ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নাহিদ

বর্তমান নির্বাচন গণপ্রতিনিধিত্ব কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্নচিহ্ন, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই ইসি এর সম্পূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়; এটি এক পরিকল্পিত হামলা। যদি নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য এ ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে তার পদে থাকার নৈতিক অধিকার বা যোগ্যতা নেই। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি দ্রুত এই মন্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানান। সোমবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘আজকের এই সমাবেশের জন্য কেউ বিশেষ রাজনৈতিক দলের নির্দেশে আসেননি। আমরা এখানে এসেছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী হিসেবে। বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে নিপতিত, এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির নৈতিক অধিকার নেই। তার পদত্যাগের দাবি সমগ্র বিক্ষুব্ধ জনতার পক্ষ থেকে উচ্চারিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কর্মীদের ওপর হামলা হলো আরও intensified, শহীদ পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানি বেড়েছে এবং মামলা-আটকের রাজনীতি চলমান। অথচ এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিচারকার্য আস্তে আস্তে হয় না, আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টারা সেই দায়িত্বে থেকে যান।’

নাহিদ বাতলে দেন, ‘গত ১৬ বছরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিরোধীদল দমন ও নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই দক্ষতা একেবারে হাবুডুবু খেয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, তারা খুনিদের সীমান্ত পাটিয়ে দিতে পারে, ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের গ্রেফতারকাজ সম্পন্ন হয় না।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাই নয়, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিপ স্টেটের অংশ হিসেবেও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা গভীর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।

বিজয় দিবসের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর শুধু বিজয়ের নয়, সেটি হলো প্রতিরোধের সূচনা, যেটা ১৯৭১ সালের বিজয় দিবস থেকে শুরু হয়ে আজও চলমান। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এ প্রতিরোধের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, বিজয় দিবসে উৎসবের পরিবর্তে, আমাদের প্রতিরোধের কর্মসূচি পালন করতে হবে।

নাহিদ জানান, ‘ঢাকা শহরের রাজপথে ভারতীয় হস্তক্ষেপ ও বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বৃহৎ প্রতিরোধ র‌্যালি আয়োজন হবে। যদি ভারত মনে করে, ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশকে না জানিয়া-শোনা করে ধর্মরাজনীতি বা হস্তক্ষেপ চালাতে চায়, তাহলে তারা ভুল বুঝে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সম্মান ও বজায় রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদির গুলি লাগার ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; এটি বাংলাদেশের গৌরবময় বিপ্লবের ওপর আঘাত। বাংলাদেশের যতবারই এই ধরনের আঘাত আসে, তরুণরা রাজপথে নেমে সেই প্রতিরোধের আন্দোলন চালিয়ে যায়। আজ আমরা শহীদ মিনারে একত্রিত হয়েছি, সেই তরুণ প্রজন্মের শহীদ স্মৃতি স্মরণে।’

অবশেষে নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রা অব্যাহত থাকবে। তবে যারা জুলাই বিপ্লবকে টার্গেট করে মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইননৈতিক মহলে মুজিববাদী রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’