সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তা বাতিল করেছে এবং আগের মুনাফার হারই বহাল রেখেছে। রোববার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত মুনাফার হার, যা জানানো হয়েছিল, তা চলতি ছয় মাসেও একই রকম থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর ঘোষণা দেয়, যা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল কারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এ হারটির উপর অধিকাংশ আর্থিক ভিত্তি বানিয়ে থাকেন। পরে, রোববার অফিসের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আগের হার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর, প্রধান উপদেষ্টা থেকে সম্মতি নিয়ে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে সরকারি সঞ্চয়পত্রের চার ধরনের স্কিম রয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের জন্য আলাদা মুনাফা নির্ধারিত। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কিছুটা কমানো হয়। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। মেয়াদ শেষের আগে সঞ্চয়পত্র ভাঙালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা কমে যায়। মূল টাকা থেকে নির্দিষ্ট হারে সুদ কেটে নেওয়া হয়। পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ, যা আগে কমিয়ে ১০.৪৪ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে নতুন প্রজ্ঞাপন আবার আগের হারই ফিরিয়ে এনেছে। একইভাবে, সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের মুনাফার হার ১১.৮০ শতাংশ থেকে পরিবর্তিত না করে আগের মতোই রাখা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে, ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের হার নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি, ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় সরকার গত বৃহস্পতিবার আবারও এই হার কমানোর ঘোষণা দেয়, যা ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেনা সঞ্চয়পত্রে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মূলত, দেশের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয়পত্রের প্রধান গ্রাহক। সংগঠিত সময়ের মধ্যে তারা সঞ্চয় ভেঙে অর্থপ্রয়োজন মেটান বা মাসিক খরচ চালানোর জন্য এই উপার্জন উপর নির্ভর করেন। মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা কিছুটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। যদিও কয়েক মাস ধরেই মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, সেটি এখনও ৮-৯ শতাংশের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা উঠছে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, এই হার কমানো অপ্রয়োজনীয় এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মুনাফার হার যেন অপরিবর্তিত থাকে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বিনিয়োগ করে অর্থ সুরক্ষিত রাখতে পারে।
Month: January 2026
-

একদিনের ব্যবধানে সোনার দামে ফের বড় বৃদ্ধির ঘোষণা
বাংলাদেশের জুয়েলার্স শিল্পের অন্যতম সংগঠন, বাংলাদেশ গয়না ও জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস), আবারও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ দুই হাজার ৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে উচ্চ মানের সোনার দাম একদিকে যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্যও এটি নতুন একচেটিয়া বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ভালো মানের সোনার দাম পৌঁছে গেছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকার ওপরে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়, আর নতুন দাম কার্যকর হবে আগামী ৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার থেকে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে এ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি নামক এক বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৪৫ ডলার। এই নতুন দাম অনুযায়ী, জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি মূল্য এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত ভরির দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি মূল্য এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। এ ছাড়াও, স্বর্ণের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামেও সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার মূল্য হলো, ২১ ক্যারেটে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৪ হাজার ৮৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণের বাজারে নতুন এক বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
-

ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করছে: জ্বালানি উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে এলপিজির দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, কেউ কেউ আশাকরছিলেন এলপিজির দাম আরও বাড়বে, যা বর্তমানে বিইআরসি দ্বারা নির্ধারিত ৫৩ টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কিছু ব্যবসায়ী এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই জন্য আমরা কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছি যেন প্রতিটি জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হয় এবং এ বিষয়টি মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি, গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যের বৃদ্ধি প্রকৃতির নয়, বরং এটি একটি কারসাজির মাধ্যমে করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ-কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারা এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত, জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, মূলত খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা মিলেই এ চক্রান্ত করেছেন।
-

পাতানো নির্বাচন হলে দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাহেরের সতর্কতা
সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি অতীতে처럼 কোনো পাতানো নির্বাচন হয়, এর ফল খুবই ঘোরrə হবে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কয়েকজন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার আলোচনায় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আলোচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা অংশ নেন। তাঁরা জানান, দেশের আগের সমস্ত রাজনৈতিক সংকটের পেছনে ছিল নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার কারণ। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যদি চোখে দেখা হয় কোনো পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমেই যদি ক্ষমতা নেওয়া হয়, তাহলে দেশ আরও গভীর সংকটে পড়ে যাবে। পাশপাশি, তাহের বলেন, কয়েকদিন ধরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা মূলত সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিপূর্ণ আচরণের ফল। যদি এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। আলোচনা চলাকালীন, জামায়াতের নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সরকারের ও রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করেছেন। সার্বিকভাবে, এ আলোচনা থেকে বোঝা যায়, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে, এমন আভাস দিয়েছেন দলের নেতারা।
-

জামায়াতের অভিযোগ: ডিসি-এসপি পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেন নায়েবে আমির
জামায়াতে ইসলামীনের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি) পক্ষপাতদুষ্টভাবে নির্বাচনকাজে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন এবং এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলায় পার্থক্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় এই অফিসাররা দলীয় স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কিছু কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তারা বলছেন, এই বিষয়গুলো তারা নীতিগতভাবে দেখবেন।
তাহের অভিযোগ করেন, একটি দলের পক্ষ থেকে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যা আচরণবিধির ব্যতিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন যে, দলীয় ডিসি নিয়োগ দিয়ে এই অংশটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় সমতা ও ন্যায্যতা নেই বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে সরকার ইতিমধ্যে মত দিয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ করতে সহায়তা করবে। তবে, যদি নির্বাচন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়, তাহলে দেশের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। তিনি সতর্ক করে দেন, এমন অবস্থায় দেশের স্বার্থে সবাইকে দৃঢ় থাকতে হবে।
তাহের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে মাঠে প্রমাণ করতে হবে তাদের নির্ধারিত অযোগ্যতা বা পক্ষপাতের বিষয়গুলো। তিনি কোনো নির্দিষ্ট তালিকা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, আবার কোথাও ভুলভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন আমলে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তাঁর নিজের দলের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, এই বক্তব্য ও অভিযোগের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কর্মকর্তা পর্যায়ে পক্ষপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
-

চীন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে আসা একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সোমবার ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা কার্যকর ও ফলপ্রদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, চীন এখনো নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য কীভাবে এগোতে হবে, তা নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটি রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান এ আলোচনাটি ছিল কীভাবে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত এবং দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, এবং অতিরিক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
-

সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে: সালাউদ্দিন
বিএনপির স্তম্ভিত বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে সংগঠনগতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে দল। শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) সকাল বেলা রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা দেন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, দলের মধ্যে অনেক প্রার্থী এমন পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে তারা মনোনয়নের জন্য প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু হয়তো স্বাভাবিক কারণেই তাদের মনোনয়ন হয়নি। এর ফলে কিছু প্রার্থী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের বোঝানোর জন্য নিয়মিত আলোচনা চলছে। তিনি আশা করেন, এই সমস্যাগুলোর সমাধান শিগগিরই হয়ে যাবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিতর্কের মধ্যেও সম্ভাব্য সব প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে। বৃহত্তর দলের স্বার্থে কিছু যোগ্য প্রার্থী চোখে পড়ে থাকতে পারেন, যা দল স্বাভাবিকভাবেই বিবেচনা করছে।
তিনি আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরকালে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করার বিষয়টি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মর্যাদা আমরা অক্ষুণ্ণ রাখছি এবং আমাদের এই চেতনাকে আরও জোরদার করতে হবে। তারেক রহমান যদি শহীদদের কবর জিয়ারত করেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত করবে এবং এটি জাতির প্রত্যাশাও।
সালাউদ্দিন আহমেদ সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান বা শহীদদের ত্যাগের ইতিহাসকে যেন ভুলে না যায়। তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে তুলতে দেশের সর্বস্তরে উৎসাহ ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের এই কার্যক্রম অভ্যুত্থানকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে জাতির আশা-আকাঙ্খা আরও প্রশংসিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
-

নেতা মীর আরশাদুল এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন মীর আরশাদুল হক। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।
আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন জন্য, মীর আরশাদুল হক চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার আলোচনা চলাকালে, তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন।
-

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বীর হত্যার ঘটনায় মামলা, অজ্ঞাত আসামিরা আসামি
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্টার কাবাবের পাশের গলিতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন উত্তরের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বীর। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩-৪ জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈণ্যু মারমা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন, যেখানে অজ্ঞাত ৩-৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত মুছাব্বীরের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে। আশা করা যাচ্ছে, আজই মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার কাবাবের গলির মধ্যে। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন — তিনি হচ্ছেন কারোয়ান বাজার ভ্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সুফিয়ান মাসুদ। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
-

সরকারের এলপিজি ভ্যাট কমানোর ঘোষণা
সারাদেশে বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতির মধ্যে সরকার ঘোষণা করেছে যে, এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, এলপিজি আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনে ভ্যাট কমানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, আমদানিকৃত এলপিজির উপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট হার ৭.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, এলপি গ্যাসের অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB) এর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম কমানো এবং বাজারে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক পুনর্বিন্যাস দেশের সাধারণ জনসাধারণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে উচ্চ মূল্যের চাপ একটু হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মাঝে ব্যবসায়ীরা এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সারাদেশে সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যার কারণে ভোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। অনেক খুচরা দোকানে এখন আর সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। হোটেলগুলো বিভিন্ন উপায়ে রান্নার কাজ চালিয়ে নিচ্ছে, তবে সাধারণ বাসাবাড়ির অনেক চুলা এখন চলছে না। ফলে ভোক্তাদের একপ্রকার জিম্মিতে পড়তে হয়েছে, রোজনামচা চালানোর জন্য তারা নানা চেষ্টায় ব্যস্ত।
