Month: October 2025

  • নির্বাচনের দিনই বিএনপি অবিলম্বে গণভোটের দাবি জানাল: মঈন খান

    নির্বাচনের দিনই বিএনপি অবিলম্বে গণভোটের দাবি জানাল: মঈন খান

    জাতীয় নির্বাচনের দিনেই বিএনপি প্রবলভাবে গণভোটের পক্ষে সরব হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ড. মঈন খান বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেন ইতিহাসে দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হিসেবে রেকর্ড হয়, তার জন্য আমরা ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে নানা অসঙ্গতি হয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা ও স্কুল শিক্ষকদের নিয়োগে পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। এসব কারণে দেশ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেককে সরকারের চাপের মধ্যে দিয়ে অন্যায় করতে বাধ্য করা হয়েছে।

    বিএনপি নেতা বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এই নির্বাচন কারা পরিচালনা করেছিল? যারা প্রশাসনে থেকে রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েছিল। ১৫ বছরের সময়কে পরিবর্তন করা সহজ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ইসিকে সতর্ক করে বলেছেন, বিতর্কিত কর্মকর্তারা যেন আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

    মঈন খান বলেন, সাধারণ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন। এক দিনের মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচন এলাকা এবং কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ কাজের জন্য দরকার ১০ লাখ ভোটার এবং তারা কারা—সিভিল পুলিশ, বিচার বিভাগ—এসব বিষয়ের প্রতি সন্দেহ ব্যক্ত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারুক, যেন কোন বাধা না আসে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন। এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ফলে অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তারা যেন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

    ড. মঈন খান ভবিষ্যতে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং ইসিকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যম যেন বিনা বাধায় সংবাদ পরিবেশন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    অবশেষে, তিনি জোট নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘জোট নিয়ে ভাবার এখনো সময় আসেনি। সময় এলে বিএনপি নিজে জানিয়ে দেবে।’

  • মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: কিছু দল নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য: কিছু দল নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন পেছানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য রাজনীতি, অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর জন্য দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের উন্নতির জন্য দ্রুত নির্বাচনের অবিলম্বে প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনের জন্য পথ বন্ধ করতে চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, দেশের ভালোর জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন রাজনৈতিক সরকার দরকার, যা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা সংকটে রয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নির্বাচিত সরকারের উপর। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করার অপচেষ্টা করছে।

    তিনি আবারো উল্লেখ করেন, বিএনপি ও জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তারা বলছেন, বিএনপি সংস্কার চায় না, যা এক ধরনের মিথ্যা প্রচার। দেশের উন্নয়নের পেছনে বিএনপি ও শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান অস্বীকার করা যায় না।

    শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “নেলসন ম্যান্ডেলার মতো বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি।” তিনি আরো জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও গণসমর্থন অনেক গভীর এবং সহজে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ তার নাম মুছে ফেলেনি; ইতিহাস তা সংরক্ষণ করেছে। তারেক রহমানও জিয়াউর রহমানের আবেগ ও আদর্শের পথে yürছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

  • বিশ্লেষক দলের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে বিএনপি

    বিশ্লেষক দলের জন্য জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সুযোগ খুঁজছে বিএনপি

    একটি রাজনৈতিক দল সম্প্রতি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ বক্তব্য দেন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) উদ্যোগে ‘চব্বিশোত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের ভাবনায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    জনন্য, এই অনুষ্ঠানে ইউট্যাবের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা অংশ নেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য ও প্রত্যাশা কী হবে? আমাদের নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এর জন্য ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন সভা ও সেমিনার আয়োজন করেছেন তরুণদের ভাবনা জানার জন্য। তিনি জানান, চব্বিশোত্তর বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবর্তন, বিশেষ করে শিক্ষা, মানসিকতা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এক্ষেত্রে মেধা, জ্ঞান এবং প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হবে। সমাজের সব পর্যায়ে, যেখানে আমরা কাজ করি না কেন, সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষকরা তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাড়াতে হবে। খাতভিত্তিক গবেষণামূলক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়ে আরও গবেষণা והשכלה চালু করতে হবে যাতে বিশ্বমানের দিক থেকে এগিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি কর্মমুখী, সময়োপযোগী কারিকুলাম কার্যকর করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শিক্ষাব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবহার পরিবর্তনও নজর দেওয়া দরকার।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বললেন, জনসংখ্যার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এই জন্য কেবল সরকারের উপরে নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়; বরং সবখানে স্বনির্ভর হয়ে নিজ উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছি, তা সর্বত্র অনুভব করতে হবে। পরিবর্তন শুধু চাকরি বা কর্মসংস্থান নয়, বরং এই আন্দোলন ছিল দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের বৃহৎ প্রতিরোধ। এর মাধ্যমে দ্রুতগামী আন্দোলন ও গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যা রক্ত ও সংগ্রামের মাধ্যমে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছিল।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সকল সংস্কারই আগে মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। না হলে আইন, সংবিধান বা অন্য কোনো রূপান্তর সাধারণ মানুষ দ্বারা কার্যকর হতে পারে না। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে হলে আইনি কাঠামো উন্নত করতে হবে, ফলে জাতির মুক্তি সম্ভব হবে। সবাই মিলে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দল বলেছে- তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে চাপে রয়েছে। তারা বলছে, জাতীয় নির্বাচনের দিনে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট হতে পারে। তবে বর্তমানে একটি দল সুযোগ খুঁজছে এই সনদে স্বাক্ষর করার। তবে তাদের কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। তিনি আশাবাদী, এই পরিস্থিতির মধ্যে সমাধান আসবে সুন্দরভাবে। অন্তর্বর্তী সরকার আধিকারিক ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তিতে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে তিনি তুলে ধরেন। সব সিদ্ধান্ত অবশ্যই বাস্তবতা ও আইনের আওতায় নেওয়া উচিত।

    সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইউট্যাব প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতিসংঘের সাবেক চিফ অব স্টাফ রেহান এ আসাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীমসহ আরো কয়েকজন।

    উপস্থাপনা ও স্বাগত বক্তব্যে ড. মোর্শেদ হাসান খান উল্লেখ করেন, আমাদের মত মতাদর্শের দল বিএনপি মনে করে, দেশের যেকোনো উন্নয়নের জন্য শিক্ষার বিকল্প নেই। তবে শিক্ষাকে অবশ্যই কাজে লাগানো ও যুগোপযোগী করতে হবে। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, পরীক্ষার ভিত্তির উপর নির্ভর করে বহুলাংশে শিক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে উঠেছে, যা বেকারত্বের সংখ্যা বাড়িয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে জ্ঞানভিত্তিক ও চাহিদা ভিত্তিক করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কারিগরি, ভোকেশনাল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের উদাসীনতার কারণে দেশের শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তাই দ্রুত ও মূলধারার পরিবর্তন অতি জরুরি। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা জঞ্জাল আর সমস্যা উচ্ছেদ করে আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

  • বিএনপির ৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান

    বিএনপির ৩৬ প্রকল্পের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ৩৬ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা তার বিভাগের রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, who সাবেক ইসি সচিব ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং ইসমাইল জবিউল­াহ। বৈঠক শেষে তিনি জানান, তাঁরা আশাবাদী যে, নির্বাচনী পরিবেশ উৎসবমুখর হবে এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে যে চিন্তা ছিল সেটি কাটবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিগত নির্বাচনগুলো প্রহসন হিসেবে গণ্য হয়েছে, তাই আগামী নির্বাচন একইভাবে হবে না, তার জন্য সরকারি ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি রাখতে হবে।

    বিএনপির ৩৬ দফা প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:

    1. বর্তমান সরকারের জন্য নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো যথাযথ ভূমিকা পালন নিশ্চিত করা।
    2. মাঠ প্রশাসনসহ নির্বাচনী ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে, যাতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়।
    3. অতীতের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে।
    4. প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে।
    5. নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং নির্বাচন পূর্বে তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে।
    6. নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে হবে।
    7. ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরা লাগানো উচিত।
    8. প্রতিটি জেলায় অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন ও দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
    9. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনঃবিবেচনা ও স্থগিত করার দাবি জানানো হয়।
    10. নির্বাচনের সময় দলীয় বা অনুচিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে হবে।
    11. অতীতের নিষ্ঠুরতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার ও অস্ত্র রাখার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি।
    12-36. নির্বাচন স্বচ্ছ ও যোগ্যতা নিয়ে নিশ্চিত করতে নানা বিধিনিষেধ, নজরদারি, অস্ত্র মুক্ত অভিযান, অর্থদুর্নীতি ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ, ভোটর সচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে বিএনপি।

    অবশেষে, দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে এ দফা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন জরুরি। তবে ড. আব্দুল মঈন খান পরে সাংবাদিকদের জানান, তারা কোন লিখিত প্রস্তাব দেয়নি, যদিও দলিল নিশ্চিতভাবে উপস্থিত ছিল। এটি সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা ও কমিশনের জন্য একটি পথনির্দেশনা है।

  • জামায়াতের আমিরের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান: ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কষ্টের জন্য ক্ষমা চাইলাম

    জামায়াতের আমিরের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান: ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত কষ্টের জন্য ক্ষমা চাইলাম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত, জামায়াতের দ্বারা যারা যাঁরা যেখানে যেখানে কষ্ট পেয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি বিনা শর্তে ক্ষমা চাই।’ বুধবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংগঠন মানুষের সংগঠন। আমাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মধ্যে ৯৯টা সঠিক, একটি হয়তো ত্রুটি থাকতে পারে। এখন আমরা যদি ক্ষমা চাই, কেউ বলে এগুলো জড়িত ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়, অন্য ভাষায় বলতে হবে। কিন্তু আমরা বলি, বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছি, কোনো শর্ত দিইনি। এভাবেই আমাদের মনোভাব পরিষ্কার।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, ধরে নেওয়া যায় আপনি কোনও বিশেষ অপরাধ করেননি। তবুও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে জাতি জেনে সন্তুষ্ট হয়নি। আপনি যদি একটুখানি ক্ষমা চান, সেটাই যথেষ্ট।’

    শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা অন্তত তিনবার ক্ষমা চেয়েছি। গোলাম আজম, মতিউর রহমান এবং আমি নিজেও ক্ষমা চেয়েছি।’

    অতীতে, যখন এ টি এম আজহারুল ইসলাম জেল থেকে মুক্ত হন, তখনও আমি বলেছিলাম, ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যদি কেউ কষ্ট পেয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমি ব্যক্তিগত ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী ও সিনিয়ররা বলেছেন, তারা সব ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। যদি কেউ দাবি করে যে, তারা কোনও ভুল করেনি, তবে তা জাতি কখনোই তা মানবে না। অনেকেই বলবেন, নিউইয়র্কে গিয়ে আমি ক্ষমা চেয়ে এসেছি, কিন্তু দেশের ভিতরে মুখে ক্ষমা চাইলাম না—এমন ভুল ধারণা একদম না।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবেন, কিন্তু তারা কি ফেরেশতার দল? অন্যদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলি না। অশুভ অতীতের প্রশ্ন যত বেশি তুলবেন, তত বেশি জাতি বিভক্ত হবে।’

  • পঞ্চগড়ে অচেতন অবস্থায় শিকলবন্দি মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী উদ্ধার

    পঞ্চগড়ে অচেতন অবস্থায় শিকলবন্দি মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী উদ্ধার

    পঞ্চগড় থেকে গাজীপুরের টঙ্গী টিএন্ডটি এলাকার বিটিসিএল জামা মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীকে অপহরণের এক দিন পর আবারও পঞ্চগড়ে শিকলবন্দি ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা পঞ্চগড় সদর উপজেলার হেলিপ্যাড বাজারের এক রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে হাত-পা লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাকে দেখতে পান। খবর পেয়ে অচিরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সদর থানা পুলিশ, যারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীর ছেলে আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, তার বাবাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এর আগে বুধবার ফজর নামাজের পরে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মুফতি মাদানী। দীর্ঘ সময় পরেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার টঙ্গী পূর্ব থানার কাছে লিখিত অভিযোগ করে। জানা যায়, মুফতি মাদানী জুমার খুতবায় সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক মূল্যবোধ ও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতেন। এর পাশাপাশি তিনি বহুবার ইসকন ও হিন্দু ছেলেদের মাধ্যমে মুসলিম মেয়েদের প্ররোচিত করার অভিযোগ সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন। এইসব বিষয় নিয়ে তার ওপর বিভিন্ন উড়ো চিঠি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মুফতি মুহिबুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করেছি। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং ঘটনাটি তদন্তে রয়েছে।’

  • বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড: এক বছরে ৩৬ কারখানা পেয়েছে বিশ্বমানের ‘সবুজ’ প্রকল্পের স্বীকৃতি

    বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড: এক বছরে ৩৬ কারখানা পেয়েছে বিশ্বমানের ‘সবুজ’ প্রকল্পের স্বীকৃতি

    বাংলাদেশের পোশাক শিল্প আবারও বিশ্ব Bühneস্তর বড়সড় অর্জন করেছে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশের নেতৃত্বের কথা অপরিসীম গর্বের। ২০২৫ সালের মধ্যে, এক বছরে দেশের ৩৬টি কারখানা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ‘সবুজ’ স্বীকৃতি পেয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালে ৩০টি কারখানা এই স্বীকৃতি পেয়েছিল, কিন্তু এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্থাপন হয়েছে। এই অগ্রগতি বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজিএমইএর সূত্র জানিয়েছে, এই বছর ২২টি কারখানা ‘প্লাটিনাম’ শংসাপত্র পেয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এই স্বীকৃতি দান করে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি), যা কিছু নির্ধারিত শর্তে এই স্বীকৃতি প্রদান করে। শর্তগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং বিভিন্ন সংস্করণেও বিভক্ত। মোট ১১০ নম্বরের মধ্যে, ৮০ এর বেশি নম্বর পেলে কারখানা ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ এর মধ্যে হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ নম্বর পেলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ নম্বর পেলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ২৬৮টি ‘লিড সার্টিফায়েড’ কারখানা রয়েছে, এর মধ্যে ১১৪টি পেয়েছে ‘প্লাটিনাম’ ও ১৩৫টি ‘গোল্ড’ স্বীকৃতি। অর্থাৎ, বাংলাদেশের কারখানাগুলো সর্বোচ্চ মানের পরিবেশবান্ধব মানদণ্ডে উন্নীত হতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ১৯টি কারখানা সিলভার ও সার্টিফায়েড সনদ লাভ করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি উচ্চ রেটিং পেয়ে ‘লিড সার্টিফাইড’ কারখানার মধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে ৬৮টি, যা দেশের পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের দিকে বড় পদক্ষেপ। এই সফলতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে নিয়ে গেছে। পোশাক শিল্পের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ব মহিউদ্দিন রুবেল, যিনি বর্তমানে ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক, বলেন, এই অর্জন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এখন বিশ্ববাসীর কাছে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছি।’ এই অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মনে করছে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও টেকসই হয়ে উঠবে।

  • জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা বিফল, ফখরুলের মন্তব্য

    জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা বিফল, ফখরুলের মন্তব্য

    প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘মহাকালের মহানায়ক শহীদ জিয়া’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার পর অল্প সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু কেউ তা সফল করতে পারেনি। বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠার জন্য নানা ধরনের সংগ্রাম ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তিকে বলীয়ান করেছে। বারবার চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপিকে নেগেটিভভাবে উপস্থাপন করতে, কিন্তু বাংলাদেশের সেই সব অর্জনের পিছনে মূল কারিগর ছিলেন বিএনপি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্রকে দৃঢ় ও সুস্থ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করবো।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, চলমান ১৫ বছর দেশের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখন দেশের জন্য দ্রুত একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার দরকার। বিএনপি সহযোদ্ধা হিসেবে একটি অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত। তবে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে অব্যাহতভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

    শেষে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় সবাইকে তিনি অনুরোধ জানান, সব সময় সত্যটিই তুলে ধরুন এবং দেশের সামনে সত্য কথা বলতে সাহস দেখান।

  • অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন সপ্তাহ পালনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন সপ্তাহ পালনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এক সপ্তাহব্যাপী অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশ দেন তিনি প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে (সিএও) আয়োজিত এক উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে। শফিকুল আলম, প্রেস সচিব, বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা দেশের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বলতা বা ত্রুটি চিহ্নিত করতে এ পর্যাপ্ত সময়ের জন্য অগ্নিনিরাপত্তা প্রস্তুতি পরিদর্শন চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’ এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি বিকেলে, পররাষ্ট্রসেবা একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যেখানে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুল আলম আরো বলেন, অধ্যাপক ইউনূস দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সরকারের উপদেষ্টা ও সরকারি সংস্থাগুলোর অগ্নিরক্ষা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করার জন্য আহ্বান জানান। এর আগে, বৈঠকের সময়ে বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন সম্প্রতিক বিমানবন্দর অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি বিস্তারিত ব্রিফ করেন। তিনি জানান, কার্গো ও ফ্লাইট পরিচালনা দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কার্গো ভবনটি এখনও পরিদর্শনাধীন। বুয়েটের ড. ফখরুল আমিনের নেতৃত্বে একটি কারিগরি দল ভবনের দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা মূল্যায়ন করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে সরকার যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডসহ অস্ট্রেলিয়া, চীন ও তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ফরেনসিক সহায়তা চেয়েছে বলে প্রেস সচিব জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছিলেন, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি-ক্যামরা ও ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে, যাতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা যায়। এ বিষয়েও আইনি প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • সালমান শাহ খুনের মামলায় ১২ লাখ টাকায় হত্যার সম্ভাবনা ও নতুন জবানবন্দি

    সালমান শাহ খুনের মামলায় ১২ লাখ টাকায় হত্যার সম্ভাবনা ও নতুন জবানবন্দি

    নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু আজও অনেকে আলোচনায় রেখেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু ঘটলেও, তখন זאת শুধুমাত্র আত্মহত্যা বলে ধরা হয়। তখনকার সময়ে তার সাবেক মেয়ে বন্ধুর বাবা-মা, বিশেষ করে তার শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, এই মৃত্যুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু পরিচিত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য নিশ্চিত হয়নি।

    তবে, দীর্ঘ ২৯ বছর পরে এক বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর জন্য মামলা নতুন মোড় নেয়। গত ২০ অক্টোবর আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার নির্দেশ দেয়। এর একদিনের মধ্যেই রমনা থানায় সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম নতুন করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    এই মামলার প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে এক নতুন জবানবंदी, যা ১৯৯৭ সালে একই সঙ্গে আসামি রেজভীর দেওয়া। এ জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, সালমান শাহকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এটি আসলে একটি হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, এই খুনের সঙ্গে তাঁর পরিবারসহ আরও অনেকে জড়িত।

    জবানবন্দিতে রেজভী স্বীকার করেন, হত্যার পেছনে ছিল ১২ লাখ টাকা। এর মূল হোতা ছিল সালমানের শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। দৃঢ় অভিযোগ আছে যে, খুনের পরিকল্পনায় ছিলেন বাংলা সিনেমার প্রভাবশালী কিছু খলনায়ক- ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদ।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গুলিস্তানের একটি বারেতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও রেজভী প্রথম মিলিত হয়েছিলেন। তখন ফারুক উল্লেখ করেন, তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, এবং পরবর্তীতে আরো ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এই টাকা মূলত সালমান শাহর হত্যার জন্যই পাঠানো হয়েছিল।

    বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার রাত আড়াইটার দিকে সালমানের বাড়িতে পৌঁছায় একদল গুপ্তচর। ঘুমন্ত সালমান শাহর ওপর নারকীয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাকারীরা। সঙ্গে ছিলেন সালমানের প্রেমিকা সামিরা, তার মা লুসি ও একক আত্মীয় রুবি।

    সামিরা ক্লোলোফর্ম দিয়ে সালমানের জ্ঞান হারানোর পর, শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সালমানের শরীরে ইনজেকশন পুশ করে তাকে হত্যা করা হয়। এরপর তার লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    সালমান শাহের মৃত্যু আজও রহস্যের ঘেরা, অথচ ওই সময় বিভিন্ন তদন্ত কমিটি চেষ্টা করেও প্রকৃত কারণ খুঁজে পেল না। বহু বছর ধরে এ ঘটনাকে একাধিকবার অপমৃত্যু হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, আসল সত্য প্রকাশিত হয়নি। ২৯ বছর ধরে চলমান এই মামলার মোট ১১ জন নামের তালিকায় রয়েছে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম। দ্বিতীয় আসামির তালিকায় রয়েছেন প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, তার শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আবদুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।