিন (৩৮) ও নলধা গ্রামের মো. জুয়েল শিকদার (৩২)।

পুলিশ ও মামলার বাদির বর্ণনা অনুযায়ী, রামপাল এলাকার মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান যৌথভাবে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ওই পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়াম ক্রয় করেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় মালামালগুলো একটি ভাড়া করা বিআরটিসি ট্রাকে তুলে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়।

পথিমধ্যে রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয়রা ট্রাকটির গতিরোধ করে মালামাল যাচাই-বাছাই করে। তৎক্ষণাৎ কাগজপত্র ও মালামালের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ায় ট্রাকটিকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়।

অল্প সময়ের পর রাত প্রায় একটার দিকে ট্রাকটি পুনরায় যাত্রা শুরু করলে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তদল ট্রাকটি থামিয়ে চালক ও সঙ্গে থাকা লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাক ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনাস্থলের খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা দ্রুত অভিযান বাড়ায়। ভোর সাড়ে চারটার দিকে মূলঘর এলাকার পরিত্যক্ত একটি ইটভাটা থেকে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মনিরুল ইসলাম (গৌরম্ভা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে) বাদি হয়ে অটলভাবে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ডাকাতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি বলেন মামলার কার্যক্রম চলছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।