বিশ্ব ক্রিকেটারদের ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক

আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য খুবই দুঃখজনক বলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সংগঠনটি উল্লেখ করে, ক্রিকেটের বিভক্তি এড়িয়ে কিভাবে সবাইকে একত্রিত করে খেলার উন্নয়ন সম্ভব, তার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

পূর্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে, গতকাল শনিবার ২০ দলের অংশগ্রহণে চলমান বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো কন্ট্রোল করা শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ করলেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার খুব কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট এক বিবৃতিতে বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহার করা এবং তার ফলে এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট দেশটির অনুপস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক, খেলোয়ারদের জন্যও এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা চাই ক্রিকেট বিভক্তির জায়গা না থাকুক। খেলার নেতাদের প্রতি আহ্বান, তারা সংঘবদ্ধ থেকে খেলাটির ঐক্য রক্ষা করুন—সংস্থা, লিগ, খেলোয়াড় ও সবাই মিলেমিশে ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করুন।”

এ ঘটনাটি দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে বিদ্যমান টানাপোড়েনের চিত্রকেও উসকে দিয়েছে। ভারতের সাথে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করলে ভারতকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার ব্যবস্থা করতে আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

আগামী ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শনিবার উল্লেখ করেন, “বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই। তিনি ফিরে আসলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।” মহসিন নাকভি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।

টম মফাট আরও বলেন, “খেলাটিতে কিছু চুক্তির মান না মানা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শের অভাব স্পষ্টভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এটি বিশ্ব ক্রিকেটের পরিচালনামণ্ডলের গুরুতর সমস্যা প্রকাশ করছে।” তিনি সতর্ক করে দেন, “যদি এই সমস্যা সমাধান না হয়, তবে তা ক্রিকেটের ঐক্য, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতকেই দুর্বল করে দেবে।”