Blog

  • শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেলেন তাসনিম আফরোজ ‘ইমি’

    শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেলেন তাসনিম আফরোজ ‘ইমি’

    সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমি। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে কারামুক্ত হন।

    জেল সুপার কাওয়ালিন নাহার জানান, সকালে ইমির জামিনপত্র কারাগারে পৌঁছলে তা যাচাই-বাছাই করা হয়। কারাগারে অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    গত ৩০ এপ্রিল ইমি জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আবেদনের শুনানি করে রুলসহ এ আদেশ দেন।

    প্রায় দুই মাস আগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে তাসনিম আফরোজ ইমি শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের অডিও বাজান। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন আসিফ আহমেদ, মামুনসহ কয়েকজন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ তাকে থানায় সোপর্দ করেন।

    পরদিন ইমি, আসিফ আহমেদ ও মামুনসহ অজ্ঞাতনামা ২০–৩০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

  • দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে: নাহিদ

    দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে: নাহিদ

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে এনসিপি আয়োজিত নতুন সদস্য যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কতা জানান।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবুও নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব নাকচ এবং ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার খবর উঠায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। তার দাবিতে এসব ভোটারের একটি বড় অংশ ছিলেন মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।

    তিনি বলেন, ‘‘আমি সংসদেও এ বিষয়টি উত্থাপন করেছি—সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়কে নির্যাতন করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার মোছা হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।’’ নির্বাচনের পরেও তিনি পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।

    বাংলাদেশে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে নাহিদ বলেন, ‘‘দেশবিরোধী ও স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা রকম উসকানি দেবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর চেষ্টা করবে এবং ভুয়া প্রোপাগান্ডা চালাবে। আমাদের সবাইকে এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতেই হবে।’’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব। বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করবে।’’ তিনি মুসলিম, দলিত, মতুয়া ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের এনসিপিতে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বললেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব রাখতে পারব না। যে ইচ্ছেই যেখান থেকে আসুক, এনসিপির পতাকাতলে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে—ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’’ বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘‘আমরা কি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব?’’ জবাবে নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সমর্থন জানায়।

  • এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামী পুত্র, হাজী শরীয়তullah’র বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সদস্যরা

    এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামী পুত্র, হাজী শরীয়তullah’র বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সদস্যরা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয়। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী’র সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম.এ.এইচ.আরিফ ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের বহু সদস্য এনসিপিতে যোগদান করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি; তিনি অনলাইন যোগে অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের দাবি, ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের প্রায় চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগদান করেছেন; যদিও আজকের অনুষ্ঠলে তাদের সবাই উপস্থিত ছিলেন না—সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে প্রায় ৫০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইনও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “হাজী শরীয়াতুল্লাহর উত্তরসূরি হিসেবে আমি নিজেকে মনে করলেও এনসিপিতে একজন কর্মী হয়ে দলের কাজ করব।” তিনি আরও বলেন, “হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না; তিনি সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতা আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না—দলে থাকা আমাদের উদ্দেশ্য হলো নেতা যদি ভুল পথে চলে, তাকে ফেরানো এবং দলের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা।”

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি।” তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে বিএনপি প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিচ্ছে এবং সেটির কোনো ভাল ফল হবে না। তিনি অবিলম্বে “গণভোটের রায়” বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা, লুটপাট ও চাঁদাবাজির একটি ক্ষেত্র বানানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, সিটি কর্পোরেশনসহ উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন অতি দ্রুত, সম্ভব হলে এ বছরের মধ্যেই আয়োজন করা হবে।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, “বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সংসদে তা গর্বের সঙ্গে বলছে—এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক।” তিনি অতীতে যারা একইভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে তাদের জনগণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন। আসিফ আরও বলেন, “হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ যেমন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন, তেমনি তেরোক রহমান একই ধরনের শাসন কাঠামো ভেবে চাচ্ছেন; তারা গণতন্ত্রকে বারবার তাদের রাজনৈতিক সুবিধার বস্তু হিসেবে ব্যবহার করেছে।”

    সংবাদ সম্মেলনের শেষে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দল শৃঙ্খলা ও আন্দোলনে তাদের সক্রিয়তা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে।

  • সোনার দাম কমল: প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমল: প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। নতুন রিটেইল দর অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়েছে, ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি এখন দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুস মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য কমায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    বেঁধে দেয়া নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের রেটগুলো এইভাবে নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা। তুলনায়, গত সোমবার (৪ মে) ২২ ক্যারেটের ভরিটির দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    রুপার দাম এই রাউন্ডে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিবেচিত রেট অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সোনার দর ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছু সময় ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরে সমন্বয় শুরু করে। বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম এখন আনুমানিক ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি শীর্ষে উঠে প্রায় ৫,৫৫০ ডলার পর্যন্ত যায়।

    বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা কার্যকর হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সহযোগী ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের মধ্যে সাময়িক প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।

  • আবার বাড়ল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা

    আবার বাড়ল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয়বার সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। প্রতি ভরি সোনার মূল্য সর্বোচ্চ ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি আজ নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়; আগের দিন এই দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বাজুস বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    বাজারে নির্ধারিত অন্যান্য দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এখন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২১৩ টাকায় (২০২,২১৩) এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা করা হয়েছে।

    বাজুস ও আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সিরিজে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-এর তথ্যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলারে পৌঁছেছে। স্মরণযোগ্য যে, জানুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বগতি থাকায় দেশের বাজারেও মূল্য উত্থান দেখা গিয়েছিল; ২৯ জানুয়ারি একদিনে বাজুস এক ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে তখন ২২ ক্যারেটের দাম রেকর্ড ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দিয়েছিল।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, geopolitical উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক দরপতনের সংমিশ্রিত প্রভাবের কারণে স্বর্ণ-রুপার দর এখন অস্থির। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সময়মতো মূল্যসুচি দেখে সাবধানতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের পরশেষ্ঠ

    রাজ্যপাল ভেঙে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের পরশেষ্ঠ

    রাজ্যপাল এস এন রবি বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের সংবিধানের ১৭৪(২)(খ) ধারার ক্ষমতাবলে এই বিধি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ৭ মে থেকেই বিধানসভা বিলুপ্ত করা হলো। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় টানা ১৫ বছরের শাসনকালের অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বলে ধরা হচ্ছে।

    মমতা প্রথমবার ২০১১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন এবং তার নেতৃত্বে তিন কার্যকালের জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন পরিচালিত হয়েছে। চলতি নির্বাচনের ফলাফল ও বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিধানসভা ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ঘোষণার ফলে সাংবিধানিকভাবে মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও কার্যত শেষ হিসেবে গণ্য হবে।

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ৪ মে ঘোষণা হওয়ার পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২০০টির বেশি আসনে জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে এসেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপির এই উত্থানকে দেশের রাজনীতি সম্পর্কেও একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ফল প্রকাশের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করায় নেতা-অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছিল। বিধানসভা বিলুপ্তির পরে সে অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে এবং এখন নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনসহ সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আগামী ৯ মে — রবীন্দ্র জয়ন্তী — বিজেপির নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

    এরই মধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যা ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উন্মোচনে তৎপর রয়েছেন। চন্দ্রনাথকে মধ্যরাতে কলকাতা ফিরার পথে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় গুলি করে হতাহত করা হয়েছে; ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন, গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

    ঘটনার পরে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যা মামলার পেছনে উদ্দেশ্য ও দায়ীদের খোঁজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ের আঙুল তুলেছে; তৃণমূল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে কথা বলছে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার সব ঘটনায় নিরপেক্ষ ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

    রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এখন সরকারের রূপান্তর ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পরবর্তী ধারা কেমন হবে, তা সামনের জেলায় স্পষ্ট হবে।

  • স্যাটেলাইট চিত্রে: ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

    স্যাটেলাইট চিত্রে: ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের সঙ্গে চলমান ৪০ দিনের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসের মতো অবস্থায় এসেছে—এমন তথ্য স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট।

    নিবন্ধে বলা হয়েছে, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল অঞ্চলভিত্তিক মার্কিন ঘাঁটির বিমান সংরক্ষণ শেল্টার, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পূর্বের কোনো স্বীকৃতি বা রিপোর্টে যে পরিমানে তুলে ধরা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনও জানিয়েছিল, অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জিজ্ঞাসিত কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বিমান হামলার হুমকি কিছু ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে; এ অবস্থায় কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরু থেকেই তাদের বাহিনীর বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে সতর্ক করে বলেছেন যে বিশেষজ্ঞদের বর্ণনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ব্যাপক ধ্বংস’ বা অপারেশনাল ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল; অনেক ক্ষেত্রে উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ক্ষতির ব্যাপারে আরও পূর্ণাঙ্গ ও নির্ধারিত চিত্র দিতে পারবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে (প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার)। তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতেই পেন্টাগন কংগ্রেসকে ২০২৭ আর্থিক বছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট প্রস্তাব করেছে, যা আগের বর্ষের তুলনায় ৪০–৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ঘটনাপ্রবাহে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেয়াশ্বরূপে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। প্রতিরোধে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানায় যুদ্ধ দ্রুত অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমাবদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রে চাপ সৃষ্টি করতে তোড়জোড় করে; পাল্টা ওয়াশিংটন ইরানের উপকূলীয় বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির অর্থনীতি দমন করতে শুরু করে।

    সংকটটি এখনো স্থিতিশীল হয়নি; উপগ্রহ চিত্রে সূচিত ক্ষতির মাপকাঠি, সামরিক বিবৃতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—এসব মিলিয়ে সবই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

  • আইনমন্ত্রী: আমরা স্বাধীন ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা চাই

    আইনমন্ত্রী: আমরা স্বাধীন ও সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা চাই

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচারকদের আইন প্রণয়ন, বদলি বা পদায়নে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকার সুযোগ নেই। বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীন রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    শুক্রবার সকালেই খুলনায় এক আইনজীবী সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের গত অবস্থা থেকে উত্তরণে যে সংগ্রাম হয়েছে, তাতে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন, অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু আইনজীবী ও নেতা-কর্মী কারাভোগও করেছেন। সেই কষ্টের দিনগুলো থেকে বেরিয়ে এসে দেশে স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা তাদের লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, বর্তমানে ‘‘জুলাই সনদ’’ বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে আমরা এটি বাস্তবায়নের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তবে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় বিএনপি কিছু বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট (ভিন্নমত) জানিয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    আসাদুজ্জামান বারের উন্নয়ন ও আইনজীবী ও বিচারকদের দায়িত্ব পালনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সব পক্ষকে পেশাদার ও নৈতিক মান বজায় রেখে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে জনগণের বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকে।

    প্রতিষ্ঠানিক ঘটনার এক অংশ হিসেবে খুলনা বারে ১৭৪ জন নবীন আইনজীবী নতুন করে যোগদান করেছেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাদের শুভেচ্ছা জানান এবং জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত কমিটিকে সংবর্ধনা দেন।

    জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ মাসুদ রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান ও জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজী। এছাড়া খুলনার সকল আদালতের বিচারক ও আইনজীবীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

  • পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার কল্যাণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খুলনা গড়া সম্ভব

    পারস্পরিক সহযোগিতায় মানবতার কল্যাণে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খুলনা গড়া সম্ভব

    কেসিসি প্রশাসক ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে রেড ক্রিসেন্ট পথ চলেছে এবং সংস্থাটি দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসের অঙ্গ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জাতীয়তা, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই মানবতাবোধের অংশীদার। দুর্যোগ, সংঘাত কিংবা ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের সময়েও রেড ক্রিসেন্ট কখনো বৈষম্য করে না—এই মানবিকতাই আমাদের একত্রিত করে। তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে মানবতার কল্যাণে একসাথে কাজ করলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খুলনা গড়ে তোলা সম্ভব।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘‘ইউনাইটেড ইন হিউম্যানিটি’’। অনুষ্ঠানের আগে নগর ভবনের সামনে মানববন্ধনও আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

    আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের সাবেক সহসভাপতি শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিটি ইউনিটের উপসহকারী পরিচালক রেক্সোনা খাতুন, থ্রি-সি প্রকল্পের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোজেক্ট ম্যানেজার মোঃ আব্দুল মজিদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোজেক্ট অফিসার সাকিবুল হাসানসহ সংস্থার আজীবন সদস্য, সাবেক ও বর্তমান যুব সদস্যরা। এছাড়া খুলনা আজম খান সরকারি কমার্স কলেজ, সরকারি সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয়, সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বিএল কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অনুষ্ঠান পরিবেশিত করেন।

    উল্লেখ্য, খুলনা মহানগরীতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির অর্থায়নে ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্লিন সিটিস (থ্রি-সি)’ নামে একটি প্রকল্প চলমান আছে। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ২১ ও ২২ নং ওয়ার্ডের স্লাম এলাকায় ছোট রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, প্রাকৃতিক জলাশয় পরিস্কার, পরিবারভিত্তিক টয়লেট নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে ক্লাইমেট রেসপনসিভ যাত্রী ছাউনি নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার বক্তৃতায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় সরকার, নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতায় উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন—মিলেমিশে কাজ করলেই খুলনাকে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই করা সম্ভব।

  • জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

    জেলা পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

    জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক ও বালিকা)-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় খালিশপুর পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এ সমাপনী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

    অধিদপ্তরের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা। উৎসবমুখর পরিবেশে খেলোয়াড়রা কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন এবং দর্শক ও সংগঠকদের কণ্ঠস্বর কাঁপানো প্রশংসা পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করে তোলেছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান মুরাদ। জেলার প্রাথমিক স্তরের এসব প্রতিযোগিতা স্কুলকালীন ক্রীড়া চর্চাকে উৎসাহিত করে এবং প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দেয়—এমনটাই মঙ্গলবার অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন।