Category: রাজনীতি

  • রুমিন ফারহানা ঘোষণা দিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে লড়াইয়ের

    রুমিন ফারহানা ঘোষণা দিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে লড়াইয়ের

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা। তিনি এই ঘোষণা দেন স্থানীয় সরকারি দোয়া ও মতবিনিময় সভায়, যা অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর বাজারে। এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকে থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক।

    রুমিন ফারহানা সভায় বলেন, আমি যা বলি, আমি তা-ই করি, আর আমার এলাকার মানুষের সিদ্ধান্তই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, যদি locals সবাই পাশে থাকেন, তাহলে কোনও ভেদাভেদ বা মার্কা যা-ই হোক না কেন, সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই তিনি নির্বাচনে লড়বেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ আসনে যখন মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তখন এই এলাকার মানুষ প্রার্থীকে জানে না, যা গভীর দুঃখের বিষয়। নিজের দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, আগের ১৭ বছরে তিনি কী ভূমিকা রাখেননি, সেটি তিনি ব্যক্ত করবেন না, কারণ মানুষ জানে। নিজের রাজনীতির জন্য তিনি রাজনীতি করছেন, যেন বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারি। তিনি আস্থার সাথে বলেন, যদি সবাই পাশে থাকে, তাহলে বাংলাদেশ জয় করতে পারবেন।

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৫ বছর ধরে মানুষ প্রকৃত ভোট দিতে পারেনি। এখন সরকার দাবি করছে, ২০২৬ সালে সবচেয়ে সুন্দর ও ফলপ্রসূ নির্বাচন দেবে। আমরা এই কথা বিশ্বাস করতে চাই।

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। ৫ আগস্টের পর থানাগুলো থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, ভোটার, প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

    প্রায় প্রতি সপ্তাহে এই এলাকা সফর করার কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছি। এই দুই উপজেলা মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনারা যদি আমাকে ভোট দেন, তাহলে সংসদে গিয়ে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।

    উল্লেখ্য, বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭২টি আসনের জন্য দুই দফায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জন্য এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি। রুমিন ফারহানা গত কয়েক মাস ধরে এই আসনে নিয়মিত গণসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হাসান সারওয়ার্দীকে বহিষ্কার ঘোষণা

    লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হাসান সারওয়ার্দীকে বহিষ্কার ঘোষণা

    দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রমিতি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্পর্কেঃ অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এটি দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত বা পর্যবেক্ষণ নয়।’

    এতে আরও বলা হয়, ‘এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি। বিষয়টি লক্ষ্য করেছে দলীয় সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।’

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশের এই সংকটমূলক পরিস্থিতিতে বিএনপি একটি উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের স্থিতিশীলতা ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। ওই ঘটনার প্রভাবক্ষড়ে তার নেতৃত্বে থেকে এমন অবিবেচকের মতো বক্তব্য দেওয়ার এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য আজ (২০ ডিসেম্বর) এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে দলের সব পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    এছাড়াও জানানো হয়, তাঁকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা নির্ধারণের জন্য আগামী তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী কয়েকশো সমর্থক নিয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদের হাতে ফুল দিয়ে দলটিতে যোগ দেন।

  • প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে হাদির বিচারের নীরবতায় জাতি হতাশ: গোলাম পরওয়ার

    প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে হাদির বিচারের নীরবতায় জাতি হতাশ: গোলাম পরওয়ার

    শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে বিচারবিষয়ক স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার (২১ ডিসেম্বর) মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ওসমান বিন হাদির শাহাদাতের স্মরণে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত দোয়া মাহফিলের সময় তিনি একথা বলেন।

    তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই মাসে সংঘটিত হাদি হত্যাকাণ্ড একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ‘প্যাকেজ প্রোগ্রাম’ হিসেবে আয়োজিত হয়েছে। তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। এজন্য তিনি সরকারকে সচেতন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

    এর পাশাপাশি, তিনি গুলির পর মাত্র ছয় ঘণ্টা পরে কেন সীমান্ত সীলগালা করা হলো, এ প্রশ্ন তোলেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা মহলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কি ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর লুকানো সহযোগিতায় খুনিদের পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে কিনা, সেটাও জানতে চান।

    একই সাথে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে ‘রিফাইন আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন করে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না। রেহাই দেওয়া হবে না দুর্নীতিবাজদের পুনরাবৃত্তির সুযোগ।

    শহিদ ওসমানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, জীবিত ওসমান অনেক কিছু করতে পারতেন, কিন্তু শহিদ ওসমানের পরিবারের সম্মান তার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি এ সময় সকলের কাছে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।

  • বিশ্ব দেখেছে গণমাধ্যমে হামলার দৃশ্য, এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিশ্ব দেখেছে গণমাধ্যমে হামলার দৃশ্য, এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই দৃশ্য বিশ্ববাসী দেখেছে এবং এর ফলে দেশের ভাবমূর্তি গুরুতর ক্ষুণ্ন হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও কেন এই ঘটনা রোধ করা যায়নি, তা হলো সরকারের ব্যর্থতা।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির এই নেতা এ মন্তব্য করেন। এই সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পটভূমিতে দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, রেডিও, টেলিভিশনের বার্তা প্রধান ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে আলোচনা করা হয়।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ কিছু গণমাধ্যমকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনা সারাবিশ্ব দেখেছে এবং এটাই আমাদের জন্য লজ্জাজনক। শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চেয়ে এ ঘটনা শেষ করা সম্ভব নয়।

    তিনি সরকারের ব্যর্থতার জন্য বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কিছু কিছু গণমাধ্যমকে টার্গেট করে হামলা করা হয়। আগে থেকেই এই হামলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন আমরা সময়মতো সতর্কতা নিতে পারিনি? প্রশ্ন হলো—কেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতা আমাদের এই পরিস্থিতির দিকে নিয়ে এসেছে? এ ধরনের ঘটনার কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং বাংলাদেশে একেবারেই এই ধরনের অসুস্থ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা সত্ত্বেও কতক্ষণে তারা এই ঘটনাগুলোর প্রতিকার করবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কাদের হাতে দায়িত্ব থাকলেও এই রাষ্ট্রব্যবস্থা কেন এত দুর্বল? নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য দায়ি ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের আশা-অাকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। তারা পুরোপুরি গণতন্ত্রের জন্য মুখিয়ে রয়েছে। সকল ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে ও শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলো এমনভাবে দাঁড় করানো দরকার যেন তারা দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন বলেন, অনেক সাংবাদিকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসাথে থাকতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি। যদি জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। অতীত ভুলে গেলে চলবে, তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কী করেছে, তা আমাদের স্মরণে রাখতে হবে।

    তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মানুষ আশা করছে, তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পরে তিনি ফিরে আসছেন, যা জনগণের প্রত্যাশা। এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে কাজে লাগাতে চাই। এটি আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করবে — এটা আমাদের মূল লক্ষ্য।

  • বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন

    বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের মনোনয়ন ফরম উত্তোলন

    বগুড়া-৬ (সদর) আসনের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া বারোটার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের কাছ থেকে তারেক রহমানের পক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন।

    মনোনয়নপত্র উত্তোলন শেষে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘তারেক রহমান বগুড়া সদর আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ করবেন। আমরা তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছি। তিনি এই আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’

    এ সময় তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়ন পত্র উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট মাহবুবর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিএম সিরাজ, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চাঁন, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

  • বিএনপির দুটি কর্মসূচি স্থগিত, রাতেই স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা

    বিএনপির দুটি কর্মসূচি স্থগিত, রাতেই স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আজ শুক্রবারের পূর্বনির্ধারিত দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের চলমান সা‌র্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, ‘আগে ঘোষণা করা দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে এবং রাতে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।’

    শক্তিশালী হুমকি আর অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ বিকেল ৩টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সেচ ভবনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া, বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজারে রাষ্ট্রের পানীয় জল সংস্থার ভবনের সামনে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীরও একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। তবে দুটিই কর্মসূচি স্থগিত হয়েছে।

    শায়রুল কবির আরও জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সভাপতিত্ব করবেন তিনি। বৈঠকের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের জন্য এই জরুরি সভার সুবিধাজনক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • তারেক রহমান ট্রাভেল পাস পেয়েছেন, ঢাকায় ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বরে

    তারেক রহমান ট্রাভেল পাস পেয়েছেন, ঢাকায় ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বরে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। সম্প্রতি তিনি ট্রাভেল পাসের জন্য দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন, যা আজ তিনি পেয়ে গেলেন। এই খবর তিনি নিজেই তার মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানের মাধ্যমে জানালেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যটাসে জাইমা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বাবা আজ কিছুক্ষণ আগে ট্রাভেল ডকুমেন্ট হাতে পেয়েছেন।’

    অবিলম্বে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত থাকার পর তিনি দেশে ফিরছেন। জানা গেছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে তিনি ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এ উপলক্ষে বিমানের আগমনের আগেই নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিতে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করেন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলা পাভেল ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. শামসুল ইসলাম। তাঁরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন এবং পরিকল্পনা করেন।

    নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তারেক রহমানকে রাজধানীর পূর্বাচল রোডে গণসংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই সমাবেশের জন্য ঢাকা ও আশপাশের জেলার নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক ফিরতি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • জনতাকে উসকানিতে দেওয়ার জন্য আহ্বান না দেওয়ার apel আমিরের

    জনতাকে উসকানিতে দেওয়ার জন্য আহ্বান না দেওয়ার apel আমিরের

    আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা শরীফ ওসমান হাদী। তাঁর এ আকস্মিক মৃত্যুতে সম্পূর্ণ দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি ক্ষোভ ও প্রতিবাদ আন্দোলন জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এক গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মহান আল্লাহর কাছে শহীদ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অস্পূর্ণতার জন্য গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের ঘটনায় ছাত্র-জনতার মধ্যে যে আবেগ এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা স্বাধীন ও ন্যায্য। তবে, এই ক্ষোভের অপব্যবহার করে কেউ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দেয়, তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কেউ কেউ এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে আন্দোলনকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যেতে চায়, যা স্বাভাবিক বিষয় নয়।

    গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ও মানুষের কণ্ঠস্বর। এজন্য গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্রের চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের বিরোধিতা।” তিনি জনসাধারণকে পরিষ্কারভাবে অনুরোধ করেন, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক protest-ই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, অন্যথায় আন্দোলনের লক্ষ্য আর অর্জন কষ্টকর হবে।

    শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, “এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” তাদের দ্রুত বিচারে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    আলোচনার শেষ দিকে, আমির বলেন, দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই একমাত্র উন্নতির চাবিকাঠি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করেই শহীদদের আত্মত্যাগের মান রাখার সম্ভব।

    অবশেষে, তিনি সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করেন, কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য্য ও সচেতনতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে। এই শাস্তি ও কঠিন সময় মোকাবেলার একমাত্র পথ হলো একতায় থাকা ও দায়িত্বশীলতা।

  • নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য: ফখরুল

    নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য অপরিহার্য: ফখরুল

    বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা রুখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, এই ট্রাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্ছৃঙ্খল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকারীদের শাস্তি ও নৃশংসতা নিয়ে তার কঠোর প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষজনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে দেশের খ্যাতনামা সাংবাদিক নুরুল কবিরের ওপর হামলা, ছায়ানটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা। এসব ঘটনাগুলির মাধ্যমে বোঝা যায়, কিছু চিহ্নিত মহল পরিকল্পিতভাবে দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এ অবস্থায়, সৃষ্ট এই অরাজকতা মোকাবিলা করতে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির ঐক্য বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু এই অরাজকতা ঠেকাতে সরকারও যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং রাজনৈতিক স্থিরতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে পারে একমাত্র আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। এই জন্য সকল দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা শক্তিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়ালি নেতৃত্বে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন। বিস্তারিত বৈঠকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক বিষয় ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

  • তারেক রহমানের মতে, গণতন্ত্রের শত্রুরাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে

    তারেক রহমানের মতে, গণতন্ত্রের শত্রুরাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ হলো সুদূরপ্রসারী একটি নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য দৌড়ানো। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দেশে চলমান অরাজকতা ও অনিরাপত্তার পেছনে দুর্বৃত্ত তথা চক্রান্তকারী সন্ত্রাসীদের যোগ রয়েছে, যারা পরিকল্পিতভাবে খুন, জখম চালাচ্ছে। এইসব হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক শোক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।