Category: খেলাধুলা

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের ব্যাপারে সকল সম্ভব উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার ফল পাননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) ও দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়ন একসাথে থাকার কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানো হয়নি, জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।

    আসিফ আকবর বলেন, সরকারী সিদ্ধান্তে রাখা হয়েছে যে, গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্বেগ ছিল যে ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক কিংবা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সরকার এই ঝুঁকির দায় নিতে রাজি না হওয়ায় দল পাঠানো হয়নি—তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে, সেটার দায় আমরা নিতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।”

    সংঘাতের সূত্রপাত বলা হচ্ছে ৩ জানুয়ারি, যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলে সরকারিভাবে দলের ভারতে পাঠানোর বিষয়ে সংশয়ে পড়ে। ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও জানিয়েছিলেন নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিসিবির সঙ্গে প্রায় ২১ দিনের তর্ক-বিতর্কের পর আইসিসি অবশ্য গতকাল বাংলাদেশের বিশ্বকাপের নাম প্রত্যাহার করে চলে। আসিফ আকবর তা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দেশের চারটি মন্ত্রণালয় — তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন— মন্ত্রিসভার মাধ্যমে মিলিতভাবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বাংলাদেশকে পাঠাবে না।

    আইসিসি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের স্থলে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে যোগ করেছিল এবং নতুন সূচি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড বর্তমানে ১৪ নম্বরে আছে। তাদের ‘সি’ গ্রুপে ইতালি (নবাগত), নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকছে।

    বিসিবি ও সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী ও দলের জন্য গভীরভাবে প্রভাব ফেলবে—খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নিতে পারল না এবং বিশ্বকাপের জন্য গঠিত সূচি ও পরিকল্পনাও পাল্টেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে কীভাবে দলকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়, সেটি পরিবেশ-নির্ভর হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

  • বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসিকে কড়া সমালোচনা আফ্রিদি ও ইউসুফের

    বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসিকে কড়া সমালোচনা আফ্রিদি ও ইউসুফের

    বাংলাদেশকে আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসম এবং বৈষম্যমূলক বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ। জিও সুপার রির্পোট জানায়, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের হতাশা প্রকাশ করে আইসিসির নীতিতে অনিয়ম এবং দ্বৈতমাপকাঠির অভিযোগ তুলেছেন।

    আফ্রিদি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লিখেছেন, একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আইসিসির এই আচরণে গভীর রাগ ও হতাশা অনুভব করছেন। তিনি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি প্রসঙ্গে ভারতের পাকিস্তান সফর না করার সময় আইসিসির নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নেওয়ার কথা তুলে ধরে বললেন, ‘‘কেন একই মানদণ্ড বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে না?’’

    আফ্রিদি আরও বলেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা অপরিহার্য। খেলোয়াড় ও তাদের লক্ষ লক্ষ ভক্ত সম্মানের দাবিদার — দ্বৈত মানদণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইসিসির উচিত বিভাজন নয়, সেতুবন্ধন তৈরি করা।’’

    অন্যদিকে মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন করা হয়েছিল। দেশভিত্তিক মানদণ্ড বদলানো যায় না।’’

    ইউসুফ জোর দিয়ে বলেন, আইসিসির ভূমিকা হওয়া উচিত নিরপেক্ষ ও ন্যায্য; কোনো একক বোর্ডের স্বার্থের পক্ষে পক্ষপাত করা নয়। তিনি মনে করান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে এক দিনের মতো নির্দিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সমগ্র খেলাটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতে হবে।

    উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসির সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারতের ভেন্যু থেকে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন খারিজ হওয়ায় এবং ভারতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া না যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    আফ্রিদি ও ইউসুফ—দুই সতীর্থ—যে উদ্বেগগুলো উত্থাপন করেছেন, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের কাছে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ক্রিকেট প্রধানরা কীভাবে এই অভিযোগগুলো মোকাবিলা করবেন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ বিতর্ক এড়ানো যাবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।

  • সাকিবকে এখন থেকে জাতীয় দলের বিবেচনায় রাখা হবে

    সাকিবকে এখন থেকে জাতীয় দলের বিবেচনায় রাখা হবে

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের প্রায় সাত ঘণ্টা চলে ম্যারাথন মতবিনিময় সভার পর একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎ করেই আলোচনায় আসে সাকিব আল হাসানের বিষয়। জানা গেছে, বিসিবি এখন থেকে সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনা করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিসিবির নতুন করে ২৭ ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। যদি সাকিব সুস্থ থাকেন, ভালো পারফর্ম করেন, তবে তাঁকে হোম সিরিজ ও অ্যাওয়ে সিরিজ দুইটিই নির্বাচক প্যানেল বিবেচনায় নেবে।’

    অন্য এক বোর্ড সদস্য আসিফ আকবর বলেন, ‘সাকিব খেলবে, এটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে তার আইনি জটিলতা বিষয়টি এখনও সরকার দেখবে।’

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আরও বলেন, ‘সাকিবকে ফেরানোর বিষয়টি সরকারি সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানিয়ে দেন, সাকিব দেশে অবসর নিতে চান। আর তিনি আমাদের দেশের অন্যতম বড় ব্র্যান্ড খ্যাতি সাকিব। তাই বোর্ড এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং আমরা সাকিবকে ফিরে পেতে আগ্রহী।’

    বিগত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অব্যাহত হারের প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেনি নিরাপত্তাজনিত অডেঙ্গা কারণে। সরকারের সঙ্গে সরকারী পর্যায়ের আলোচনা চলাকালীন সময়ে প্রথমত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা সেখানে যাননি। সরকার থেকে এখনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা খেলতে যাচ্ছে না। এতথ্য সত্ত্বেও সত্যিই ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

  • ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে

    ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে

    ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যথাযথভাবে চেষ্টা করেছিল। শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এবং বিসিবি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে অটল থাকায় বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছে না। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ পড়ার পর থেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এরপর গতকাল বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর গোয়েন্দা রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেছেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের নিজস্ব প্রশ্ন ছিল এই ব্যাপারে। তাদের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যেন ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক বা অন্যান্য টেকনিক্যাল লোকজন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিতে আছে। তাদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে, সেই দায়দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

    তাদের ২১ দিন ধরে চলা আলোচনা শেষে বাংলাদেশ আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে। দেশের চারটি মন্ত্রণালয়—তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসিফ আকবর জানান, ‘নিরাপত্তার হুমকির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে না। সরকার যখন আলোচনা করেছে, তখন সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইসিসি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা হলেও, দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি রাষ্ট্রের একার। তাই সব দিক দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

    বিসিবির এই সিদ্ধান্তের পরনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) নতুন সূচি তৈরি করেছে। বাংলায় বর্তমানে স্কটল্যান্ড ১৪ নম্বর র‍্যাঙ্কিংতে অবস্থান করছে। এখন তারা ‘সি’ গ্রুপে খেলবে, যেখানে সম্মিলিতভাবে যুক্ত হয়েছে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ এই গ্রুপে অংশ নিতে না পারলেও, অন্যান্য দলগুলি এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় ধরে রেখেছে।

  • বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন আবার মন্তব্য করলো পাকিস্তান, স্কোয়াড ঘোষণা

    বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জন আবার মন্তব্য করলো পাকিস্তান, স্কোয়াড ঘোষণা

    ডাবলিনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকলেও এখনও নানা নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশের প্রতি ‘অন্যায়’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। এই বিষয়টি ক্রিকেটবিশ্বের আলোচনায় আসার পর,আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি), পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

    আইসিসির ওই সিদ্ধান্তের পর, পিসিবির সভাপতির ভাষণ থেকে জানা যায়, “বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমি আইসিসির বোর্ড সভায়ও এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। কোনো দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না, যেখানে এক দেশ যখন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, অন্য দেশকে তার সম্পূর্ণ বিপরীত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধ্য করা হয়। পাকিস্তানের সরকার যা নির্দেশ দেয়, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব। এখন প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।”

    পিসিবির এই বক্তব্যের পর থেকেই ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, “যদি পাকিস্তানও একই পথ অনুসরণ করে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আইসিসি তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল, পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা বা এনওসি না দেওয়া, ও এশিয়া কাপ থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ।” এই ধরনের সম্ভাবনায় পাকিস্তান হয়তো তাদের অবস্থান বদলাচ্ছে, নাকি বয়কটের গুঞ্জনই তাদের কৌশল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি), পিসিবির নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব জাভেদ, সাদা বলের কোচ মাইক হেসন, ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেন। এই তালিকার বড় চমক হলো– হারিস রউফের হঠাৎ বাদ পড়া। গত কয়েকদিন ধরেই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ছিল যে, তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। যদিও চলমান বিগ ব্যাশ টুর্নামেন্টে ডানহাতি এই পেসার সর্বোচ্চ ২০ উইকেট শিকার করেছেন। তবে, ফর্ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যেও বাবর আজম বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন।

    নতুন এই স্কোয়াডে প্রথম কোনো আইসিসি ইভেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের দলে ডাক পেয়েছেন স্পিনার উসমান তারিক। অভিজ্ঞতার দিক থেকে, আছেন– বাবর আজম, আবরার আহমেদ, ফখর জামান, মোহাম্মদ নেওয়াজ, নাসিম শাহ, সাইম আইয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান ও উসমান খান। তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন– ফাহিম আশরাফ, খাজা মোহাম্মদ নাফে, মোহাম্মদ সালমান mirza, ও শাহিবজাদা ফারহান। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পাকিস্তান ভারতের বাইরে, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে।

  • বিশ্ব ক্রিকেটারদের ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক

    বিশ্ব ক্রিকেটারদের ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক

    আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য খুবই দুঃখজনক বলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সংগঠনটি উল্লেখ করে, ক্রিকেটের বিভক্তি এড়িয়ে কিভাবে সবাইকে একত্রিত করে খেলার উন্নয়ন সম্ভব, তার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

    পূর্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে, গতকাল শনিবার ২০ দলের অংশগ্রহণে চলমান বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো কন্ট্রোল করা শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার খুব কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

    ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট এক বিবৃতিতে বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহার করা এবং তার ফলে এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট দেশটির অনুপস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক, খেলোয়ারদের জন্যও এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা চাই ক্রিকেট বিভক্তির জায়গা না থাকুক। খেলার নেতাদের প্রতি আহ্বান, তারা সংঘবদ্ধ থেকে খেলাটির ঐক্য রক্ষা করুন—সংস্থা, লিগ, খেলোয়াড় ও সবাই মিলেমিশে ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করুন।”

    এ ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে বিদ্যমান টানাপোড়েনের চিত্রকেও উসকে দিয়েছে। ভারতের সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করলে ভারতকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার ব্যবস্থা করতে আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

    আগামী ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শনিবার উল্লেখ করেন, “বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই। তিনি ফিরে আসলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।” মহসিন নাকভি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

    টম মফাট আরও বলেন, “খেলাটিতে কিছু চুক্তির মান না মানা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শের অভাব স্পষ্টভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এটি বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচালনামণ্ডলের গুরুতর সমস্যা প্রকাশ করছে।” তিনি সতর্ক করে দেন, “যদি এই সমস্যা সমাধান না হয়, তবে তা ক্রিকেটের ঐক্য, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতকেই দুর্বল করে দেবে।”

  • মালদ্বীপকে ১৪ গোলে উড়িয়ে শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ

    মালদ্বীপকে ১৪ গোলে উড়িয়ে শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ

    দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটসালের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। সাফি ব্যাংককের ননথাবুরি হলে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা ফুটসাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দল অপরাজিত থেকে শিরোপা জয় করল। এই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ; তবে তারা তাদের দক্ষতা ও মনোবল দিয়ে সব প্রতিযোগীকে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

    রোববার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালদ্বীপ, সেখানে তারা উন্নত ফুটবলের মাধ্যমে ১৪-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে। শুরুতে এক গোল হজম করলেও দ্রুতই দলের খেলায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে তারা টুর্নামেন্টের সেরা স্থান নিশ্চিত করে, আগে থেকেই তাদের জন্য সম্ভব ছিল যদি ড্র করতেও পারত। কিন্তু তারা জয় নিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয়।

    পূর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পাওয়ার পর, ভুটানের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে তারা দুর্দান্ত শুরু করে। এরপর একের পর এক শক্তিশালী দলের সঙ্গে জিতে তারা শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে যায়।

    নেপালকে ৩-০ গোলে, শ্রীলঙ্কাকে ৬-২, এবং পাকিস্তানকে বিরাট ব্যবধানে ৯-১ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের ৮ গোলের জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। ওই ম্যাচে দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন চারটি গোল করেন, এছাড়া নুসরাত জাহান দুটি এবং কৃষ্ণা রানী সরকারও গোল করে দলের জয়ের সাক্ষর রাখেন। প্রথমার্ধে ম্যাচের ফল ৬-০ থাকতেই বাংলাদেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রাখে।

    শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে, যেখানে সাবিনা খাতুন ও দলের অন্য ফুটবলাররা আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে। অআক্রমণ আদানপ্রদান এবং স্পৃহা দেখিয়ে তারা এই টুর্নামেন্টে ভারত ও ভুটানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের আগেকার অবস্থানকে বদলে দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার টানা শিরোপা জিতেছে।

    নতুন ফুটসাল ফরম্যাটে নিজেদের সামর্থ্য proved করে, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের স্থান আরও উচ্চতর হয়েছে, যেখানে সাবিনা খাতুন ও তার দল বলছে, তারা এই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও দৃঢ়ভাবে করছেন।

  • আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বদলে স্কটল্যান্ডকে ডেকেছে

    আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বদলে স্কটল্যান্ডকে ডেকেছে

    আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ যদি ভারতে না যায়, তাদের জায়গায় বিকল্প দলকে নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পর দুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    আইসিসি গত ২১ জানুয়ারি তাদের পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করে। সভায় মূল আলোচ্য ছিল: বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ যদি ভারত সফরে না যায় তাহলে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেখানে ভোটাভুটির মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়—খেলতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারতে যেতে হবে, নইলে বিকল্প দলকে সুযোগ দেয়া হবে। বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়া হলেও বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে।

    সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই দিন পরে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত জানায়; এ খবর ক্রিকবাজ প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়েছে। স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে রাখা হবে; তারা গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে—এসব ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়। এরপর মুম্বাইয়ে তাদের শেষ ম্যাচ নেপালের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে।

    সকালে নেওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আইসিসি সিইও সংযোগ গুপ্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখে বোর্ডকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের দাবিগুলো আইসিসির নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলছে না এবং এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ ছাড়া বিকল্প উপায় ছিল না। চিঠির কপি বিসিবি সভাপতি এবং আইসিসির বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে।

    আইসিসি একই সঙ্গে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। ক্রিকবাজ স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল; কিন্তু সরাসরি কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবুও জানা গেছে দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে।

    গতকাল (শুক্রবার) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সেখানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথাই অনুমোদন করেন।

    এর আগে বাংলাদেশের বোর্ড ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটিতে (ডিআরসি) আপিল করেছিল। ওই কমিটি ওই অনুরোধ খারিজ করে এবং আইসিসির পূর্বের সিদ্ধান্ত বজায় থাকে।

    এই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—স্কটল্যান্ড কীভাবে দ্রুত দল সাজিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নেবে এবং গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স কেমন হবে।

  • বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি, জায়গা পেলো স্কটল্যান্ড

    বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলো আইসিসি, জায়গা পেলো স্কটল্যান্ড

    ২১ জানুয়ারি আইসিসি তাদের পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করে। মূল আলোচ্য ছিল—বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ যদি ভারত না যায়, তাহলে কী করা হবে। সভায় মর্যাদাশীল সদস্যদের ভোটে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়: বাংলাদেশ খেলতে চাইলে ভারতেই যেতে হবে, নাহলে বিকল্প দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দেশের অবস্থান অনড় থাকায় সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানায়—এই খবর ক্রিকবাজও নিশ্চিত করেছে।

    স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে নেওয়া হয়েছে। তারা কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে তিনটি ম্যাচ খেলবে এবং পরে মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত সকালের মধ্যে নেওয়া হয়। আইসিসি সিইও সংযোগ গুপ্ত বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশী দাবিগুলো আইসিসির নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এই পরিস্থিতিতে বিকল্প দলকে খেলায় নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। ওই চিঠির অনুলিপি বিসিবি সভাপতি ও আইসিসির বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকে পাঠানো হয়েছে।

    একই চিঠিতে আইসিসি ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানায় বলে উল্লেখ রয়েছে। ক্রিকবাজ স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, সরাসরি সাড়া না পাওয়া গেলেও দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে কিছু যোগাযোগ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    গতকাল (শুক্রবার) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আইসিসি বৈঠকেই এই সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত মূর্ততা আসে, যেখানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বিষয়টি নির্ধারণ করেন।

    শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশ অন্য ভেন্যু পরিবর্তনের আপ্রসত চেষ্টা হিসেবে আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটিকে (ডিআরসি) আবেদন করেছিল; তবে ওই কমিটি তাদের আপিল খারিজ করলে আইসিসির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

  • ম্যাচ-ফিক্সিং অভিযোগের মধ্যে বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম পদত্যাগ

    ম্যাচ-ফিক্সিং অভিযোগের মধ্যে বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম পদত্যাগ

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম সব পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এই ঘোষণা এসেছিল বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনালের মধ্যেই, যখন বিষয়টি নিয়ে সার্বিক আলোচনা তীব্র হয়েছিল।

    শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক পোস্টে শামীম নিশ্চিত করেছেন যে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে থাকা পরিচালক পদসহ অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরছেন। তিনি জানান, মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অভিযোগের স্বাধীন, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা।

    ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়-দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়; বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি আমার দায়বদ্ধতার প্রকাশ।’

    শামীম আরো বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টের হলেও বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম সবার আগে।’ তিনি জানিয়েছেন যে তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখেন যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

    এই পদত্যাগ সংবাদটির ফলে বোর্ড ও ক্রিকেট অঙ্গনে এখন তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রতিবেদনই ভবিষ্যতে ঘটনার চিত্র স্পষ্ট করবে।