১১ দলের নতুন কর্মসূচি: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতি

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দল যৌথভাবে একটি দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র করে। এই কর্মসূচি আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ২ মে পর্যন্ত চলবে, যেখানে তারা দেশের বিভিন্ন শহরে বৃহৎ গণমিছিল ও সমাবেশ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই ঘোষণা দেন।

স্মরণীয় এই ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, ২৫ এপ্রিল দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে বিভিন্ন গণমিছিলের আয়োজন করা হবে। এছাড়াও, ১৮ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও বিভাগীয় শহরে লিফলেট বিতরণ ও বিক্ষোভ সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্তে জানা গেছে, এই ধাপের কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হলে, পরবর্তী পর্যায়ে দেশের সব বড় শহর ও বিভাগের কেন্দ্রীয় স্থাপনাগুলোর সামনে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এই সমাবেশের দিনক্ষণ ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠকে নেয়া হবে। এরপর, সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকায় বড় আকারের সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, ‘সরকার গণভোটের রায় মানছে না বলে মনে হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, যা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এই জন্য প্রতিবাদ ও কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’ তিনি আরও জানান, জুলাইয়ের মধ্যে একটি আইনানুগ সমাধান ছাড়া হয়তো আন্দোলন চলতে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামী দল ও উপদলগুলোর শীর্ষ নেতারা, যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এর আগে সকাল ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে এই ঐক্য বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।