Month: January 2026

  • ভারতে মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স বাতিলেরциялар পড়তি মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেশি ভর্তির নেই অভিযোগ

    ভারতে মেডিকেল কলেজের লাইসেন্স বাতিলেরциялар পড়তি মুসলিম শিক্ষার্থীদের বেশি ভর্তির নেই অভিযোগ

    ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এক্সেলেন্সে (এসএমভিডিআইএমই) এমবিবিএস কোর্সে বেশিরভাগ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) কলেজটির লাইসেন্স বা অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। দুই মাস ধরে চলা তীব্র বিরোধিতা ও আন্দোলনের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসে তারা। হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভিসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম বুধবার এই খবর প্রকাশ করেছে।

    খবরে জানানো হয়, রিয়াসির কাটরা শহরে অবস্থিত এই মেডিকেল কলেজে এমবিবিএসের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই মুসলিম, আর আটজন হিন্দু। কলেজের কর্তৃপক্ষের দাবি, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী। তবে, আসন বণ্টনে ‘অন্যায্যতা’ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভের আয়োজন করে। তারা আরও দাবি জানায় যে, হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি আসন সংরক্ষণ করা হোক।

    গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই কলেজে ৫০টি এমবিবিএস আসনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নভেম্বরে ‘রাষ্ট্রীয় বজরং দল’ (আরবিডি) নামের এক উগ্রপন্থী সংগঠন ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ দেওয়ার দাবি জানায়।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তির সবটুকু ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যার বাড়তির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করে, দেশের অন্যান্য অংশের মতো এ অঞ্চলেও ভালো পরীক্ষার ফল এবং ৮৫ শতাংশ ডোমিসাইল কোটার প্রভাব রয়েছে— যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বেশি।

    তবে, এই ব্যাখ্যার পরও উগ্রপন্থী কয়েকটি সংগঠনের জোট ‘মাতা বৈষ্ণদেবী সংগ্রাম সমিতি’ প্রথমে কলেজের মেধাতালিকা বাতিলের জন্য দাবি জানায়। আইনগত কারণে সেটি সম্ভব না হওয়ায় পরে তারা কলেজটি পুরোপুরি বন্ধের দাবিও তোলে।

  • ট্রাম্পের অনুমোদন: ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন

    ট্রাম্পের অনুমোদন: ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব অনুমোদন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত, চীন এবং ব্রাজিলের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিলের ওপর সম্মতি দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বর্তমানে, ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক কার্যকর রয়েছে। কিন্তু যদি ‘গ্রাহাম-ব্লুমেন্টাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামে এই আইন পাস হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এই তিন দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা থাকবে। এর লক্ষ্য হলো, যারা জেনেশুনে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। এই বিলের আরেক উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেওয়া।

    সিনেটর গ্রাহাম ও ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল যৌথভাবে এই বিলটি প্রণয়ন করেন। বলা হয়, যারা রাশিয়া থেকে নিয়মিত এবং বড় পরিমাণে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা অন্যান্য পণ্য কিনছে, তাদের ওপর দ্বিতীয়স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, সঙ্গে সাথে তাদের পণ্যের ওপর কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে।

    বৃহস্পতিবার গ্রাহাম বলেন, তিনি তার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, গতকাল বুধবার তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে আলোচনা করেছিলেন। ট্রাম্প এই বিলের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। গ্রাহাম মনে করেন, এই বিলটি সঠিক সময়ে পাস হতে যাচ্ছে। কারণ, ইউক্রেনের জন্য শান্তির সময় অন্যদিকে পুতিন কেবল কথা বলছেন, আর রুশ সেনা এখনও নিরীহ লোকজনকে হত্যা করছে—এই অপ্রিয় বাস্তবতা উল্লেখ করেন তিনি।

    তারা আরো জানান, আগামী সপ্তাহে মার্কিন এমপিরা এই বিলের ওপর ভোটাভুটি শুরু করবেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রথমে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে গিয়ে পাস হলে সেটি সিনেটে যাবার পালা। সিনেট থেকে স্বাক্ষর পেলে শেষে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে, যেখানে তিনি স্বাক্ষর করলে এই আইনের কার্যকরীতা শুরু হবে।

  • ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ৩,০০০ এর বেশি সেটলার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা

    ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ৩,০০০ এর বেশি সেটলার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা

    ইসরায়েল এবার পূর্ব জেরুজালেমে আরও ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে মূলত প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত এই শহরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য এই বাড়িগুলো নির্মিত হবে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সরকার এই নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে।

    ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নির্মাণ কাজটি পূর্ব জেরুজালেমের ই-ওয়ান এলাকায় হবে। এই এলাকার গুরুত্ব অনেকটাই কৌশলগত কারণেই, কারণ এটি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের শহর মারে আদুমিমে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক করিডোর হিসেবে কাজ করে। বসতি স্থাপনকরণে এই এলাকা আরো দৃঢ় হবে, ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

    ইসরায়েলের ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থাটি এই টেন্ডার প্রকাশ করেছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কমপক্ষে তিন দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমে দখলের কাজ কিছুটা বন্ধ ছিল। তবে গ্রাউন্ডে পরিবর্তনের মাঝে গাজা যুদ্ধ এই দখলদারির ক্ষেৎ্রকে আবার উজ্জীবিত করেছে। এই বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।

    ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘ এক ঘোষণা দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে—একটি ইসরায়েল, আরেকটি ফিলিস্তিন। এর মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।

    সেই শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত—পূর্ব অংশটি পায় ফিলিস্তিনের অংশ হিসেবে পরিচিতি, আর পশ্চিম অংশটি পায় ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তারপর থেকে শহরটি ইসরায়েলের দখলেই রয়েছে।

    মুআয়াদ শাবান বলেন, ‘পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা যেন অচিরে সংখ্যায় বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য শহরটিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা তারা করছে। এই নতুন বসতি নির্মাণ প্রকল্প এই পরিকল্পনারই অংশ।’

    অতীতে, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল আস্তে আস্তে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করছে, যেখানে গাজার হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ দখলের এই কার্যক্রমে নতুন উত্থান ঘটিয়েছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১০ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল।

  • দৌলতপুরকে ইনসাফ ও উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

    দৌলতপুরকে ইনসাফ ও উন্নয়নের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

    জামায়াতের মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘকাল থেকে মানুষ সঠিক সুশাসন ও বাস্তব উন্নয়নের অভাবে পড়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দৌলতপুরকে একটি ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারী মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মানুষের ভোটাধিকার যখন নিশ্চিত হবে, তখন ইনশাআল্লাহ দৌলতপুরের জনগণ সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করবেন। মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, আমাদের দল দৌলতপুরের কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের আধুনিকায়নে স্পষ্ট ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার। গতকাল বুধবার নগরীর ৩নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গনসংযোগের সময় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, বিএল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির, জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান স্বপন, ডাঃ সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা সেলিম রেজা, হাসিবুর রহমান, মাওলানা হাবিবুর রহমান, আবরার জিহাদ ও শরীফ আল নাঈম প্রমুখ।

  • যশোরে ঘুষের লাখ টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

    যশোরে ঘুষের লাখ টাকাসহ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোরে এক অভিযানে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষসহ তাকে আটক করে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে, যখন দুদকের একটি দল আসামির বিরুদ্ধে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। পরে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি তদন্তাধীন।

    অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার মৃত্যুবরণ করেন ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট। মৃত্যুর পর, তার স্বামী মোহাম্মদ নুরুনবী প্রাক্তন শিক্ষক, গত বছর ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার স্ত্রীর পেনশনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু, আবেদন দেওয়ার পরে থেকেই জেলা শিক্ষা অফিসের আ techniকাররা তাকে হয়রানি করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার পেনশনের ফাইলে স্বাক্ষর না করে গড়িমসি করেন, আর অবশেষে তিনি দাবি করেন এক লাখ ২০ হাজার টাকার ঘুষ। নুরুনবী অভিযোগ করেন, এই টাকা না দিলে তার স্ত্রীর পেনশনের কাজ দেরি হবে। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করলে, দুদকের একটি দল বুধবার বিকেলে অভিযানে এসে তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণ এবং কোর্টে ধরা যায়।

    অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। নুরুনবী বলেন, তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তার পেনশনের জন্য নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে থাকলেও, আরও বেশি ঘুষের দাবি করে শিক্ষা কর্মকর্তা। টাকা না দিলে পেনশনের কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। এর ফলে, বাধ্য হয়ে তিনি ঘুষের টাকা সহ অফিসে যান, যেখানে দুদক তাকে আটক করে।

    দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়। অনুমোদনের পর, অভিযানে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে, যেখানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ১৭ বছর পর ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যালটের মাধ্যমে

    ১৭ বছর পর ভোটের বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যালটের মাধ্যমে

    খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদকের কার্যালয় থেকে আজিজুল বারী হেলাল জানিয়েছেন, গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পবিত্র ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিল। সরকারের নানা অপকর্মের কারণে হাজারো মানুষের জীবনহানি, গুম এবং হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে প্রতিযোগিতা অবিচ্ছিন্নভাবে চলবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে বিজয়কে চূড়ান্ত রূপ দিতে হবে। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে সকল আস্ফালন ন্যায্য এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার দুপুরে রূপসার উত্তর খাজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টিএসবি নাগরিক সমাজের আয়োজনে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী ব্যারেস্তা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও সাধারণ সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আজিজুল বারী হেলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত মাস্টার আঃ আজিজ মোড়ল এবং পরিচালনা করেন মোঃ কামরুজ্জামান। বিকেলে তিনি তালতলা মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনায় অংশ নেন। তবে রাতের অংশে সেনের বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ মাওলানা তারেক মাহমুদ, জিএম আসাদুজ্জামান, সরদার সিরাজুল ইসলাম, আরশাদ আলী, আঃ আজিজ শেখ, পরিতোষ কুমার দত্ত, টিএসবি ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রবীর কুমার নন্দী, পাথরঘাটা দীপক কুমার রায়, শেখ জালাল উদ্দীন, সুধীর দাস, এসকে হারুনার রশিদ, আঃ মান্নান মাস্টার, দেবপ্রসাদ পাল, সৈয়দ আহম্মদ আলী, মাস্টার শেখ শাহাজাহান আলী, গৌতম ভদ্র ও আরও অনেক সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্ত হিসেবে জানা যায়, উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান সাইফ, জেলা বিএনপির সদস্য আছাফুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

    এছাড়াও, সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শেষপর্যায়ে, খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা, দীর্ঘ জীবন ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষভাবে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

  • সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ মামলার মূল হোতাসহ দুই ডেজারুকে আটক করলো কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণ মামলার মূল হোতাসহ দুই ডেজারুকে আটক করলো কোস্ট গার্ড

    সুন্দরবনে পর্যটক অপহরণের মূল হোতা দস্যু বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) সহ আরও দুইজন দস্যুকে আটক করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। এই সময় দস্যুদের হাতে ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি এবং অপহরণকারীদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতের দিকে সুন্দরবনের ধনখালী এলাকায় তাদের আটক করা হয়।

    প্রথমে জানা যায়, ঢাকা থেকে কয়েকজন পর্যটক ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোল কানন রিসোর্টে ওঠেন। ওইদিন বিকালে এই পর্যটকরা বন দিয়ে নদীতে ভ্রমণে বের হন। এ সময় তারা বনের কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দস্যুদের একটি বাইসাইকেলে থাকা ডাকাত মাসুম বাহিনী তাদের অপহরণ করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর, দুই নারী পর্যটকসহ চার জনকে ফেরত পাঠানো হয়, কিন্তু বাকিদের – এদল থেকে দুই পর্যটক ও রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে রাখে এবং মোটা টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এঘটনা জানার পর কোস্ট গার্ড, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়। ৪৮ ঘণ্টার চেষ্টায় অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং দস্যুদের গ্রেফতার সম্ভব হয়। এ সময় দস্যুদের সাথে সংশ্লিষ্ট এক নারীর পাশাপাশি মোট ছয়জন দস্যুকে আটক করা হয়।

    অপরাধীদের মূল নেতৃত্বদানকারী দস্যু বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়। ৭ জানুয়ারি রাতে বাহিনীর প্রধানসহ দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি তিনটি ওয়ান শুটার পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা গুলি, চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ এবং মাদকদ্রব্য সেবনের সরঞ্জামসহ নানা মালামাল উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।

    এছাড়াও, জিম্মি থাকা পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটককৃত দস্যু ও জব্দ হওয়া সামগ্রী সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত আইনের আওতায় আনয়নের জন্য পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড পশ্চিমক জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান।

    তিনি আরও বলেন, ঢাকা থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখার জন্য আসা পর্যটকসহ তিনজনের অপহরণের খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড দ্রুত অভিযানে নামে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় অপহরণকারীদের গ্রেফতার ও পর্যটকদের উদ্ধার সম্ভব হয়। গোটা সুন্দরবনের দস্যু দমন ও সম্পদ রক্ষা করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • গণতন্ত্র ও ভোটের মর্যাদা রক্ষা: খুলনা-২ আসনে বিএনপির অঙ্গীকার

    গণতন্ত্র ও ভোটের মর্যাদা রক্ষা: খুলনা-২ আসনে বিএনপির অঙ্গীকার

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন সভা ও নির্বাচনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভায় দলটির নেতারা ধানের শীষের পক্ষে জনগণের মতামতকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এই নির্বাচন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটি মূলত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা ও ভোটের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একজন গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    বুধবার সকাল ১১টা থেকে নগরীর ওয়েস্টার্ন ইন হোটেলে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে, যেখানে সবাই মনে করছে এটি সহজ হবে; কিন্তু বাস্তবে তা একদমই সহজ নয়। তাই দল যেকোনো পরিস্থিতিতে ধানের শীষের পতাকা হাতে রাখতে হবে। এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ছাড়া অন্য কিছু যেন মাথায় না আসে। জনগণের মতামতকে অটুট রেখে ব্যালটের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করতে হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে, প্রয়োজনে সমন্বয়ও করা হতে পারে; কিন্তু ধানের শীষ এবং দলের মূল আদর্শ কখনো বদলানো যাবেনা। এই আদর্শের জন্য মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা যা নেওয়া হয়েছে, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    সভায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, ‘‘একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপি’র বিরোধী নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এই বিভ্রান্তি দূর করতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির পরিকল্পনাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।’’

    মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলীয় কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আসন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

    বক্তারা বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বিএনপির প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আনতে এবং ভোটের অধিকার প্রত্যর্পণ করতে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, খুলনা-২ আসনের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন বিএনপির পক্ষে রয়েছে। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সভা ও নির্বাচনী সমন্বয় সভার মাধ্যমে এই এলাকায় বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম আরও সুসংগত ও বেগবান হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে রেকর্ড ৩৯ হাজার কোটি টাকা

    দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশটিতে মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর অর্থ বাংলাদেশের হিসেবে প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে গণনা করা হয়)। এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সময়কালে, আগের অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায়, এই পরিমাণ বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা প্রায় ৩১ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২২০ কোটি ডলার। এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১৮ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা দেওয়া এবং ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের বিবরণ এভাবে রয়েছে: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরতে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয়ের রেকর্ড উঠে এসেছে।

    অর্থাৎ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ রেকর্ডমূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স পৌঁছায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

  • বছরের প্রথম দিনে সোনার ভরি দাম কমে ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা

    বছরের প্রথম দিনে সোনার ভরি দাম কমে ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই দেশের জুয়েলারি বাজারে আবারও সোনার দাম কমানো হয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মূল্যবান ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম হ্রাস পেয়েছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকায়। ফলে, এখন এই মানের সোনার নতুন মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, শুক্রবার ২ জানুয়ারি থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে। গত ১ জানুয়ারি সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এ সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২১ ক্যারেটের ভরি দামে পড়বে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮০৭ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, বিক্রয়মূল্যতে যুক্ত হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের ন্যূনতম মজুরির ৬ শতাংশ। তবে গহনা তৈরির ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা থাকতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বাজুস দেশের সোনার দামের সেত nuwe সমন্বয় করেছিল। তখন ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য মানের সোনার দামও সংশোধিত হয়েছিল, যার মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    সেই সময় এটি কার্যকর হয়েছিল ১ জানুয়ারি থেকে।

    এছাড়াও, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৬৪ বার, আর কমানো হয়েছে ২৯ বার।

    সোনার দামের সঙ্গে এবার রুপার দামেও পরিবর্তন এসেছে। ভরিতে ৫২৫ টাকা কমিয়ে দেশের বাজারে এখন ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকা। অন্য মানের রুপার দাম হলো ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    এটি চলতি বছরে দেশের বাজারে প্রথম রুপার দামের সমন্বয়। উল্লেখ্য, গত বছরে দেশের বাজারে রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে দাম বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল ৩ বার।