Blog

  • দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল মিরাজ-শান্তাদের বাংলাদেশ

    দ্বিতীয় সারির নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল মিরাজ-শান্তাদের বাংলাদেশ

    মিরপুর শের-ই-বাংলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জয় হাসির হাতছানি দেখালেও শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবেছে বাংলাদেশ। সাইফ হাসান, লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু ইনিংসগুলোর পরও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাবে টাইগাররা হার মেনে নিতে হয় এবং তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ পিছিয়ে পড়েছে।

    নিউজিল্যান্ড টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে। শুরুটা তাদের জন্য একটু ঝুঁকিপূর্ণ ছিল; সপ্তম ওভারে শরিফুল ইসলাম নিক কেলিকে ফেরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন। তারপর হেনরি নিকলস ও উইল ইয়ং ৭৩ রানের জুটিতে দলের ভিত মজবুত করেন। পরিপক্ক ইনিংস সাজিয়েছেন ডিন ফক্সক্রফটও—তার অর্ধশতকই দলের রানকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে।

    নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন দু’টি করে উইকেট নেন, তাসকিন আহমেদও দু’টি শিকার করেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ এক বার নিয়েছেন। ফলে ৫০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ২৪৭/৮।

    জবাবে বাংলাদেশ শুরুতেই ধাক্কা খায়—তানজিদ হাসান, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফেরায় খেলার সূচনা কঠিন করে তোলে। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে সাইফ হাসান (৫৭, ৭৬ বল) ও লিটন দাস (৪৬, ৬৮ বল) ৯৩ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামলান এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

    সাইফের বিদায়ের পর লিটনও ফেরেন এবং পরে আফিফ হোসেনের সঙ্গে তাওহীদ হৃদয় চেষ্টা চালালেও ততটা সক্রিয়তার ছাপ সেভাবে দেখা যায়নি—আফিফ ধীর গতিতে ২৭ রান করে আউট হন। তাওহীদের ৫৫ রানের আত্মবিশ্বাসী ইনিংস বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পারফরম্যান্সগুলো মিস করে টাইগাররা ৪৮.৩ ওভারেই ২২১ রানে গুটিয়ে যায়।

    ম্যাচ জিতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম জয়টি তুলে নিয়েছে, আর বাংলাদেশ ঠিক করে নেয় আগামী ম্যাচগুলোতে সমতা ফেরাতে সিরিজটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে হবে। পরবর্তী ম্যাচে টাইগারদের সামনে রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ।

  • ৪০ পেরিয়ে প্রাইম ব্যাংকে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ, কৃতিত্ব দিলেন তামিমকে

    ৪০ পেরিয়ে প্রাইম ব্যাংকে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ, কৃতিত্ব দিলেন তামিমকে

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে, এবং ফেব্রুয়ারিতে ৪০-এ পা রেখেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অনুরাগ অটুট রেখে ডিপিএলে নতুন চ্যালেঞ্জ নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছেড়ে এবার তিনি যোগ দিয়েছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সিসিডিএম কার্যালয়ে দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রাইম ব্যাংকের জার্সি হাতে ফেরার আনন্দ জানিয়েছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। দীর্ঘ দিন পর ফিরে আসায় তিনি উচ্ছ্বসিত ছিলেন।

    সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এই দল নিয়ে খুব খুশি। টপ-অর্ডার থেকে শুরু করে পুরো স্কোয়াড যেভাবে গঠিত হয়েছে, তা সত্যিই প্রচণ্ড ভালো।’ তিনি দলের শক্ত ব্য়বস্থাকে তুলে ধরে বলেন, ‘টপ-অর্ডারে আজিজুল হাকিম, তামিম, শাহাদাত হোসেন দীপু ও আরও অনেকে আছেন। মিডল অর্ডারে আমি ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটাররাও রয়েছেন। পেস ও স্পিনে আলিস আল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রায়ান রাফসান ও এনামুলের মতো বোলাররা থাকায় ভারসাম্য বজায় রয়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণ আমাকে আশাবাদী করেছে।’

    প্রায় এক দশক পর আবার প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলতে পেরে ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের পর থেকে আবার সুযোগ পেয়েছি। প্রাইম ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড়দের সুষ্ঠু সুযোগ-সুবিধা ও ঠিকঠাক পারিশ্রমিক নিশ্চিত করে এসেছে। এটা তাদের বিরাট কৃতিত্ব।’

    মাহমুদউল্লাহ আরও বলেন, ‘মাঠে কষ্ট করে খেলার পরে ক্রিকেটাররা চান তাদের পারিশ্রমিক সময়মতো ও পূর্ণভাবে পেতে। এই দিক থেকে প্রাইম ব্যাংক প্রিমিয়ার লিগে একটি স্তম্ভের মতো কার্যকর।’

    একই সময় তিনি বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালকে বিশেষ কৃতিত্ব দিয়ে বলেন, ‘এই উদ্যোগটিই অনেক ক্রিকেটারের জন্য বড় আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করছে। অবশ্যই কৃতিত্ব তামিমকেই দিতে হবে। তবে দিনের শেষে আমাদের সবার একটাই চাই—মাঠে থাকতে ও খেলতে পাওয়া; মাঠে খেলার সুযোগের চাইতে বড় কিছু নেই।’

  • ২০০ কোটি রুপির জালিয়াতি মামলায় রাজসাক্ষী হচ্ছেন জ্যাকুলিন

    ২০০ কোটি রুপির জালিয়াতি মামলায় রাজসাক্ষী হচ্ছেন জ্যাকুলিন

    গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর যতবারই জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজকে ভালোবাসার ভঙ্গি দেখাতে চেয়েছেন, ততবারই তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন ২০০ কোটি রুপি মূল্যমানের আর্থিক জালিয়াতি মামলায় জ্যাকুলিন রাজসাক্ষী হিসেবে হাজির হতে পারেন।

    জ্যাকুলিনের নাম মামলায় জড়ানোর পর থেকেই সুকেশ নিজেকে তার প্রেমিক বলে দাবি করে অভিনেত্রীর পক্ষে মুখ খুলেছেন। নিজের হাতে লেখা এক চিঠিতে সুকেশ অভিযোগ করে বলেছেন, জ্যাকুলিনের নাম টেনে এনে তাকে অভিযুক্ত করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়। তিনি লিখেছেন যে, তাদের সম্পর্ক ছিল এবং জ্যাকুলিন ও তাঁর পরিবারকে যে উপহারগুলো দিয়েছেন সবই নিজের ইচ্ছায় করা; জ্যাকুলিন কাছে থেকে শুধুই ভালোবাসাই চেয়েছিলেন।

    তবে গ্রেফতারের পর সুকেশের ফোনে বা ভালোবাসার আবেদনগুলোতে জ্যাকুলিন সাড়া দেননি। পুলিশের জেরার সময়ে তিনি সুকেশের দেওয়া উপহারপত্র গ্রহণ করার কথা স্বীকার করেছিলেন।

    এখন আদালতে গিয়ে রাজসাক্ষী হিসেবে জ্যাকুলিন কী ধরনের বিবৃতি দেবেন, তা তাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে তার সাক্ষ্য মামলার গতিপথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

  • আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে কেন যাননি সালমান ও শাহরুখ — জানা গেল কারণ

    আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে কেন যাননি সালমান ও শাহরুখ — জানা গেল কারণ

    সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের সর্বশেষ বিদায় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। মহার্ঘা শিল্পীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন বলিউডের একঝাঁক তারকা — উপস্থিতরা আবেগে ভেঙে পড়েন, কণ্ঠে ছিল শ্রদ্ধা ও শোক। রণবীর সিংয়ের মতো অনেকেই তার জীবনী ও কীর্তি স্মরণ করেন, কিন্তু দুই খ্যাতনামা অভিনেতা — সালমান খান ও শাহরুখ খান এই শেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না, যা কিছু মানুষের কাছে আশ্চর্যের কারণ হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে মুম্বাইতেই থাকার কারণে এবং বড় জনসমাগমে তাঁদের নিরাপত্তা বজায় রাখার জটিলতা বিবেচনা করে তারা যেতে পারেননি। উল্লেখ্য, এই বিষয়ে সালমান বা শাহরুখের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসে নি।

    তবু আশার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধাব্যক্তি অনলাইন মারফত প্রকাশ পেয়েছে। শাহরুখ খান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন তিনি অত্যন্ত দুঃখিত — আশা ভোঁসলে চলে গেলে ভারতীয় সিনেমা ও সংগীতের একটি বড় শূন্যতা তৈরি হল; তাঁর কণ্ঠ ছিল এক শক্তিধর স্তম্ভ এবং আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত তার প্রভাব থাকবে।

    সালমান খানও সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক জানান, তিনি আশা জির কণ্ঠে মর্মাহত; এটি ভারতীয় সংগীতের জন্য বিরাট ক্ষতি। সালমনের কথায়, আশা ভোঁসলের অপূরণীয় কণ্ঠ ভবিষ্যৎ গুণী শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করতে থাকবে।

    আশা ভোঁসলে গত ১২ এপ্রিল প্রয়াত হন। খবর অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছিলেন এবং বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমে প্রত্যাশা করা হয়েছিল দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

    উল্লেখযোগ্য, চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের বহু মানুষ ও ভক্ত আজও তাঁর গানের মধ্যেই আশা ভোঁসলের জীবনের ছাপ খুঁজে পান। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান জানিয়ে তাকে বিদায় জানানো হয়—এমন স্মৃতি দীর্ঘ দিন স্মরণে থাকবে।

  • সার্ক পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    সার্ক পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা সার্ককে আবার সক্রিয় করে তোলা দেশের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া কূটনৈতিক ফোরামের একটি মন্ত্রীস্তরের প্যানেলে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্যানেলে অংশ নেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আফগানিস্তানের পরিবহণমন্ত্রী আজিজি।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে উচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিশীল যোগাযোগ ও বিশ্বাসপূর্ণ সংলাপ অপরিহার্য।

    প্যানেল আলোচনায় সার্ক প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানও সম্মানজনকভাবে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, সার্ক গঠনের ইতিহাস ও লক্ষ্য এখনও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক, এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্য রক্ষিত রেখে আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

    অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা আছে; তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে অতিথিসহ সকল দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাধা দূর করে তাত্ক্ষণিকভাবে সংলাপ ও কূটনীতিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।

    সারাংশে, আন্তালিয়া ফোরামে বাংলাদেশসহ অঞ্চলের প্রতিনিধিরা সার্ককে একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার জন্য নতুন করে দৃঢ় সংকল্প ঘোষণা করেছেন—যার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন চুক্তিই জ্বালানি আমদানের বড় বাধা: ড. দেবপ্রিয়

    অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন চুক্তিই জ্বালানি আমদানের বড় বাধা: ড. দেবপ্রিয়

    অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তিই জ্বালানি আমদানে হরমুজ প্রণালির চেয়েও বড় বাধা। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।

    ড. দেবপ্রিয় জানিয়েছেন, উত্তরণের পথ হিসেবে গ্রিন এনার্জি গ্রহণ করা উচিত এবং জ্বালানি সংকট থেকে বের হওয়ার প্রতিফলন আগামী বাজেটেই থাকা প্রয়োজন। তিনি বললেন, ‘‘আওয়ামী লীগের সময় জ্বালানীর নীতি ভুল ছিল—নতুন অনুসন্ধান করা হয়নি, বাপেক্সে বিনিয়োগ হয়নি, বরং আমদানি নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে।’’

    তিনি আরও জানান, দেশে বিদ্যুত্ উৎপাদন ক্ষমতার অভাব নেই, সমস্যা হলো তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায় না; কায়েমি স্বার্থের কারণেই আমদানি নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি বাধা হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ওই বাণিজ্যিক চুক্তি, তিনি উল্লেখ করেন।

    ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, ভূ-রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অনির্দিষ্টতা অর্থনীতির পাশাপাশি জ্বালানিতেও প্রভাব ফেলছে। সংস্কারের সেতুবন্ধন না হলে আইএমএফ আর ঋণ দেবে না—সরকারের ২–৩ বিলিয়ন নতুন টাকা প্রয়োজন হবে।

    তিনি প্রস্তাব করেন করের হার কমিয়ে করদাতাদের সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং আর্থিক-সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে করের বিনিময়ে পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী এগুলো বাস্তবায়ন জরুরি।

    কেবিনেট সাব কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘‘যে কেবিনেট সাব কমিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে লাইনে তেমন প্রতিব্ল হবে না, তাহলে তার কাজ কী?’’ এই উদ্যোগগুলিকে জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে, যোগ করেন তিনি।

    শেষে ড. দেবপ্রিয় বলেন আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে প্রাধান্য দিতে হবে, কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে—বিশেষ করে বাপেক্সকে সক্রিয় করা এবং সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধান শুরু করা। জ্বালানিতে দেওয়া ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা করে সাশ্রয়ী দামে আমদানি নিশ্চিত করতে হবে।

  • কুলাঙ্গার শব্দ ব্যবহারে বিএনপি সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ রাশেদ প্রধানের

    কুলাঙ্গার শব্দ ব্যবহারে বিএনপি সমর্থকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ রাশেদ প্রধানের

    জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জগপা)-র সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিএনপি সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, তার বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমর্থকরা কষ্ট পেয়েছেন—তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, কুলাঙ্গার শব্দটি কুল (বংশ) ও অঙ্গার (কলঙ্ক) মিলিয়ে বোঝায়—অর্থাৎ কুকর্মের ফলে বংশ কলঙ্কিত হওয়া। তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, তিনি এই শব্দটির ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছেন এবং ভবিষ্যতে তা ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবু তার মূল বক্তব্যের সার বিষয়গত পরিবর্তন নেই বলেও উল্লেখ করেছেন।

    রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপির কিছু কর্মী ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের সামগ্রিক অর্থটি ঠিকভাবে বোঝেননি, সম্ভবত অর্থ না বোঝার কারণে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ এপ্রিল এক আলোচনায় একই বিষয়ের ওপর তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা থেকেই বর্তমান প্রতিক্রিয়া শুরু। অতীতেও অনুরূপ বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া কম পাওয়া গেলেও ১৫ এপ্রিলের পরে প্রতিক্রিয়া বেশি বাড়ছে; তিনি বলেন, অতীত বক্তব্য ও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যের মধ্যে কেবলমাত্র একটি শব্দ—’কুলাঙ্গার’—ই পার্থক্য।

    রাশেদ প্রধান আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বলছেন বর্তমান বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে চলছে না এবং তারেক রহমান পিতা-মাতার আদর্শের প্রতি সঙ্গবদ্ধ নয়; তাদের সম্মান নষ্ট করার মতো কাজ হয়েছে। এই মন্তব্যগুলোই তার সমালোচনার মূল।

    তিনি জানান, তার বক্তব্যের পরে দেশে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি সমর্থকরা প্রতিবাদ, মিটিং, মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানা কর্মসূচি করেছেন। তিনি এসব কার্যক্রমকে তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করে নেন এবং একই সঙ্গে সরকারপন্থী কিছু নেতাকর্মীর তৎপরতাকেও সাধুবাদ জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণের প্রাপ্য অধিকারের জন্য কথা বলা তার দায়িত্ব। ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার’ সময়ও তিনি চুপ ছিলেন না এবং এখনও থাকবে না—একমাত্র লক্ষ্য সরকারের দেওয়া অঙ্গীকারগুলি বলা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ হলো যে কোনও ব্যত্যয় বা অঙ্গীকার ভঙ্গ মনে হলে তা প্রকাশ করা এবং তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, এই নীতিতেই তিনি তার আচরণ বহাল রাখবেন।

  • এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জন সম্পূর্ণ মিথ্যা বললেন রুমিন ফারহানা

    এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জন সম্পূর্ণ মিথ্যা বললেন রুমিন ফারহানা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপিতে যোগদানের যে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন ব্যাখ্যা করেছেন।

    শুক্রবার জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলার (বাংলা) টক শোতে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে তার যোগদানের ব্যাপারে প্রচার ও আলোচনা সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ‘‘এটা একেবারেই গুজব, কোনো সত্যতা নেই,’’ বলে তিনি জানান।

    রুমিন ফারহানা আরো বলেন যে, বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দল তাকে যোগাযোগ করেছে এবং এনসিপিও তাদের পক্ষ থেকে তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে তিনি বলেন, ‘‘ওরা বারবার বলেছে—আপা চলে আসেন আমাদের সঙ্গে, আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। আমি তাদের এপ্রোচে হেসেছি, কথা বাড়াইনি।’’

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কেবল সংসদে কথা বলার সুযোগ পেতে কোনো জোটে যোগ দেবেন না। ‘‘কথা বলার জন্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম আছে, সেগুলোতেই আমি কথা বলতে পারি। আমার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা বিসর্জন দিয়ে মাত্র দুই মিনিটের বক্তৃতার জন্য কোনো দলে যোগ দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়,’’ তিনি বলেন।

    রুমিন ফারহানার বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যে কোন ধরনের জল্পনা-অটকো ঢুকতে দেবেন না তিনি এবং ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও সিদ্ধান্ত নিজ ভাবনা ও নীতির ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হবে।

  • প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

    গত মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ঢুকে এ প্রবাহ চলতি এপ্রিলেও ইতিবাচক রয়েছে। তার প্রভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে—ফলশ্রুতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভটি ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের তুলনায়—১৬ মার্চে—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার; ফলে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

    তবে সম্পূর্ণ রিজার্ভ অর্থনীতির জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় না। স্বল্পমেয়াদি দায়-দেনা ও কিছু নির্দিষ্ট হিসাব বাদ দিলে যে নিট বা ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ থাকে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ণয় করে থাকে; আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত সেখানে বাদ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

    প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে চাপে পড়ে paggamitযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে গিয়েছিল; তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট করা হয়েছিল।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা ডলার সীমিত করেছেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে ও বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে; তাই রিজার্ভের অবস্থান ভালো। তিনি আরও বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ঐতিহাসিকভাবে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, তখন প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল—সেই সময়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তীতে ঋণ-অনিয়ম ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তখন তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, তখন আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

    পরবর্তীতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু ও রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল হয়—এসব মিলিয়ে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

    পতাকা তথ্য অনুযায়ী চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি; গত বছর ওই সময় এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে—মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলারের সরবরাহ সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে; এর ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এসব আলোচনায় রিজার্ভে ইতিবাচক বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।

  • ইরানের আকাশপথ সচল: তেহরানসহ ৬টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু

    ইরানের আকাশপথ সচল: তেহরানসহ ৬টি বিমানবন্দর পুনরায় চালু

    দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচলে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। দেশটির এভিয়েশন অথরিটি ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানি এয়ারলাইনস জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা ও রাজধানী তেহরানসহ মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর আবারও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

    তাসনিম নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছে তেহরানের দুটি প্রধান বিমানবন্দর—ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এছাড়া মাশহাদ, বিরজান্দ, গোরগান ও জাহেদান-ও পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।

    অ্যাসোসিয়েশন অব ইরানি এয়ারলাইনসের এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলো খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ারলাইনগুলো তাদের নিয়মিত ফ্লাইট সূচি পুনর্গঠন শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ রুটে দ্রুততা ফিরে আসছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোও ধাপে ধাপে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। জাতীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিও নিশ্চিত করেছে যে যাত্রীদের জন্য টিকিট বিক্রিও ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে দেশের বেশ কিছু আকাশপথ এবং বিমানবন্দর স্থবির ছিল, ফলে হাজার হাজার যোত্রী সমস্যায় পড়ে এবং পর্যটন ও ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়। পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা খুলে যাওয়ায় এখন ট্রানজিট ও কার্গো ফ্লাইটগুলোও নিরাপদ বলে গণ্য করা হয় এমন রুট ব্যবহার করতে পারবে, যা বিমান চলাচলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বেসামরিক জনজীবন স্বাভাবিক করার একটি বড় চেষ্টা। তবে পুরো আকাশপথ এখনো সম্পূর্ণ রূপে খোলা হয়নি—পশ্চিমাঞ্চলীয় রুটগুলোতে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করাকে ভ্রমণপিপাসু ও ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যদিও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর এখনও নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো।