Category: রাজনীতি

  • তারেক রহমানের ভাষণে বদলে গেছে চেহারা, বদলায়নি চরিত্র

    তারেক রহমানের ভাষণে বদলে গেছে চেহারা, বদলায়নি চরিত্র

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি এখনও সক্রিয়। এ মানসিকতা আর ষড়যন্ত্রের রঙ-চেহারা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যে পাল্টে গেলেও, তাদের চরিত্র বা মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। सोमবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্টানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় দিন দেশের ইতিহাসে অমলিন হয়ে থাকবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই এই দিনে উদযাপন ও গৌরবের অনুভূতি বজায় থাকবে। তবে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সাগরের বুকে ভেসে ওঠা কোন ভূখণ্ড নয়। লাখো মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগ ও মায়েরা-নারীদের সম্মানচরমে তার বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত। এই ইতিহাসে নির্মিত বিভিন্ন গল্প, কবিতা রচিত হয়েছে দেশপ্রেমের স্বৈরাচারী ও মুক্তিযুদ্ধের ভক্ত-ভক্তাদের স্মৃতি ও গৌরবের জন্য। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্রীয় বিশদ লেখনী, যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধ, আমাদের জন্য এক অনন্য দলিল।

    তারেক রহমান বলেন, একটি পতিত দলীয় স্বার্থে স্বাধীনতার মূল ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি হীন মহল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অপব্যাখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে এ চক্র। তবে আমাদের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয়, যতই ষড়যন্ত্র হোক, আমরা এই সত্য উদঘাটন ও রক্ষা করবো।

    বিএনপি প্রধান আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হবে এই বিজয় দিবসের মূল অঙ্গীকার। তিনি মনে করেন, যতদিন পর্যন্ত জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত হবে না, ততদিন এই দেশের স্বাধিকার স্থায়ী হবে না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে বারবার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ইতিহাসই এই সত্যের প্রমাণ দেয়। জনগণ ক্ষমতাহীন থাকলে, রাষ্ট্রযন্ত্র শক্তিশালী হয় না।

    ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সত্যিকার গণতন্ত্রের জন্য দরকার হয়, জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন নিশ্চিত করা। বিএনপি সবসময় বলেছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় অপরিহার্য।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অজুহাতে ওশিক্ষা হয়ে অনেক চক্র দেশের নির্বাচনী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চেয়েছে। তবে, সব বাধা উপেক্ষা করে, দেড় দশক পর নির্বাচন কমিশন সামান্যই সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে ষড়যন্ত্রের কিছু অংশ এখনো থেমে নেই। ওসমান হাদির বিরুদ্ধে গুলি চালানোর মতো ঘটনাও এরই অংশ। এর পিছনের মূল কারণ ও পারিপার্শ্বিক প্রশ্নগুলোতে গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের হাতে প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ পাবে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে, তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিশ্বাস্যভাবে দেখতে চাইলে, বা নির্বাচন ছাড়াই থাকলে কারা লাভবান হবে? ভোট ছাড়া দেশ এগোতে পারবে না। ফলে, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলে ষড়যন্ত্রকারীর চেহারা জানা যাবে। তিনি বলেন, যারা অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের মোকাবেলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।

    তিনি বলছেন, যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছে, তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধীরস্থিরভাবে এগিয়ে গেলে, ষড়যন্ত্রকারীরা পিছু হটে যেতে বাধ্য হবে।

    তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস proves, ১৯৭১, ১৯৭৫, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, সবই জনগণের ঐক্যবদ্ধতাই বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সব কিছু করবেন। আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন, জনগণের সমর্থন আদায় করবেন—এ বিশ্বাস তার।

    নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন হবে শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, এটি দেশের স্বার্থ, ভবিষ্যতপ্রজন্মের স্বপ্ন, আশা, স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

    অবশেষে, তিনি সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মহান বিজয় দিবসের এই গৌরবজনক দিন উপলক্ষে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করে যাব। আগামী নির্বাচনেও জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন তিনি।

  • আ.লীগ ছিয়ানব্বই সালে ক্ষমতায় আসার আগে ক্ষমা চেয়েছিল ‘আমরা ভালো হয়ে গেছি’ মানে

    আ.লীগ ছিয়ানব্বই সালে ক্ষমতায় আসার আগে ক্ষমা চেয়েছিল ‘আমরা ভালো হয়ে গেছি’ মানে

    আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতায় এসে একের পর এক bloedাশ এবং গণহত্যা ঘটানোর পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি লাশ উপহার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে, তারা হাতজোড় করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন—বলেছিলেন, “অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যে অন্যায় আচরণ করেছে, যে জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে মাফ চাই। একটিবারের জন্য আমাদের ক্ষমতা দিন, আমরা ভালো হয়ে গেছি। এখন দেশের জন্য কিছু ভালো করতে চাই।” সেই সময় হাতে তসবিহ ও মাথায় ঘোমটা ছিল।’ আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস উপলক্ষে এক যুব ম্যারাথন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ ভুল বোধ করেছিল যে, তাদের মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আসল পর্যায়ে তারা বুঝতে পারেননি, যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, নিজের রূপ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। তা ছাড়া, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে বক্তৃতা তুলে ধরেন, যেখানে তিনি বলেছেন, “চট্টগ্রামের নেতাদের তিরস্কার করে, এক হত্যাকাণ্ডের পর বলেছিলেন—তোমরা কি হাতে চুরি পড়ে বসে আছো? যদি আমার দলের একজনকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার বদলে দশজন লাশ ফেলা হবে।” এই ছিল একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন হুঙ্কার ও উন্মাদনা। তখন বিভিন্ন খালে, বিল, নদী, জঙ্গলে, বাজারে, মাঠে একের পর এক মানুষের কাটা লাশ পাওয়া যেতে শুরু করেছিল।

    জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যার পরিণতি মানুষ স্বচক্ষে দেখেছে। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, আওয়ামী লীগ এই দুঃখের সময় থেকে শিখবে। কিন্তু তাদের প্রতিচ্ছবি তখনও একই রকম ছিল। এবছর তারা আবার ১৯৯৬ সালে মাথা হেঁট করে, হাতে তসবিহ নিয়ে ক্ষমা চেয়েছিল। সেই বছর ১০ জানুয়ারিতে তারা আবার ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই তিনটি সময়ে বাংলাদেশের যেখানে রয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের হাতে মানুষের জীবন হারিয়েছে, যেখানে মা-বোনের সম্মান লুট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সকল ক্ষেত্রেই তাদের দাগ পড়েছে। নোয়াখালীর মত এক জেলা যেখানে একাত্তরে এক নারীকে আওয়ামী লীগ বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছিল, একটি জাতীয় আঘাত।

    একাত্তরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ অর্জন ছিল, বাংলার ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তাদের স্বপ্ন ছিল, দেশের সব বৈষম্য দূর হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মর্যাদার স্থান হবে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠী সেই স্বপ্ন বিনষ্ট করেছিল।

    বলে তারাও বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ সেনা, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি রক্ষীবাহিনী গঠন করেছে। মায়ের ইজ্জত লুট করা হয়েছে। মন্ত্রীর ছেলেরা ব্যাংক ডাকাতিতে লিপ্ত হয়েছে, ৭৪ সালে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষে শত শত মানুষ মরেছে, মাঠ-ঘাটে লাশ পড়ে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারা বলেছে, বাংলাকে সোনার বাংলা করে গড়ব বলে, কিন্তু এদেশ শ্মশানে পরিণত হয়েছে। তাদের কার্যক্রমের ফলাফল এখন সব পরিষ্কার।

    যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতের ভ্রান্ত রাজনীতিকে বিসর্জন দিয়ে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দাঁড়াতে হবে। সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, এমন রাজনীতি করতে হবে যা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে রাখে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজ, ধর্ষক ও মামলাবাজের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য সংগ্রাম করতে হবে।

    ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘আমরা শুধু দলের জয় চাই না, পুরো ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। এই বিজয়ের জন্য যারা বাধা দেবে, যুব সমাজ তাদের লাঠি দিয়ে সরিয়ে দেবে।

    নির্বাচন কমিশনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোক্রমেই কমিশনের জন্য মোক্ষম সুবিধা চাই না। কিন্তু যদি কেউ অন্ধভাবে পক্ষপাতিত্ব করে, তা মাথা নিচু করে গ্রহণ করব না। আমরা চাই, কমিশন তাদের শপথের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে।’

  • মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো উঠে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করছে

    মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো উঠে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। তিনি বলেন, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে থাকত, আজও তারা তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের মুক্তি, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াইকারী মানুষ সব বাধা অতিক্রম করে তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে, ইনশ আল্লাহ।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয় দিবস পালনের সময় এই মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে উৎসর্গিত এই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের পাশাপাশি তিনি স্বাধীনতার ঘোষক এর ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিন তিনি শপথ নেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে কোনো ছাড় হবে না।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মহান বিজয় দিবসে দলের সকল নেতা-কর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকে স্মরণ করেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের প্রতীকে থাকা দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা জন্য তিনি প্রার্থনা করেন।

    তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরবেন। সেই প্রত্যাশায় তিনি দেশের গণতন্ত্রের চেতনায় আরও শক্তি যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানের সময় নেতৃত্বরা শহীদদের জন্য প্রার্থনা ও বিশেষ দোয়া করেন এবং জিয়াউর রহমানের কবরে মাল্যদান সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিজয় দিবসের এই সময়ে চারপাশে নেতাকর্মীরা জাতীয় স্লোগান দিয়ে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেন। সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধেও পুষ্পমাল্য গ্রহণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি মূল্যায়ন জানানো হয়।

  • নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা একত্রিত আছি

    নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা একত্রিত আছি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি, তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে গত ৫৪ বছর ধরে বারবার জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তরের দালাল এবং চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণ ও সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামীতে সঠিকভাবে মুক্তি ও উন্নতি অর্জন করা। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর), মহান বিজয় দিবসের সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের নেতা সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ আরও অনেকে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়। তখন দেশের সাধারণ মানুষ সম্মান, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিল। এই ভূখণ্ডের মানুষ যুগ যুগ ধরে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে আসছে। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই আজকের এই স্বাধীনতা অর্জিত। আমরা আজ তাদের স্মরণ করি, যারা দেশের জন্য জীবন খেটেছে, শহীদ হয়েছে এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য আত্মোৎসर्ग করেছে।’

    এছাড়াও তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাই, তাদের আত্মত্যাগের জন্য কৃতজ্ঞ। তবে, স্বাধীনতা পেয়েও দীর্ঘ ৫৪ বছরেও আমরা দেখেছি, দেশের সার্বভৌমত্ব ও রূপান্তরিত আদর্শ বাস্তবায়নে বারেবারে প্রতারণার শিকার হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি, বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কাÐেম হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে জনগণের বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই দীর্ঘ সংগ্রামের উদ্দেশ্য হলো, অতীতের মতো ভবিষ্যৎেও আমাদের একটি উন্নত, সমবায় ও সত্যিকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আমাদের বার্তা হলো, যারা বিভিন্ন শক্তি দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে চায়, তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের চাহিদা হলো শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করতে হবে। বরং আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে জনগণের মধ্যে কাজ করতে হবে। করোনা ও অন্যান্য সংকটকালীন সময়ে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই রাখতে হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়।’

    ভবিষ্যতের নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি গণভোট। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা হবে, দেশের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া, সংস্কার ও পরিবর্তন আনা। এনসিপির প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত।’

    অবশেষে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আমরা সরকারের রাজনীতি ও সমাজের উন্নয়ন জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাব, কখনোই পুরোনো অতীতের জায়গায় ফিরে যাব না। আমাদের লক্ষ্য, একটি শান্তিপূর্ণ, সমবায়, উন্নত এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। জনগণের ঐক্য এই লক্ষ্যে আমাদের শক্তি। আমরা একত্রে এগিয়ে যাব, ’৭১ এর দালালদের বিরুদ্ধে ও ’২৪ এর দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। সামনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।’

  • ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নাহিদ

    ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নাহিদ

    বর্তমান নির্বাচন গণপ্রতিনিধিত্ব কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্নচিহ্ন, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই ইসি এর সম্পূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়; এটি এক পরিকল্পিত হামলা। যদি নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য এ ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে তার পদে থাকার নৈতিক অধিকার বা যোগ্যতা নেই। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি দ্রুত এই মন্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানান। সোমবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশের জন্য কেউ বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্দেশে আসেননি। আমরা এখানে এসেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী হিসেবে। বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত, এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির নৈতিক অধিকার নেই। তার পদত্যাগের দাবি সমগ্র বিক্ষুব্ধ জনতার পক্ষ থেকে উচ্চারিত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা হলো আরও intensified, শহীদ পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানি বেড়েছে এবং মামলা-আটকের রাজনীতি চলমান। অথচ এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য আস্তে আস্তে হয় না, আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টারা সেই দায়িত্বে থেকে যান।’

    নাহিদ বাতলে দেন, ‘গত ১৬ বছরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিরোধীদল দমন ও নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই দক্ষতা একেবারে হাবুডুবু খেয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা খুনিদের সীমান্ত পাটিয়ে দিতে পারে, ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের গ্রেফতারকাজ সম্পন্ন হয় না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাই নয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিপ স্টেটের অংশ হিসেবেও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা গভীর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।

    বিজয় দিবসের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর শুধু বিজয়ের নয়, সেটি হলো প্রতিরোধের সূচনা, যেটা ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস থেকে শুরু হয়ে আজও চলমান। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ প্রতিরোধের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, বিজয় দিবসে উৎসবের পরিবর্তে, আমাদের প্রতিরোধের কর্মসূচি পালন করতে হবে।

    নাহিদ জানান, ‘ঢাকা শহরের রাজপথে ভারতীয় হস্তক্ষেপ ও বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বৃহৎ প্রতিরোধ র‌্যালি আয়োজন হবে। যদি ভারত মনে করে, ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশকে না জানিয়া-শোনা করে ধর্মরাজনীতি বা হস্তক্ষেপ চালাতে চায়, তাহলে তারা ভুল বুঝে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সম্মান ও বজায় রাখতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হাদির গুলি লাগার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; এটি বাংলাদেশের গৌরবময় বিপ্লবের ওপর আঘাত। বাংলাদেশের যতবারই এই ধরনের আঘাত আসে, তরুণরা রাজপথে নেমে সেই প্রতিরোধের আন্দোলন চালিয়ে যায়। আজ আমরা শহীদ মিনারে একত্রিত হয়েছি, সেই তরুণ প্রজন্মের শহীদ স্মৃতি স্মরণে।’

    অবশেষে নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত থাকবে। তবে যারা জুলাই বিপ্লবকে টার্গেট করে মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইননৈতিক মহলে মুজিববাদী রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

  • নাহিদ ইসলাম বলছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে

    নাহিদ ইসলাম বলছেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে পুনর্বাসনের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা গোপনে আওয়ামীপন্থী মতামত প্রকাশ করছেন, জয় বাংলা স্লোগান কোর্ট পাড়ায় শোনা যাচ্ছে এবং টক শোতে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এগুলো দেখেই মনে হয়, জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যেন পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে মাঠে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই বিশ্লেষণ তিনি শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এক বৈঠকের পর যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে ব্যক্ত করেন।

    নাহিদ ইসলাম আরও জানান, ওই বৈঠকের আগে গতকালের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তিনটি দলকে ডেকে একটি আলোচনা আয়োজন করা হয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতারা একসঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন, ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে, তবে একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় অপপ্রচার বা সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে যেন কোনো সুবিধা না দেওয়া হয়, এই বিষয়েও সব পক্ষ একমত।

    এনসিপির নেতা আরও জানিয়ে থাকেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গতকাল দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়। এটা বোঝাচ্ছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন নিয়ে একটি বিষপ্রজ্বলন শুরু করেছে। তাঁরা শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, প্রশাসনিকভাবেও এই হোতা। আর তাই, আওয়ামী লীগের এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় আমাদের সকল দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

    নাহিদ ইসলাম প্রকাশ করেন, কোর্ট পাড়ায় জামিনে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারটি প্রত্যেক দলের জন্য উদ্বেগের বিষয়। আইনজীবীরা অনেকের সঙ্গে জড়িত এবং মিডিয়া হাউস ও রাজনীতি সম্পর্কিত সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সব দলের জন্যই চ্যালেঞ্জ। তিনি বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তারা জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সবাই সমন্বিতভাবে সহযোগিতা করবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি, সরকার আরও কঠোর হওয়ার প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা থাকার দরকার, যাতে তারা সবাইকে নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে। ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের এখনই গ্রেপ্তার করতে হবে। সেই সঙ্গে, যারা এই পরিকল্পনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দরকার।

    নাহিদ অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ সমস্ত পরিকল্পনা Delhi-তে বসে করছে।’ তিনি বলেন, ‘ভারত সরকারের সরাসরি বা পরোক্ষ সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগ এ ধরনের ষড়যন্ত্র করতে পারে না। তারা জামিন, অর্থ ও অস্ত্রের মাধ্যমে এই জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। তাই, ভারত সরকারের কাছে দাবি, তাদের এই হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে ভারতের দূতাবাসের কর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে। বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ভারতের পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    নাহিদ আরও যোগ করেন, ‘আমরা দেখেছি, ৫ আগস্টের আগে ভারত আওয়ামী লীগকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছিল। তারা অবৈধভাবে টিকে থাকার জন্য এই সাহায্য দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গণে তারা নীরবে চাপ সৃষ্টি করে। তাই, ভারতের কাছ থেকে এ হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ।’

  • নির্বাচন আরও কঠিন হবে, ষড়যন্ত্র এখনও চলমান: তারেক রহমান

    নির্বাচন আরও কঠিন হবে, ষড়যন্ত্র এখনও চলমান: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন সাধারণের জন্য সহজ হবে না, কারণ ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন ঘটনায়—হাদিকে গুলির ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর ওপর হামলা—প্রমাণিত হচ্ছে যে, আমি আগে থেকেই বলছিলাম, ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি এবং পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এসব বিষয় এখন স্পষ্ট করে দেখাচ্ছে যে নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

    শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই বক্তব্য রাখেন তিনি। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তম দিন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

    তারেক রহমান জানান, আমাদের যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কম না করি, ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুববে। তিনি বলেন, প্রায়ই দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে বিএনপি। শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ধীরে ধীরে দেশের খাদের কিনারা থেকে মুক্ত করে আনা হয়েছে।

    তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে না, বরং আরও খারাপ পরিস্থিতি আসতে পারে। তবে আমাদের ভয় বা আতঙ্কে না পড়ে, সাহসী হতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। যত বেশি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবো, নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব, ততই ষড়যন্ত্রকারীরা পিছিয়ে যাবে। বিএনপির এই ক্ষমতা বা শক্তির মূল ভিত্তিই হলো ঐক্য।”

    তারেক রহমান দাবি করেন, ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর একমাত্র শক্তি ও ক্ষমতা বিএনপিরই রয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় প্রার্থীদের ওপর গুলির ঘটনা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ যাতে কোনো সুবিধা নেওয়া যায়।

    তিনি দেশের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যেমন খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, প্রযুক্তি, বায়ু ও পানির দূষণ রোধ—এসব বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, এখন সময় এসেছে—আমি কি পেলাম, এই চিন্তা বাদ দিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের জন্য কতটা করেছি সেটার মূল্যায়ন না করে, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা অবদান রাখতে পারলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কেউ দেশের জন্য কিছু করে যান, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন উন্নত হবে। আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

    তিনি আরও বলেন, এখন আর বসে থাকার সময় নয়। এই সংগ্রামে জয়ী হতে হবে। জয় নিশ্চিত করতে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তাদের সাথে না থাকলে কোনওভাবেই সফলতা আসবে না।

    এর মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এই কর্মশালার পরিচালনা করেন।

  • আশঙ্কা প্রকাশ মির্জা ফখরুলের, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা স্থানীয় ঘটনা ঘটতে পারে

    আশঙ্কা প্রকাশ মির্জা ফখরুলের, আরও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা স্থানীয় ঘটনা ঘটতে পারে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সতর্ক করে বলেছেন, দেশের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে জনগণ গণতন্ত্রের জন্য স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই আবার কিছু শত্রু নতুন হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি একটি হত্যাচেষ্টা ঘটেছে এবং এই ধরনের ঘটনাগুলি ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

    রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল বেলা রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এই দিনটি শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালিত হয়, যার সূচনায় বিএনপি পক্ষ থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের সহযোগী দোসরদের সাথে যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। তিনি বলেন, এই হত্যা যেন জাতিকে তাদের সবচেয়ে প্রিয় সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য চালানো হয়েছিল। এই দিনটি মনে করে রাষ্ট্র সেই মহান নেতাদের স্মরণ করবে এবং স্বাধীনতার চেতনাকে অটুট রাখতে সচেষ্ট হবে।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তার পক্ষ থেকে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তারা আজ এই স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পাশাপাশি তারা এই প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথ অটুট রাখবেন।

  • নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ড দাবি নাহিদের

    নির্বাচন ও অভ্যুত্থান ঠেকাতে লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ড দাবি নাহিদের

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার জন্যTARGET কিলিংয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক সংবাদসভায় এ দাবি তুলে ধরেন।

    নাহিদ বলেন, ওসমান হাদীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার পেছনে যারা রয়েছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগামিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও অভ্যুত্থান ঠেকানোর নাম করে TARGET কিলিংয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রশাসন ও সরকারী বাহিনীসহ ভেতর-বাহিরের সকল দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, এর ঘটনার মাধ্যমে অনেক রাজনৈতিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছে। সবাইকে সহমর্মিতা ও ঐক্য বজায় রেখে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায়, ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলোর সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

    নাহিদ বলেন, দেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলতে চান, সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে বিভক্তি ও অশান্তি ঠেকিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    জনগণের অধিকার, স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণ ও সচেতন বুদ্ধিজীবীরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন।

    অভিযোগ করে নাহিদ উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই দুর্বল। সরকার তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না, যা জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করছে। দেশের নিরাপত্তা ও শান্তি পরিস্থিতি উন্নত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় তিনি।

    উল্লেখ্য, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্থান দুটিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসটি পালনে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সেখানে উপস্থিত হন এবং স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

  • হাদির উপর আঘাতকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী মির্জা আব্বাস

    হাদির উপর আঘাতকারীদের কঠোর শাস্তি দাবী মির্জা আব্বাস

    ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, হাদি আমার সন্তানের মতো। হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে আমি মানসিকভাবে খুবই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। তিনি বলেন, এ ধরনের আঘাত শুধুই একজন ব্যক্তির নয়, এটি গণতন্ত্রের উপর এক গভীর আঘাত। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চে আলোচিত ঘটনায় প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার আন্দোলনের আওতায় এক বক্তৃতায় মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন। তিনি বলেন, হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় বিকেল দুইটার দিকে আমি হাসপাতালে পৌঁছেছি। তার আধাঘণ্টা পরে ফেসবুকে অপ্রত্যাশিত উসকানিমূলক পোস্ট দেখা যায়, যা পুরোপুরি পরিকল্পিত ছিল। আমি ঢাকার সন্তান। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এই শহরে রাজনীতি করছি। আমি কখনো উত্তেজনা সৃষ্টি করিনি, কারণ এটা হাদির সুচিকিৎসায় বিঘ্ন তৈরি করত। তিনি বলেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্র অনেক সময় দেখেছি, ১৯৭১, ১৯৮৬-সহ বিভিন্ন সময় এ ধরনের শক্তি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়েছে। এরা হলো মূল শক্তি, যারা স্থির রাষ্ট্র সহ্য করতে পারে না এবং বারবার রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে রাখতে চায়। হাদির উপর হামলার পর, ফেসবুকে একশ থেকে দুইশ’ লোক উসকানি দেয়ার জন্য পোস্ট করে দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে চেয়েছে, যা সবাই নিরীহ চরিত্রের। বিএনপি নেতার মতে, এই উসকানি মূলত এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের দ্বারা চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমি ৭১, ৮৬ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি, কখনো কারও সঙ্গে মারামারি করিনি। বরং প্রার্থীদের এক সঙ্গে কোলাকুলি করেছি, খেয়েছি। আওয়ামী লীগ অন্যায়ভাবে মারামারি করে, নির্বাচন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা অস্থির করে তোলে। তিনি দাবি করেন, হাদির ওপর হামলাকারী দ্রুত গ্রেফতার হোক এবং এই হামলার সঙ্গে জড়িত মুখোশ উম্মোচন করা হোক। মির্জা আব্বাস যোগ করেন, হাদির আমার নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তিনি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি একজন সাহসী রাজপথের সৈনিক। আমি আশা করি, আবারও তাকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় দেখা যাবে।