Blog

  • পিএসএলে খেলতে এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ, শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পিএসএলে খেলতে এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ, শরিফুলসহ পাঁচ বাংলাদেশি

    পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে বিসিবি থেকে সবুজ সিগন্যাল মিলেছে পাঁচ বাংলাদেশি ক্রিকেটারের। মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসাইন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন—এদের সকলকে এনওসি দেওয়া হয়েছে এবং তারা লিগে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত খেলতে পারবেন।

    আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে এ মৌসুমের পিএসএল। সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে লাহোর কালান্দার্স দলে নিয়েছিল বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। নিলামে জায়গা পেয়েছেন রিশাদ, নাহিদ ও পারভেজ ইমন। পরে পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাক পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। সবকিছু ঠিক থাকলে শোরপাট ম্যাচে নাহিদ রানার সঙ্গে পেশোয়ার জালমির জার্সি গায়ে দেখা যাবে বাঁ-হাতি শরিফুলকে।

    টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনই মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে মুস্তাফিজ ও ইমনের। ২৬ মার্চ পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স আর হায়রাবাদ হিউস্টনের মোকাবিলা; সেই ম্যাচে লাহোরের হয়ে মুস্তাফিজ-ইমনকে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে ২৮ মার্চে প্রথম ম্যাচে নামার কথা রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুলের। যদি ওই তিনজনে একাদশে থাকেন, তাহলে পেশোয়ার জালমি বনাম রাওয়ালপিন্ডির লড়াইয়ে নাহিদ-শরিফুলের বিপক্ষে রিশাদের দেখা মিলবে। ফলে এবারের পিএসএলে জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থ একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে পারেন।

    বিসিবির বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে যে পাঁচজনকেই অনাপত্তিপত্র মঞ্জুর হয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঠিক করা সিরিজের কারণে তাদের ছাড়পত্র নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই—১২ এপ্রিল পর্যন্ত—প্রযোজ্য রেখে দেওয়া হয়েছে; সেই সিরিজে অংশগ্রহণের কথা মাথায় রেখেই এই শর্ত রাখা হয়েছে।

    বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও এ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ‘‘যাদের দরকার আমাদের এখানে, ওয়ানডে সিরিজে আমরা কোনো আপস করব না। তবে যদি আমরা দেখি যে কাউকে ওখানে প্রমাণ করলে টু-টোয়েন্টিতে তার উন্নতি হবে এবং একইসঙ্গে আমাদের বিকল্প রয়েছে, তখন তাদের ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’’

    এখন সময় টুর্নামেন্টের সূচি ও জাতীয় দায়িত্বের সমন্বয় করার। পাকিস্তান থেকে ফিরে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রত্যেকেরই সময়মতো যোগদান প্রয়োজন হবে। ফুটবল নয়, ক্রিকেট পেশাদার জীবনে এই ধরনের আন্তর্জাতিক শিডিউল মানিয়ে নেওয়াই আজকের বাস্তবতা, আর এই পাঁচজন খেলোয়াড় তা বাস্তবে উলঙ্গ করবেন দেখতে ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা থাকবে।

  • আইপিএলে হতাশার সংবাদ: নিরাপত্তা-আকাশপথ সমস্যা ও একের পর এক বিদেশি ইনজুরি

    আইপিএলে হতাশার সংবাদ: নিরাপত্তা-আকাশপথ সমস্যা ও একের পর এক বিদেশি ইনজুরি

    আইপিএল শুরু হওয়ার আগে ঘনিয়ে এসেছে জটিলতা—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে আকাশপথ অনিরাপদ হওয়া এবং একের পর এক বিদেশি তারকার ইনজুরি। আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে তাই অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি বিদেশি ক্রিকেটারদের সময়মতো পেতে সমস্যায় পড়তে পারে; কিছু খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকার কথা, কেউ কেউ দলে দেরিতে যোগ দেবেন।

    আকাশপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারতকে অনেক বিদেশি খেলোয়াড়কে আনতে বিকল্প পথ বা পরিকল্পনা নিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে মিলিয়ে গ্রীষ্মকালে চোটে পড়া বহু খেলোয়াড়ও ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর মাথা ঘামাচ্ছে। নিচে কয়েকজন মূল বিদেশি ক্রিকেটারের বর্তমান অবস্থা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো—

    প্যাট কামিন্স: অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক কামিন্স পিঠের অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে মাত্র একটি টেস্ট খেলে অ্যাশেজের বাকি ম্যাচগুলো ও সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও মিস করেছেন তিনি। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আইপিএলের শুরুর সময়ে নেতৃত্ব দায়িত্ব অন্য কাউকে থেকে দিয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করলে পরবর্তী সপ্তাহে তিনি দলে যোগ করতে পারেন।

    মিচেল স্টার্ক: বাঁ-হাতি পেসার স্টার্ক বর্তমানে কোনো বড় চোটে নেই, তবে অতিরিক্ত ওয়ার্কলোড এবং দীর্ঘ সিরিজের পর শরীরকে বিশ্রাম দিতে হচ্ছে। অ্যাশেজে যতটুকু দায়িত্ব নিয়েছিল তা বিবেচনায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না। দিল্লি ক্যাপিটালস মুহূর্তের ফিটনেস রিপোর্ট দেখে কিন্তু আশাবাদী হবে।

    জশ হ্যাজলউড: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জয়ের পথে গতবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হ্যাজলউডও সম্পূর্ণ সুস্থ নন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিসের সমস্যা থাকায় তিনি অস্ট্রেলীয় গ্রীষ্মকাল ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি। নিয়মিত পুনর্বাসন চলছে; ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাস করতে পারলেই তিনি আইপিএলে যোগ দেবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এলিস এইবারের পুরো আইপিএল থেকেই ছিটকে গেছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের পেস আক্রমণে তার অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা, ফলে দল এখন তার বিকল্প কে হবে তা খুঁজছে।

    স্যাম কারান: ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার স্যাম কারান রাজস্থান রয়্যালসে ট্রেড হয়ে গেলেও গ্রোয়িন ইনজুরি তাকে পুরো মৌসুমে কাঁদিয়ে দিতে পারে। এই কারণে নতুন জার্সি গায়ে তোলার অপেক্ষা করতেই হতে পারে ওর। তার অনুপস্থিতি হলে রাজস্থানের দলগত ভারসাম্যে প্রভাব পড়বে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সামনের পেসার হিসেবে সম্ভাবনাময় এডওয়ার্ডসের অভিষেক মৌসুমটি পায়ের চোটের কারণে বাতিল হয়ে গেছে। বিগ ব্যাশে ১৩ উইকেট নেওয়া এই তরুণ পেসার নিলামে একমাত্র আনক্যাপড বিদেশি ছিলেন; তার অনুপস্থিতিতে হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগের গভীরতায় সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের শুরুটা মিস করবেন—সম্প্রতি বাবা হওয়ায় তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। পরে টুর্নামেন্টের শেষের দিকে দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

    ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ এখনই খেলা এবং লজিস্টিক উভয় দিকেই সতর্ক। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে ফিটনেস রিপোর্টগুলো ইতিবাচক হলে অনেক খেলোয়াড় দলে ফিরতে পারবেন, অন্যদিকে আকাশপথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝামেলা কাটাতে পারলেই বিদেশি আগমন সহজ হবে। শেষ পর্যন্ত আইপিএল শুরু হলেও প্রথম কয়েক সপ্তাহে দলগুলোতে পরিবর্তন এবং দলে দেরিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা অবশ্যম্ভাবী বলে মনে হচ্ছে।

  • প্রথমবার বাবা–ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান, চাঁদরাতে প্রকাশ

    প্রথমবার বাবা–ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান, চাঁদরাতে প্রকাশ

    দেশের তুখোড় কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে অনবদ্য হয়েছে জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীত। এবার নিজের পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার গান প্রকাশ করছেন তিনি। ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে মুক্তি পাবে তাঁর কাওয়ালী শৈলীর গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’।

    গানটি প্রকাশ হবে জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত ভিডিওটি প্রকাশ করা হবে প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলে।

    জাহিদ নিরব জানালেন, বাড়িতেই তাদের সঙ্গীতচর্চা হয়ে উঠেছিল—’আব্বা হারমোনিয়ামে, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই’—এভাবেই শুরু। এই প্রজন্মের সঙ্গে মঞ্চেও যে তাল-মিল রয়েছে, সেই পরিবেশ থেকেই তিনি এবার বাড়ির মানুষগুলোর অংশগ্রহণে গানটি রেকর্ড করেছেন। গানে হারমোনিয়ামে রয়েছেন তার বাবা, তবলা বাজিয়েছেন বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম, গিটারে আছেন ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড়, আর রাবাবে সুর বেঁধেছেন মেহেদী হাসান তামজিদ—মুন্সীগঞ্জের সেই পরিচিত মঞ্চ এখন গান হিসেবে সকলের সামনে আসছে।

    গানের কথা সাজিয়েছেন মঞ্জুর এলাহী। তিনি বলেন, “গানটির কথায় উঠে এসেছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সৃষ্টিকর্তার অজস্র অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা—কতটুকু আমরা সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তা ভেবে এই গানটি তৈরি।”

    ওই গানের জন্মটা একটু অন্যরকম। নিরব জানান, এটি মূলত প্রাইম ব্যাংকের ‘হাসানাহ’ জিঙ্গেল হিসেবে তৈরি ছিল। লাইনগুলো ভালো লাগায় অনুমতি নিয়ে তিনি সেটিকে পূর্ণাঙ্গ গান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ভিডিও নির্মাণে অনেক দিনের সহযোগী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তাঁর টিমের অবদান বড় ছিল।

    এই ঈদটা নিরবের কাছে একটু বিশেষ—গতবছর তিনি বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন, তাই বিয়ের পর এটি তার প্রথম ঈদ। জানালেন, “এবারের ঈদ আমার জন্য আলাদা—সবকিছু যেন একটু নতুন লাগে।” তবু বিশ্রিতেই সময় নেই; নিয়মিত কাজ আর ঈদের বিশেষ প্রজেক্টে ব্যস্ততা মিশে আছে তার দৈনন্দিনে।

    গতকালের কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈদের ছবি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব—এতে তানিম নূর অনেক সাহায্য করেছেন। রায়হান রাফীর পরিচালিত ছবিটি ‘প্রেশার কুকার’-এও একটি গান আছে, গানটি গান করেছেন অঙ্কন কুমার; কথা ও সুরও তারই। নিরব বলেন, “দারুণ একটা কাজ হয়েছে।”

    ঈদ উপলক্ষে টিভির নাটকগুলোতেও তার সুর রয়েছে। ‘তবুও মন’ নাটকের জন্য ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ শিরোনামের গানটির কথা লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত নিরবের, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। এছাড়া ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান—এই গানের কথা লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব ছিলেন প্রযোজনা ও সুরে সক্রিয়। প্রকাশ পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘মিউ’-র গান ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুদের জন্য লেখা ‘মিউ মিউ মিউ’। পাশাপাশি জিঙ্গেল ও প্রবাসীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের মিউজিক ভিডিওর কাজও করেছেন; তার একটি আনপ্লাগড ভার্সন শিগগিরই প্রকাশের অপেক্ষায়।

    নিয়মিত সিনেমা-টিভি ও ওয়েব কাজের পাশাপাশি তিনি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর মিউজিক ডিরেক্টর। ধারাবাহিকটির ঈদ বিশেষ এপিসোডও উৎসাহ বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে গান, নাটক, সিনেমা—প্রায় প্রতিটি ধাঁচের কাজে ব্যস্ত থাকা নিরবের জন্য 올해 ঈদ যেন সত্যিই আনন্দ আর কাজের সমাহার হয়ে উঠেছে।

  • দিলজিৎ দোসাঞ্জের ১৪ কনসার্টে আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি

    দিলজিৎ দোসাঞ্জের ১৪ কনসার্টে আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি

    কেবল গান-বিনোদন নয়—কনসার্ট এখন বিশাল একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক ডিল-লুমিনাটি ট্যুর সেই বাস্তবটাই প্রমাণ করল। মাত্র ১৪টি শোতে, ১৩টি শহর ঘেঁটে এই ট্যুর থেকে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা।

    টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে প্রায় ২২১ কোটি টাকা, স্পনসরশিপের আওতায় যোগ হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকারও বেশি—প্রতিটি শো যেন একেকটি ছোট অর্থনীতি চালিত কেন্দ্র।

    কিন্তু সবচেয়ে চোখে পড়া ছিল পরোক্ষ আয়ের পরিসর। ভ্রমণ, হোটেল, খাবার ও কেনাকাটাসহ ভক্তদের খরচ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। জরিপে দেখা গেছে দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশই অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত থাকেন—ফলত: স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা লক্ষণীয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    দর্শক উন্মাদনা ছিল আশ্চর্যজনক: ১৪টি শোতে মোট দর্শকসংখ্যা ৩,২০,০০০ ছাড়িয়েছে, আর দিল্লির এক কনসার্টেই উপস্থিত ছিল প্রায় ৫৫,০০০ মানুষ। প্রতিটি শো আগাম হাউসফুল ছিল। বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত বড় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা না করলেও এই সাফল্য দিলজিৎকে অবশ্যই বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে বিশেষভাবে তুলে এনেছে।

    শুধু রাজস্বই নয়—এই ট্যুর নতুন কর্মসংস্থানের দ্বারও খুলে দিয়েছে। প্রায় ১,১৮,০০০ কর্মঘণ্টা সৃষ্টি হয়েছে; লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা খাতে হাজারও মানুষের কাজে যোগ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি কনসার্ট এখন শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এক পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম।

    সংক্ষেপে, দিলজিৎ দোসাঞ্জের এই ট্যুর দেখাল কনসার্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিশাল আর্থিক সম্ভাবনা—সঙ্গীতের আনন্দ আর অর্থনৈতিক গতি, দুটোই একসঙ্গে নিয়ে।

  • কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের পরিবার পাবেন ২৫ হাজার টাকা

    কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের পরিবার পাবেন ২৫ হাজার টাকা

    কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় নিহতদের পরিবারকে প্রতি জন ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

    ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় ৩টায় পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন মামুন পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দিয়ে বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত নিয়ে যায়। প্রথম দিকে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

    দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম সার্কিটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষও ঘটনাটির তদন্তে দুটি আলাদা কমিটি গঠন করেছে। ট্রেন উদ্ধারের জন্য আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন পাঠানো হচ্ছে বলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান। উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চলছে।

  • কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত

    কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত

    কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যাওয়া ট্রেন-বাস সংঘটনে নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় রোববার (২২ মার্চ) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বইয়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    নিহতদের পরিচয়গুলো হলো: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩); ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬) এবং তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪); চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬); যশোরের চৌগাছার ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সিরাজউদ্দোলার মেয়ে সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬); এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।

    ঘটনাটি ঘটেছিল শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে, যখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের যাত্রীবাহী বাসটিকে ধাক্কা দিলে বাসটি ট্রেনের সাথে ঝুলে অন্তত আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও উদ্ধারকাজ জোরদার হওয়ার পর নিহতের সংখ্যা বাড়ে বারোতে।

    দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়; পরে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন ইউনিট উদ্ধার ও উদ্ধারোত্তর কাজে অংশ নেয়। রেলখাতের জরুরি কাজ শেষে সকালে প্রায় ৮টার দিকে সেখানকার রেল যোগাযোগ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হয়।

    ঘটনার দায়প্রাপ্তি নিরূপণের লক্ষ্যে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নিহত পরিবারগুলোর প্রত্যেককে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অনুদান ঘোষণা করেছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তদন্তের জন্য তিনটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে; তদন্ত চলমান রয়েছে।

  • কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মন্তব্যগুলো বহু সময় ভাইরাল হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, কোনো কথা বা কর্মে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন যে গত কয়েক দিনে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কিছু গভীর আলোচনা করেছেন এবং সেখান থেকেই মূল্যবান পরামর্শ পেয়েছেন।

    পাটওয়ারী বলেন, সবার কাছ থেকে পাওয়া দিকনির্দেশনায় তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা এবং গঠনমূলক আলোচনায় মনোযোগ দেওয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি বিনয়ের সঙ্গে সেই পরামর্শ গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার চেষ্টা করব।”

    তিনি নিজের অকপট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য তার সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান। পোস্টে তিনি বারবার অনুরোধও জানান—যদি তার কোনো বক্তব্য বা কাজের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে সে জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। তিনি লিখেছেন, “আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই আমার পথচলার শক্তি।”

    পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে তার এই আত্মিক যাত্রার একটি নীরব সূচনা হয়েছে। তিনি শেষভাগে দোয়া চেয়ে বলেন, “আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”

  • জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে সংসদে তীক্ষ্ণ মন্তব্য মনিরুল হক চৌধুরীর

    জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে সংসদে তীক্ষ্ণ মন্তব্য মনিরুল হক চৌধুরীর

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোকচর্চায় অংশ নিয়ে তিনি কথাগুলো বলেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    মনিরুল হক বলেন, স্বাধীনতার পর একটি মেধাবী তরুণ শ্রেণি গঠিত হয়েছিল, তারা জাসদ তৈরি করেছিল। তবে অতিরঞ্জনের ফলে দেশের ক্ষতি হয়েছে, জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদেরও ফল ভোগ করতে হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘আমাদের যেন সবকিছু সহ্য করার ধৈর্য ও সামর্থ্য দেওয়া হয়।’’

    প্রসঙ্গ বসিয়ে তিনি স্মরণ করান দলীয় অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে। ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি বলেন, তিনি তখন দলের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অনেক সংকট মোকাবিলা করেছে বিএনপি। তিনি বেগম খালেদার জামায়াতকে রাজনীতিতে আনায় যে অবদান, সেটাও স্মরণ করার আহ্বান জানান। ‘‘আপনারা যখন প্রশ্ন করেন, মনে হয় গত ১৫-২০ বছর বিএনপি এই দেশে ছিল না—তবে ইতিহাস অন্য কথা বলে।’’

    মনিরুল হক আরও বলেন, আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতেন তাদের চিনতেন; এখন বিরোধী পক্ষ হিসেবে যারা আছেন তাদের চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি তরিক রহমানের কথাও স্মরণ করেন—‘‘কঠিন নির্বাচন’’—যা তখন অনেকেই বুঝতে পারেননি, পরে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা বুঝেছেন কত কঠিন পরিবেশ ছিল।

    সংসদে আসার পর তাদের মধ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রাপ্য হিসেবে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে উল্লেখ করেন। এর পরই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, आज কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা এখনো জীবিত তাদের ওপর প্রশ্ন উঠছে এবং মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো সময়ের সংঘর্ষের সঙ্গে সমভাবে দেখা হচ্ছে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, তিনি যোগ করেন, ‘‘ফ্যাসিস্টদের আমলে বিচারের নামে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তার আলাদা বিচার আছে।’’

    শেষে মনিরুল হক বলেন, এনসিপি বা স্বাধীনুর পর যাদের নেতৃত্বে তরুণরা থাকলেও তিনি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কারণ তারা সাহসী এবং এই যুগের চাহিদা মেটাচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে রয়েছে অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অংশীদারিত্ব ও দায়দায়িত্ব নিয়ে কড়া তীব্রতা এবং সহনশীলতার আহ্বান।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত শুরু

    দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য দুই বন্দর ও শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের ওপর চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত।

    রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকটি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

    দুদকের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনার সময় ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র চারটি জাহাজ কেনা হয়েছে; এতে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে মোংলা বন্দরের পাসুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং প্রকল্পে ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো থেকে নথিপত্র তলব করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, আর্থিক রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই করে শিগগিরই তদন্তের পরবর্তী কাজগুলো এগোবে।

  • ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বাড়ল — নতুন গাইডলাইন জারি

    ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা বাড়ল — নতুন গাইডলাইন জারি

    ব্যাংকিং খাতে ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যবহার ও সেবার পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই খাতে থাকা জটিলতা কমানো এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় নতুন কিছু বিধান আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। পূর্বের নীতিমালা হালনাগাদ করে তাই একটি বিস্তৃত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান উৎসাহিত করা এবং নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে যে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদণ্ড, ঋণসীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন নীতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সংরক্ষণ, বিরোধ নিষ্পত্তি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    গাইডলাইনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে এক হলো ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদানের সর্বোচ্চ ঋণসীমা বাড়ানো। পূর্বে যেখানে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা, তা এখন বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অসুরক্ষিত (আনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ডফিউচার লেনদেন পরিশোধে জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে গাইডলাইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ব্যাংক ও অর্থপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকপ্রতিষ্ঠ পদ্ধতি ও শক্ত ভিত গড়ে তোলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে ক্রেডিট কার্ড সেবার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হবে এবং গ্রাহকের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থের সুরক্ষা আরও শক্ত হবে।