সংস্কার পরিষদ গঠন না করে সৃষ্টি হওয়া সংকটের জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ভার নিতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিরোধী নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের গণঅভ্যুত্থানের পর সময়ে দুটি মূল প্রশ্ন উঠে আসে:一বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল, অন্যদিকে বিএনপি দাবি করেছিল নির্বাচন। আমরা সংস্কারের জন্য গণপরিষদ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছিলাম, যা পরে বিএনপি আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই কারণেই আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে সমর্থন করেছি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ জুলাই সনদ তাদের দলের বৈধতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সংবিধানের কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাই গঠনের ক্ষমতা রাখবে সংস্কার পরিষদ। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মান্যতা দিয়েছে, কিন্তু এখন তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করতে চাইছে।
গণভোটের ফলাফলের প্রত্যাখ্যানের পরিণতি হিসেবে সরকার এই সংকটের ওপর ভুগতে হবে বলে উল্লেখ করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আমাদের এখন দুই বিষয়ে আলোচনা করা দরকার: জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবেলা। দেশের অর্থনীতি ও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে, জ্বালানি সংকট, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবেলায় ব্যর্থতা সবই বিএনপি কেন, সেটার দায়ভারও তাদেরকেই জেনুন করতে হবে।
সংক্ষেপে, সংকট সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধানে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি প্রধান। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত এই নিয়ে কাজ করুন; না হলে এর পরিণতি আপনাদেরকেই ভোগ করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের খলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলের নেতারা।
