Month: December 2025

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমিত আমদানির অনুমতি দিল

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার সীমিত আমদানির অনুমতি দিল

    বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম হু হু করে steigen হওয়ায় সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই চালিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে প্রতিদিন ৫০টি করে আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) ইস্যু করা হবে, যার মধ্যে প্রতিটি আইপির পরিমাণ সর্বাধিক ৩০ টন পেঁয়াজ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবলমাত্র নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই এই সুযোগ পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে জোড় দিয়ে বলা হয়, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অস্থিরতা বন্ধ করতে পাকিস্তানসহ অন্যান্য উপায় না নিয়ে শুধুমাত্র এই সীমিত আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দর চরম উঠানামা শুরু করে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এর দাম প্রায় ৪০ টাকার মতো বৃদ্ধি পায়, যার ফলে প্রতি কেজিতে দর উঠে যায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এরপর সরকারের অনুমোদনে আমদানি কার্যক্রম শুরু হলে দর কিছুটা কমতে থাকে, ধীরে ধীরে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় নামে। গত সপ্তাহে সরকার জানিয়েছিল, দেশের মজুতের পরিমাণ যথেষ্ট আছে এবং নতুন পেঁয়াজ আগামী শিগগিরই বাজারে আসবে। এ কারণে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

    তবে এই পদক্ষেপের সুযোগ নিয়ে মজুতদার বা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে বাজারে আবারো দাম হঠাৎ করে চড়ে গেছে। বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২0 টাকার মধ্যে। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ টাকা।

    অপরদিকে, টিসিবির তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এখনও ১০ শতাংশ কম দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এসেছে, যার দাম এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

    ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আমদানির অনুমোদন না দেওয়ার খবরের ফলে দর বেড়ে গেছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দামের এই বৃদ্ধি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।

    আগে ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম না কমলে সরকারের পক্ষ থেকে আবারো আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাজারে নজর রাখছি। দেশের পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবে যদি এই সময়ে দাম কমে না, তবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেছিলেন, ‘বর্তমানে সরকারের হাতে ২৮শ’ আবেদন রয়েছে পেঁয়াজের আমদানি জন্য। এর একদশতমাংশ অনুমোদন দিলেই বাজারে অনেক বেশি পেঁয়াজ চলে আসবে। তবে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকার মনিটরিং করছে।’

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই হার সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, এবং গত বছরের নভেম্বরে তা ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আজ রোববার, ৭ নভেম্বর, নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যেখানে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, চলতি মাসে কিছুটা দাম বৃদ্ধি হলেও দু’মাস ধরে মূলত খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

    গত তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। সরকারের বাইরে থেকে নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যেমন—আন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে সুদের হার বাড়ানো, এনবিআর বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমে শুল্ক-কর কমানো এবং বাজারে আমদানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া।

    বিশ্লেষকরা বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম পুরোপুরি কমে গেছে—এটা নয়, বরং এর অর্থ ভিন্ন মাসের তুলনায় সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমে থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নানা উদ্যোগ অব্যাহত আছে।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী আরও ৭৩৪ গ্রাহক বেড়েছে

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী আরও ৭৩৪ গ্রাহক বেড়েছে

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি হিসাবধারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে যেখানে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১২১,৩৬২টি, সেখানে জুন মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১২৭,৩৩৬টিতে। আর পরে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১২৮,৭০টিতে পৌঁছায়। অর্থাৎ, এই তিন মাসে মোট ৭৩৪টি নতুন কোটিপতি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।

    তবে, কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও ব্যাংকগুলোর জমা টাকা কমে গেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯.৯৬ ট্রিলিয়ন টাকা, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমে দাঁড়িয়েছে ২০.৩১ ট্রিলিয়ন টাকা। এ সময়ে সরকারের শেয়ারও বাড়ছে, তবে জমা টাকার পরিমাণ কমে গেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকায়।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংকগুলোতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি। যেখানে নতুন করে খোলা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৪টি।

    কোটিপতি হিসাবের বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোটিপতি হিসেবে গণ্য হয় এমন অ্যাকাউন্ট শুধুমাত্র ব্যক্তিদের নয়, পাশাপাশি বেসরকারি, সরকারি ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যাও অন্তর্ভুক্ত। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকাও সম্ভব।শুধু ব্যক্তিগত হিসাব নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমা রেখেও কোটিপতি হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ১৯৭২ সালে মাত্র ৫টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ছিল। এরপর ১৯৭৫ সালে এগুলি বেড়ে হয় ৪৭টি, ১৯৮০ সালে ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে দেড় হাজারের বেশি অর্থাৎ ২,০৫৯টি অ্যাকাউন্ট। ২০০১ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮৮৭৭টি, এবং ২০০৮ সালে তা পৌঁছায় ১৯ হাজার ১৬৩টিতে।

    আশ্চর্যজনকভাবে, গত কয়েক বছরেও এ সংখ্যায় বৃদ্ধি হচ্ছে। ২০২০ সালে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩,৮৯০টি। ২০২১ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে সংখ্যা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।

  • সোনার দাম ভরিতে বদল, বর্ধিত ৩৪৫৩ টাকা

    সোনার দাম ভরিতে বদল, বর্ধিত ৩৪৫৩ টাকা

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা।

    আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে বাজুস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করে, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমেছে, ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা।

    অতিরিক্ত, এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রির মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস প্রতিষ্ঠিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, মানভেদ এবং নির্মাণের ধরন অনুযায়ী মজুরিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

    এছাড়া, সোনার দামের সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা।

    অতিরিক্ত, এর আগে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ছিল ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে রুপার মূল্য ছিল ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৪ কোটি ডলার কিনলো

    চলতি ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) যথেষ্ট হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই আয় বাড়ার ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি সমঝাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার (গতকাল, সোমবার) ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ১৪ কোটি ডলারের ডলারের বিক্রয় করেছে। এই ক্রয় মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এই মাসে এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮০৪ মিলিয়ন বা ২.৮ বিলিয়ন ডলার ডলার ক্রয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম দশ দিনের মধ্যে দেশের রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১২৯ কোটি ডলার। এর বিপরীতে, গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এভাবে এই বছর রেমিট্যান্সে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে।
    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২২৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ শতাংশ।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি এই রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল ও স্বস্তিতে রয়েছে।
    এদিকে, নভেম্বর মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতিতে এই রেমিট্যান্সের অবদান ব্যাপক এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন।

  • তারেক রহমানের ভাষণে বদলে গেছে চেহারা, বদলায়নি চরিত্র

    তারেক রহমানের ভাষণে বদলে গেছে চেহারা, বদলায়নি চরিত্র

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি এখনও সক্রিয়। এ মানসিকতা আর ষড়যন্ত্রের রঙ-চেহারা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যে পাল্টে গেলেও, তাদের চরিত্র বা মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। सोमবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্টানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় দিন দেশের ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই এই দিনে উদযাপন ও গৌরবের অনুভূতি বজায় থাকবে। তবে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সাগরের বুকে ভেসে ওঠা কোন ভূখণ্ড নয়। লাখো মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ ও মায়েরা-নারীদের সম্মানচরমে তার বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত। এই ইতিহাসে নির্মিত বিভিন্ন গল্প, কবিতা রচিত হয়েছে দেশপ্রেমের স্বৈরাচারী ও মুক্তিযুদ্ধের ভক্ত-ভক্তাদের স্মৃতি ও গৌরবের জন্য। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্রীয় বিশদ লেখনী, যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধ, আমাদের জন্য এক অনন্য দলিল।

    তারেক রহমান বলেন, একটি পতিত দলীয় স্বার্থে স্বাধীনতার মূল ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি হীন মহল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অপব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে এ চক্র। তবে আমাদের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয়, যতই ষড়যন্ত্র হোক, আমরা এই সত্য উদঘাটন ও রক্ষা করবো।

    বিএনপি প্রধান আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হবে এই বিজয় দিবসের মূল অঙ্গীকার। তিনি মনে করেন, যতদিন পর্যন্ত জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত হবে না, ততদিন এই দেশের স্বাধিকার স্থায়ী হবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে বারবার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ইতিহাসই এই সত্যের প্রমাণ দেয়। জনগণ ক্ষমতাহীন থাকলে, রাষ্ট্রযন্ত্র শক্তিশালী হয় না।

    ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সত্যিকার গণতন্ত্রের জন্য দরকার হয়, জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন নিশ্চিত করা। বিএনপি সবসময় বলেছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় অপরিহার্য।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে ওশিক্ষা হয়ে অনেক চক্র দেশের নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চেয়েছে। তবে, সব বাধা উপেক্ষা করে, দেড় দশক পর নির্বাচন কমিশন সামান্যই সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে ষড়যন্ত্রের কিছু অংশ এখনো থেমে নেই। ওসমান হাদির বিরুদ্ধে গুলি চালানোর মতো ঘটনাও এরই অংশ। এর পিছনের মূল কারণ ও পারিপার্শ্বিক প্রশ্নগুলোতে গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের হাতে প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পাবে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে, তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিশ্বাস্যভাবে দেখতে চাইলে, বা নির্বাচন ছাড়াই থাকলে কারা লাভবান হবে? ভোট ছাড়া দেশ এগোতে পারবে না। ফলে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলে ষড়যন্ত্রকারীর চেহারা জানা যাবে। তিনি বলেন, যারা অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মোকাবেলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।

    তিনি বলছেন, যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছে, তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধীরস্থিরভাবে এগিয়ে গেলে, ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটে যেতে বাধ্য হবে।

    তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস proves, ১৯৭১, ১৯৭৫, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, সবই জনগণের ঐক্যবদ্ধতাই বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব কিছু করবেন। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন, জনগণের সমর্থন আদায় করবেন—এ বিশ্বাস তার।

    নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন হবে শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, এটি দেশের স্বার্থ, ভবিষ্যতপ্রজন্মের স্বপ্ন, আশা, স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

    অবশেষে, তিনি সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মহান বিজয় দিবসের এই গৌরবজনক দিন উপলক্ষে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করে যাব। আগামী নির্বাচনেও জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন তিনি।

  • মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো উঠে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করছে

    মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো উঠে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। তিনি বলেন, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে থাকত, আজও তারা তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াইকারী মানুষ সব বাধা অতিক্রম করে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে, ইনশ আল্লাহ।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয় দিবস পালনের সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে উৎসর্গিত এই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি তিনি স্বাধীনতার ঘোষক এর ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিন তিনি শপথ নেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে কোনো ছাড় হবে না।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মহান বিজয় দিবসে দলের সকল নেতা-কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের প্রতীকে থাকা দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা জন্য তিনি প্রার্থনা করেন।

    তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরবেন। সেই প্রত্যাশায় তিনি দেশের গণতন্ত্রের চেতনায় আরও শক্তি যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানের সময় নেতৃত্বরা শহীদদের জন্য প্রার্থনা ও বিশেষ দোয়া করেন এবং জিয়াউর রহমানের কবরে মাল্যদান সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিজয় দিবসের এই সময়ে চারপাশে নেতাকর্মীরা জাতীয় স্লোগান দিয়ে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেন। সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধেও পুষ্পমাল্য গ্রহণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি মূল্যায়ন জানানো হয়।

  • আ.লীগ ছিয়ানব্বই সালে ক্ষমতায় আসার আগে ক্ষমা চেয়েছিল ‘আমরা ভালো হয়ে গেছি’ মানে

    আ.লীগ ছিয়ানব্বই সালে ক্ষমতায় আসার আগে ক্ষমা চেয়েছিল ‘আমরা ভালো হয়ে গেছি’ মানে

    আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতায় এসে একের পর এক bloedাশ এবং গণহত্যা ঘটানোর পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি লাশ উপহার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে, তারা হাতজোড় করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন—বলেছিলেন, “অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যে অন্যায় আচরণ করেছে, যে জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে মাফ চাই। একটিবারের জন্য আমাদের ক্ষমতা দিন, আমরা ভালো হয়ে গেছি। এখন দেশের জন্য কিছু ভালো করতে চাই।” সেই সময় হাতে তসবিহ ও মাথায় ঘোমটা ছিল।’ আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে এক যুব ম্যারাথন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ ভুল বোধ করেছিল যে, তাদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আসল পর্যায়ে তারা বুঝতে পারেননি, যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, নিজের রূপ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। তা ছাড়া, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে বক্তৃতা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেছেন, “চট্টগ্রামের নেতাদের তিরস্কার করে, এক হত্যাকাণ্ডের পর বলেছিলেন—তোমরা কি হাতে চুরি পড়ে বসে আছো? যদি আমার দলের একজনকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার বদলে দশজন লাশ ফেলা হবে।” এই ছিল একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন হুঙ্কার ও উন্মাদনা। তখন বিভিন্ন খালে, বিল, নদী, জঙ্গলে, বাজারে, মাঠে একের পর এক মানুষের কাটা লাশ পাওয়া যেতে শুরু করেছিল।

    জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যার পরিণতি মানুষ স্বচক্ষে দেখেছে। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, আওয়ামী লীগ এই দুঃখের সময় থেকে শিখবে। কিন্তু তাদের প্রতিচ্ছবি তখনও একই রকম ছিল। এবছর তারা আবার ১৯৯৬ সালে মাথা হেঁট করে, হাতে তসবিহ নিয়ে ক্ষমা চেয়েছিল। সেই বছর ১০ জানুয়ারিতে তারা আবার ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই তিনটি সময়ে বাংলাদেশের যেখানে রয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের হাতে মানুষের জীবন হারিয়েছে, যেখানে মা-বোনের সম্মান লুট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সকল ক্ষেত্রেই তাদের দাগ পড়েছে। নোয়াখালীর মত এক জেলা যেখানে একাত্তরে এক নারীকে আওয়ামী লীগ বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছিল, একটি জাতীয় আঘাত।

    একাত্তরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল, বাংলার ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের স্বপ্ন ছিল, দেশের সব বৈষম্য দূর হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মর্যাদার স্থান হবে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠী সেই স্বপ্ন বিনষ্ট করেছিল।

    বলে তারাও বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি রক্ষীবাহিনী গঠন করেছে। মায়ের ইজ্জত লুট করা হয়েছে। মন্ত্রীর ছেলেরা ব্যাংক ডাকাতিতে লিপ্ত হয়েছে, ৭৪ সালে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষে শত শত মানুষ মরেছে, মাঠ-ঘাটে লাশ পড়ে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেছে, বাংলাকে সোনার বাংলা করে গড়ব বলে, কিন্তু এদেশ শ্মশানে পরিণত হয়েছে। তাদের কার্যক্রমের ফলাফল এখন সব পরিষ্কার।

    যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতের ভ্রান্ত রাজনীতিকে বিসর্জন দিয়ে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড়াতে হবে। সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, এমন রাজনীতি করতে হবে যা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে রাখে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজ, ধর্ষক ও মামলাবাজের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য সংগ্রাম করতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা শুধু দলের জয় চাই না, পুরো ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। এই বিজয়ের জন্য যারা বাধা দেবে, যুব সমাজ তাদের লাঠি দিয়ে সরিয়ে দেবে।

    নির্বাচন কমিশনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোক্রমেই কমিশনের জন্য মোক্ষম সুবিধা চাই না। কিন্তু যদি কেউ অন্ধভাবে পক্ষপাতিত্ব করে, তা মাথা নিচু করে গ্রহণ করব না। আমরা চাই, কমিশন তাদের শপথের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে।’

  • নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা একত্রিত আছি

    নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা একত্রিত আছি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ৫৪ বছর ধরে বারবার জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তরের দালাল এবং চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণ ও সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামীতে সঠিকভাবে মুক্তি ও উন্নতি অর্জন করা। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর), মহান বিজয় দিবসের সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের নেতা সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ আরও অনেকে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়। তখন দেশের সাধারণ মানুষ সম্মান, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিল। এই ভূখণ্ডের মানুষ যুগ যুগ ধরে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে আসছে। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আজকের এই স্বাধীনতা অর্জিত। আমরা আজ তাদের স্মরণ করি, যারা দেশের জন্য জীবন খেটেছে, শহীদ হয়েছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আত্মোৎসर्ग করেছে।’

    এছাড়াও তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই, তাদের আত্মত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞ। তবে, স্বাধীনতা পেয়েও দীর্ঘ ৫৪ বছরেও আমরা দেখেছি, দেশের সার্বভৌমত্ব ও রূপান্তরিত আদর্শ বাস্তবায়নে বারেবারে প্রতারণার শিকার হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি, বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কাÐেম হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জনগণের বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দীর্ঘ সংগ্রামের উদ্দেশ্য হলো, অতীতের মতো ভবিষ্যৎেও আমাদের একটি উন্নত, সমবায় ও সত্যিকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আমাদের বার্তা হলো, যারা বিভিন্ন শক্তি দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায়, তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের চাহিদা হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে হবে। বরং আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের মধ্যে কাজ করতে হবে। করোনা ও অন্যান্য সংকটকালীন সময়ে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই রাখতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়।’

    ভবিষ্যতের নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি গণভোট। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা হবে, দেশের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া, সংস্কার ও পরিবর্তন আনা। এনসিপির প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত।’

    অবশেষে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আমরা সরকারের রাজনীতি ও সমাজের উন্নয়ন জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাব, কখনোই পুরোনো অতীতের জায়গায় ফিরে যাব না। আমাদের লক্ষ্য, একটি শান্তিপূর্ণ, সমবায়, উন্নত এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। জনগণের ঐক্য এই লক্ষ্যে আমাদের শক্তি। আমরা একত্রে এগিয়ে যাব, ’৭১ এর দালালদের বিরুদ্ধে ও ’২৪ এর দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সামনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।’

  • ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নাহিদ

    ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নাহিদ

    বর্তমান নির্বাচন গণপ্রতিনিধিত্ব কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্নচিহ্ন, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই ইসি এর সম্পূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়; এটি এক পরিকল্পিত হামলা। যদি নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য এ ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে তার পদে থাকার নৈতিক অধিকার বা যোগ্যতা নেই। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি দ্রুত এই মন্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানান। সোমবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশের জন্য কেউ বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্দেশে আসেননি। আমরা এখানে এসেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী হিসেবে। বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত, এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির নৈতিক অধিকার নেই। তার পদত্যাগের দাবি সমগ্র বিক্ষুব্ধ জনতার পক্ষ থেকে উচ্চারিত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা হলো আরও intensified, শহীদ পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানি বেড়েছে এবং মামলা-আটকের রাজনীতি চলমান। অথচ এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য আস্তে আস্তে হয় না, আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টারা সেই দায়িত্বে থেকে যান।’

    নাহিদ বাতলে দেন, ‘গত ১৬ বছরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিরোধীদল দমন ও নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই দক্ষতা একেবারে হাবুডুবু খেয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা খুনিদের সীমান্ত পাটিয়ে দিতে পারে, ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের গ্রেফতারকাজ সম্পন্ন হয় না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাই নয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিপ স্টেটের অংশ হিসেবেও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা গভীর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।

    বিজয় দিবসের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর শুধু বিজয়ের নয়, সেটি হলো প্রতিরোধের সূচনা, যেটা ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস থেকে শুরু হয়ে আজও চলমান। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ প্রতিরোধের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, বিজয় দিবসে উৎসবের পরিবর্তে, আমাদের প্রতিরোধের কর্মসূচি পালন করতে হবে।

    নাহিদ জানান, ‘ঢাকা শহরের রাজপথে ভারতীয় হস্তক্ষেপ ও বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বৃহৎ প্রতিরোধ র‌্যালি আয়োজন হবে। যদি ভারত মনে করে, ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশকে না জানিয়া-শোনা করে ধর্মরাজনীতি বা হস্তক্ষেপ চালাতে চায়, তাহলে তারা ভুল বুঝে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সম্মান ও বজায় রাখতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হাদির গুলি লাগার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; এটি বাংলাদেশের গৌরবময় বিপ্লবের ওপর আঘাত। বাংলাদেশের যতবারই এই ধরনের আঘাত আসে, তরুণরা রাজপথে নেমে সেই প্রতিরোধের আন্দোলন চালিয়ে যায়। আজ আমরা শহীদ মিনারে একত্রিত হয়েছি, সেই তরুণ প্রজন্মের শহীদ স্মৃতি স্মরণে।’

    অবশেষে নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত থাকবে। তবে যারা জুলাই বিপ্লবকে টার্গেট করে মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইননৈতিক মহলে মুজিববাদী রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’