Month: January 2026

  • বিএনপি র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেনি: বাবর

    বিএনপি র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেনি: বাবর

    সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় অবিচল থাকতেন। তার নির্দেশনায় আমরা র‌্যাব গঠন করেছি। তবে, বিএনপি কখনোই র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে এক ঘণ্টা বা একদিনের জন্যও ব্যবহার করেনি। শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই কথা বলেন।

    বাবর বলেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে র‌্যাবকে ব্যবহার করেছি, এটা কেউ বলতে বা প্রমাণ দেখাতে পারবে না। অন্যায় করলে বিএনপি নেতাকর্মীরাও ছাড় পেত না। তাদের মধ্যে নেত্রী খালেদা জিয়া এই সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন।

    তিনি আরও যোগ করেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার নেত্রীর মধ্যে যে গুণাবলী আমি খুঁজে পেরেছি, তা অন্য কারো মধ্যে দেখিনি। অনেক পরে তার ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আমি সেই গুণাবলী দেখতে পেয়েছি। সব মানুষ দোয়া করবেন যেন তার নেতৃত্বে জনগণের জন্য এক সুন্দর রাষ্ট্র গঠন করতে পারি।

    বাবর ব্যক্ত করেন, তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানে এসেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা নয়, ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নিয়ে এসেছেন।

    এছাড়া, বিএনপির এই নেতা বলেন, নেত্রীর সঙ্গে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং তার দেশের জন্য গভীর প্রেম দেখেছেন। স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের দিক থেকে তিনি কখনো আপস করেননি।

  • মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও উচ্চতায়: সালাহউদ্দিন

    মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও উচ্চতায়: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সফলতা কেমন হবে এই নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের এ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মানুষের অন্তরে এখনও বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের মা হিসেবে খ্যাত, মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। আজ তাঁকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাঁর জন্য সাধারণ জনগণের এক অম্লান ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছেন। যারা যেতে পারেননি তারা গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। এত বড় একটি জনসমাগমের ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ভবিষ্যতে বর্ণনা বা পরিসংখ্যান দেওয়া হতে পারে, কিন্তু এই আকাশচুম্বী সাড়া সত্যি অবর্ণনীয়।’

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশ্বাস করা হয় যে, একজন সাধারণ গৃহিণীও সারা বিশ্বের গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের জয়গান করতে পারেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে করতে নিজের জীবন, পরিবার সব কিছু উৎসর্গ করেছেন।’

    তিনি যোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্য দেশের প্রতি তার ভালবাসা, ভক্তি, এবং দেশপ্রেমের স্বভাব চিরঞ্জীব। তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, কিন্তু তিনি অর্জন করেছেন যে উচ্চতায়, যা পৃথিবীর অন্য কারো নয়।’

    সালাহউদ্দিন ভবিষ্যতের লক্ষ্য করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের צעচেষ্টা থাকবে; যে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্যই আমাদের এই পরিশ্রম। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী নয়, গণতন্ত্রের জন্য এক অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক। সবাই তাকে সেই মর্যাদার সামনে দাঁড় করিয়েছে।’

    মনের গভীর থেকে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শঙ্কা প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজকের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, তা পূরণ করতে পারবো কি না, সেটা মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আকাশের মতো বিশাল। সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সবাইকে একত্রিত রেখে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়— এই নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সামর্থ্য ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সবাইকে একত্রিত করে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ দেখা হবে কতটুকু আলোকিত বা সফল হতে পারে।’

    বিএনপির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বেগম জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে চান। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য এই শোককে টুল হিসেবে ব্যবহার করার মতো আমরা সংকীর্ণ নই। তার শোককে জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে চাই। যেহেতু তিনি এখন আর আমাদের মাঝে নেই, তাই মনোনয়ন বা প্রতীক বাছাইয়ে প্রার্থীর পরিবর্তন হবে। নির্বাচনে যেখানে ভোটদানের আগে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার প্রভাব পড়বে না।

    নির্বাচন পেছানোর কোনও আইনি সুযোগও নেই, কারণ মনোনয়ন বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর যদি সেটি হতো, তাহলে আইনী জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হতে পারত। কিন্তু এখন সেরকম পরিস্থিতি নেই, কারণ তিনি মনোনয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে মারা গেছেন। সুতরাং, তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।

    মায়ের শোকের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোবল ভেঙে পড়েছেন কি না—এ প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে, এর বিকল্প কিছু নয়।’

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে গভীর শান্তি অনুভব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও গণসংযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার এই মৃত্যু দেশের স্থিতিশীলতা স্থাপনে এক বিশাল ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি শোকপ্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোক প্রকাশ করছি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে, যখন দেশ চলমান গভীর সংকটে ভুগছে – সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় জীবন কাটাচ্ছেন, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে চলেছে – তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য এক গভীর ক্ষতি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতে নানা বিরাজনীতি ও অসংখ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও, খালেদা জিয়া নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য সফলতা অর্জন করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তার অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে তার মৃত্যু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বড় ধাক্কা বলেও তিনি মূল্যায়ন করেন।

    সবশেষে, তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ানের মৃত্যুতে রাজধানীর প্রতিটি কোলাহল যেন শোকের মাতমে পরিণত হয়। তার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউসহ আশপাশের এলাকাগুলো জনসমুদ্রের মধ্যে রূপান্তরিত হয়, যেখানে এক দিকে চোখ যায়, অন্য দিকে মানুষের ঢল। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের দেখা মেলে, যারা তার বিদায় জানাতে এসেছেন। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই এককথায় বলেছেন—আর কখনো দেশের ইতিহাসে এত বড় মুক্তির ঝড়ের মতো জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই জানাজাকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় জানাজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

    বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ানের জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৩টায় সেটা শুরু হয়। আগের দিন থেকেই মানিকমিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। জনতার বিশাল ঢল জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর রোড, ফার্মগেট ছাড়িয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং মগবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাইক থেকে উচ্চস্বরে প্রচার করা হয়, আর দর্শনার্থীরা রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ বাসায়, কেউ ফুটওভার ব্রিজে, যেখানে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়ান। এই জানাজায় অংশ নেন শুধু বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ। এর পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাথ এমনকি কাছাকাছি ভবনের ছাদগুলোতেও ব্যাপক লোক সমাবেশ ছিল।

    প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদায়ে অংশ নিতে ভোর থেকে তীব্র শীতের মধ্যেও মানুষ ছড়িয়ে পড়েন। তারা মানিকমিয়া এভিনিউ, দলের কার্যালয়, এভারকেয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। সকাল থেকে দিনভর তারাও আসতে থাকেন আর বাড়তে থাকে জনস্রোত। জানাজায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা বলেন, এই জানাজা ইতিহাসের অন্যতম বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে। শেষ বিদায় হিসেবে এত মানুষের উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়। অনেকের মুখে একটাই কথা—অতি সহজে জীবনধারায় পাওয়া যায় না এই ভাষা, এই অনুভূতি।

    বিশেষ করে ক্ষোভ-আকাশে বাতাসে, আবেগে ভরা এই আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ মোট ৩২ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ভারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পাকিস্তানের স্পিকারসহ অনেক বিদেশিপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা এই অনন্য মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভাষা বুঝতে পেরেছেন।

    খালেদা জিয়ার জানাজায় নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। জানাজার মূল আসরে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও আশপাশে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানাচ্ছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করে। দাফনের পর মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মোনাজাতে উপস্থিত ছিল হৃদয় বিদারক অনেক দৃশ্য; নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গগণবিদারী কাঁদো কাঁদো দৃশ্য পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অধ্যায় সমাপ্ত হয়, যা সবসময় স্মরণ থাকবে।

  • ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    দেশের ১৭ জেলায় এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এদিকে, সারাদেশে সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা অনেকে ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, যার ফলে কিছুটা শীতের এই পরিস্থিতি আবার অপেক্ষাকৃত প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর এসব তথ্য জানায়।

    আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃতি পশ্চিমবঙ্গ এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলসহ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে, যা উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    তিনি আরও বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    এছাড়া, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলাসহ কিছু কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সারাদিনে রাতের তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

    আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি।

    আগামীকাল (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে মধ্যরাত ও সকাল থেকে অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতির কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ অংশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, তবে নদী অববাহিকাসহ কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার পরও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে, যেখানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার প্রবণতা থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শীতল আবহাওয়া চলমান থাকবে। রাত ও সকালে নদী তলদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সাথে থাকতে থাকবে। সামগ্রিকভাবে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, এবং শীতের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

  • খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত

    খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর থেকে সাধারণ জনগণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এই সুযোগে দেশপ্রেমিক নতুন প্রজন্মসহ নানা বয়সের মানুষ সমাধিস্থলে এসে তার জন্য শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তারা ফুলের তোড়া দিয়ে প্রিয় নেত্রীর প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরীর জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হন অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা জনতারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পড়ছেন এবং কবরের পাশে এসে নীরবে মাথা নত করছেন। কেউ কেউ একসাথে কোরআন তেলাওয়াত করছেন। কিছু মানুষ কবরের পাশে বসে সূক্ষ্ম মনোভাবনায় দোয়া করছেন, আবার অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

    উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীকে নয়, বরং দেশের একজন মমতাময়ী ও প্রিয় নেত্রীকে সম্মান জানাতে এই কবর জিয়ারতে এসেছেন। কবরের পাশে কিছু মানুষ শান্তভাবে হাত তুলছেন দোয়া করছেন, কেউ বা কোরআন পড়ছেন।

    বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে বেশ সুসজ্জিতভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সীমিতসংখ্যক মানুষ কবর জিয়ারতের জন্য প্রবেশ করতে পারছেন।

    সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দীর্ঘ ভিড় দেখা গেছে। অনেক মানুষ পরিবারসহ এসেছেন, অনেকে একা দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীর জন্য দোয়া করছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সব পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতেও সাধারণ জনগণের কবর জিয়ারত অব্যাহত থাকবে। ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকায় আরও বেশি মানুষ এই পুণ্যকাজে অংশ নিতে পারবেন।

    প্রথমদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশমুখ বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ মানুষ বাইরে থেকেই দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। তবে সাড়ে ১২টার পর ধাপে ধাপে কিছু মানুষ কবরজিয়ারতের জন্য ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার মাধ্যমে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফিত হন। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল রাখমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

    দাফনের সময় বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তার দেহ শায়িত হয়। এরপর তারেক রহমান কবরের উপর মাটি ছিটিয়ে দেন। আরও উপস্থিত ছিলেন তার পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও শামিলা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, পাশাপাশি আরেক নাতি জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান।

    বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।

  • প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন

    প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই বিতরণ সম্পন্ন

    বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট বই পেয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবুল বাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, এবারের বইয়ের মান আগের তুলনায় আরও উন্নত হয়েছে। এটি একটি উল্লেখযোগ্য সফলতা যা একটি স্বর্ণালী বার্তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য। মোট ৩০ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য এই বছর ছাপানো হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপা ও বিতরণ প্রক্রিয়া শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ৬০ শতাংশ বই এখনো বিতরণের জন্য প্রস্তুত।

    ব্রিফিং এ তিনি বলেন, মূলত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পরে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এই বছর বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা পালন না করে শিক্ষার্থীদের হাতে সরাসরি বই তুলে দেয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, গত বছরও বছরের প্রথম দিন পাঠ্যবই উৎসব হয়নি।

    অন্যদিকে, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রম বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৫৯ লাখ। সব বই ছাপা, বাঁধাই ও কাটাকাটির কাজ সম্পন্ন হয়ে বিতরণের জন্য সব জেলায় পাঠানো হয়েছে। অগ্রগতির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল-ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ এবং সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫৮ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে, বছর শুরুর দিনে সমস্ত শিক্ষার্থী এখনো মাধ্যমিক স্তরের বই পেয়ে যাচ্ছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

  • রাজশাহীতে কলার হাটে ট্রাক উল্টে নিহত ৪, আহত আরো কয়েকজন

    রাজশাহীতে কলার হাটে ট্রাক উল্টে নিহত ৪, আহত আরো কয়েকজন

    রাজশাহী শহরের পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া কলার হাটের পাশবর্তী রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে একটি বালুবাহী ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা বৃহস্পতিবার সকালে সকাল ৮টার দিকে ঘটে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঝলমলিয়া কলার হাটের সামনে কুয়াশার কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তিরা সবাই কলা ব্যবসায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নিহতরা হলেন, নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম, পাইকপাড়ার আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনক প্রামানিক, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সালাইনগর গ্রামের সৈয়ম উদ্দিনের ছেলে সেন্টু এবং রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের মৃত মাহাতাব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন।

    রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তিনটির লাশ সুরতহাল শেষে প্রত্যেকের দেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    অপরদিকে, আহত একজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্স জানিয়েছে, আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলমান।

    এই দুর্ঘটনা দিয়ে কলা বাজারের গুরুত্ব ও সচেতনতার উপর মানুষের চোখ ফেরানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।