Month: October 2025

  • নভেম্বরেই গণভোট করার প্রস্তাব জামায়াতের

    নভেম্বরেই গণভোট করার প্রস্তাব জামায়াতের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বর মাসে সাধারণ নির্বাচন থেকে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর এই তথ্য জানান জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ তাহের। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, গণভোটটি যেন অন্য সময় এবং আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা এবং পিআর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে সারা হিসাবের অন্যান্য কমিশন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের প্রতিনিধিদলে ছিলেন একজন উপ-নেতা, আঞ্জুমানে আল হাদিসের সদস্যরা ও আইনজীবীসহ অন্যান্যরা।

    আব্দুল্লাহ মো. তাহের জানান, আমরা কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বলেছি, গণভোটটি অন্য সময় করতে হবে। একই দিনে ভোট হলে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন কেন্দ্র দখল ও রিফর্মের ব্যাপারে জটিলতা। তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যে এই গণভোট করবো গোটা পরিকল্পনা রয়েছে। ইসি আমাদের জানিয়েছে, তারা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম।

    তাহের ভাষ্য, এই আলাদা গণভোটের জন্য খরচও কম হবে, কারণ মূল ব্যালট ও বাক্স অপরিবর্তিত থাকবে। শুধু প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ ও ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তিনি আশাবাদী, যদি এই ভোট আলাদাভাবে হয়, তবে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং ঝামেলা কম হবে। দ্বৈত ভোটের ব্যাপারে তিনি জানান, একসঙ্গে দুই ভোটের প্রক্রিয়া থাকলে রাজনৈতিক চাপ ও বিভ্রান্তি বৃদ্ধি পায়। তাই তারা অগ্রাধিকার হিসেবে নভেম্বরের মধ্যে আলাদাভাবে ভোট করানোর দাবি জানিয়েছে।

    প্রায়ই দেখা যায়, গণভোটের সময় সরোত্তম পরিবেশ সৃষ্টি না হলেও, অতীতে ১৭ থেকে ২১ দিনের ব্যবধানে অনেক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই এই ব্যাপারে কোনও বড় বাধা নেই বলেও মত দিয়েছেন তাহের। তিনি আরও জানান, কমিশন অফিসিয়ালি এই বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; কেউ যদি ব্যক্তিগত মতামত দেয়, সেটি একটি নৈর্ব্যক্তিক মতানুযায়ী।

    অন্তঃমূলত, এই প্রস্তাবের পেছনে মূলটা হলো, নির্বাচন ও গণভোট দুটোর জন্য সময় এবং আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা। জামায়াতের এই বৈঠক ও প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসে আলাদাভাবে গণভোট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন: আমান

    তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন: আমান

    ডেমোক্রেটিক লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। This কথা বলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, রাজধানীতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সভাটি হয়েছিল, যেখানে দলের প্রয়াত নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ মনির দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশ্বাস দেন, ইনশাল্লাহ এই নির্বাচন হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং মূল নেতৃত্ব দেবেন, দেশে ফিরে এসে তিনি নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমে থাকবেন।

    বলাই থাকছেন না, মানুষ দেখেছেন তারেক রহমানের ভবিষ্যৎবানীর সত্যতা। তিনি বলে গেছেন, দেশ কখনো রাজপথেই ফয়সালা হবে। আজকে দেখা যাচ্ছে, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কিছু ষড়যন্ত্র চলছে। স্বাধীনতার পর থেকে যারা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা आज নির্বাচন বানচাল করার জন্য নানা চক্রান্ত করছে। বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা স্পষ্ট করে বলছেন, নির্বাচন নস্যাত করার এই চেষ্টাগুলি ব্যর্থ হবে।

    আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিভিন্ন স্থানে এখন নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ সময়ে, বিশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপিকে টার্গেট করে কটাক্ষ করা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ বছরে আন্দোলন করেছেন, স্বৈরাচার বিরোধী, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে জনগণের পাশে ছিলেন জিয়া পরিবার এবং বিএনপি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাইফুদ্দিন মনিরের ভূমিকার কথা তিনি স্মরণ করেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেমোক্রেটিক লীগের সহসভাপতি মাহবুব আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপির খায়রুল কবির খোকন, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, গ্লোভাল বাংলাদেশীজ এলায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটসের আহ্বায়ক ও অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

  • শাপলা প্রতীকে নির্বাচনে যাবে এনসিপি: সারজিস আলম

    শাপলা প্রতীকে নির্বাচনে যাবে এনসিপি: সারজিস আলম

    আগামী নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে বা জোটগতভাবে অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখপাত্র সারজিস আলম। তিনি যোগ করেন, জোটে থাকলেও তারা প্রত্যাশা করছে যে, শাপলা প্রতীকে নির্বাচনে যেতে তারা সক্ষম হবেন।

    সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলটির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সংহত সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

    সারজিস আলম বলেন, শাপলা প্রতীকের জন্য আইনগত কোনো বাধা নেই। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এই প্রতীক তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, আর কমিশন চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই তালিকায় পরিবর্তনও করতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আইনি ভিত্তি ও বাস্তবতা বিবেচনায় এবং ডিসেম্বরের মধ্যে যদি গণহত্যার বিচারে সফলতা আসে, তাহলে আগামী নির্বাচনে কোনো বাধা থাকবে না বলে তিনি ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি, তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ভারত বা অন্য কোনও শক্তি যদি নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার ফলাফল কেবল অসুবিধা বাড়াবে।

    একইসাথে, তিনি উল্লেখ করেন যে, এনসিপি উচ্চ কক্ষে পিআর বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সুবিধা পাচ্ছে, তবে নিম্নকক্ষে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপিকে ‘কিংস পার্টি’ বলে বিদ্রূপ করার জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন।

    সারজিস আলমের সভাপতিত্বে ও জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

  • তাহেরের অভিযোগ: উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, রেকর্ড আছে

    তাহেরের অভিযোগ: উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, রেকর্ড আছে

    জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা একটি বিশেষ দলের পক্ষে নিয়োগ ও প্রশাসনকে দলীয়করণের ষড়যন্ত্র করছেন। তার মতে, এই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে তাদের কাছে স্বচ্ছ রেকর্ড রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর মৎসভবনের সামনের রাস্তায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তাহের বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জাতির পছন্দের ভোটের মাধ্যমে কার্যকরী সংসদ গঠন হবে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে আবারো প্রশাসনকে দলীয় করণের চক্রান্ত চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ডিসি, এসপি ও ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে দলীয়করণ হয়ে যাচ্ছে, আর এসব নিয়োগে প্রভাব সৃষ্টি করছেন সরকার পক্ষের কিছু উপদেষ্টা। এই উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশ কিছু ব্যক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যার বিস্তারিত রেকর্ডও আমাদের কাছে আছে।

    তাহের সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে বলেন, এই ষড়যন্ত্র ঠেকাতে হবে, না হলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি এই বিষয়ে উদ্যোগ না নেয়, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে।

    আরও তিনি দাবি করেন, যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছেন, তাদের দ্রুত প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলVin করেন, নভেম্বরে সাধারণ জনগণকে গণভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানানো উচিত, যা অবলম্বন করে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা সম্ভব। তিনি জানান, ২১ দিনের মধ্যে সাধ্য অনুযায়ী গণভোট সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে চূড়ান্ত ভুলত্রুটি ধরার সুযোগ পাবেন।

    তাহের আরও বলেন, তাঁর পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে নিজস্ব পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবে জামায়াত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত দখলবাজি বা চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়, বরং জনগণের জন্য রাজনীতি করে। সরকারের ব্যবহার করলে কৃষকের ঋণমুক্তির জন্য সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে, যাতে কৃষকরা মুক্তভাবে তাদের জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে পারেন।

  • নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। তিনি এই কথা জানান মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে সদর উপজেলা ও রুহিয়া থানার বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময়। মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং তা নির্ভর করছে সঠিক সময়ে নির্বাচন হওয়ার উপর। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সঠিক সিদ্ধান্ত ও সময়ে নির্বাচন হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি করবে। তিনি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ভুল ভোটের বা সিদ্ধান্তের ফলে দেশ আবারো ফ্যাসিস্ট শাসনের মুখোমুখি হতে পারে, যা শুধুই বারবার দুর্ভোগ আর দুঃখের কারণ হবে। তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের বিকল্প কিছুই নেই এবং এই স্বর্গীয় উপাদানই দেশের মূল ভিত্তি। মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসন বা দমনপীড়নের পর জনগণের গণঅভ্যুত্থানে তারা মুক্তি পেয়েছেন এবং আবারও গণতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশের বহু নেতাকর্মী ওপর অর্পিত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, হাজারো মামলায় জেল খেটেছেন, অনেককে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। তারপরও তারা দুর্বল নয়; তারা এখন চিরস্থায়ী স্বস্তিতে ঘুমাতে পারেন। তিনি জানান, প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে এবং ২০ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। গুমের শিকার হয়েছে অন্তত ১৭০০ নেতা-কর্মী। এদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন ও মিথ্যা মামলায় সাজা ভোগ করছেন। মির্জা ফখরুল এই নেতাকর্মীদের পাশে থাকায় আইনজীবীদের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন এবং অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরাও।

  • মৃতদেহ শনাক্ত হলে দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হবে

    মৃতদেহ শনাক্ত হলে দ্রুত স্বজনদের কাছে হস্তান্তর হবে

    রাজধানী ঢাকার মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ১৬জনের মধ্যে যারা মৃতদেহ দ্রুত শনাক্ত করতে পারা যাবে, তাদের স্বজনদের কাছে খুব শিগগিরই হস্তান্তর করা হবে। তবে, যেসব দেহের শনাক্তকার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না, সেগুলো কিছুদিন রাখার পরে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • ১০ বছর আগে ভাবিকে হত্যার পর এবার ভাতিজিকে হত্যা করল চাচা

    ১০ বছর আগে ভাবিকে হত্যার পর এবার ভাতিজিকে হত্যা করল চাচা

    বরগুনার তালতলী উপজেলায় গর্বের মতো পরিবারে ঘটে গেছে শোকাবহ ঘটনা। তখন ১০ বছর আগে, ভাবিকে গলা কেটে হত্যার বিভৎস ঘটনাটি ঘটেছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে, ঐ হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পরে আবার এক নতুন ট্র্যাজেডি ঘটল। এইবার, ছয় বছর বয়সী ভাতিজি নাহিল আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন তার চাচা হাবিব খান, যিনি আগে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী তানিয়া বেগমকে হত্যা করে জেলে ছিলেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুরপাড়া গ্রামে। শিশু নাহিল আক্তার বাড়ির সামনে একটি মুদি দোকানে রুটি কিনতে গেলে হঠাৎ তার চাচা হাবিল খান পিছন থেকে এসে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে শিশুটি গুরুতর জখম হয়। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে, তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

    ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত হাবিল খান এলাকার সাধারণ মানুষ ও পরিবারের লোকজনের কাছে ধরা পড়ে। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, হাবিল খান আগে ২০১৫ সালে তার ভাই দুলাল খানের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেছিলেন। ঐ মামলায় তাকে ৯ বছর সাজা দেওয়া হয়, এবং ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পায়। এখনও প্রায় দেড় বছর পর, সে আবারও সেই পরিবারের শিশু কন্যাকে পিটিয়ে হত্যার বর্বরness দেখায়।

    শিশুর বাবা দুলাল খান বলেন, ‘ও আমার জীবনটাই শেষ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম স্ত্রীর হত্যাকারী এই ব্যক্তি, এখন আবার আমার ছোট মেয়েকে হত্যা করেছে। আমার কী অপরাধ ছিল? আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. টুকু শিকদার ও সালাম হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার পরে হাবিলকে ধাওয়া করছিল স্থানীয়রা। তিনি আশ্রয় নেন এক বাড়িতে। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।’

    তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ রকিবুল ইসলাম জানান, শিশুটির মাথার ডান পাশে এবং বাঁ হাতের কনুইয়ে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। তিনি আরও বলেন, ‘অতিসত্ত্বে শিশুটিকে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।’

    তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজালাল বলেন, ‘শিশু হত্যার মামলায় হাবিল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • সালমান, আনিসুলসহ ৪৫ জনের প্রতিবেদন জমার জন্য ৮ জানুয়ারি সময় নির্ধারন

    সালমান, আনিসুলসহ ৪৫ জনের প্রতিবেদন জমার জন্য ৮ জানুয়ারি সময় নির্ধারন

    জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় সংঘঠিত হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক সাতটি মামলার তদন্ত শেষের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৪৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার পর এই নির্দেশ প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল-এক। এদিন সকালে কেরাণীগঞ্জ, কাশিমপুর ও নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ বিভিন্ন মামলার ১৬ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের আদালতে তোলা হয়।

  • মিরপুরের রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকা-দুর্ঘটনায় ১৬ মৃত্যুর সত্যতা: ঢামেক পরিচালক

    মিরপুরের রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকা-দুর্ঘটনায় ১৬ মৃত্যুর সত্যতা: ঢামেক পরিচালক

    রাজধানীর মিরপুরে একটি রাসায়নিক গুদামে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেছেন, এই মৃত্যুগুলোর জন্য বিষাক্ত গ্যাস বা অন্য কোনো বিষ নয়; বরং আগুনের আগুনে পুড়ে যাওয়াই এ প্রাণহানির কারণ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

    তিনি আরও জানান, মরদেহের সংস্পর্শে আসা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের তিন-তিনটি দাবি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ইসলামপুরের ১০ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।

    হাসপাতালের পরিচালক বলেন, নিহত ১৬ জনের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও সাতজন নারী রয়েছেন। লাশগুলো হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। সুসময় স্বজনরা এসে মরদেহগুলো শনাক্ত করতে পারেন এবং পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি পেলে মরদেহগুলো ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    অন্যদিকে, এ দুর্ঘটনার পরে নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়ার জন্য গুদাম ও হাসপাতালের আশপাশে স্বজনদের ভিড় জমে। দেখা গেছে, কেউ কেউ পাথর হয়ে বসে রয়েছেন, কেউ বা অশ্রু সংবরণ করতে পারছেন না। ইতিমধ্যে, স্থানীয় জনগণ ঘটনাস্থল দেখতে ব্যাপক উৎসাহ এবং কৌতুহলে ভিড় জমিয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায়। মিরপুর শিয়ালবাড়ির টিনশেডের ওই রাসায়নিক গুদামে হঠাৎ আগুন লাগলে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিটের ৭ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়।

    ফায়ার সার্ভিসের সূত্র বলছে, ভবনের ছাদ টিনশেড থাকায় অনেক কর্মী বের হতে পারেননি। গুদামে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, ব্লিচিং পাউডারসহ সাত থেকে আট ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য মজুত ছিল। আগুন নেভানোর পর এসব রাসায়নিকের বিক্রিয়ার ফলস্বরূপ বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস নির্গত হয়। বুধবার সকালে আশপাশের গার্মেন্টসের কর্মীরা কাজে আসলে এ ধোঁয়ায় তারা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

  • ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে দেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তার বহনকারি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। গত রোববার (১২ অক্টোবর) বিকেলে রোমে পৌঁছানোর পর স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালি প্রবাসী রাষ্ট্রদূত এটিএম রোকেবুল হক।

    এই দুটি দিনের সফরে, সোমবার (১৩ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন মুহাম্মদ ইউনূস, যেখানে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণে ছয় দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এই প্রস্তাবনা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়।

    সফরকালে তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, জিবুতির প্রধানমন্ত্রী এবং রোমের মেয়রের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা, কৃষি প্রযুক্তির বিনিময় এবং সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।