Month: December 2025

  • মেসির জন্য ক্ষমা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    মেসির জন্য ক্ষমা চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    লিওনেল মেসির উপস্থিতি কলকাতাবাসীর জন্য এক অপ্রত্যাশিত ও কষ্টের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। নানা ধরনের অসংগঠিত ব্যবস্থা ও পরিকল্পনার অভাবে যুবভারতী স্টেডিয়ামস্থ অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল তেমন স্বাভাবিক নয়। এই ঘটনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেসির কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে শনিবার যে অব্যবস্থাপনা দেখা গেল, তা আমি গভীরভাবে বিচলিত ও দুঃখিত। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য আমি লিওনেল মেসি, সকল ক্রীড়াপ্রেমী এবং তাঁর ভক্তদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।”

    আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মেসি যুবভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর সাথে সাথেই শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই ভিড়ে পড়ে যান জনতার দাপটে। উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার ও তারকারা, তবে তার জন্য বড় ধরনের দুর্বিপাকের পরি‌স্থিতি তৈরি হয়। ভক্তরা তাকে কাছ থেকে দেখার জন্য তাড়াহুড়ো করে। এরফলে, গ্যালারিতে উপস্থিত কিছু দর্শক মেসিকে চাক্ষুষভাবে দেখতে না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ডুগডুগি ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

    প্রসঙ্গত, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকায় কিছু সময়ের মধ্যে মেসিকে দ্রুত স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে, উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। স্টেডিয়াম থেকে বোতল ছোঁড়া হতে শুরু করে আর গ্যালারির চেয়ার ভাঙা হয়। ভাঙা চেয়ার ও বোতল মাঠের মধ্যে ছুড়ে ফেলা হয়। কিছু দর্শক আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা করে। তবে, সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    উত্তেজিত ভক্তরা একেবারে গ্যালারির সীমানা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ গোল পোস্টের জাল ছিঁড়ে ফেলেন, আবার কিছু জন সাজঘরের পথে ট্যানেলের ছাউনিও ভেঙে ফেলেন। স্টেডিয়ামের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সোফা, টেবিল ও অন্যান্য জিনিস পুড়িয়ে ফেলেন কেউ কেউ। এই পুরো ঘটনায় স্টেডিয়াম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। অনেক দর্শক স্টেডিয়াম থেকে টাক ও ফুলের টবসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে বের হন। এভাবেই বিশাল ক্ষতি হয় স্টেডিয়ামের।

  • অ্যাশিয়া কাপের মিশন শুরুতেই রেকর্ডের পর রেকর্ড করে দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশ

    অ্যাশিয়া কাপের মিশন শুরুতেই রেকর্ডের পর রেকর্ড করে দুর্দান্ত জয়ে বাংলাদেশ

    নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা বর্তমানে গর্বিত হয়ে বলছেন, ‘চ্যাম্পিয়নরা চ্যাম্পিয়নদের মতোই খেলছে’। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের তরুণ দল দুর্দান্ত কাব্যিক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দুই ওপেনারের জোড়া ফিফটিতে রেকর্ড রান তাড়া করে বাংলাদেশ victory তুলে নিয়েছে। এই ম্যাচে আজিজুল হাকিম ও তামিমের অসাধারণ ব্যাটিং নজর কেড়েছে সবাইয়ের। মহাদেশীয় কিংবা বৈশ্বিক কোনো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এই প্রথম ২৮৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড স্থাপন করল। শনিবার দুবাইয়ে আফগানিস্তান যুব দলের দেওয়া ২৮৩ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ ৩ উইকেটে, অবশিষ্ট ৭ বল রেখে জয় পেয়েছে। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান করে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে বাংলাদেশ খেলতে নামে ৪৮ ওভার ৫ বল খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান করে, অর্থাৎ জয় নিশ্চিত করে। দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে দলের দুর্দান্ত সূচনা দেন। ৪৫ বলে ফিফটি করেন জাওয়াদ, যদিও ৯৬ রানে পৌঁছানোর আগে অপসারণ হয় তিনি। অন্যদিকে, রিফাত ফিফটি করেন ৬০ বলে। সবমিলিয়ে ৬৮ বলের মধ্যে তিনি করেন ৬২ রান। তার বিদায়ের পর দল চাপে পড়ে যায়। এরপর তামিম ত্রিশের বেশি রান করে, ৪৭ রান করেন তিনি। তবে তামিমের বিদায়ের পরে দলের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত ফেরার কারণে শঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ দিকে রিজান হোসেন ও শেখ পারভেজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলের জয় নিশ্চিত করে। এই ম্যাচে আফগানদের হয়ে শিকার করেন ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ, প্রত্যেকটি দুইটি করে উইকেট। এছাড়াও ইকবাল ও সাদ ইসলাম একেকটি করে উইকেট পান। আফগানিস্তানের ওপেনার খালিদ আহমদজাই ৩ রান করে আউট হন। ওসমান সাদাত ৬৬ রানে ক্লান্ত করে তাকে ফয়সালক সঙ্গে একটি বড় জুটি formed করে। ফয়সাল ৯৪ বলে ১০৩ রান করে আউট হন। আফগানদের দিকে থেকে অন্যান্য ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে গেলে বড় পুঁজি গড়ার সংকটে পড়ে তারা। এখান থেকে আজিজউল্লাহ মিয়াখিল ও আব্দুল আজিজ দ্রুত রান তুলে ২৮৩ রানের সংগ্রহে অবদান রাখেন। মিয়াখিল ৩৮ ও আজিজ ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার আহমেদ দুইটি করে এবং সাদ ইসলাম, সামিউন বসির ও রিজান হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করেন। এশিয়া কাপের এই হ্যাটট্রিকের পথে বাংলাদেশ নতুন দু’টিই অর্জন করল। আগামী ১৫ ডিসেম্বর তারা খেলবে নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে।

  • হায়দরাবাদে মেসির জন্য বিশেষ আলাদা মুহূর্ত

    হায়দরাবাদে মেসির জন্য বিশেষ আলাদা মুহূর্ত

    ভারত সফরের প্রথম পর্যায়ে কলকাতায় ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পর এবার হায়দরাবাদে দেখা গেল এক অন্যরকম চিত্র। এ শহরে মেসির উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশটি ছিল শান্তিপূর্ণ ও মুগ্ধকর। রাজীব গান্ধি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দারুণ আয়োজন সবাইকে আকৃষ্ট করে, যেখানে দর্শকদের মধ্যে ছিল বিপুল উৎসাহ। আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি দর্শকদের চমকপ্রদ শৈল্পিক ফুটবল প্রদর্শন করেন, তার বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে সবাইকে আনন্দে ভাসিয়ে দেন। তিনি দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বার্তা দেন। মূলত ‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’ এর অংশ হিসেবে স্টেডিয়ামে পৌঁছান মেসি, যেখানে তার সঙ্গে ছিলেন ইন্টার মায়ামির সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল ও লুইস সুয়ারেস। সেখানে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ চলছিল, যেখানে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডিও কিছুক্ষণ খেলেন। এই সময় মেসি, সুয়ারেস ও ডি পল ভিওআইপি থেকে খেলা দেখেন, মাঠে নেমে দুই দলের খেলোয়াড়দের সাথে করমর্দন করেন, অটোগ্রাফ দেন এবং সবাইকে ছবি তোলার সুযোগ দেন। তিনি খেলোয়াড়দের সাথে বলও আদান-প্রদান করেন। ম্যাচ শেষে জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মেসি এবং সংক্ষিপ্ত ভাষণে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, হায়দরাবাদে থাকতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। ডি পলও এই সন্ধ্যাকে খুবই বিশেষ বলে অভিহিত করেন, এবং ভবিষ্যতে আবারও বিশ্বকাপ জিততে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের শেষে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আসরে যোগ দেন, এবং মেসি তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি ও রাহুল গান্ধিকে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের দশ নম্বর জার্সি উপহার দেন। এরপর স্টেডিয়াম থেকে বিদায় নেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।

    এর আগে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতি ঘিরে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, মাত্র ২০ মিনিট তিনি স্টেডিয়ামে ছিলেন, কিন্তু দর্শকদের এক বড় অংশ তাকে দেখতে পাননি। জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা তৈরি হলে কিছু ক্ষণের মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও খবর হলো। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের মাধ্যমে উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকেও আটক করা হয়।

    কলকাতা ও হায়দরাবাদের পর মেসির ভারতীয় সফর শেষ হওয়ার পথে রয়েছে— যেখানে শেষ হবে তার এই বিশেষ পর্ব, মুম্বাই এবং দিল্লিতে দর্শকদের সঙ্গেই তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

  • রূপসা অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    রূপসা অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত

    রূপসা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন শহিদ মনসুর স্মৃতি সংসদের আয়োজনে অনিয়মিতভাবে চলমান ৬ষ্ঠ অধ্যক্ষ খান আলমগীর কবির স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ম্যাচ রোববার বিকেলে কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এই ম্যাচে স্বাগতিক দল শহিদ মনসুর স্মৃতি সংসদ ও বটিয়াঘাটা তরুণ সংঘ মুখোমুখি হয়। প্রথমার্ধের শুরু থেকেই উভয় দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে উৎসাহী হলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে, খেলা ড্র থেকে গড়িয়ে ট্রাইব্রেকারে যেতে বাধ্য হয়। ট্রাইব্রেকারে স্বাগতিক দলের গোলরক্ষক, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বসুন্ধিয়া গ্রামের সন্তান আরিফুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে শহিদ মনসুর স্মৃতি সংসদ ৩-০ গোলে বটিয়াঘাটা তরুণ সংঘকে পরাজিত করে। এর মাধ্যমে তারা প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই আসরটি স্পন্সর করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মা জাহেদা জান্নাত ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রীড়া সংগঠক এইচ এম মাসুদুল ইসলাম। খেলায় বিশেষ পারদর্শিতার জন্য বিজয়ী দলের ৮ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় আনিস “ম্যান অব দ্য ম্যাচ” নির্বাচিত হন। খেলাটি পরিচালনা করেন রেফারি সুমন রাজু, আজিজুর রহমান ও আলী আকবর। কোয়ার্টার ফাইনাল উদ্বোধন করেন ক্রীড়া সংগঠক ও দৈনিক সময়ের খবর এর সম্পাদক তরিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ অধ্যাপক আহমেদুল কবির চাইনিজ। টুর্নামেন্টের আয়োজক মাফতুন আহমেদ রাজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম কামরুজ্জামান টুকু, ক্রীড়া সংগঠক ও মা জাহেদা জান্নাত ফাউন্ডেশনের সভাপতি এইচ এম মাসুদুল ইসলাম, পাশাপাশি অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। একাধিক রাজনৈতিক ও ক্রীড়া নেতা, সাংবাদিক ও সংগঠকের উপস্থিতিতে এই ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

  • মেসিকে ভারতে আনার প্রহসন: শতদ্রু দত্ত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে

    মেসিকে ভারতে আনার প্রহসন: শতদ্রু দত্ত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে

    আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির বাংলায় আগমনের খবরে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে ব্যাপক উন্মাদনা ছিল। এদিনের অনুষ্ঠানে মেসিকে আনতে কলকাতায় এসেছিলেন মূল পরিকল্পনাকারী শতদ্রু দত্ত। তবে নিষ্ঠুর অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে তিনি তার পরিকল্পনা শেষ হতে পারেনি। অনুষ্ঠানের দিনই সিআইএসএফ ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শতদ্রু। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) তাকে বিধাননগর মহাকুমা আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আদালতে হাজিরের সময়ই বিজেপির কর্মীরাই বিক্ষোভ দেখায়, যারা শতদ্রুর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে শুরু করে।

  • থাইল্যান্ডে কারফিউ জারি

    থাইল্যান্ডে কারফিউ জারি

    দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশে সম্প্রতি কারফিউ ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ড। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত সীমান্ত অঞ্চল কুরা, কোহ কং এবং অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের কারণে। খবর রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এই সংঘর্ষের সূত্রপাত গত সপ্তাহে এবং এর ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা একটি সেতু ধ্বংস করেছে কারণ দাবি করে যে, কম্বোডিয়া ওই সেতু ব্যবহার করে ভারী অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। অন্য দিকে, কম্বোডিয়া অভিযোগ করে, থাইল্যান্ড বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।

    কারফিউটি নতুন করে কার্যকর করা হচ্ছে কোহ কং প্রদেশের পাঁচটি জেলায়। তবে পর্যটন কেন্দ্র অর্থাৎ কোহ চ্যাং ও কোহ কুড এই কারফিউর আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়াও, আগে থেকেই ত্রাত প্রদেশে কারফিউ চলছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে।

    গত সোমবার থেকে এই সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। একদিকে, এই সীমান্তে ভারী অস্ত্রের গোলাবারুদ ব্যবহৃত হয়েছে, যা আগস্টের পর সবচেয়ে তীব্র লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেদিন দুই দেশের সেনারা একে অন্যের মোকাবেলায় কঠোর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল।

    উল্লেখ্য, জুলাই মাসে পাঁচ দিনের এই সংঘর্ষে মে’মাসে শান্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

    একই সময়ে, গত শুক্রবার ট্রাম্প থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চান্ভিরাকুল এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তারা সব ধরনের গোলাগুলি বন্ধের বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে, শনিবার অনুতিন ঘোষণা দেন, ‘আমাদের ভূমি ও জনগণের প্রতি হুমকি এখনও বিদ্যমান থাকায় লড়াই বন্ধ হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এই মুহূর্তে চলমান সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  • অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি সমুদ্র সৈকতে হামলায় অন্তত ১০ নিহত

    অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি সমুদ্র সৈকতে হামলায় অন্তত ১০ নিহত

    অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতেও ভয়ঙ্কর এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যার দিকে এলোপাতাড়ি গুলির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    দেশটির পুলিশ একথা জানিয়ে বলেছে, বন্ডি সমুদ্র সৈকতের এই ঘটনাতে নিহতের মধ্যে একজন হামলাকারীও রয়েছেন, বাকি সবাই সাধারণ মানুষ। আহতদের সংখ্যা ১২ জনের বেশি। আপাতত তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে, এর মধ্যে অনেকই গুরুতর। গুলির পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানো বেশকিছু পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক করা হয়েছে একজন হামলাকারীকে।

    নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্স বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, গোলাগুলির পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৩ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনা দেখিয়ে বলেছেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’

    এবিসি নিউজের প্রচারিত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রক্তাক্ত বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে। দেশের জনপ্রিয় এই সমুদ্রসৈকতে ঘটনার সময় অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা হ্যারি উইলসন বলেন, ‘আমি অন্তত ১০ জনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছি, চারদিকে রক্তের দাগ ছড়িয়ে রয়েছে।’

    উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী হামলার এই ঘটনায় বিশ্বে শোকের ছায়া পতিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নেতারা এর নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শাস্তির দাবি করেছেন। همچنین, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, হনুকা উৎসবের প্রথম মোমবাতি জ্বালানোর জন্য সমুদ্র সৈকতে যাওয়া ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর এই জঘন্য হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি সমুদ্র সৈকত বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং দর্শনীয় পর্যটক কেন্দ্র। সাধারণত গরমের সময় রাতে এটি হাজার হাজার পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। এই ঘটনার পর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    সূত্র: এবিসি নিউজ, রয়টার্স।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

    অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করলো ভারত

    ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয় এবং সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে ভারতের উদ্বেগও প্রকাশিত হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার দুপুরে একটি বিবৃতি দিয়ে এই দাবিগুলোর স্পষ্টতই প্রত্যাখ্যান করে। তারা জানায়, ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস নোটের বক্তব্যগুলো পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। ভারতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত সবসময়ই বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য সমর্থন দেয়। তারা উল্লেখ করে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো অপতৎপরতা চালানোর জন্য ভারত তার ভূমি ব্যবহার করবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করে, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

  • সুদানে শান্তি কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অভিযোগ ও সতর্কতা, জাতিসংঘের বিবৃতি

    সুদানে শান্তি কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অভিযোগ ও সতর্কতা, জাতিসংঘের বিবৃতি

    সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর ভয়াবহ ড্রোন হামলায় বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় বিশ্ব মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই হামলা সম্পূর্ণ অসাংবাদিকতা এবং এটি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে।

  • ভারত জানিয়েছে ৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব

    ভারত জানিয়েছে ৩৬ বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব

    ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় দেশে নতুনভাবে ৩৬ জন বাংলাদেশিকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ওড়িশা রাজ্যে ৩৫ জন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নতুন নাগরিকদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেন স্থানীয় সরকার নেতারা। এসময় ওড়িশা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, সিএএ আইনটি মূলত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের জন্য এক নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের প্রতীক। সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, ২০১৯ সালে প্রণীত এই আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আগত ৩৫ জন অভিবাসীকে গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়। এর ফলে ওড়িশায় এই আইনের আওতায় নাগরিকত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫১ জনে। বর্তমানে রাজ্যটিতে আরও প্রায় ১ হাজার ১০০ আবেদনপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ওড়িশার জনশুমারি দপ্তর জানায়, সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনের সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুসারে, বাংলাদেশের, পাকিস্তানের ও আফগানিস্তানের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার অমুসলিমরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করলে তাদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই নিয়ম অনুসারে, ওড়িশায় নতুন করে আরও অনেকের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে, একই আইনের আওতায় প্রথমবারের মতো আসামে এক বাংলাদেশি নারী ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন। শিলচরের সাবেক ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য ও আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার সময় তার সঙ্গে একটি যুবকের পরিচয় হয়। পরে তাদের বিবাহ হয় এবং তিনি ভারতের বলেই বসবাস শুরু করেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। যদিও তার পরিবার এখনো বাংলাদেশের চট্টগ্রামে থাকে, নারীর দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহ ছিল। অবশেষে, সিএএর বিধি কার্যকর হওয়ার পর তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। ধর্মানন্দ দেব আরো বলেন, নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ৫(১)(সি) ও ৬বি ধারার অধীনে নিবন্ধনের মাধ্যমে তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে বিবাহ করে এবং সাত বছর ধরে ভারতে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।