শান্তের সেঞ্চুরি, মুমিনুলের আক্ষেপ — মিরপুরে বাংলাদেশের রঙিন দিন

‘‘প্রথম ইনিংসে চারশোর বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো হবে।’’

মিরপুর টেস্ট শুরুর একদিন আগে এমনটাই বলেছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সে আশা প্রথম দিনের খেলার শেষে প্রায় পূরণ হওয়ার পথে। প্রথম দিনের খেলা শেষে স্বাগতিকরা চার উইকেট হারিয়ে ৩০১ রানে থেমে গেছে। দ্বিতীয় দিনের সকালে কিছু রান যোগ করতে পারলে সুখে থাকবেন শান্ত। সেই ভালো অবস্থার প্রধান নায়কও হলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। উইকেটে ছোঁয়া থাকলেও পাকিস্তানের পেসাররা যে সুইং–সিম নড়াচড়ে প্রত্যাশিত মাত্রায় করতে পারেনি, তা বাংলাদেশকে কাজে করেছে।

সকালের শুরুতে পাকিস্তানের পেস আক্রমণে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম দুই ওপেনারকেই আউট করে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলী। কিন্তু প্রথম ঘণ্টার পর থেকে সফরকারীরা তা ډولানিতে রাখতে পারেনি। দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত; তার ব্যাটিংয়ের ওপরই দাঁড়িয়েছে বড় অংশ রান।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই সুখসুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি জয়—১৯ বল খেলে ৮ রানের মাথায় শাহীন আফ্রিদির একটি বলে স্টাম্পের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১১তম ওভারে হাসান আলীর প্রথম বলেই সাদমানও ফেরেন; ৩০ বলে ১৩ রান করে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি।

তৃতীয় ও চতুর্থ পজিশনে নামা মুমিনুল হক ও শান্ত মিলে পরের পর্যায়ে ম্যাচের ধারা পাল্টে দেন। প্রথম সেশনে আরও দুই উইকেট হারালেও উইন্ডো ভুলিয়ে ১০১ রান তুলে প্রথম দিনের দায়িত্বভার তারা হাতে রাখেন। লাঞ্চের পর শান্ত দ্রুত এক করে উঠেন—৭১ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন এবং এরপর গতিতে বাড়িয়ে ১২৯ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করেন; সেই হাসি–আনন্দ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কোর্টে।

শান্তের সেঞ্চুরি কভার ড্রাইভে আসে, মোহাম্মদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরে দেওয়া বলে চার মেরে তিনি শতকে পৌঁছান। তবে শতরানের ঠিক পরই আব্বাসের আগত এক ডেলিভারিতে লেগ বিফোর উইকেট আউট হন শান্ত; প্রথম আম্পায়ারের না দেওয়া সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায়। ১৩০ বল খেলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় শান্তর ইনিংস হয়েছে ১০১ রানের। তার বিদায়ে ভাঙে মুমিনুলের সঙ্গে তার ১৭০ রানের জুটি।

মুমিনুলও দারুণ খেলে গেছেন; দিনের শেষে ১০ চারে ২০০ বলে ৯১ রান করে আউট হন তিনি। বাঁহাতি স্পিনারের নীচু ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বল প্যাডে লাগা দেখে আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন মুমিনুল—তবে রিভিউয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।

শান্ত ও মুমিনুলের পরে মুশফিকুর রহিমও শুরু থেকে সক্রিয় ছিলেন; দিনশেষে তিনি অপরাজিত ৪৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে থাকছেন। লিটন দাস ৩৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত; তারা দুজনে দ্বিতীয় দিনের সকালে ব্যাটিং শুরু করবেন। প্রথম দিনের এই পাওয়ায় বাংলাদেশ অপেক্ষা করবে আরও একদিনের কাজে—শান্তের চাহিদা ছিল প্রথম ইনিংসে বেশি রান, সেটাই শতরান ও দৃঢ় মুমিনুল–শান্ত জুটির মাধ্যমে কিছুটা হলেও মেলেছে।