Blog

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে শ্রমিকরাই বারবার বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন — ১৯৪৭-এর স্বাধীকারের লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সব গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বহু প্রাণহানির পেছনে ছিলেন শ্রমজীবী মানুষজন। ‘‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া মানুষের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন,’’ তিনি বলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে; কিন্তু এক মাসের মধ্যেই তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে—এ সরকার গণবিরোধী,’’ নাহিদ বলেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভঙ্গ করেছে, অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘এ দেশের রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ আরও বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে সংযুক্ত প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন করা, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সব জায়গায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করা—সেই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (উল্লেখ্য তিনি এখানে সরকারপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন) জবাবদিহিতার আওতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও আবার জোরদার করে নাহিদ বলেন, ‘‘শুধু জাতীয় সংসদ নয়, এবার আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকের প্রতিটি অধিকার নিশ্চিত হয়।’’

  • প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ পুনরায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

    প্রবাসী আয় বাড়ায় রিজার্ভ পুনরায় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

    গেল মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ে এবং চলতি এপ্রিলেও এ প্রবাহ ইতিবাচক ছিল। এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে আবার ডলার কিনতে শুরু করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫.০৪ বিলিয়ন ডলারে। আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে রিজার্ভ দেখালে তা প্রায় ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার।

    তুলনায় দেখা যায়, এক মাস আগের—that is ১৬ মার্চ—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার।

    তবে মোট রিজার্ভের সবটিই ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায়-দায়িত্ব ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ থাকে, সেটিই অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ হিসাব করে; সেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব ও আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়। এই হিসাব সাধারণত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। যদি প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হয়, তাহলে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আমদানি চালানো যাবে। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।

    অতীতে রিজার্ভ চাপে ছিল—কিছু সময় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। তখন সরকার বৈদেশিক ঋণ নেয়া এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেবার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে হুন্ডি ও অর্থপাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়। এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে রিজার্ভকে পুনরায় শক্ত করে তোলে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং তাই রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে, ফলে রিজার্ভ ভালো অবস্থানে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলারের দাম অত্যধিক কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছিল; তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৪.২০ টাকা। পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও অন্যান্য কারণে রিজার্ভে চাপ আসে এবং তা কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফ হিসাব অনুযায়ী তখন তা ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। ওই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়ে ডলারের দর ১২০ টাকার ওপরে ওঠে, ফলে আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    পরে অন্তর্বতী সরকারের উদ্যোগে ধীরে ধীরে ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা হয়, প্রবাসী আয় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল করা হয়। তুলনামূলকভাবে উদার বাণিজ্য নীতির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে এবং তা রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়।

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৫ শতাংশ বেশি (গত বছর একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার)। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে; মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা এক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে। এর ফলেই রিজার্ভ আবারও তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে।

    অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম অনিশ্চিততায় রয়েছে; এমন প্রেক্ষাপটে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।

  • LG এশিয়ার বাজারের জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কৌশল উপস্থাপন

    LG এশিয়ার বাজারের জন্য উদ্ভাবনী হোম সলিউশন ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কৌশল উপস্থাপন

    বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ড LG Electronics কোরিয়ার বুসানে ৭-১০ এপ্রিল আয়োজিত InnoFest 2026 APAC এশিয়া-প্যাসিফিক বাজারকে কেন্দ্র করে তাদের সর্বশেষ হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও ভবিষ্যৎ কৌশল উপস্থাপন করেছে। প্রায় ২০টির কাছাকাছি এশিয়ান বাজার থেকে ২০০-এর বেশি ব্যবসায়িক পার্টনার ও গণমাধ্যম প্রতিনিধির অংশগ্রহণে এটি LG-এর ২০২৬ InnoFest সিরিজের সমাপনী ইভেন্ট হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

    ‘Innovation, Forward Together’ শিরোনামের আয়োজনটিতে LG দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ব্যবহারিক চাহিদা মিলিয়ে এশীয় ভোক্তাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা যায়। K-Tech উদ্ভাবন ও অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য যোগ করে কোম্পানিটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই হোম সলিউশন গড়ে তুলতে মনোযোগ দিয়েছে।

    পোশাক পরিচর্যায় (Laundry Care) LG-এর নবীন সমাধানগুলো এখানে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ ছিল। নতুন WashTower™ লাইনে এশিয়ার ছোট ভাড়াবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টে উপযোগী নতুন ২৫ ইঞ্চি মডেলের পাশাপাশি ২৪ ও ২৭ ইঞ্চি সংস্করণ যোগ করা হয়েছে। কম জায়গায় সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই এসব ডিভাইস ডিজাইন করা হয়েছে, ফলে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার যেমন বাংলাদেশের জন্য এগুলো কার্যকর হবে।

    নতুন টপ-লোড ওয়াশারগুলোতে AI Direct Drive™ (AI DD™) প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা কাপড়ের ধরন ও ময়লা অনুযায়ী ধোয়ার ধারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করে। TurboWash™ 3D প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো ওয়াশ সাইকেল ৩০ মিনিটেরও কমে শেষ করা সম্ভব এবং স্বয়ংক্রিয় ডিটারজেন্ট ডিসপেনসার প্রতিটি লোডের জন্য যথাযথ পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়। এছাড়া WashCombo™ অল-ইন-ওয়ান ওয়াশার-ড্রায়ার একক ইউনিটে ধোয়া ও শুকানোর কাজ করে, আর Inverter HeatPump™ প্রযুক্তি বিদ্যুৎ সাশ্রয় বাড়ায়—যা বিদ্যুৎ ব্যয় সংবেদনশীল বাংলাদেশের মতো বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।

    রান্নাঘরের জন্য LG নতুন প্রজন্মের স্মার্ট ও কমপ্যাক্ট কিচেন সমাধানও উন্মোচন করেছে। Fit & Max ডিজাইনের Zero Clearance Hinge দেয়ালের সঙ্গে ফাঁক না রেখে বেসলাইনকে বিল্ট-ইন লুক দেয় এবং স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়ায়। উন্নত Ice Solution চার ধরনের বরফ অপশন দেয়—Craft Ice™, Cubed, Crushed ও Mini Craft—যা প্রতিদিনের ব্যবহার ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য সুবিধাজনক।

    ডিশওয়াশার সেগমেন্টে LG এক ঘণ্টার মধ্যে ওয়াশ ও ড্রাই করতে সক্ষম সাইকেল, QuadWash™ Pro এবং Dynamic Heat Dry+ প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে, যা দ্রুত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে। উল্লেখযোগ্যভাবে কিছুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মডেলে A গ্রেড এনার্জি এফিসিয়েন্সিও অর্জিত হয়েছে।

    AI চালিত স্মার্ট হোম অভিজ্ঞতা প্রদর্শনীর আরেকটি আকর্ষণ ছিল AI Home Vision এবং ThinQ ON™ AI Home Hub—যার মাধ্যমে LG-এর স্মার্ট অ্যাপ্লায়েন্স ও IoT ডিভাইসগুলো একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীদের জীবন আরও স্বয়ংক্রিয় ও সুবিধাজনক করে তুলবে। এই প্ল্যাটফর্মটি ধাপে ধাপে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে চালু করা হচ্ছে।

    দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে LG তাদের সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস ‘LG Subscribe’ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে। এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা কিস্তিভিত্তিক ব্যবহার সুবিধা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পাবে—যা বাংলাদেশের মতো বাজারে সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    LG Electronics Asia Pacific এর আঞ্চলিক সিইও জেসুং কিম বলেন, “এশিয়া আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দ্রুতবর্ধমান বাজার। InnoFest 2026 আমাদের পার্টনারদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভিশন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভাগ করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। আমরা স্থানীয় জীবনধারা বিবেচনায় রেখে AI চালিত হোম সলিউশন আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

    LG Home Appliance Solution Company (HS) হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও AI হোম সলিউশনে বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উদ্ভাবনী কোর প্রযুক্তি, শক্তি-সাশ্রয়ী ডিজাইন ও টেকসই সমাধানের মাধ্যমে কোম্পানি গ্রাহকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: www.LG.com/global/newsroom/

  • হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের দাম প্রায় ১৩% কমল

    হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের দাম প্রায় ১৩% কমল

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের আশায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক কাঁচা তেল বাজারে তীব্র পতন দেখা গেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, লেবাননকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছে তার সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে—এই খবরে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং তেলের দাম পড়ে যায়।

    রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণার প্রভাবেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার (প্রায় ১২.৯৫%) কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ১৩.৫০ ডলার (১৪.২৬%) কমে ৮১.১৯ ডলারে পৌঁছায়। উভয় সূচকই মার্চের পর থেকে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে চলে আসে এবং এটি এপ্রিলের সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবানন সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাই দ্রুত আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ উদ্বেগ কমিয়েছে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেছেন, যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে তবে বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে যে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকার চলাচল কতটা বৃদ্ধি পাবে।

    একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হচ্ছে, যা সামরিক সংঘর্ষটি শেষ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন (বা মন্তব্য করেছেন) যে ইরান ভবিষ্যতে প্রণালী বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী সীমাবদ্ধতা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।

    তবে সব ঝুঁকি দূর হয়নি। একটি আমেরিকান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক অবরোধ এখনও পুরোপুরি উঠে যায়নি। বিশ্লেষকদের সতর্কবাণী—হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা কার্যকরভাবে সরবরাহ বৃদ্ধিতে রূপ নিলে বাজার স্থির হবে, কিন্তু ইউরোপীয় বাজারে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্যের সরাসরি পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো রাজনৈতিক ব্যাপারে চূড়ান্ত সমাধান না হলে পুনরায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

    সংক্ষেপে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ঘোষণায় বাজারে স্বস্তি ছড়ালেও পরিস্থিতি সন্তোষজনকভাবে স্থিতিশীল বলার জন্য এখনও অনেক অজানা রয়ে গেছে—তাই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

  • প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং সু চির কারাদণ্ড এক-ষষ্ঠাংশ কমালেন

    প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং সু চির কারাদণ্ড এক-ষষ্ঠাংশ কমালেন

    মিয়ানমারের বন্দি গণতন্ত্রনেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে দেয়া মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক-ষষ্ঠাংশ করে কমিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। সু চির আইনজীবীর বরাত দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার খবর সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে।

    আইনজীবী জানান, ৮০ বছর বয়সী সু চিকে বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পর এ দণ্ডের সাড়ে চার বছর (এক-ষষ্ঠাংশ) মওকুফ করা হয়েছে। এর ফলে তার দুর্নীতির সাজা ঘরানোর পূর্বের মেয়াদটি প্রায় ২২ বছর ৬ মাসে নেমে এসেছে।

    সু চি ২০২০ সালের জাতীয় নির্বাচনে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নিয়ে বড় জয়ে আসেন। কিন্তু সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাভাসকে অস্বীকার করে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে; তখনকার সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল মিন অং হ্লেইং, যিনি পরে সামরিক সরকারের প্রধান ও পরে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রেসিডেন্ট হন।

    অভ্যুত্থানের পর সু চি ও তার দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়; তাদের মধ্যে এমপি ও মন্ত্রীরাও ছিলেন। রাজধানী নেইপিদোর সামরিক আদালতে অনুষ্ঠিত বিচারে সেনা সরকার তাঁকে একাধিক অভিযোগে দণ্ড দিয়েছেন এবং সব অভিযাগের সম্মিলিত সাজা ছিল মোট ২৭ বছর।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সু চির সাজা কমানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট হ্লেইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন এনএলডির কিছু শীর্ষ নেতা এবং ২০২০ সালের পর রাষ্ট্রপদে আসা সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টও।

    মিয়ানমারে বৌদ্ধ নববর্ষ বা ‘থিনগিয়ান’ উৎসবের আগে বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে; এবারও সেই প্রথা অনুযায়ী মুক্তি কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়কদুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, ৩০ জন আহত

    ফকিরহাটে সাড়ে তিন মাসে সড়কদুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত, ৩০ জন আহত

    ফকিরহাটে গত সাড়ে তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রধানভাবে মোটরসাইকেল ও মহাসড়কে হওয়া সংঘর্ষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পিলজংগের শ্যামবাগাত এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী সুবীর দে (৬৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় একজন গুরত্বপূর্ণভাবে আহত রয়েছেন।

    এর আগে ২ জানুয়ারি ফকিরহাটের পালেরহাট এলাকায় একটি ট্রাকের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ঠুকে পড়ে; ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার মো: সেলিম শেখ (৪৫) নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় বাসের চালক মো: মুরাদ হোসেন (৪১) ও যাত্রী সোহাগ হাওলাদার (৪৪) গুরুতর আহত ছিলেন।

    ১৬ জানুয়ারি দুপুরে টাউন-নওয়াপাড়া এলাকায় একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাইসাইকেল চালক আবিদ মোড়ল (৬৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু ঘটে। ২২ জানুয়ারি বড় খাজুরা এলাকায় বাসের ধাক্কায় এক অজ্ঞাত পথচারী (২৫) নিহত হন।

    ২ ফেব্রুয়ারি রূপসা-বাগেরহাট পুরাতন সড়কের ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কৌশিক দেবনাথ (২০) নিহত হন।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে বিশ্বরোড মোড়ে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ১৫ জন কম-বেশি আহত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ভ্যানযাত্রী পারভীন আক্তার (৪৫) মারা গেছেন; ওই ঘটনায় তার স্বামী আটিয়ার রহমান (৫৫) গুরুতর আহত হন।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্বরোড মোড়ে কভারভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল চালক ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হাসিব মোল্লা (২৫) নিহত হন। ৭ মার্চ কাকডাঙা এলাকায় কালভার্টের রেলিংয়ে ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক কে এম ইশতিয়াক আহমেদ (৩৪) প্রাণ হারান।

    ১৫ মার্চ টাউন-নওয়াপাড়া মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় বাদল রায় চৌধুরী (৫৩) নামে এক পথচারী নিহত হন। ১ এপ্রিল বৈলতলী এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় ছাত্র মো: ছাহাদ (১১) মারা যান। আরও একটি নিহতের ঘটনা ঘটেছে ৬ এপ্রিল; পাগলা-শ্যামনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় বাইক চালক মো: ইয়াছিন শেখ (৫৫) মারা যান।

    স্থানীয় সচেতন মহল দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ফকিরহাট বিশ্বরোড এলাকায় বিভিন্ন রুটের যানবাহনের চাপ বেশি হওয়ায় সেখানে ট্রাইব্রেকার বা ওভারব্রিজ না থাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে তারা জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করে দ্রুত ব্যবস্থা চান।

    মোল্লাহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, বিধিনিষেধ ও আইন অমান্য করার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানোকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    স্থায়ী সমাধানের জন্য স্থানীয়রা দ্রুত রাস্তাসঙ্গত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগপ্রতিরোধক অবকাঠামো স্থাপনের দাবি করেছেন। এছাড়া চালক প্রশিক্ষণ, যানবাহন নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর আইন প্রয়োগ বৃদ্ধিরও দাবি উঠেছে যাতে ভবিষ্যতে হতাহতের সংখ্যা কমানো যায়।

  • সেলুনে সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৬ জন আহত

    সেলুনে সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৬ জন আহত

    মাগুরার সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউনিয়নের গাংনালিয়া বাজারে শুক্রবার দুপুরে একটি সেলুনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয়রা জানান, সেলুনে চুল কাটার জন্য জুয়েল নামের একজন আগে থেকে সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় সোহাগ নামের আরেকজন জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন বলে দাবি করে সেলুনে এসে আগে চুল কাটার অনুরোধ করেন। সেলুন কর্মী পরামানিক জানিয়েছেন, জুয়েলের সিরিয়াল আগেই ছিল। জুয়েলকে সিরিয়াল ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তিনি রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে পরিণত হয়।

    ঘটনায় আহতরা হলেন লুৎফর শেখ (৫০), সোহাগ (২৬), উকিল মোল্লা (৫৫), কাদের মোল্লা (২৪), জুয়েল মোল্লা (২৮) এবং আরাফাত (২৪)। তাদের উদ্ধার করে মাগুরার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    জুয়েল মোল্লা ও কাদের মোল্লা শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। আর আরাফাত গাংনালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং তুলনামূলকভাবে শান্ত আছে।

    আঠারোখাদা ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই মনজুরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল মিরাজ-শান্তরা

    দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল মিরাজ-শান্তরা

    শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বড় আশা নিয়েই নামা বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের কাছে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে পরাজিত হয়ে সিরিজে ০-১ পিছিয়ে পড়েছে। মিরাজ, শান্ত ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের লড়াকু অঙ্গীকার ফল দিতে না পারায় ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

    টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড শুরুতে একটু চাপে থাকলেও হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়ংয়ের ৭৩ রান যোগসূত্র দলের অভিযোগ ঘুরে দাঁড়ায়। সপ্তম ওভারে শরিফুল ইসলাম নিক কেলিকে ফিরিয়ে দলের প্রথম উইকেট নেয়। পরে মেহেদী হাসান মিরাজ টম ল্যাথামকে ফেরান এবং রিশাদ হোসেন উইল ইয়ংকে আউট করে বাংলাদেশকে কিছুটা সান্ত্বনা দেন। নিকোলসও রিশাদকেই বলে বিদায় নেন।

    শেষের দিকে ড্যান ফক্সক্রফট অর্ধশতক তুলে নিউজিল্যান্ডকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন, তাসকিন আহমেদও দুটি উইকেটسسة সংগ্রহ করেন।

    জবাবে শুরু থেকেই বাংলাদেশ ধাক্কা খায়। তানজিদ হাসান দ্রুত তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দলকে বিপদে ফেলে দেন। এরপর সাইফ হাসান (৭৬ বল করে ৫৭) ও লিটন দাস (৬৮ বলে ৪৬) তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে সাময়িকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।

    সাইফের আউটের পর লিটনও ফেরলে মomenটাম আবার নিউজিল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাওহিদ হৃদয় আফিফ হোসেনকে নিয়ে লড়াই চালালো; হৃদয় জিততে না পারলেও ৫৫ রানের এক শক্তিশালী ইনিংস খেলেন। আফিফ ধীরগতিতে ২৭ রান করে আউট হোন এবং মিরাজও জয়ের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা করতে পারেননি।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪৮.৩ ওভারে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় এবং নির্ধারিত লক্ষ্য ২৪৭ রান তাড়া করতে পারে না — ফলে তারা ২৬ রানের পরাজয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হার মেনে নেয়। দলের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব বড় সাদা হয়ে চোখে পড়ে।

    সিরিজটি এখনও টিকে আছে এবং পরের ম্যাচে টাইগারদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশকে দ্রুত ঠেকিয়ে পরের ম্যাচে শক্তি ঘাঁটাতে হবে।

  • ১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া, সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি

    ১৫ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া, সঙ্গে তিনটি টি-টোয়েন্টি

    ১৫ বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাঠে ওয়ানডে খেলতে আসছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দল এবার তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে, মোট ছয় ম্যাচ দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

    আগে যে সূচি দেওয়া হয়েছিল সেটি বদলেছে। পূর্বসূচি অনুযায়ী ওয়ানডেগুলো হওয়ার কথা ছিল ৫, ৮ ও ১১ জুন, আর টি-টোয়েন্টিগুলো হওয়ার কথা ছিল ১৫, ১৮ ও ২০ জুন। আজ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া পরিবর্তিত সূচি প্রকাশ করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী তিনটি ওয়ানডে হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে—৯, ১১ ও ১৪ জুন। ওয়ানডেগুলো শেষে দল দুটি চট্টগ্রামে গিয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে; ম্যাচগুলো ঠিক করা হয়েছে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন, স্থল হবে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম।

    ওয়ানডেগুলো দিবারাত্রির হবে এবং সবগুলোই মিরপুরে দুপুর ২টায় শুরু হবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টায় খেলা হবে, আর তৃতীয় টি-টোয়েন্টি দিনভূমিতে হবে—বেলা ২টায় শুরু।

    এই দুই দেশের সাম্প্রতিক মুখোমুখি মঞ্চ হিসেবে তাজা স্মরণ ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—অ্যান্টিগায় ওই ম্যাচে বৃষ্টি-নিয়মে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে ২৮ রানে হারিয়েছিল। এছাড়া, ওয়ানডে ছাড়া শেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ছিল ২০২১ সালে, তখন অজিরা বাংলাদেশে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে।

    এদিকে বর্তমানে বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে এসেছে নিউজিল্যান্ড। মিরপুরে আজ থেকে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ শুরু হয়েছে; সোমবার দ্বিতীয় ওয়ানডে মিরপুরেই। তৃতীয় ওয়ানডে চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল। সেইসঙ্গে দুই দলের মধ্যে প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির ভেন্যুও চট্টগ্রাম—২৭ ও ২৯ এপ্রিল—এবারের সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি হবে মিরপুরে ২ মে।

    অস্ট্রেলিয়ার এই সফর বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরায় উন্মাদের মাত্রা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে; ঘরোয়া দর্শক ও ক্রিকেটপ্রেমীরা দীর্ঘদিন পর নিজেদের মাটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীকে দেখা উপভোগ করবেন।

  • চোখের জলে বিদায় — পঞ্চভূতে বিলীন আশা ভোসলে

    চোখের জলে বিদায় — পঞ্চভূতে বিলীন আশা ভোসলে

    ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে пাঠান নেই। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শেষ rites-এ মুখাগ্নি দেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোসলে; এ দিনটি ছিল সুরপ্রেমীদের জন্য এক নিরব, আবেগঘন বিদায়।

    গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলের আশার বাসভবনকে মানুষ ভরে তুলেছিলেন; যদিও সমাবেশে উদযাপনের কোনো আবহ ছিল না, বরং শোকের গাম্ভীর্য পুরো এলাকায় বিরাজ করছিল। বোনকে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন মীনা খাড়িকরসহ মঙ্গেশকর পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের অগ্রগণ্যরা — অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার, সুরকার এ.আর. রহমান, গায়ক জাভেদ আলী, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ ও জ্যাকি শ্রফসহ অনেকে। পাশাপাশি রাজনীতির বরিষ্ঠ নেতারা ও বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরাও শোক প্রকাশ করেন।

    বাসভবন থেকে মরদেহ শিবাজি পার্ক শ্মশানে নেওয়া হয়। শববাহী গাড়িটি আশার প্রিয় সাদা-হলুদ রঙের ফুলে সাজানো ছিল। শ্মশানের আশেপাশে সড়কের দু’পাশে ভক্ত-অনুরাগীদের ভিড়, চোখে চোখে শেষ ভালোবাসা ও প্রণাম—সব মিলিয়ে এক চিরস্মরণীয় দৃশ্য তৈরি হয়েছিল।

    আশা ভোসলে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর।

    সংগীতজীবন শুরু করেন ১৯৪৩ সালে, এবং আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শ্রোতারা হৃদয়ে সুর বপন করে গেছেন। শুধু হিন্দি নয়, ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি কিছু বিদেশি ভাষাতেও রেকর্ড করেছেন গান। চলচ্চিত্রজগতে তাঁর কণ্ঠের ছাপ পাওয়া যায় ৯২৫টিরও বেশি ছবিতে, এবং আনুমানিক ১২ হাজারেরও বেশি গান গাওয়া হয়েছিল বলে গণ্য করা হয়। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করে এবং ২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    ব্যক্তিগত জীবনে আশার প্রথমবিয়ে হয় গণপতরাও ভোসলেকে; তখন তিনি ছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে এবং গণপতরাও ছিলেন ৩১ বছর বয়সী। ১৯৬০ সালে ওই দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ১৯৮০ সালে গায়ক আর.ডি. বর্মনের সাথে বিয়ে করেন আশা; ১৯৯৪ সালে আর.ডি. বর্মনের মৃত্যুর মাধ্যমে সেই সংসারও শেষ হয়।

    আশা ভোসলের চলে যাওয়া শুধু একটি কণ্ঠের অবসান নয়, বরং একটি যুগের সুররিচ্চার্যের সমাপ্তি। শিল্পী-দরদী, ভক্ত ও দেশ আজ তাঁকে স্মরণ করবে — চোখে জল, মনে শ্রদ্ধা ও কণ্ঠে স্মৃতিতেই তাঁর সুর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।