Month: October 2025

  • শিক্ষা ভবনের সামনে ৭ কলেজ ছাত্রের বিক্ষোভ এবং সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড

    শিক্ষা ভবনের সামনে ৭ কলেজ ছাত্রের বিক্ষোভ এবং সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড

    শিক্ষার্থীরা দ্রুত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ চূড়ান্ত করে অস্থায়ী অধ্যাদেশ জারির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যে সকালে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেন, ফলে সচিবালয় অভিমুখী প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অগ্রসর বাধা দিতে পুলিশ সেখানে ব্যারিকেড বসায়।

    সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসে শিক্ষাবিষয়ক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন— যেমন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ।

    অভ্যুত্থানের কারণে সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এবং শিক্ষার্থীরা যাতে সচিবালয় অভিমুখী পথে প্রবেশ করতে না পারে, সেই জন্য পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। এতে নারী শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দেন— যেমন ‘অধ্যাদেশ নিয়ে টালবাহানা চলছে, না চলবে’, ‘রক্তে আগুন জ্বলছে’, ‘শিক্ষা বাণিজ্য চলবে না’।

    শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জিসান বলেন, সরকার সাত কলেজকে একত্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছে, কিন্তু এখনও আইন প্রকাশ হয়নি। তিনি আরও জানান, তারা আজই অধ্যাদেশ চান, অন্যথায় কঠোর আন্দোলন চালানো হবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার ঘোষণা দেয় যে, সাতটি প্রাচীন সরকারি কলেজকে পৃথক করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে। শিক্ষাব⟩দ্য সরকারি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউজিসি তার জন্য ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামের প্রস্তাব করে। এ কলেজগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ।

  • ২০২৫ সালে হজে নিবন্ধন শেষ হয়েছে ৪৩,৩৭৪ জনের

    ২০২৫ সালে হজে নিবন্ধন শেষ হয়েছে ৪৩,৩৭৪ জনের

    ২০২৫ সালের হজে অংশ নেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ হাজার ৩৭৪ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। রোববার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টায় এই নিবন্ধনের শেষ মুহূর্তে উপস্থিত হয়। তবে এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশের বেশি হজযাত্রী এখনও নিবন্ধন করেননি, যা পরিস্থিতি একটু উদ্বেগজনক। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবন্ধনের সময় আরো বাড়ানো হবে কি না, তা সোমবার (১৩ অক্টোবর) জানানো হবে।

    এদিকে, হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) মিনতিবদ্ধ হয়েছে এই সময়সীমা আরও বাড়ানোর জন্য, যা আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত করা যেতে পারে।

    সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন মোট ৪৩ হাজার ৩৭৪ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৬৬৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৯ হাজার ৭৭১ জন নিবন্ধন করেছেন।

    এই বছর বাংলাদেশের হজের কোটা নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের। এই পরিমাণের তুলনায় এখনও অনেক হজযাত্রী নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত।

    চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে, আগামী বছর ২৬ মে সৌদি আরবে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

  • প্রতিটি চার নারীর মধ্যে তিনজনই সহিংসতার শিকার: স্বাস্থ্য ও সামাজিক জরিপ

    প্রতিটি চার নারীর মধ্যে তিনজনই সহিংসতার শিকার: স্বাস্থ্য ও সামাজিক জরিপ

    বাংলাদেশে প্রতি চারজন নারীর মধ্যে তিনজনই জীবনের কোনো এক সময় সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। এই সহিংসতার মধ্যে রয়েছে শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা আজ সোমবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’ প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই জরিপে সহযোগিতা করেছিল জাতিসংঘ তহবিল ইউএনএফপিএ।

    জরিপের ফলাফল বলছে, ৭৬ শতাংশ নারী গত জীবনে অন্তত একবার তাদের জীবনসঙ্গী বা স্বামী দ্বারা শারীরিক, যৌন, মানসিক বা অর্থনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ, গত এক বছরে এই ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই কখনোই তা প্রকাশ করেননি।

    বিবিএস এর মতে, এই জরিপে জাতিসংঘের নির্ধারিত সহিংসতার ধরনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক আচরণসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, ১৫ বছর বয়সের পর ১৫ শতাংশ নারী নন-পার্টনার বা স্বামী ব্যতীত অন্য কারও দ্বারা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং ২.২ শতাংশ নারী নন-পার্টনার দ্বারা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

    অবশ্য, জরিপ বলছে যে, ২০১৫ সালের তুলনায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেছে—তখন স্বামী দ্বারা সহিংসতার হার ছিল ৬৬ শতাংশ, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। তবে, এই সব ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির পরও দেখা যায় যে, নারীরা চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিতে দ্বিধা করেন। সমাজের بعض রীতিনীতি ও মানসিক চাপের কারণে অনেক নারী নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সংকটে থাকেন, আর এই কারণেই তারা অনেক সময় মুখ বন্ধ রেখেছেন।

    জরিপের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানায়, জীবদ্দশায় প্রায় অর্ধেকের বেশি নারী (৫৪ শতাংশ) স্বামী বা জীবনসঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই রিপোর্টটি স্পষ্ট করে দেয়, নারীর জীবন থেকে সহিংসতা এখনও এক বিশাল সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান, যা সমাধানের জন্য সামাজিক ও আইনী ব্যবস্থা আরও কঠোর ও কার্যকর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

  • ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম সাময়িক বরখাস্ত

    ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম সাময়িক বরখাস্ত

    ঢাকার সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) রেজাউল করিমকে সরকারের পক্ষ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গাড়ি চালানোর বিষয়ে আপত্তিজনক অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে তিনি আপাতত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়। সোমবার (১৩ অক্টোবর) এই বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায়।

    প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা নিজ স্বাক্ষরে এই সিদ্ধান্তের বিবরণ দেন। বলা হয়, বাংলাদেশের সুপ্রিম জুডিশিয়াল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী, রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে মামলা রুজু হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ তার অপকর্মের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। ইতোমধ্যেই এই আদেশ কার্যকর হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল উল্লেখ করে, এই বিচারকের বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর এবং দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেদনে জানা যায়, তার একজন আসামির আলামতের গাড়ি ডিবি হেফাজত থেকে নিয়ে ব্যবহারের তথ্য। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে আসে, আইন মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সাড়ে ৭ কাঠা জমি নিয়েছেন। হাইকোর্টের বিচারপতিদের জন্য যেখানে ৫ কাঠা জমি বরাদ্দ, সেখানে তিনি এই জমি পান।

    এছাড়াও আরেকটি অভিযোগে দেখা যায়, নর্দান ইউনিভার্সিটির পাশে সুবিধা করে তিনি ৫ কাঠা রেডিমেড প্লট নেন। এমনকি ঢাকার সিএমএম কোর্টের বিচারক থাকাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তিন তলা একটি বাড়িও নির্মাণ করেছেন রেজাউল করিম। এসব তথ্য উঠে আসার পর তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয় এবং পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ে।

  • শীতের আগমনী বার্তা: আবহাওয়া অফিসের শৈত্যপ্রবাহের আগাম সতর্কতা

    শীতের আগমনী বার্তা: আবহাওয়া অফিসের শৈত্যপ্রবাহের আগাম সতর্কতা

    বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্যের মাঝে শীতের হালকা ছোঁয়া ধীরে ধীরে অনুভূত হতে শুরু করেছে। শিশিরভেজা ঘাস এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর জানাচ্ছে যে, শীত এখন খুব কাছাকাছি। বিশেষ করে দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে সকাল-সন্ধ্যার সময় শীতের প্রকোপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। কখনো-কখনো পুরো এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যায়, যা শীতের আগমনকে আরও দৃঢ় করে তোলে।

    শহরের ব্যস্ত জীবনে এখনো তেমন তীব্র ঠাণ্ডার অনুভূতি না হলেও, আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে সময় লাগবে না। বর্ষা মৌসুম বিদায় নিচ্ছে, এবং শীত আসার প্রস্তুতি চলছে।

    আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, পরবর্তী তিন মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে। অক্টোবরের শুরুতেই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তিন মাসের জন্য বিশদ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

    পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বা বর্ষার প্রবাহ অক্টোবরের প্রথমার্ধে ধীরে ধীরে বিদায় নেবে। এরপর ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ প্রবিষ্ট হবে।

    তবে শীত শুরু হতে আরও আগে সারাদেশে কিছুটা বজ্রঝড় এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, অক্টোবরজুড়ে ৩ থেকে ৬ দিন মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে, এবং ৪ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে।

    অতিরিক্তভাবে, বঙ্গোপসাগরে ৩ থেকে ৬টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১ বা ২টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অফিস।

    বৃষ্টির পরিমাণেও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে, বিশেষ করে উপকূলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় এর প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে। এ ধরনের সতর্কতামূলক পূর্বাভাসে সবাইকে সজাগ থাকতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

  • নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    নির্বাচনে মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য এক সভা আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ওসি মত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আজকের সভায় মূল লক্ষ্য ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করা। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের আনুষঙ্গিক কর্মকর্তা কোনওভাবেই আইনবহির্ভূত কাজ না করতে নির্দেশনা পেয়েছেন। নিরাপত্তা জোরদার করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বডি ওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।

    নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী পুলিশ সদস্যদের প্রায় দেড় লাখ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ ১৩০টি ভেন্যুতে ২৮ বাচে তিনদিন করে চলবে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি ব্যাচের (৬,৫০০ জন) প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও এক ব্যাচের (৬,৫০০ জন) প্রশিক্ষণ চলছে। একই সঙ্গে, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের জন্য প্রাক-নির্বাচনী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার সদস্যকে অস্ত্রসহ ও নিরস্ত্র হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এগুলোর মাধ্যমে তারা নির্বাচনের সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানাচ্ছেন, এবারের নির্বাচনে বিজিবি ১১০০ প্লাটুনে ৩৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ইতোমধ্যে ৬০% প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, আর শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর পাশাপাশি, تقریباً ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনী সদস্য ভোটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

    এছাড়া, সীমানা পুন:নির্ধারণের সিদ্ধান্তে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিও আশাপ্রদ ও শান্তিপূর্ণ। সরাসরি কোনও অস্থিরতা থাকুক তা না দেখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। ফ্যাসিস্ট দলের ঝটিকা মিছিলে আগের চেয়ে কম হলেও, তারা যাতে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে না পারে, এর জন্য নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে সবার সচেতনতা ও প্রস্তুতির কারণে সমসময়ের জন্য শান্তিপূর্ণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    নিরাপত্তার পাশাপাশি, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু দুষ্কৃতকারীরা নয়, মাদকের গডফাদারদেরও আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। এই সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশের নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি যথেষ্ট নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • মির্জা ফখরুল বলছেন, এ দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতি গ্রহণ করবে না

    মির্জা ফখরুল বলছেন, এ দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতি গ্রহণ করবে না

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি এ দেশের মানুষের দ্বারা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, কোনও কিছুকে অবৈধভাবে চাপিয়ে দিলে তা দেশের জনগণ গ্রহণ করে না। আজ রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে তারা সংস্কার চায় না। এর সত্যতা একেবারেই অস্বীকার করে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বিএনপি সবসময়ই সংস্কার করতে চায়। তিনি বলেন, আপনারা অপপ্রচারে কান দেবেন না।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫ বছর আগে আমরা এক ফ্যাসিস্ট শাসনকে সরিয়ে দিতে পারেন, তখন রাষ্ট্রনায়ক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যেন তিনি দ্রুত একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। তিনি এর জন্য সংস্কার কমিশন গঠন ও বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। উল্লেখ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর এসব প্রস্তাবে সাইন হবে।

    ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময় সংস্কারের পক্ষে ছিল এবং এখনও রয়েছে। কিছু মানুষ তথাকথিত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে বিএনপি সংস্কার চায় না, যা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি প্রকাশ করেন, বিএনপি নিজেই সংস্কার আন্দোলনের ফল।

    তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। স্পষ্ট করে বলেন, আমরা চাই ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হোক। জনগণ এখনই নির্বাচন চায় এবং বাংলাদেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে আমরা চেষ্টা করছি। গণতন্ত্রের এই পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগটি যেন হারিয়ে না যায়, সেটিও তিনি কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

  • সচেতনতা ও টিকাদানেই টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: নূরজাহান বেগম

    সচেতনতা ও টিকাদানেই টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: নূরজাহান বেগম

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, সচেতনতা এবং টিকাদানের মাধ্যমে টাইফয়েড রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ কথা তিনি বলছেন যখন দেশে এখনও কিছু শিশু টাইফয়েডজনিত কারণে মারা যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক ধরনের লজ্জার ব্যাপার। আমাদের আগের সফলতার উদাহরণ হিসাবে ডায়োরিয়া ও রাতকানা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধের সফলতা রয়েছে; এবার হাতের মুঠোয় টাইফয়েডের প্রতিরোধে সফলতা আনতে চাই আমরা।

    তিনি আজ রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আজিমপুরে স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা কেন্দ্রের উদ্যোগে টাইফয়েডের টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    নূরজাহান বেগম বলেন, রোগ প্রতিরোধ এখন সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। যত বেশি শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা যাবে, ততই হাসপাতালের চাপ কমবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। তিনি আরও বলেন, টাইফয়েড এমন একটি রোগ, যা সচেতনতা ও টীকাদানের মাধ্যমে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইচ্ছে করলে এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যদি প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে যায়, তবে দেশের মধ্যে টাইফয়েডের কারণে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

    সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শরমীন এস মুরশিদ বলেন, টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই উদ্যোগ শিশুর স্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই টাইফয়েডনিরব এক বিপদ হিসেবে অনামা ছিল, বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য। এখন সরকারের এই উদ্যোগ সেই দুর্বল দিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে, একই সময়ে রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেস্টা অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

    এক মাস ব্যাপী এই টাইফয়েড টিকাদান কার্যক্রমে দেশের ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে এক ডোজ ইনজেকটেবল টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হবে। যদি কোনও শিশুর রেজিস্ট্রেশন বা জন্মসনদ না থাকে, তবে কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তিনি টিকা পাবেন।

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: আমার ছেলে-মেয়েরা দেশে, আমি কি ভাবে নিরাপদ থাকব?

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা: আমার ছেলে-মেয়েরা দেশে, আমি কি ভাবে নিরাপদ থাকব?

    সম্প্রতি এক আলোচনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আমার ছেলে-মেয়েরা 모두 দেশে থাকেন। আমি একা যদি নিরাপদ শ Mick শ দিতে চাই, তাহলে আমি কি করব? এই কথাটি তিনি বলেন, রোববার (১২ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত গভীর আলোচনা শেষের পর সাংবাদিকদের কাছে।

    অভিযুক্ত অস্ত্রগুলো কতটা উদ্ধার হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আইজিপির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে আরো বিস্তারিত জানানো হবে। এ ছাড়াও তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি যাতে না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সব অস্ত্র সব সময় উদ্ধার হয় না, কিছু অস্ত্র বাইরে পড়ে থাকে। এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজন পড়ে। যদি সব অস্ত্র উদ্ধার করে ফেলতে পারতাম, তাহলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রয়োজন হতো না, তাতেও অবশ্য কোনও সমস্যা হবে না, কারণ আল্লাহর ইচ্ছায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

    একটি প্রশ্নে তিনি বলেন, কিছু উপদেষ্টা সম্প্রতি মনে করছেন নিরাপদ শ Mick শ জন্য (সেফ এক্সিট) তারা চান। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, কে কি চায়, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। আমার সন্তানরা 모두 দেশে থাকেন; আমি একা নিরাপদ থাকতে চাই, এটাই আমার ব্যক্তিগত মত।

    অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, অভিযুক্ত সেনা সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়া সেনাবাহিনীর হেফাজতেই চলবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনও নির্দেশনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা-ই করা হবে।

  • প্রধান উপদেষ্টা রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করলেন

    প্রধান উপদেষ্টা রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করলেন

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে যোগ দিতে আজ রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রোমের উদ্দেশে ছেড়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের মাধ্যমে রওনা দেন। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। সফর অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূস ফোরামের মূল অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেবেন। পাশাপাশি তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম হলো জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক ও উদ্যোক্তা একত্রিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ব্যবস্থার ওপর মতবিনিময় করেন। এবারের এই ইভেন্ট চলবে ১০ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত, যেখানে স্থান, এফএওর সদর দপ্তর রোমে অনুষ্ঠিত হবে। এই সফর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার দেশে ফেরার কথা রয়েছে আগামী ১৫ অক্টোবর।