Month: October 2025

  • নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৮ মৃত্যু

    নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩৮ মৃত্যু

    নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এজ্জা গ্রামে এক ভয়াবহ জ্বালানি ট্যাংকারের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে কমপক্ষে ৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই দুর্ঘটনাটি কাচা-আগাই সড়কে ঘটেছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, জ্বালানিবাহী এই ট্যাংকারটি উল্টে যাওয়ার পর অনেক স্থানীয় মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকা জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময়ে ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, আর এরই ফলে বিস্ফোরণ হয়। এতে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

    নাইজার রাজ্যের পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফারুক মোহাম্মদ জানিয়েছেন, অধিকাংশ নিহত ব্যক্তিই বিস্ফোরণের আগে ট্যাংকার থেকে তেল সংগ্রহ করছিলেন।

    ফেডারেল রোড সেফটি কর্পোরেশনের (এফআরএসসি) নাইজার শাখার কমান্ডার হাজিয়া আইশাতু সাদু বলেন, এখন এই দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি সড়কের অবস্থাও খুব খারাপ।

    উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণ ও সড়ক দুর্ঘটনা সাধারণ ঘটনা বলে পরিচিত। প্রায়শই সড়কের খারাপ অবস্থা ও দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এমন দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।

  • দুর্ঘটনার কবলে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার

    দুর্ঘটনার কবলে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার

    ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হেলিকপ্টার কেরালার প্রামাদম স্টেডিয়ামে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। বুধবার ২২ অক্টোবর, এ ঘটনা ঘটে যখন হেলিকপ্টারটি অবতরণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। দ্য হিন্দু সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হেলিপ্যাডের ভার সহ্য করতে না পারায় একটি অংশ ভেঙে যায় এবং হেলিকপ্টারটি অস্থির হয়ে পড়ে। তবে আশার খবর হলো, দুর্ঘটনায় কারো জীবনহানী বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ক্ষতি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টা 后, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সরিয়ে ফেলা হয়। স্থানীয় পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, শেষ মুহূর্তে অবতরণের স্থান হিসেবে এই স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয় এবং মূল পরিকল্পনা ছিল পাম্বার কাছের নীলক্কালে অবতরণ করা। তবে আবহাওয়ার খারাপ পরিস্থিতির কারণে অবতরণের স্থান পরিবর্তন করে প্রামাদমে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও দমকল কর্মীরা দ্রুত ভাঙা অংশগুলো ঠিক করে দেন। রাষ্ট্রপতি সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই পুরো ঘটনা ভিডিও আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন এএনআই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেলিপ্যাডের কংক্রিট পুরোপুরি সেট হয়ে ওঠেনি, তাই ওজনের চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে যায়। কংক্রিটের এই দুর্বলতার কারণেই হেলিপডের চাকাগুলি মাটির গর্তের মধ্যে প্রবেশ করে। প্রথমে পাম্বার কাছের নীলক্কালে অবতরণের পরিকল্পনা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটি পরিবর্তিত হয়ে প্রামাদমে হয়। এই দুর্ঘটনার সময় দ্রৌপদী মুর্মু কেরলার শবরীমালা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি অবতরণের পরই একাংশ ভেঙে যায়। স্থানীয় দমকল ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত বিপজ্জনক স্থান থেকে কপ্টারটি সরিয়ে আনার জন্য কাজ শুরু করেন। ঘটনা সংক্রান্ত ভিডিওতে দেখা যায় কিভাবে উদ্ধারকর্মীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টারটি নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছেন।

  • শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকে গুলিতে হত্যা

    শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকে গুলিতে হত্যা

    শ্রীলঙ্কায় এক বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকে তার কার্যালয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে ওই নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে এটিই প্রথম কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা।

    নিহত ব্যক্তির নাম লাসান্থা বিক্রমাসেকারা, তিনি ৩৮ বছর বয়সী এবং দেশটির উপকূলীয় শহর ওয়েলিগামার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। বুধবার স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে নিজ কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে এক বন্দুকধারী ঢুকে রিভলবার থেকে একাধিক গুলি চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই বিক্রমাসেকারা মারা যান। তবে অন্য কেউ হতাহত হননি। হামলার পরপরই হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কলম্বো পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খুনিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে, তবে হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

    বিরোধী দল সামাগি জনা বলাওয়েগায়ার (এসজেবি) এর সদস্য ছিলেন বিক্রমাসেকারা। ওয়েলিগামা কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দলের সঙ্গে দেশের ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

    চলতি বছরে শ্রীলঙ্কায় সহিংস অপরাধের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ছে, যার বেশিরভাগের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদি মাদকচক্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই বছরের মধ্যে শতাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত বছর ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সরকার আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এটিই তাঁর সরকারের প্রথম কোনও রাজনৈতিক নেতার হত্যাকাণ্ড। এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইনজীবীর ছদ্মবেশে একজন বন্দুকধারী কলম্বোর এক আদালত কক্ষে প্রবেশ করে একটি আসামিকে গুলি করে হত্যা করেন, যা দেশটির আইনশৃঙ্খলার উপর গভীর চাপ সৃষ্টি করেছে।

    সূত্র: এএফপি

  • ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর দখলের বিল পাস

    ইসরায়েলের পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর দখলের বিল পাস

    ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি বিল ইসরায়েলের পার্লামেন্টে প্রথম পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। এই বিলটি পাস হলে, এটি চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে এবং পশ্চিম তীরের ভূখণ্ডটি ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে ইসরায়েলের অনুমোদিত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে।

    তবে, এই সিদ্ধান্তে সরকারের প্রধান নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভিন্নভাবে মত প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এবিষয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি পার্লামেন্টের নেসেটে এই বিলের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে, যা পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই বিলটি অঙ্গরাজ্য হিসেবে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে হলে আরও তিন ধাপের ভোটের প্রয়োজন রয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর লিকুদ পার্টি এই বিলের বিরোধিতা করলেও, কিছু জোটসঙ্গী এবং বিরোধী সদস্যরা এতে সমর্থন দিয়েছেন। নেসেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো ‘ইসরায়েল সরকারের সার্বভৌমত্ব জুড়িয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে প্রয়োগ’ নিশ্চিত করা। পরে এটি সংসদের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে আলোচনা করার জন্য পাঠানো হবে।

    বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাস আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, পশ্চিম তীর সংযুক্তির অনুমতি তিনি দেবেন না, তখন এই ভোটের সময় এটি ঘটছে। একই সময় গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েল সফর করছেন।

    অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করেছে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হামাস, কাতার, সৌদি আরব ও জর্ডান। তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনের স্বচ্ছন্দ্য যে ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে চায় না, তা জোরপূর্বক সংযুক্ত করার চেষ্টা। তারা আরো বলেছে, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা একসাথে ভূগোলগতভাবে একটি সম্পূর্ণ অঞ্চল, যেখানে ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌম অধিকার নেই।

    হামাস এই বিলগুলোকে দখলদার ইসরায়েলের উপনিবেশবাদী প্রকৃতির অব্যাহত প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে এবং জানায়, পশ্চিম তীর দখলের এই প্রচেষ্টা অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য। কাতার এটিকে “ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক অধিকারের অপব্যবহার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন” বলে চিহ্নিত করেছে।

    সৌদি আরব রীতিনীতি হিসেবে জানিয়েছে, “ইসরায়েলের দখলদারি ও বসতি স্থাপনের কাজগুলো কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছে রিয়াদ।” জর্ডান বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে অঙ্গীকার লঙ্ঘন, দ্বিরাষ্ট্র প্রকল্পে বিষ্ফোরক বাধা সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মৌলিক অধিকার ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

    বর্তমানে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৭ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে। এসব বসতি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, শুল্ক ১৫-১৬ শতাংশে নামছে

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছে ভারত, শুল্ক ১৫-১৬ শতাংশে নামছে

    ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাণিজ্য বিরোধের অবসান হতে চলছে। শিগগিরই দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, যার ফলে ভারতের ওপর আমদানি শুল্ক বর্তমানে ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৫-১৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এই তথ্য জানিয়েছে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মিন্ট।

    সংবাদমাধ্যমটির তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হলো জ্বালানি ও কৃষি পণ্য। এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে, ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো যেতে পারে। পাশাপাশি, এই চুক্তি ভারতের জন্য মার্কিন সামগ্রী আমদানির রাস্তা সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের এই আলোচনা চলাকালে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রণালয় ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি উভয় পক্ষ। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি এই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। মোদি এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    মোদির এক্স (টুইটার) বার্তায় তিনি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপের জন্য ধন্যবাদ, আপনার উষ্ণ দীপাবলির শুভেচ্ছার জন্যও কৃতজ্ঞ। এই উৎসবের সময় আমাদের দেশ দু’টি গণতন্ত্রের আলোয় জেগে থাকুক এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসাথে দাঁড়াক।”

    সংবাদমাধ্যম মিন্তের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই আলোচনা ফলপ্রসু হলে ভারতের কৃষি পণ্য আমদানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, ভারত হয়তো ‘নন-জিএমও’ বা জিনগত পরিবর্তনহীন ভুট্টা ও সয়াবিন আরও বেশি করে কিনতে চায়।

    আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুল্কের হার পুনর্মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে, যার ফলে কোনো বিরোধ হলে দ্রুত সমাধান পাওয়া সহজ হবে।

    অন্তর্বর্তী সময়ে, চলতি মাসে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো, ইউক্রেন সংকটের পর ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল বিপুল মাত্রায় কিনে যেন ওয়াশিংটনের চাপ এড়াতে পারে। মনে করা হচ্ছে, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার ৩৪ শতাংশ, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাসের আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ। এই চুক্তি কার্যকর হলে রাশিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেবে।

    উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিমাণ ছিল ৫০ শতাংশ, এর মধ্যে ওই ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়া থেকে খুদে অবমুক্তি না থাকায় চলতি সময় ভারতের আমদানি খাতে এই দ্বিতীয় শুল্কের যোগফল ৫০ শতাংশে পৌঁছায়।

  • পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করুন

    পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করুন

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ‘খুবিই গুরুত্বপূর্ণ’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবার উন্নতিতে পেশাদারিত্ব জোরদার করার জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি কর্মশালা, যা বুধবার দুপুরে উদ্বোধন করা হয়। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই দুই দিনব্যাপী কর্মশালার শুভ সূচনা করেন।

    উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য অপসারণের জন্য পদ্ধতিগত উন্নতির পাশাপাশি পেশাদার ও অংশীদারিত্ব ভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল গড়ে তুলতে হবে। এই মডেল পর্যায়ক্রমে নগরীর পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর করার পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও লাভজনক হতে পারে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে খুলনা মহানগরীকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

    ‘সাসটেন্যাবল আরবান ওয়াটার সাইকেলস (এসইউডব্লিউসি)’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও এসএনভি যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় এটি ৪টি সিটি কর্পোরেশন ও তিনটি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    বিশেষত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা, পেশাদারিত্ব যোগ করার জন্য কাঠামো তৈরি, সাশ্রয়ী পরিষেবা মূল্য নির্ধারণ, বাসার ঘরে ঘরে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বেসরকারি কোম্পানি মনোনীত, ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা ও উপকরণ চূড়ান্ত করা ও একটি কার্যকর দল গঠন এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোহিনুর জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মীউল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের কান্ট্রি এইচআর ও অপারেশন্স ম্যানেজার অগাস্টিন অল্ড্রিন সরকার। পরিচালনা করেন এসএনভি’র ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর উজ্জ্বল কুমার দাস চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসএনভি’র বিজনেস এডভাইজার তানভীর আহমদ চৌধুরী, গভার্ন্যান্স এডভাইজার প্রশান্ত রঞ্জন শর্মা রায়, বিসিসি অফিসার খাদিজা তুল-কোবরা প্রমুখ।

    তার পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেন কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সী অফিসার প্রকৌশলী মোঃ আনিসুর রহমান ও মোঃ অহিদুজ্জামান খানসহ সহকারী কঞ্জারভেন্সী অফিসার, কঞ্জারভেন্সী সুপারভাইজার, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নেতা, চালকদের প্রতিনিধি, এসটিএস ও ডাম্পিং সাইটে নিয়োজিত শ্রমিকদের প্রতিনিধিরাও।

  • নগর বিএনপিতে আন্দোলন বিমুখ ও বিশ্বাসঘাতকদের স্থান নেই

    নগর বিএনপিতে আন্দোলন বিমুখ ও বিশ্বাসঘাতকদের স্থান নেই

    খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেছেন, অতীতে যারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে সংবাদপত্রে সংবাদ ও বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন, তারা কখনোই বিএনপির সদস্য হতে পারেন না। বিএনপি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এ ক্ষেত্রে নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক হলেও, যারা দলের শৃঙ্খলা ভেঙে ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর মত প্রকাশ করেছেন, তারা বিএনপির অংশ নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সাহসী আন্দোলনে সংগ্রাম করছে। এই সময়ে যারা দলের বিভ্রান্তি Generate করেছেন, তারা অজান্তে আওয়ামী লীগের স্বার্থকেও রক্ষা করছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে যারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহের হুঙ্কার দিচ্ছেন, তারা কখনোই বিএনপির আদর্শের অংশ হতে পারেন না। বিএনপি কারো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গঠিত একটি জনগণের দল। নেতৃত্ব অর্জনের জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতার ঘুম নেই। নাটকীয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নয়, বাস্তব কর্মের মাধ্যমে দলের মূল আদর্শ বজায় রাখতে হবে।

    গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রদত্ত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার মিছিল শেষে পথসভায় এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট মনা আরও বলেন, যারা ওয়ান ইলেভেনের সময় জিয়া পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি ও নেতাকর্মীদের প্রতারণা করেছে, তারা বিএনপিতে স্থান পায় না। খুলনা বিএনপি এখনও আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্রকারী বা দলবিরোধীকে দলে নেওয়া হবে না। শহরের রয়্যাল মোড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে প্রচার মিছিলটি শেষে শিববাড়ি মোড়ে পথসভায় মিলিত হয়।

    নেতৃত্ব পরিচ্ছন্ন ও দলের প্রতি আনুগত্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে দলীয় সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি কারণ আমাদের দেশ ভালোবাসি। দলের ভিতরে বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে তিনি মন্তব্য করেন, যারা ওয়ান ইলেভেনের সময় জিয়া পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আন্দোলনের নামে চাঁদাবাজি ও নেতা-কর্মীদের প্রতারণা করেছে এবং বিএনপি অফিসের সামনে গড়াগড়ি দেয়ার মতো নাটক করেছে, তারা কখনোই দলের অংশ হতে পারে না। খুলনার মানুষ এমন নেতাদের বিএনপিতে দেখতে চায় না।

    তুহিন আরো বলেন, খালনা বিএনপি এখন আন্দোলনের সফলতার প্রতীক। এর হাত ধরে খুলনায় ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটেছে এবং ভবিষ্যতেও এই মাটিতে ফ্যাসিস্টদের ঠাঁই হবে না। আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, খুলনার ছয়টি আসন ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত দলীয় হাইকমান্ডের উপরই নির্ভর করছে। খুলনা বিএনপি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ও অঙ্গীকারবদ্ধ, পলায়নপর নেতাদের জায়গা এখানে নয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ ও থানা, ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, জাসাস, মহিলা দল, তাঁতীদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি হচ্ছে দেশের মানুষের মুক্তি, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্রের মেরামত। খুলনা মহানগর বিএনপি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ শক্তি নিবেদন করবে।

    আজকের কর্মসূচি: বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রূপসার ফেরিঘাট থেকে রয়্যাল মোড় পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

  • খুলনায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী আটক

    খুলনায় স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা, স্বামী আটক

    খুলনার লবণচরা থানার দরগাপাড়া খালেকের বাড়ির ভাড়াটিয়া সবুজপল্লী (নং ৪ কাশেম সড়ক) এলাকার ডলি বেগম (৪৫) নির্মমভাবে হত্যা করেছেন তার স্বামী নাজমুল হাসান (৫০)। ঘটনাটি ঘটে আজ বৃহস্পতিবার সকালে (২৩ অক্টোবর) ভোরে, যখন নাজমুল তাঁর স্ত্রীকে ফল কাটা ছুরি দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় জবাই করেন। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের পরে স্বামী পালানোর চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং রিকশাচালক আরিফের সাহায্যে তাকে ধরে ফেলে। এরপর এলাকার মানুষ নাজমুলকে বেঁধে রাখেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। তাদের দুই সন্তান রয়েছে—এক পুত্র ফাহিম (২৫) এবং এক কন্যা সাদিয়া (২২)। মৃত ডলি বেগম পাইকগাছার শান্তা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের কন্যা।

    প্রতীকূলের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পাশের ঘরে চিল্লাচিৎকার শুনে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় ডলি বেগমকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। হঠাৎ করে নাজমুল হোসেন পিছনের বিছা দিয়ে পালিয়ে যান। তখন স্থানীয়রা দ্রুত তাকে খুমে নিয়ে যান এবং চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সঙ্গত তথ্য অনুযায়ী, কন্যা সাদিয়া জানায়, তার বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই ঝগড়া-ঝাটির জেরেই তার মা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছেন তার বাবা।

    লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, সকালে এলাকাবাসীরা ফোনে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকারী নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকা-টি সংঘটিত হয়। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ এই ভয়ঙ্কর ঘটনার মূল কারণ।

  • নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচা খুলনা জেলা শাখার আলোচনা সভা

    নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচা খুলনা জেলা শাখার আলোচনা সভা

    জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে খুলনা জেলা শাখার আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা স্কুল এন্ড কলেজের স্থানীয় অঙ্গনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম, এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ খুলনার পরিচালক জিয়াউর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

    আলোচনাসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খারাবাদ বাইনতলা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, এবং আমিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৌশিক পাল। সভাটি পরিচালনা করেন নিরাপদ সড়ক চাই খুলনা জেলা শাখার সহ-সভাপতি খাইরুল ইসলাম খান জনি।

    বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে যানবাহন চালকদের জন্য প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনেক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের জন্যও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রার্থীদের দক্ষ ও সচেতন করে তোলা, কারণ শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণের অভাবে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আবার সড়ক আইন না জানা মানুষের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। বক্তারা আরো বলেন, সড়কের নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সচেতন হয়ে আইন মানতে হবে এবং দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে

    কেন্দ্রীয় বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন না হলে দেশের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সংগঠিত চক্র পরিকল্পিত নাশকতা চালাচ্ছে, যা বর্তমান সরকারের কাছে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থতা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলে খুলনা-৪ আসনে পানীয় জল, আধুনিক রাস্তাঘাট, উন্নত হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষের জানমাল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। বিএনপি তার দীর্ঘসময় ধরে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বলেও তিনি জানান। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারায় রূপ দিতে প্রতিশ্রুতি দেন।

    আজিজুল বারী হেলাল গত বুধবার বিকেলে রূপসা উপজেলা যুবদল আয়োজিত আঞ্চলিক যুবসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তত্ত্বাবধানে বক্তারা বলেন, জাতির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’의 আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইবাদুল হক রুবায়েদ ও সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি।

    অন্যান্য অতিথির মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব মোঃ জাবেদ হোসেন মল্লিক।

    রূপসা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বাচ্চুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রুবেল মীরের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য শেখ আঃ রশিদ, মোল্লা এনামুল কবীর, আনিসুর রহমান বিশ্বাস, রিয়াজুল ইসলাম, এম এ সালাম, আছাফুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ, জেলা তাঁতিদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস, জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবদুল্লাহ আল কাফি সখা, গুলাম মোস্তফা তুহিন ও আলমগীর হোসেন L লালন।

    এছাড়াও বিভিন্ন নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দায়িত্বে অবদান রাখেন।

    তেরখাদা প্রতিনিধি জানান, আজিজুল বারী হেলাল দুপুরে তেরখাদা উপজেলার মারকাজ মসজিদে অনুষ্ঠিত তাবলীগের জোড়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, তাবলীগ মানুষের অন্তরে আল্লাহর পথে ফিরে আসার আলো জ্বালায়, শান্তি ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। সমাজ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচার দূর করতে তাবলীগের দাওয়াত ও বাস্তবায়ন জরুরি। এই কাজে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য মোঃ আব্দুস সালাম মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান মোল্লা, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাঈমুল হক, মোঃ বিল্লাল হোসেন, শেখ আজিজুর রহমান, মোঃ ফেরদৌস মেম্বার, এস কে নাসির আহমেদ, মোঃ পলাশ শেখ, মোঃ সাইফুল ইসলাম মোড়ল, খান গিয়াস উদ্দিন, শেখ রাজু আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ সোহাগ মুন্সী, মোঃ জামাল বিশ্বাস, কৃষক দলের সদস্য সচিব মোঃ সাবু মোল্লা, মোঃ আলমগীর শেখ, ছাত্রদের মধ্যে হাফেজ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোঃ আব্দুল লতিফ মোলা, মোঃ রাজু বিল্লাহ প্রমুখ।

    তাবলীগের জোড়ে শেষে আজিজুল বারী হেলাল তেরখাদা ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় সাবেক মেম্বার ফেরদৌস মোল্লার বাড়িতে উপজেলা মহিলা দলের আয়োজিত উঠান বৈঠকে উপস্থিত হন। কোহিনুর বেগমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা বেগমের পরিচালনায় এই বৈঠকে তারা বলেন, “নারীরাই প্রকৃত নেতা, সংগঠনের উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে নারীর ভূমিকা অপরিসীম।” নিজেকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির শক্তি বৃ্দ্দি করার জন্য নারীদের সম্মিলিত অঙ্গীকারই ক্রমবর্ধমান। হেলাল বলেন, “দেশের মানুষের মুক্তির জন্য বিএনপির দায়িত্ব নিতে হবে। সবাইকে মাঠে, জনতার পাশে থাকতে হবে, সৎ ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ করতে হবে।”