ইসরায়েল এবার পূর্ব জেরুজালেমে আরও ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে মূলত প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত এই শহরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য এই বাড়িগুলো নির্মিত হবে। ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের সরকার এই নির্মাণকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছে।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নির্মাণ কাজটি পূর্ব জেরুজালেমের ই-ওয়ান এলাকায় হবে। এই এলাকার গুরুত্ব অনেকটাই কৌশলগত কারণেই, কারণ এটি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের শহর মারে আদুমিমে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক করিডোর হিসেবে কাজ করে। বসতি স্থাপনকরণে এই এলাকা আরো দৃঢ় হবে, ফলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
ইসরায়েলের ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থাটি এই টেন্ডার প্রকাশ করেছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কমপক্ষে তিন দশক ধরে পূর্ব জেরুজালেমে দখলের কাজ কিছুটা বন্ধ ছিল। তবে গ্রাউন্ডে পরিবর্তনের মাঝে গাজা যুদ্ধ এই দখলদারির ক্ষেৎ্রকে আবার উজ্জীবিত করেছে। এই বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।
ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘ এক ঘোষণা দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে—একটি ইসরায়েল, আরেকটি ফিলিস্তিন। এর মধ্যে গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।
সেই শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত—পূর্ব অংশটি পায় ফিলিস্তিনের অংশ হিসেবে পরিচিতি, আর পশ্চিম অংশটি পায় ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তারপর থেকে শহরটি ইসরায়েলের দখলেই রয়েছে।
মুআয়াদ শাবান বলেন, ‘পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিরা যেন অচিরে সংখ্যায় বৃদ্ধি না পায়, সেজন্য শহরটিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা তারা করছে। এই নতুন বসতি নির্মাণ প্রকল্প এই পরিকল্পনারই অংশ।’
অতীতে, গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল আস্তে আস্তে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করছে, যেখানে গাজার হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ দখলের এই কার্যক্রমে নতুন উত্থান ঘটিয়েছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১০ হাজারের বেশি বাড়ি নির্মাণের জন্য টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল।
Leave a Reply