Blog

  • খুলনায় দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

    খুলনায় দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

    খুলনার রেলওয়ে পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালনকালে এক পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। জানা গেছে, কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস (বিপি: ৯৯১৮২১৪৯২৯) শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় এই ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় খুলনা রেলওয়ে জেলার এসআরপি ও সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ, যারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল দুর্ঘটনা না কি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে সে বিষয়ে শোনা যাচ্ছে, তবে তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

    অপরদিকে, নিহত কনস্টেবলের স্ত্রী পূজা বিশ্বাস সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত একজন মহিলা পুলিশ সদস্য, যা এই ঘটনার ব্যাপারে বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ও সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার করা অস্ত্র দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন সম্রাট। তবে, তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

    পুলিশ সূত্র বলেছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষ হওয়ার পরে সমস্ত তথ্য ও কারণ প্রকাশ করা হবে।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব, রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব, রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়

    সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক এই ভার্চুয়াল যুগে প্রবেশ করলেও প্রথমে আমাদের শিক্ষাকে পুঁথিগত শিক্ষায় সমৃদ্ধ করতে হবে। কারণ, বই-ই আমাদের সঠিক জ্ঞান, মূল্যবোধ ও চিন্তাশক্তি গড়ে তোলে। শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য সত্যিকার শিক্ষা হচ্ছে বই। সুতরাং, সকল শিক্ষার্থীর মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

    গতকাল শুক্রবার সকালে রূপসার নৈহাটী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় আয়োজিত সংবর্ধনা, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের পবিত্র কেন্দ্র। সেখানে শিক্ষামূলক কার্যক্রম সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে, কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম, বর্ণ, দলমতের বিভেদ ভুলে সবাইের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

    এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। আপনারাই হবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। তাই এখনই নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও নৈতিকতার সমন্বয়েই একজন সত্যিকারের মানুষ গড়ে উঠে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকুন এবং লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যান। এভাবেই আপনি সফলতার দিকে এগিয়ে যাবে।

    অতঃপর তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের মাধ্যমে আমি যে সম্মান ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। এই বিশ্বাস ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমি সব সময় পাশে থাকব। আপনারাও যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে ভবিষ্যতেও আমি আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে পারবো।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন রূপসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার উল কুদ্দুস, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক।

    বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জিব সরকার সভাপতিত্ব করেন, এবং অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম। অতিথির বক্তৃতা করেন খালা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হারুন অর রশীদ, জেলা বিএনপি’র সদস্য আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও অন্যান্য।

    প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, প্রকৌশলী সুখেন রায়, মোঃ শরিফুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা হেলাল, মোঃ মোজাফফর হোসেনসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শুরুতে, যারা প্রতিষ্ঠানকে অবদান রেখেছেন এবং প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের আত্মার মঙ্গল কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া মোনাজাত হয়।

    অন্যদিকে, এমপি আজিজুল বারী হেলাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকাকালীন তেরখাদা উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

  • দেশে সোনা ও রুপার দাম বাড়ছে: ভরি মূল্য জানুন

    দেশে সোনা ও রুপার দাম বাড়ছে: ভরি মূল্য জানুন

    বাংলাদেশের বাজারে সোনা ও রুপার দাম বর্ধিত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এ ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ২,৫০,১৯৩ টাকা বা তার বেশি হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই দাম ছিল ২,৪৭,৯৭৭ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির খবর সকাল ১০টার দিকে সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, যা এখন থেকে কার্যকর।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে, ২২ ক্যারেট মানের সোনার এক ভরি এখন ২,৫০,১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যারেটের দামের তথ্য হলো: ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২,৩৮,৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২,৪,০৭৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য এক ভরি দাম ১,৬৬,৭৩৭ টাকা।

    তালিকা অনুযায়ী, রুপার দামের ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি এখন ৬,০৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫,৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪,৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩,৭৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবশালী কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম সাম্প্রতিক সপ্তাহে ক্রমাগত বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্র মতে, বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৮২৩ ডলার পার হয়ে গেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি তা বেড়ে ৫,৫৫০ ডলার হয়েছিল।

    পাশাপাশি, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দামে দ্রুত উর্ধ্বগতি দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। ২৯ জানুয়ারি সকালেই এক ভরি সোনার দাম এক লাফে ১৬ হাজার ২১০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে সোনার এক ভরি দাম দাঁড়ায় ২,৮৬,০০০ টাকার বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রয় হওয়ার রেকর্ড। এই মহাকাব্যিক মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলেছে পুরো দেশের স্বর্ণশিল্পে, এবং ভবিষ্যতেও দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা সামনে এসেছে।

  • প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ডলার

    প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন ডলার

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে দেশে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য বিস্ময়কর অগ্রগতি দেখা গেছে। প্রথম ১৪ দিনে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ reaching ১ হাজার ৬০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এবং ১৪ এপ্রিল দুদিনের মধ্যে দেশে মোট ১৭১ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এই সুসংবাদ দেশের অর্থনীতির মধ্যে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উৎসাহ যোগাচ্ছে।

    অতীতে, এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৮৪ মিলিয়ন ডলার। এর তুলনায় এ বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৫.২ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছর এ সময়ে যেখানে এই পরিমাণ ছিল, সেখানে বর্তমানে প্রবৃদ্ধির হার বিস্তৃত।

    অপরদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৮১৬ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.৬ শতাংশ বেশি। এটি বোঝায় যে, দেশের প্রবাসী আয়ের ধারা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেল

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৃদ্ধি পেল

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভে এক নতুন নতুন উন্নতি দেখা গেছে। বর্তমানে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেছেন, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ এই স্তরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, এর পরিমাণ হয়েছে ৩ হাজার ২০১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪.৬৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, এই পরিমাণ ছিল ২৯.৭৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপরদিকে, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশের প্রবাসীরা মোট ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যেখানে প্রতি ডলার মূল্য ধরে নেওয়া হয়েছে ১২২ টাকা, যার অর্থ প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে लगभग ১১ কোটি ৭ লাখ ডলার।

  • এশিয়ার বাজারের জন্য LG এর উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    এশিয়ার বাজারের জন্য LG এর উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান LG Electronics (LG) কোরিয়ার বুসানে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত LG InnoFest 2026 APAC এশিয়া প্যাসিফিক বাজারের জন্য তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবনী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এ অনুষ্ঠানে এশিয়া প্যাসিফিকের প্রায় ২০টি দেশের প্রায় ২০০-এর বেশি ব্যবসায়িক অংশীদার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধির উপস্থিতিতে LG এর ২০২৬ সালের ইনোফেস্ট সিরিজের মূল আকর্ষণগুলো তুলে ধরা হয়।

    ‘Innovation, Forward Together’ এই থিমের ওপর 기반 করে, LG দেখিয়েছে কিভাবে এশিয়ার ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবন, আবাসন এবং ব্যবহারিক চাহিদা মাথায় রেখে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হোম সলিউশন তৈরি করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক উপাদান এবং K Tech উদ্ভাবনের সমন্বয়ে অঞ্চলজুড়ে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়নে LG কাজ করছে।

    বাংলাদেশ সহ এশীয় বাজারের জন্য LG তাদের পোশাক পরিচর্যার (Laundry Care) ক্ষেত্রেও আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে নতুন WashTower™ লাইনআপের মাধ্যমে। এতে ২৫ ইঞ্চি, ২৪ ইঞ্চি ও ২৭ ইঞ্চি মডেল অন্তর্ভুক্ত, যা সীমিত জায়গার মধ্যে সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে। এই টপ লোড ওয়াশারগুলোতে রয়েছে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লার মাত্রা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াশ মোশন সমন্বয় করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির মাধ্যমে ৩০ মিনিটের মধ্যে পুরো ওয়াশ সাইকেল সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য উপযুক্ত পরিমাণের ডিটারজেন্ট নির্ধারণ করে দেয়।

    LG WashCombo™ অল-ইন-ওয়ান ওয়াশার ড্রায়ার ইউনিটের সুবিধা থাকায় একদিকে ধোয়া, অন্যদিকে শুকানোর কাজ সম্পন্ন হয়। Inverter HeatPump™ প্রযুক্তির কারণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়, যা বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বাজারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

    স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সলিউশনের জন্য LG নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেটর উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইনের এই রেফ্রিজারেটরটি Zero Clearance Hinge-এর মাধ্যমে দেয়াল ও ফাঁক ফোকর কমিয়ে দেয়, ফলে বিল্ট-ইন লুকের মতো দেখায় এবং স্টোরেজ ক্যাপাসিটি আরও বাড়ানো হয়েছে। এর Ice Solution প্রযুক্তি চার ধরনের বরফ অপশন দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা দৈনন্দিন ব্যবহার এবং অতিথি আপ্যায়নে কার্যকর।

    ডিশওয়াশার বিভাগেও LG গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রযুক্তি এনেছে, যার মধ্যে রয়েছে এক ঘণ্টার ওয়াশ ও ড্রাই সাইকেল, QuadWash™ Pro এবং Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তি দ্রুত এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিষ্কার নিশ্চিত করে। পাশাপাশি এই মডেলগুলো এনার্জি এফিশিয়েন্সি এ গ্রেড অর্জন করেছে।

    LG তাদের AI Home Vision এর মাধ্যমে স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে। ThinQ ON™ AI Home Hub এর মাধ্যমে LG এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর জীবন আরও স্বয়ংক্রিয় ও সহজ করে তুলছে। এই প্ল্যাটফর্ম ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু হবে।

    LG এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে LG Subscribe সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসও সম্প্রসারণ করছে, যেখানে গ্রাহকরা কিস্তি ভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো বাজারে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

    LG Electronics Asia Pacific এর আঞ্চলিক প্রধান জেসুং কিম বলেন, এশিয়া আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুত বর্ধনশীল বাজার। InnoFest 2026 একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমরা আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আলোচনা করছি। আমরা এখানে স্থানীয় জীবনধারাকে বিবেচনা করে AI চালিত ভৃত্য সমাধান আরও সম্প্রসারণ করব।

    LG Home Appliance Solution Company বিশ্বব্যাপী হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনে শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তারা উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, শক্তি সাশ্রয়ী ডিজাইন এবং টেকসই সমাধানের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনমান উন্নত করছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/

  • প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ফের রিজার্ভ ছাড়ালো ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    গত মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) দেশে প্রবাহিত হয়েছে। চলতি এপ্রিলেও এই অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক আশার বার্তা। এর ফলে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও ডলার কিনতে শুরু করেছে, যার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মনিটরিং হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে। এক মাস আগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এর মানে এক মাসের মধ্যে রিজার্ভ প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে গেছে।

    তবে সব রিজার্ভ ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়, তবে এই তথ্য সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র মতে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত মাসিক ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিকভাবে জানানো হয়, তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    অতীতে, রিজার্ভ চাপে পড়ে ডুবে গিয়ে তা ১৪ বিলিয়ন ডলার নিচে নামার পর, বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার চাপানো বা ঠেকানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে রিজার্ভ আবার শক্তিশালী হতে শুরু করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রিজার্ভ আবার মজবুত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ডলারের দাম বেশি না হলে, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে দেশের রিজার্ভ ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার, তখন প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ২০ পয়সায় বিনিময় হতো। তবে পরবর্তীতে নানা কারণের কারণে, যেমন ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও অস্থিরতার জন্য, রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে যায় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার, আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। ওই সময় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

    অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, ধীরে ধীরে অংকট কমিয়ে বাজারভিত্তিক ডলারের বিনিময় হার চালু হয়। প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির উপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। এই উদারনীতি প্রয়োগের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে, যা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

    এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময় রেমিট্যান্স ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। কিছু মাস ধরে রেমিট্যান্সের অগ্রগতি অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের দরকারি ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে, এর ফলে রিজার্ভ আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে।

    বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা থাকায় জ্বালানি তেলের দাম অস্থিরতা চলছে। এসব পরিস্থিতিতে রিজার্ভের বৃদ্ধি স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উন্নতি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎেও নিত্যপ্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

  • সংস্কার পরিষদ না কল্পনা করায় বিএনপি সরকারের জন্য সংকট স্বীকার

    সংস্কার পরিষদ না কল্পনা করায় বিএনপি সরকারের জন্য সংকট স্বীকার

    সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সৃষ্টি হওয়া সংকটের জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ভার নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধী নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের গণঅভ্যুত্থানের পর সময়ে দুটি মূল প্রশ্ন উঠে আসে:一বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল, অন্যদিকে বিএনপি দাবি করেছিল নির্বাচন। আমরা সংস্কারের জন্য গণপরিষদ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছিলাম, যা পরে বিএনপি আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই কারণেই আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে সমর্থন করেছি।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ জুলাই সনদ তাদের দলের বৈধতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সংবিধানের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই গঠনের ক্ষমতা রাখবে সংস্কার পরিষদ। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মান্যতা দিয়েছে, কিন্তু এখন তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করতে চাইছে।

    গণভোটের ফলাফলের প্রত্যাখ্যানের পরিণতি হিসেবে সরকার এই সংকটের ওপর ভুগতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আমাদের এখন দুই বিষয়ে আলোচনা করা দরকার: জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলা। দেশের অর্থনীতি ও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে, জ্বালানি সংকট, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবেলায় ব্যর্থতা সবই বিএনপি কেন, সেটার দায়ভারও তাদেরকেই জেনুন করতে হবে।

    সংক্ষেপে, সংকট সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধানে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি প্রধান। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত এই নিয়ে কাজ করুন; না হলে এর পরিণতি আপনাদেরকেই ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের খলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলের নেতারা।

  • ১১ দলের নতুন কর্মসূচি: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি

    ১১ দলের নতুন কর্মসূচি: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি

    জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দল যৌথভাবে একটি দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র করে। এই কর্মসূচি আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২ মে পর্যন্ত চলবে, যেখানে তারা দেশের বিভিন্ন শহরে বৃহৎ গণমিছিল ও সমাবেশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই ঘোষণা দেন।

    স্মরণীয় এই ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, ২৫ এপ্রিল দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে বিভিন্ন গণমিছিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, ১৮ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বিভাগীয় শহরে লিফলেট বিতরণ ও বিক্ষোভ সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৈঠকের সিদ্ধান্তে জানা গেছে, এই ধাপের কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হলে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশের সব বড় শহর ও বিভাগের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলোর সামনে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এই সমাবেশের দিনক্ষণ ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠকে নেয়া হবে। এরপর, সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকায় বড় আকারের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ‘সরকার গণভোটের রায় মানছে না বলে মনে হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, যা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এই জন্য প্রতিবাদ ও কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’ তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের মধ্যে একটি আইনানুগ সমাধান ছাড়া হয়তো আন্দোলন চলতে থাকবে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী দল ও উপদলগুলোর শীর্ষ নেতারা, যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর আগে সকাল ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে এই ঐক্য বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • সংসদে বিরোধী দলের অভিযোগ, স্পিকারের নিরপেক্ষতা পাননি জামায়াত আমির

    সংসদে বিরোধী দলের অভিযোগ, স্পিকারের নিরপেক্ষতা পাননি জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, স্পিকার সংসদে প্রথম দিন থেকেই নিজেকে নিরপেক্ষ থাকার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দলটি সেই নিরপেক্ষতা পাননি। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও বিরোধী দলের মতামত শোনার সুযোগ না দেওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও বেশির ভাগই আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতিতে এসব অধ্যাদেশ সংসদে আনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত করেনি সরকারের পক্ষ। মাত্র একটি অধ্যাদেশের বিষয়ে আলোচনায় রাখা হয়েছে। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার পরও এগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর বলেন, দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি আলোচনা সম্ভব না, অথচ সরকার দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একজন বক্তার জন্য সময় বাড়ানো হলেও তা দাবি অনুযায়ী উপযুক্ত হয়নি। ব্যাংকিং খাত নিয়ে বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তার উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি। অর্থ আদায়ের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলোও আটকে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগে ও ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন। এর ফলে এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রেও ‘কালো হাত’ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটা সাধারণ মানুষের বিষয়। সবাইকে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত নষ্ট না করে সবাইকে ‘পাহারাদার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানি সংকট নেই, কিন্তু অন্যদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং এবং জ্বালানির অভাবে মানুষের ভোগান্তি প্রকট। এর সঙ্গে শিল্পবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, ফার্নেস অয়েল সংকটে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বেড়ে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ পড়ছে। চাঁদাবাজির বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও ভুল নীতির কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের আহ্বান জানান। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, এবং যে সব অধ্যাদেশ আনা হয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ভুল মানুষ করতে পারে, তবে তার থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। অবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে বৃহৎ সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।