অধ্যাপক জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের তিন দফায় ক্ষমতায় আসা সময়ের নানা অন্ধকার ও অপ্রাপ্তি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা ছোপ ছোপ রক্ত আর হাজারো লাশ দিয়ে গঠিত এই দেশকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগ হাতজোড় করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিল, বলেছে, ‘অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে যে অন্যায় ও জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে ক্ষমা চাই। একবার ক্ষমতায় দিন, আমরা ভালো হয়ে যাবো। এখন দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’ এ সময় তার সাথে তসবিহ ছিল এবং মাথায় ঘোমটা পরা ছিল।তিনি বলেন, আজকের দিনে জনগণ তাদের বদলানোর আশায় ছিল। কিন্তু তারা বোঝেনি, ক্ষমতায় আসার পর তাদের প্রকৃত রূপ আবার প্রকাশ পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে বলেন, ‘আমাদের দল যদি এক জনকেও হত্যা করে, তবে তার বদলে দশটি লাশ ফেলে দিতে হবে।’ এই হুঁশিয়ারি যে দায়িত্বজ্ঞানহীন ছিল, তা স্পষ্ট। তিনি বলেছিলেন অশান্তি ও হত্যাকাণ্ডের কারণে একই সময়ে নদী, খাল, বিলে অজস্র লাশ পড়ে থাকত।আওয়ামী লীগের ইতিহাসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত একনায়কতন্ত্র চালু ছিল, যার ভয়াবহতা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণ আশা করেছিল, এই ভয়াবহ অভ্যুত্থান থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ’৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। এরপর তারা ১৯৯৬ সালে আবার ক্ষমতায় এসে ক্ষমা চায় হাতে তসবিহ নিয়ে। ২০০৯ সালে আবার সরকারে আসে। এই তিনবারের শাসনামলে দেশের একাধিক এলাকার মানুষ নিহত হয়, নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়। তিনি নোয়াখালী সদরে এক মানুষের মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠনের ঘটনা উল্লেখ করেন।একাত্তরের ইতিহাস সরাসরি তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক সবাই বুক চিতিয়ে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বপ্ন দেখেছিল, দেশের সব বৈষম্য দূর হবে ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে শাসকগোষ্ঠীর অবহেলায় এসব স্বপ্ন ভেঙে যায়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে সেনা, আধা সামরিক বাহিনী, পুলিশ থাকলেও রক্ষীবাহিনী গঠন করে নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হয়। মন্ত্রী ছেলেরা ব্যাংক লুটে লিপ্ত হয়। ৭৪ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে শত শত মানুষ লাশ পড়ে থাকত, তাদের দাফনের জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থা ছিল না। তারা শ্লোগান দিয়েছিল সোনার বাংলা গড়ার, কিন্তু পরিণতিতে দেশ শ্মশানে পরিণত হয়। এর ফলশ্রুতিতে তাদের কার্যক্রম দুনিয়া ত্যাগ করে।তিনি যুবকদের উদ্দেশে বলেন, অতীতের সব খারাপ রাজনীতি পায়ে ঠেলে দিতে হবে। এখন দেশের রাজনীতি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকতে হবে। এমন রাজনীতি যা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজ, ধর্ষণকারীদের বিপক্ষে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কেবল আমাদের দলের জয় চাই না, ১৮ কোটি মানুষ যেন বিজয় অর্জন করে, এই বিজয়ের জন্য যারা বাধা দেবে, তাদের এই যুবসমাজ লাথি মেরে সরিয়ে দেবে।’ তিনি নির্বাচনি কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা কোনো উপকার চাই না। তবে যদি কমিশন কারও প্রতি কিছু বিষয়েও তোষামোদি করে, তা আমরা সহ্য করব না। আমরা চাই, নিরপেক্ষভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, আপনারা নিজের শপথের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।’
Category: রাজনীতি
-

তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার প্রত্যাশা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি নিজেই আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশের ফেরার তারিখ উল্লেখ করেছেন। তিনি একান্তই বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেছেন, ইনশাআল্লাহ, তিনি সেদিনই দেশে ফিরে যাবেন। দীর্ঘ আটাশ বছর দেশের বাইরে থাকলেও তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন कि খুব শিগগিরই তিনি নিজ দেশে ফিরবেন এবং দলের সঙ্গে থাকবেন।
এই ঘোষণা তিনি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দিনটি আমাদের জন্য অত্যंत গুরুত্বপূর্ণ— একদিকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের স্মৃতি, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের প্রিয় দলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের সময়। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে প্রায় ১৮ বছর কাজ করেছি, কিন্তু এবার আমি আশা করি, আগামী ২৫ ডিসেম্বর ইনশাআল্লাহ, আমি দেশে ফিরে আসব।’
তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, ১৯৭৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতির স্বাধিকার আক্রমণে যারা শামিল হয়েছিল, ৮১ এবং ৯৬ এর সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রকারীরা— সবাই এখনও সক্রিয়। তিনি বলেন, ‘‘এখনো তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’’
বিএনপি নেতা আরও মন্তব্য করেন, স্বৈরশাসক সরকার অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকাআঁই এদিক-সেদিক পাচার করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি স্বপ্ন দেখায় না, বরং বিশ্বাস করে, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে।
নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে কাজগুলো সহজ হবে না। তবে একসাথে থাকলে তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের জন্য তাদের পরিকল্পনাগুলো সফল হবে এবং সুস্পষ্ট পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।
তিনি বলেন, দুমাসের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিন আসছে। এই সময়ত, জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই বিএনপির দায়িত্ব, আর সঙ্গে সেই সঙ্গে দেশের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান আরও বলেন, তিনি কোনো স্বপ্ন দেখছেন না, বরং পরিকল্পনায় আছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশকে উদ্ধার করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বঙ্গমাতা খালেদা জিয়া। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের ভোট দেবে এবং তারা সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।
২০০৭ সালের এক-এগারো’র রাজনৈতিক অস্থিরতায় তারেক রহমান গ্রেফতার হয়েছিলেন। এরপর, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন।
-

নাহিদ ইসলামের জানালেন একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েও বিগত ৫৪ বছর ধরে ইতিহাসের নানা সময়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের তরুণসমাজসহ দেশের সাধারণ মানুষ একত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়ে আছেন। এগিয়ে গেলে আমাদের বিজয় অবশ্যই আসবে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর), মহান বিজয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ বীরদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম অতীতের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এই ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তি, সম্মান ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সাধারণ মানুষ, তরুণেরা যুদ্ধের মাধ্যমে মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়েছেন। তিনি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলে নানা সময়ে অভিযোগ উঠে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ও লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়নি। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। এ কারণে, তিনি ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও গণবিপ্লবের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে ইয়ংভাবে একত্রিত হয়ে বাস্তবায়িত হবে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে নানা অপচেষ্টা চালিয়ে দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত শক্তিগুলো। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, আইন-শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবাই একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি, তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের অপদর্শনায় অনেক অপরাধী ও হত্যাকারীরা এখনো শনাক্ত ও গ্রেপ্তার হয়নি।
তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের মধ্যে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্টের পরে আমরা এ দায়িত্ব নিজেকেই নি:শর্তে গ্রহণ করেছি। বর্তমানে দেশে কি পরিস্থিতি চলছে, সেটিও বিবেচনা করে বলেন, সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা সম্ভব নয়।
সংঘর্ষ ও ভোট যেন গণভোট হিসেবে বিবেচিত হয়—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, عوامকে সচেতন থাকতে হবে। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে পারফরম্যান্সের মূল উদ্দেশ্য হলো গণভোট। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সংস্কার ও পরিবর্তনের গণজোয়ার তৈরি হবে—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এনসিপির প্রার্থীরা জনগণের দোড়গোড়ায় গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সংস্কার সমর্থন করবেন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশকে নতুন দৃষ্টিতে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেন, ভৌতিক পূর্ববর্তী অবস্থা ফিরে যাবে না। এই বিজয় তথা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দান করে, দেশের যুবকদের ও সাধারণ জনগণের একতার বার্তা প্রচার করে তারা ভবিষ্যৎমুখী শাসননীতির পথ উন্মোচন করবেন।
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, ’৭১ ও ’২৪ এর দালালদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা এখনো একত্রে। সামনে আমাদের বিজয় আসবে, সেই চেতনাকে নানা পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই অদম্য ঐক্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একদিন দেশের সত্যিকার মুক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করব।’
-

খুনিদের ফেরত না দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে না
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা যদি ভারতে পালিয়ে থাকেন, তবে তাদের ফেরত ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই লড়াই শুধুমাত্র এক জন নেতার হত্যার বিচার নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করার গুরত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সংগ্রাম।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে সংহতি জানাতে এসে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও।
নাহিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকেই নয়, দেশের দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ভারতীয় আধিপত্যেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ১৯৭১ সালের পর থেকেই বরাবরই প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন এই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেই সংগঠিত হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই সংগ্রাম থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।
নাহিদ আরও বলেন, শরিফ ওসমান হাদির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই শাহবাগ থেকে শুরু হয়েছিল। তার মূল সংগ্রাম ছিল ভারতীয় ও বৈদেশিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা শুধু আওয়ামী লীগকে সংশোধনই করিনি, বরং দেশের প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধেও মানুষের অদম্য প্রতিরোধের রায় দিয়েছি। এই আন্দোলনকে তিনি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার উল্লেখযোগ্য অংশ বলেও অভিহিত করেন।
নাহিদ আন্দোলনকারীদের চলমান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এলে প্রয়োজনে কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আন্দোলনের ভেতর থেকে অপপ্রচারের চেষ্টা—যেন নাশকতা বা স্যাবোটেজ—তোমাদের ব্যর্থ করতে পারে। এজন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে। দফায় দফায় স্লোগান দিয়ে মঞ্চ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এই সময় ডাকসুর সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পরিস্থিতির উত্তেজনা এড়াতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী আরও বেশি শক্তি মোতায়েন করেছে।
-

তারেক রহমানের অনুরোধ: আমাকে বিদায় দিতে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না
দেশে ফেরার আগেই দলের নেতাকর্মীদের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের স্মরণসভায় তিনি এই আবেদন জানান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আয়োজনের মূল দুটি বিষয়—একটি ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, আর অন্যটি অনেক দিন ধরে থাকা একটি সম্পর্কের অব্যাহততা। আমি বলছি, আগামী ২৫ ডিসেম্বর ইনশাআল্লাহ আমি দেশে ফিরে আসব।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার সকলের কাছে সেটা আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহর রহমতে আমি ফিরে আসতে পারব। তবে, আমার এই অনুরোধ, দয়া করে কেউ যেন ২৫ ডিসেম্বর এয়ারপোর্টে যান না। কারণ, যদি কেউ যান, সেটা একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এতে দেশের মানসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকবে না, দলের মর্যাদাও ক্ষুণ্ণ হবে।’ তিনি জানান, যারা এ দিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, তারাও দেশের স্বার্থে এই প্রত্যাশা রাখছেন। কিন্তু যারা এ অনুরোধের অন্যথা করবেন, তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সেখানে গিয়েছেন বলে তিনি ধারণা করেন। এর আগে, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরবেন এবং দলের পক্ষ থেকে তাকে গস্থ স্বাগত জানানো হবে। সেই রাতে গুলশানে বিএনপি প্রধানের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য নেতারা। বৈঠক শেষে জনান হয়, বিএনপির এই নেতাকর্মীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসছেন—এ সুখবর সবাই উচ্ছ্বসিত ও স্বাগত জানাচ্ছেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর ঢাকা এসেছেন। বর্তমানে তিনি বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ২০০৭ সালের এক-এগারোর পর তারেক রহমান গ্রেফতার হন। পরে, ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখান থেকেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে একাধিক মামলা হয়, এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় সাজা হয়েছে।
-

আ.লীগ বিনা শর্তে ক্ষমা চেয়েছিল ১৯৯৬ সালে: জামায়াতের আমিরের বিস্তৃত মন্তব্য
আওয়ামী লীগ তিন দফায় ক্ষমতা গ্রহণের সময় একাধিকবার জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আগে তারা হাতজোড় করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল এবং বলেছিল, ‘অতীতে আমাদের দল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যে অন্যায় ও জুলুম করেছে, আমরা বিনা শর্তে তার জন্য ক্ষমা চাই। একটি মাত্র সময়ের জন্য যদি ক্ষমতায় যান, আমরা পরিবর্তিত হয়েছি এবং এখন দেশের জন্য ভালো কিছু করতে চাই।’ এর সাথে ছিল তসবিহ এবং মাথায় ঘোমটার অস্তিত্ব। আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুব ম্যারাথন সম্পাদনের সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ সহজ সরল মনে ধারণ করে ছিল যে, আওয়ামী লীগ মানসিকতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। যখনই তারা ক্ষমতায় এসেছে, নিজেদের রূপ প্রকাশ করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামের নেতাদের তিরস্কার করে, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেন্দ্র করে—তোমরা কি হাতে চুরি পরে বসে আছো?’ এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আর যদি আমার দলের একজনকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার বদলে দশজনের লাশ ফেলতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হুঙ্কার ও হুমকি দেশের সবখানে স্তব্ধতা সৃষ্টি করেছিল, যেখানে খালে, বিলে, নদীতে, জঙ্গলে, হাটে-যোগের মাঠে আঞ্চলিকভাবে লাশের স্তূপ দেখা যেত।
তিনি আরও জানান, ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ওপর একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার দর্শন এবং পরিণতি মানব সভ্যতা দেখে। তিনি বলেন, দেশবাসী এই সময় থেকে শিক্ষা নেবে ভেবেছিল, কিন্তু সত্যি দাঁড়ায় যে, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিভিন্ন স্বপ্ন ধূলিসাৎ করেছে।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের সময়গুলো তুলে ধরে তাঁর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় ছিল, তারপর ১৯৯৬ সালে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে। এরপর ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে। এই তিন দফায় বাংলাদেশের জনপদে একবারও শান্তি আসেনি, মানুষের প্রাণ ঝরেছে, মা-বোনের ইज्जত লুণ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীতে এক মা-কে আওয়ামী লীগ বিবস্ত্র করে নৃশংসভাবে নির্যাতন করেছিল, সেটি এই দলের চরম দৃষ্টান্ত।
একাত্তরের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময় ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, স্বপ্ন দেখেছিল প্রিয় মাতৃভূমি সব বৈষম্য থেকে মুক্ত হবে, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মর্যাদার আসনে বসবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর শাসকগোষ্ঠী এই প্রত্যাশার বারোটা বেজে দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পরেও সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও রক্ষীবাহিনী গঠন হয়েছিল যারা মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করত। জলাদিপ্ত সময়ে মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন, ব্যাংক ডাকাতি ও দুর্নীতির মতো অগণিত প্রকার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। তারা ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে দেশটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শফিকুর রহমান তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের অপসংস্কৃতি ও রাজনীতি থেকে নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যেতে হবে। আজকের রাজনীতি হবে প্রিয় মাতৃভূমির স্বার্থে, সার্বভৌমত্বের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মামলাবাজের হাত থেকে মুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আমাদের দলের বিজয় চাই না। আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এই জন্য যারা বাধা দিতে চায়, যুব সমাজ তাদের লাঠি ভরে সরিয়ে দেবে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বাধীনভাবে পরিচালনার জন্য তিনি ভোটের নিরপেক্ষতা জোরালো করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর আমরা কোনো ভ্রান্ত ধারণা নেই। তবে যদি তারা কারো প্রতি যেনো কোনো অপ্রত্যাশিত মনোভাব দেখায়, আমরা তা বরদাস্ত করব না। বিইশ্বেপূর্নতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য আমরা আপনাদের শপথে থাকতে আহ্বান জানাই।’
-

মির্জা ফখরুলের ভাষায়: স্বাধীনতার শত্রুরা আবারো মাথাচাড়া দিতে চায়
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার শত্রুরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। তিনি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা একাত্তরে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা আজ আবার তাদের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যেতে চাইছে। দেশের মুক্তিকামী, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ সব বাধা অতিক্রম করে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অটুট রাখবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়া শহীদ প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে শুরু হওয়া যুদ্ধের বিজয় আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবান্বিত। এই দিনটি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা তাদের প্রতি সম্মান জানাই, মর্যাদা দিই, এবং শপথ নেই যে, আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, মহান বিজয় দিবসের এই দিনে তিনি দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কঠিন অসুস্থ থাকলেও, আমরা অন্তরের গভীর থেকে প্রার্থনা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। এছাড়াও তিনি জানিয়ে দেন, তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত থাকলেও, তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। এ জন্য দলের নেতাকর্মীরা সকালের আনুষ্ঠানিকতার সময় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিভিন্ন সংগঠন এবং দলীয় অঙ্গসংগঠন থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিজয় দিবসের এই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা নানা স্লোগান দিয়ে সমর্থন জানান—‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও সালাম লও সালাম’, ‘স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা রাখব’ ইত্যাদি। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের সম্মানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
-

নাহিদ ইসলাম: একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে 우리는 একাত্ম
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেখতে পেয়েছি বাংলাদেশের মানুষ নানা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একাত্তরের দালালদের সাথে সাথে চব্বিশের দালালদেরও আমরা কাউন্টার করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ, সাধারণ মানুষ ও জনগণ একযোগে এই দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।
আজ (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। এ উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অনেকে।
নাহিদ ইসলাম ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণ করে দেশের মুক্তি আনলেও, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ সময় লড়াই করেছে স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। সেই সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের পরও মূল লক্ষ্য পূরণ হয় নি বলে তিনি মনে করেন। দেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। বরং দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লড়াই ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যতের নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কিছু অসাধু শক্তি, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা নির্বাচনকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, জনগণ চায় শান্তি, আইন- শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক। এইজন্য সরকারের কাছে তারা দাবি করেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দমনক্ষমতা নিশ্চিত করতে।
নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরে নিজের নিরাপত্তা নিজেদেরেই রাখতে হয়েছিল। বর্তমানেও সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়।
আসন্ন নির্বাচনকে তিনি গণভোট হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন একটি গণভোট, যেখানে সংস্কারের পক্ষে সবাই গর্জে উঠবে। তার আশা, এর মাধ্যমে একটি নতুন সুরে সারা দেশে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা কখনোই পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাব না। তিনি বলেন, আবারো বলছি, ’৭১-এর দালালদের বিরুদ্ধে, ২০২৪ সালের দালালদের বিরুদ্ধেও আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। এই বিজয় আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তা নিশ্চিত। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এক স্বাভাবিক, শক্তিশালী ও মুক্তিযুদ্ধের ideals-অনুপ্রাণিত দেশের উদাহরণ। আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে, এবং আমাদের সামনের দিনগুলো হবে বিজয়ের দিন।
-

তারেক রহমানের অনুরোধ: আসবেন না এয়ারপোর্টে বিদায় দিতে
দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশেষ অনুরোধ করেছেন, যেন তারা ২৫ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার দিন এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে বিদায় না দেন। তিনি এ অনুরোধটি মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় নিজের বক্তব্যে ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এখন তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি দিন রয়েছে, অনন্তঃ ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর তাঁর দেশে ফিরে আসার দিন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যে, ইনশাআল্লাহ সৌভাগ্যক্রমে আমি ফিরে আসবো। কিন্তু আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, ২৫ ডিসেম্বর যখন আমি দেশে ফিরব, তখন কেউ যেন এয়ারপোর্টে গিয়ে আমার বিদায় দিতে না যান। কারণ, এতে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশের তথা দলের সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা সেদিন এয়ারপোর্টে উপস্থিত হবেন না, তারা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে না গিয়ে দলের ও দেশের স্বার্থে সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টিকে বিবেচনা করবেন। আর যারা তার এই অনুরোধ অমান্য করে যায়, অর্থাৎ এয়ারপোর্টে উপস্থিত হন, তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সেখানে গিয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।’ এর আগে, ১২ ডিসেম্বর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলটির দলীয় প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরবেন এবং এর জন্য দল স্বাগত জানাচ্ছে। ওই দিনই গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন, এবং আমরা তাকে উষ্ণ স্বাগত জানাচ্ছি।’ বর্তমানে খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তারেক রহমান ২০০৭ সালের এক-এগারো আন্দোলনের পরে গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি সেখানেই থাকছেন এবং দল পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে এক-এগারো ও পরবর্তী সরকারের আমলে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়, যার মধ্যে পাঁচটিতে সাজাও হয়।
-

তারেক রহমান বললেন, ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নিজেও তার দেশের ফেরার তারিখ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি জানান, ‘ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাবো। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে কাজ করছি।’ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় দুটি। প্রথমত, আজ ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবের দিন। দ্বিতীয়ত, তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর দেশ থেকে দূরে থাকতে হলে এখন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন। এই সভায় তিনি দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প ষড়যন্ত্রকারীরা, ১৯৭৫ সালের ১৭ নভেম্বরের পরাজিতরা, ৮১ ও ৯৬ সালের ষড়যন্ত্রকারী পুঁজির রাজনৈতিক কূটকৌশলকারীরা এখনও থেমে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র এখনো সক্রিয় রয়েছে, সুতরাং সববাসীর সতর্ক থাকার গুরুত্ব উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বপ্ন দেখানো কি সরকারের কাজ? নয়, বিএনপি বিশ্বাস করে স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের। তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন দেখানো কাজ নয়, কাজ হলো পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা।’ বক্তৃতায় তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকার বিভিন্ন সময় দেশের আয়ের বিশাল অংশ পাচার করেছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, তারা একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুমাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে দেশের জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে তারা একটি কার্যকারী সরকার গঠন করতে পারবে। তিনি বলেন, আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে আছি না, আমি পরিকল্পনার মধ্যে থাকি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেশকে উদ্ধার করেছেন। বিএনপি বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতের নির্বাচনে তারা দেশকে নতুনভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
২০০৭ সালের এক-এগারো’র রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০০৮ সালে তিনি কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাজ্যে যান, যেখানে এখনো থাকছেন।
