Blog

  • খুলনাসহ পাঁচ বিভাগের ৩৭৮ নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলো বিএনপি

    খুলনাসহ পাঁচ বিভাগের ৩৭৮ নারী প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলো বিএনপি

    তাদের চূড়ান্ত সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শুক্রবার প্রথম পর্যায়ে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার মোট ৩৭৮ নারী প্রার্থীকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই কার্যক্রম দুপুরে দলের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের প্রধান নেতা ও মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুক। সাক্ষাৎকারের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে যেসকল নারী মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই প্রক্রিয়া বিএনপির নিজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়, যেখানে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। তিনি বলেন, এই সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের আন্দোলনে অবদান, ত্যাগ, যোগ্যতা ও সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সামর্থ্য বিবেচনা করা হয়। সকালে, প্রার্থীরা গুলশানে অফিসের বাইরে উপস্থিত হন, যেখানে তাদের ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে নিরাপত্তার জন্য শুধু প্রার্থীরাই প্রবেশ করেন অফিসে। প্রার্থীরা ভেতরে থেকে তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, তারা সাক্ষাৎকারের সময় দলের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি ও মনোভাব প্রকাশ করেন। প্রার্থীরা জানান, সাক্ষাৎকারে তাদের দলের জন্য অবদান, আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূলত দুইটি প্রশ্ন করেন: যদি মনোনয়ন পান, কি করবেন, আর না পেলে কি করবেন? তারা এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেদের অবদান, দলপ্রেম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। খুলনা-বাগেরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী ফারজানা রশিদ লাবনী বলেন, আমি গত ৩৮ বছর ধরে বিএনপির সাথে রয়েছি এবং দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, মানা হবে। মনোনয়ন পেলে বা না পেলে, আমি সব পরিস্থিতিতেই দলের জন্য কাজ করে যাব। অন্যদিকে, পাবনা থেকে আসা আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, দলের পক্ষ থেকে যেকেউ মনোনয়ন পাবেন, তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন আন্দোলনে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা থাকার কারণে, তারা ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যাবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। দিনাজপুর থেকে আসা প্রার্থী আইনজীবী তৌহিদা ইয়াসমিন তানিন বলেন, প্রার্থীরা কী পদে আছেন বা তাদের ইতিমধ্যে কি অবদান আছে – এই বিষয়গুলোও আলোচনা করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রার্থীদের জন্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে, যার মধ্যে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিলের জন্য আগামী ২৬ এপ্রিল মনোনয়ন বাতিল হলে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৭ ও ২৮ এপ্রিল নেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নিশ্চিত হওয়ার পরে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে, এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত হয় ১২ মে। এবারের আসন বণ্টনে বিএনপি ৩৬ টি, জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

  • ক্ষমতায় এসে বিএনপি জনগণের কথা হারিয়ে ফেলেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতায় এসে বিএনপি জনগণের কথা হারিয়ে ফেলেছে: নাহিদ ইসলাম

    নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, আজ শনিবার রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেন। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের ছোঁয়া এবং শ্রমিকদের সংকট ভুলে গেছে।

    নাহিদ বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, শ্রমিকেরা নিজেদের রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও স্বঅভ্যুত্থান রক্ষা করেছেন। ১৯৪৭-এর আজাদির লড়াই থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এবং এরপরের বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলন—প্রত্যেকটি আন্দোলনে শ্রমজীবী মানুষই মূল শক্তি ছিলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর বসেও, দেশের জনগণের ভোটের রায় অমান্য করে বেইমানি করেছে। তিনি বলেন, এই সরকার গণবিরোধী। ক্ষমতার চাপে বিএনপি দেশের ঐতিহ্য ও গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ভুলে গেছে, মানুষের রক্তের মূল্যকে উপেক্ষা করেছে।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, বর্তমানে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তর ও সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের রাজনীতিতে এই ধরণের পরিকল্পনা ও ওয়াদা ভঙ্গের খেসারত ভালো হবে না। তিনি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার আনতেই গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বললেন, আমরা নতুন একটি জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি যেখানে শ্রমিকদের জন্য একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের সব স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, নতুন বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা ও শ্রমিকের হিস্যা আদায়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    নাহিদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই পথের সারথি। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সকল শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।

    তিনি রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। বলেন, দেশের জনগণের জন্য, গণ-অভ্যুত্থান, জুলাইয়ের আন্দোলন এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধুমাত্র সংসদ নয়, রাজপথেও আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ স্বার্থে রাস্তায় নামতে ও গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের সালিসে চাচাকেও পিটিয়ে হত্যা: সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা

    প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের সালিসে চাচাকেও পিটিয়ে হত্যা: সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা

    চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ঘটে গেছে এক বিচ্ছিন্ন ভয়ঙ্কর ঘটনা যেখানে শালিসের মাঝখানে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর। এটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুর তিনটার দিকে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের উত্তর আমবাড়ি এলাকার নিজ বাড়িতে। নিহতের নাম শফিউল আলম, বয়স ৫৫ বছর। তিনি একজন কৃষক এবং এই গ্রামের মৃত নূর বক্সের ছেলে। তাঁর বড় ভাই শামসুল আলমের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করানোই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় এই সালিস।

    পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, শফিউল আলমের বড় ভাই শামসুল আলমের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে, যার নাম ফকির আহমেদ, বয়স ২৫। গতকাল সেই ছেলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ওই এলাকায় এক সালিস ডাকা হয়। কিন্তু সেই বৈঠকের দোরগোড়ায় প্রবেশ করে ঘটনাটি অন্যরকম রূপ নেয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে রিপন, নূর মোহাম্মদ ও মেহেদী হাসানের মতো যুবকেরা একত্রিত হয়ে শফিউল আলমের ওপর হামলা চালায়। তারা দেশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে। আঘাতের ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা সদরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চিকিৎসক মাহমুদা আক্তার জানান, হাসপাতালে আনলোপরে আমরা দেখেছি তিনি মৃত অবস্থায়। দূর থেকে দেখতে পাওয়া গেছে যে মাথার মধ্যে গুরুতর আঘাত লেগেছে, তবে বাহ্যিক রক্তক্ষরণ হয়নি। মনে করা হয়, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।

    নিহত শফিউল আলমের বড় ভাই নুরুল আলম বলেন, ‘আমার ভাই খুবই সরল সহজ মানুষ। কৃষি কাজের মাধ্যমে তার সংসার চলে। অভিযোগ, সালিসের সময় রিপন, নূর মোহাম্মদ ও মেহেদী হাসান একযোগে আমাদের ওপর হামলা চালায়। নূর মোহাম্মদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ভাইকে আঘাত করে। আমি এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।’

    মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সালিসের মাঝখানে হামলার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো কোনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

  • প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ: হামের টিকা না দেওয়া ছিল পূর্ববর্তী সরকারের অপরাধ

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ: হামের টিকা না দেওয়া ছিল পূর্ববর্তী সরকারের অপরাধ

    প্রধানমন্ত্রী বলছেন, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে সরকার কঠোরভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, গত দুই সরকার যথাযথ সময়ের মধ্যে হামের টিকা না দেওয়ায় তারা ক্ষমাহীন অপরাধের শিকার হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে দেশের হামের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও সরকার স্বাস্থ্যখাতের এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে, প্রান্তিক অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ও জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করতে নির্দেশ তরান্বিত করেন।

    সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে যাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নিজেদের কার্যক্রমের তথ্য জানাতে পারেন এবং সরকারের দিকনির্দেশনা অনুসারে কাজ করতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্ত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্মাননা পুরস্কার বিতরণ করেন। এই সম্মেলন মনে করা হচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সরকারের স্বাস্থ্যনীতি ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • আইএমএফের ঋণ স্থগিতের খবর নাকচ করল সরকার

    আইএমএফের ঋণ স্থগিতের খবর নাকচ করল সরকার

    সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পাল্টা, সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিতের খবর সম্পূর্ণ অপ্রামাণিক। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজার পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ধরনের খবর ভিত্তিহীন এবং ভ্রান্ত। তবে কিছু মিডিয়া বলছে, সংস্কারে ব্যর্থতার কারণে আইএমএফের ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এই খবর ভুল ও ভিত্তিহীন। তারা আরও জানায়, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আইএমএফের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেছে—একটি সকালে, যেখানে এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন এবং তার দলের সঙ্গে আলোচনা হয়; এবং অন্যটি বিকেলে, যেখানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্ক ও তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হয়। দুটিরই পরিবেশ ছিল ইতিবাচক ও উষ্ণ। এই আলোচনায় সরকারের অর্থমন্ত্রী দেশ পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গি ও বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন, পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির দাবি এবং ব্যাংক-আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকেও আলোকপাত করা হয়। অধিকাংশ আলোচনা ফলপ্রসূ ছিল, তবে কিছু বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশেষ করে, জনগণের স্বার্থে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। কিছু বিষয় নিয়ে মতৈক্য নাও হতে পারে, কিন্তু উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতের আলোচনায় সমাধান লক্ষ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করছে। আইএমএফ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার। জনগণের স্বার্থ রক্ষায়, এবং গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থেকে উন্নয়নের সহায়তাকারী হিসেবে তারা বাংলাদেশে থাকতে চায়। উল্লেখ্য, সরকার আরও জানায় যে, গতকাল (শুক্রবার) কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি এবং আজ (শনিবার) কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্তে ঋণ স্থগিতের বিষয়টির উল্লেখ হয়নি।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তি: হরমুজ প্রণালির চেয়ে বড় বাধা

    অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তি: হরমুজ প্রণালির চেয়ে বড় বাধা

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি দেশের জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির বাধার চেয়েও বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আজ শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের উচিত উত্থানকালীন সময়ের জন্য ગ্রীન এনার্জির দিকে মনোযোগ দেওয়া। জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে আগামী বাজেটে সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে জ্বালানি নীতিতে অনেক ভুল হয়েছে। নতুন অনুসন্ধান ও উদ্‌ঘাটন হয়নি, বরং বেসরকারি সংস্থায় বিনিয়োগের পরিবর্তে আমদানি নির্ধর্‌শতা বাড়ানো হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা যথেষ্ট থাকলেও ব্যবহারে দেখা দেয় না, কারণ কায়েমী স্বার্থের কারণে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা আরও বেড়ে গেছে।

    জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপারে তিনি বললেন, ‘জ্বালানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজন, হরমুজ প্রণালীতে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা অতিক্রম করতে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চুক্তি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অর্থনীতি ও জ্বালানির ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে। সংস্কার কার্যকর না হলে আইএমএফ সহ অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা ঋণ দেবে না। সরকারের দরকার ২-৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ।’

    অর্থনীতিবিদটি যোগ করেন, ‘কর হার কমিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর্থিক ও সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে কর থেকে অর্জিত অর্থ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এই সরকারের ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেবিনেটের সাব-কমিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে লাইন কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারে, তাহলে সেই কমিটি কী কাজ করবে? সাব-কমিটি গুলোর উদ্যোগ জনসাধারণের অগোচরে থাকলে তা অর্থহীন।’

    ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, ‘আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে বাপেক্সকে আরও সক্রিয় করতে হবে এবং সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানিতে দেওয়া ভর্তুকির বিবেচনা পুনরায় করতে হবে, যেন সাশ্রয়ী দামে আমদানি সম্ভব হয়।’

  • বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো জনগণের দায়বদ্ধতা: অর্থ উপদেষ্টা

    বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো জনগণের দায়বদ্ধতা: অর্থ উপদেষ্টা

    সরকারের বহনকরা বিশাল মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষজনের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর জন্য সরকার জোড়ালো চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকছে।

    শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে সৃষ্টি হওয়া মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তা করে বর্তমান সরকার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে এই কৃচ্ছ্রসাধন চালু রাখা হয়েছে।”

    অর্থ উপদেষ্টা অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন, সেই পথেই বর্তমানে চলছেন সরকার। তিনি জানান, সংকটকালে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ এর মতো কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কৃষক, খামারি ও মাছচাষীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

    নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার মূল লক্ষ্য হিসেবে আঞ্চলিক সমতা ও উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগে কোনো রাজনৈতিক দল এই ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি। রংপুর ও রাজশাহীর পর ফরিদপুরেও এই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    ইশতেহারের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং সমাজের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

  • প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম

    প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে তিনি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বিমানে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের কাছ থেকে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া চেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা দোয়া করলে আল্লাহ আপনার দোয়া কবুল করবেন।” তিনি হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করার অনুরোধ জানিয়ে আরও বলেন, দেশের সমস্যাগুলো মোকাবিলা এবং সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো সফল করার জন্য তারা দোয়া করবেন।

    আগামী বছর থেকে হজে সুবিধা বাড়ানো এবং খরচ কমানোর আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার গঠনের আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছিল, তবুও সরকার চেষ্টা করেছে অন্তত ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমানোর। আগামী বছরে খরচ আরও কমাতে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এবং হজযাত্রীদের দোয়া কামনা করেন।

    এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গেই কুশল বিনিময় করেন, যাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত হজযাত্রীদের সঙ্গে মোনাজাতে যোগ দেন। তিনি বলেন, সরকার হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত ও যাত্রীবান্ধব করতে কাজ করছে।

    এসময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা)সহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা—বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবে। উদ্বোধনী দিনের জন্য মোট ১৪টি ফ্লাইট নির্ধারণ করা হয়েছে; যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৬টি, সাউদিয়ার ৩টি এবং ফ্লাইনাসের ৩টি ফ্লাইট আছে।

    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু করা হচ্ছে।

    বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হজ যাত্রী প্রেরণকারী দেশে হিসেবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৮,৫০০ জনের মতো হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এদের মধ্যে ৪,৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩,৯৩৫ জন বেসরকারি অ্যাজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন।

    হজ পূর্ব ফ্লাইট ২১ মে পর্যন্ত চলবে। এ জন্য মোট ২০৭টি হজ পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত আছে—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। মোট হজযাত্রীর প্রায় অর্ধেক বহন করবে বিমান বাংলাদেশ; বাকিরা সাউদিয়া ও ফ্লাইনাস বহন করবে।

    চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরতি ফ্লাইট ৩০ মে থেকে শুরু হবে এবং তা ১ জুলাই পর্যন্ত চালু থাকবে।

  • রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোব, পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে

    রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোব, পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে

    রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানকে নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে তীব্র বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। উত্তপ্ত পরিবেশে উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগে রাশেদ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জনি নন্দীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানাও ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ জনতা বিকালে রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে। এই উত্তেজনার সময় জনি নন্দীকে নিয়ে অভিযোগ ওঠে যে তিনি জনতাকে উসকানিমূলক ভাষায় উস্কে দিয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে আটক করে।

    এডিসি জুয়েল রানা জানান, জনি নন্দীকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর থানায় রয়েছেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    বিক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুলিশ জনগণকে শান্ত ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

  • স্পিকার নিরপেক্ষ ছিলেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    স্পিকার নিরপেক্ষ ছিলেন না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল তা পেয়েছে না। অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় বিরোধীরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন।

    আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় তোলা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সম্মতিতেও এসব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে না আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি এবং আলোচ্যসূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ ও বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তিনি আরো বলেন, বিরোধী পক্ষ ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিলেও সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

    সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দুই মিনিটের আলোচনায় কোনো পার্লামেন্টারি বিতর্ক সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না এবং সরকারের দিকে অনেক দীর্ঘ সময়ের বক্তৃতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা লুট হয়ে বিদেশে পাচার হওয়ার পরও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভিযোগ করেন, এসব অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের বিচারের উদ্যোগ আটকে দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংরের গভর্নরের পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে বলে আশঙ্কা করেন এবং বলেন, একজন ঋণখেলাপিকে পুনঃতফসিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোর মতো ঘটনার প্রভাবও বিরূপ।

    এর ফলে তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ বা ‘কালো হাত’ বাড়ছে—এমন আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেন। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ বলে মন্তব্য করে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আমানত রক্ষায় সকলে পাহারাদারের ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

    জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসামঞ্জস্য指ঙ্গ করেন। সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, কিন্তু দীর্ঘ সময় লোডশেডিং, ফার্নেস অয়েলের অভাব ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির ফলে শিল্প বর্ষণ ও দ্রব্যমূল্যের চাপ ইত্যাদি বাস্তবে মানুষকে ভুগাচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক কারণের প্রভাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলই সংকটকে তীব্র করেছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে সমস্যার সমাধানের পথ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কারমূলক অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করা উচিত।

    বিরোধীদলীয় নেতার সতর্কীকরণ—জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট সৃষ্টি করতে পারে। ভুল মানুষ করে, কিন্তু সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসাই কর্তব্য, আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।