Month: December 2025

  • বিএনপি বলেছে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা আমরা করবই

    বিএনপি বলেছে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা আমরা করবই

    বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের Shীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আমাদের কাছে জীবন্ত। তিনি আরও জানান, মুক্তিযুদ্ধের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন বা শহীদ হয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছি। এই মহান অবদানকে কেউ ভুলতে পারে না এবং তা ভূলিয়ে দেওয়ার জন্য একটি চক্রান্ত চলছে; একটি দল এই ষড়যন্ত্রে জড়িত। আজকের দিনেও বিএনপি অঙ্গীকার করছে, বাংলাদেশের স্বাধীকার ও সার্বভৌমত্বকে কেউ হারাতে দেবে না। অনেকেই ৭০ এর গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করে থাকেন, কিন্তু বিএনপি স্পষ্টভাবে বলেছে যে স্বাধীনতাযুদ্ধের সাথে এইসব অভ্যুত্থানের তুলনা চলে না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট ও মাফিয়া সরকারকে পতন ঘটানো হয়েছে, যা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত। এই অবদান অস্বীকার করার কোন উপায় নেই, কারণ সেই সংগ্রামই আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম ভিত্তি। মোঃ সাইফুর রহমান মিন্টু সভাপতিত্বে রোববার দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি হয়েও বলেন, আপনারা সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। তিনি বলেন, যদি আপনি সেই সময়ে সংগ্রাম না করতেন, তাহলে আজও হয়তো আমাদের দেশ পরাধীন থাকত। একই দিন তিনি চন্দনীমহলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে জেলা বিএনপির শেক আব্দুর রশিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, সেতারা বেগম, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রশিদ, মৃণাল হালদার, মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন, মনির কমান্ডার, ইদ্রিস হাওলাদার প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাইফুর রহমান মিন্টু, মোজ্জামেল শরীফ, নাজমুল মোল্লা, মনির মোল্লা, কুদরতি এলাহি স্পিকার এবং অন্যান্য উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

  • দেশীয় দোসরদের পরিকল্পনায় বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যা

    দেশীয় দোসরদের পরিকল্পনায় বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যা

    খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেছেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও কলঙ্কিত দিন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর যখন বাংলাদেশ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে, ঠিক তখনই দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান—বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের মেধাশূন্য করা এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে ফেলা।

  • সকল ধর্মের ধর্মীয়, সামাজিক ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিএনপি সব সময় সজাগ: মঞ্জু

    সকল ধর্মের ধর্মীয়, সামাজিক ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিএনপি সব সময় সজাগ: মঞ্জু

    গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং নিজেদের মধ্যে বিভেদ না থাকে, তবে জাতীয়ভাবে যে কোনও ধরনের সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা সম্ভব। এ মন্তব্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপত্র ও ঢাকা-৮ এর সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনাটি জুলিও অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ। এই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করার জন্য সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ওসমান হাদির ওপর হামলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যার পেছনে বড় শক্তি কাজ করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনটিকে বাধা দেত্তয়া। এই হামলা গুরুত্বপূর্ণ সিম্বলিক বার্তা দেয়, তারা নিজেদের শক্তির প্রদর্শন করতে চাইছে এবং নির্বাচনসহ সব ধরনের পরিস্থিতি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই চক্রান্তগুলোকে সবমিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
    শুক্রবার সকাল ১১টায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন মঞ্জু। এরপর তিনি বিভিন্ন ব্যাংক শাখা ও প্রতিষ্ঠানেreeting সহ অারও বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শিববাড়ি মোড় এলাকার অগ্রনী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, কমার্সিয়াল ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, মিডল্যান্ড ব্যাংক ও বীমা অফিসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছোট বয়রা খ্রিস্টান পাড়ায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড় দিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো দেশ, সমাজ ও মানুষের সার্বিক কল্যাণে ভূমিকা রাখা। হিংসা-বিদ্বেষ ও সহিংসতা এড়িয়ে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধে সকলের প্রয়োজন।
    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের ধর্মীয়, সামাজিক ও নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় বিএনপি সব সময় দায়িত্বশীল। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
    এ সকল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কাজী মোঃ রাশেদ, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, আনোয়ার হোসেন এবং আরও অনেকে।

  • সাতক্ষীরায় জামায়াত নির্দেশিত নির্বাচনী প্রচারণায় পুলিশ সদস্যের গান, বরখাস্ত

    সাতক্ষীরায় জামায়াত নির্দেশিত নির্বাচনী প্রচারণায় পুলিশ সদস্যের গান, বরখাস্ত

    সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আওয়ামী সাক্ষাৎকালে পুলিশের এক সদস্যের অপ্রত্যাশিত অংশগ্রহণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত এক পুলিশ সদস্য জামায়াতের নির্বাচনি পথসভায় গাইছেন। এটি একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ছবি, যা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    ঘটনাটি মূলত ৭ ডিসেম্বরের, সাতক্ষীরা শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিয়া আমতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত এক পথসভায়। এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির মোঃ জিয়াউর রহমান সভাপতিত্ব করেন, এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মনা সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। পরিচিতি অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে পুলিশের ওই সদস্য—অধিকাংশের ধারণায় তিনি নড়াইল জেলার বাসিন্দা এবং আগে সাতক্ষীরা পুলিশের কর্মী—নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে গান গাইছিলেন।

    অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ মহিবুল্লাহ জানান, তিনি ওই সময় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গান গেয়েছিলেন কারণ তার সম্পর্কে অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই, এবং তিনি অনুষ্ঠান থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তবে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, ওই পুলিশ সদস্য বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার বাইরে কর্মরত। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মুকিত হাসান খান নিশ্চিত করেছেন যে, ছুটি নিয়ে তিনি নিজ জেলার বাড়িতেই ছিলেন এবং ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরেছেন। তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক পরে কোনও রাজনৈতিক প্রচার বা প্রচারণায় অংশ নেওয়া কঠোরভাবে নিষেধ।

    এই ঘটনা জানা মাত্রই, যশোর জেলা পুলিশের নির্দেশনায়, পুলিশ মহিবুল্লাহকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। গঠনমূলক তদন্তের জন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটির সময়ে তিনি নড়াইল থেকে সাতক্ষীরা আসেন এবং নিমেষে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন, যা পুলিশের শিষ্টাচার ও পেশাদারিত্বের তাৎপর্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • রাষ্ট্র সংস্কার: ৩১ দফার ভিত্তিতে নতুন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা

    রাষ্ট্র সংস্কার: ৩১ দফার ভিত্তিতে নতুন, আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা

    কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ধ্বংস করা হয়েছিল। এই কারণে জনগণ ভোট দিতে পারেনি এবং সরকারও তাদের ভালো-মন্দের কোনও দায়িত্ববোধ ছিল না। তিনি জানান, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন দেশের মুক্তির জন্য ৩১ দফার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, যা দেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করবে। রোববার বিকেলে নগরীর খালিশপুরে আনসার উদ্দিন সড়কে অনুষ্ঠিত এক স্থানীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা তিনি বলেন।

    বকুল আরও বলেন, “শেখ হাসিনা পালানোর আগেই আমাদের নেত্রী তারেক রহমান এই ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, স্বৈরাচারী শাসন কায়দায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়। এই দফাগুলো শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য স্পষ্ট একটি পরিকল্পনা।”

    বিগত সরকারের অনুকুলে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত দুই সরকার কালো টাকা লুটপাটে লিপ্ত ছিল এবং জনগণের ভোটাধিকারের আওতা থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল। এর ফলস্বরূপ, সরকার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সেবা পাওয়া নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চালু হবে হেলথ কার্ড, যার মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে।”

    বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিল্পায়নের পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বললেন, “প্রথম ধাপে এক কোটি যুবককে বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া হবে। খুলনাসহ দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে পুরনো কলকারখানা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পুনরায় চালু করা হবে, যাতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়।”

    তাঁরা আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনও অন্যায়-অবিচার হবে না।”

    সভায় এলাকাবাসীর প্রতি সামাজিক সচেতনতা ও মাদক মুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয় এবং প্রত্যেক মহল্লায় সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনগণ।

  • রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য নতুন উদ্যোগ

    রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর জন্য নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রবাসীদের বিদেশ থেকে পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের খরচের তথ্য সংগৃহীত করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, প্রবাসীরা বিদেশে থেকে এক্সচেঞ্জ হাউস বা অন্য কোনো মাধ্যমের মাধ্যমে যেকোনো রেমিট্যান্স পাঠালে, সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো যেন প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট বা চিত্র তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিদিনের মোট লেনদেনের তথ্য পরের দিন সকাল ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলার মাধ্যমে এ নির্দেশনা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

    সূত্র জানায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা যাতে সহজে এবং কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচের তালিকা সংগ্রহ করছে। দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ অনেক দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এই খরচগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

    বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সময় বিভিন্ন ফি এবং কর আরোপ করছে। পাশাপাশি, দেশের ব্যাংকগুলোও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ আদায় করে থাকে। এ সব কারণেই রেমিট্যান্সের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    এনিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, প্রবাসীরা যেকোনো দিন প্রতিটি রেমিট্যান্স লেনদেনের বিস্তারিত, যেমন লেনদেনের তারিখ, প্রেরক ব্যাংকের নাম, ব্যবহৃত উপকরণ, রেমিট্যান্সের পরিমাণ, রেমিট্যান্সে থাকাকালীন ভ্যাট বা কর, রেমিট্যান্সের বিনিময় হার, ফি, অন্যান্য খরচ ইত্যাদি পরবর্তী দিনের দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এর পাশাপাশি, দেশের ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য নিয়মিত আপডেট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।

    এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো যায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ স্থানান্তর করতে ব্যাংকগুলো কোনো ফি নিচ্ছে না, যা ইতিবাচক ফল পেয়েছে। তবে, বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বিভিন্ন দামে রেমিট্যান্সের বিনিময় হার নির্ধারণ করছে, এর সমতা আনতেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির ঘোষণা

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির ঘোষণা

    হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এটি বাজারের দাম সামাল দিতে ও সাধারণ ভোক্তার জন্য সহনীয় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রতিদিন কেবল ৫০টি করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রতি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। এটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্টের পর যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই আবার পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক কেবল একবারের জন্য এই আবেদন করতে পারবেন। সরকার জানিয়েছে, এই কার্যক্রম পেঁয়াজের বাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পর্যন্ত চালু থাকবে।

  • নভেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে অবশ্য মূল্যস্ফীতি কমে গিয়ে ছিল ৮.১৭ শতাংশ, তবে নভেম্বর মাসে তা আবার বৃদ্ধি পেয়ে ৮.২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় এই হার ছিল অনেক বেশি, তখন তা ছিল ১১.৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার, ৭ নভেম্বর, শহীদ অগ্নি ভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ করে।

    বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বরে খাদ্যবস্তুর মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.৩৬ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার ছিল ৯.০৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য হলো, দুই মাসের জন্যই খাদ্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি গত তিন বছর ধরে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড়ে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি ছিল।

    বিবিএস জানাচ্ছে, গত নভেম্বরে জাতীয় মজুরি গড় বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৪ শতাংশ। এর অর্থ হলো, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কিছুটা কম। তবে, এটি বোঝায় না যে জিনিসপত্রের দাম কমে গেছে; বরং অর্থনীতির অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাসে দাম বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে।

    প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বল্পদূরত্বের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে সুদের হার বৃদ্ধি, তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমানো, ও বাজারে এসব পণ্য আমদানির প্রবাহ বজায় রাখার চেষ্টা। এসব উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

  • সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, যা আগের মূল্য ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। এই পরিবর্তন আগামীকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে।এর আগে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে গিয়েছিল, তাই এই মূল্য পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোনার বিভিন্ন মানে দাম এইরকম: ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা।অন্যদিকে, এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি সংযুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন এবং মানের ভিত্তিতে এই মজুরির পরিমাণে ভিন্নতা থাকতে পারে।এছাড়াও, সোনার পাশাপাশি রুপারের দামের উপরেও বৃদ্ধি আনা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের দাম ছিল, ২২ ক্যারেটের রুপার ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪ জন

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪ জন

    দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষে যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ছিল, সেখানে জুনে সেই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫,৯৭৪টি। এরপর সেখান থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে আরও ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যোগ হয়েছে। তবে এই সময়ে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের মোট জমার পরিমাণ কমে এসেছে। রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ, ওই তিন মাসে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা হয় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকের আমানতও সামান্য বেড়েছে, জুনে যা ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, সেটি সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা হয়েছে। ফলে, এই তিন মাসে মোট আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

    কোটিপতি হিসেবে প্রবৃদ্ধি দেখানো হলে বোঝায় শুধুমাত্র ব্যক্তি হিসাবেই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনেক বেসরকারি, সরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। এছাড়াও, একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর বাবদ ধাপে ধাপে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৬৩টিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও এই সংখ্যায় আরও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০, ২০২১ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮ এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।