Category: খেলাধুলা

  • বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সময়টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের মাটিতে নামতে ইচ্ছুক নয় — এমন অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

    বুলবুল বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও खिलाड़ियों সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘‘আমরা আবারও আইসিসির কাছে সমস্ত সম্ভাব্য বিকল্প উপস্থাপন করব। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমাদের গর্ব আছে, কিন্তু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সন্দিহীন নই।’’

    আলোচনার পর বোর্ড সভাপতি আরও বলেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপে নামে। ‘‘আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প বিবেচনা করে, আমরা সেটিই চাই। আমরা হাল ছাড়ছি না — বিভিন্ন দিক থেকে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে,’’ তিনি যোগ করেন।

    বুলবুল আরও বলেন, ‘‘ক্রিকেটপ্রিয় দেশের প্রতিনিধিত্ব যদি কোনো কারণে World Cup-এ না করতে পারে, সেটা আইসিসির ব্যাপক ব্যর্থতা হবে। যেখানে আয়োজকরা কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় ইভেন্টের চেষ্টা করছে, সেখানে জনবহুল ক্রিকেটপ্রিয় দেশগুলোকে নিরাপদ বিকল্প না দিলে তা বিবেচনার দাবি রাখে।’’

    শেষ পর্যন্ত, বুলবুল নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে চায় — কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত নয়; শ্রীলঙ্কায় খেলাই তাদের অনুকূল বিকল্প। তিনি জানান, দল প্রস্তুত আছে এবং বোর্ডও আইসিসির সঙ্গে বিকল্প পথ অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

  • ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিসিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট — বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ভারতের মাটিতে যেতে রাজি নয়। আজ (২২ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।’

    সেই সঙ্গে তিনি আইসিসিকে ন্যায়বিচার করেনি বলে অভিযোগ করেছেন। শেষ কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো—বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা—এমন একটি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার ভিত্তিতে সরকার ও বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলায় রাজি হতে পারে না বলে উপদেষ্টা জানান। তাঁর বক্তব্য, এক মাসে নিরাপত্তার পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং আইসিসির মৌলিক আশ্বাসগুলো সরকারকে কনভিন্স করতে পারেনি।

    আসিফ নজরুল বলেন, মোস্তাফিজুর ঘটনাটি কোনো বাতাসে ভাসমান ধারণা নয়; এটি বাস্তব ও সংবেদনশীল ঘটনা। ‘যেখানে আমাদের একজন সেরা খেলোয়াড়ই উগ্রপ্রবণ জবরদস্তির কারণে নিরাপত্তা পায়নি, সেই দেশে আমরা কীভাবে শত শত খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিতবে—এটা আমরা কী থেকে বিশ্বাস করবো?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তবে বিসিবি ও সরকারের উদ্যোগ হিসেবে বিকল্প ভেন্যু পেলেই বিশ্বকাপে খেলতে ইচ্ছুক থাকবে বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগের আশায় রয়েছেন। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলানোর বহু নজির আছে’—বলেছেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেছেন আইসিসি বিষয়টিকে সুবিবেচনা করবে।

    বৈঠকের পর গণমাধ্যমে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তিনি বলেন, এখনও শ্রীলঙ্কা-ভেন্যুতে খেলাই তাদের বদল না করা রীতি এবং এ লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। বুলবুল আইসিসির সমালোচনায় বলেন, মুস্তাফিজুর ঘটনা শুধুমাত্র ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখালে তা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝায় না; নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, নিজে সরে যায়নি বা ইনজুরির কারণে নয়—এমনকি বিসিবির এনওসি বাতিলও করা হয়নি।

    অপরদিকে আইসিসি বলেছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বাইরে খেললে বাংলাদেশকে বদলে অন্য দলকে বিশ্বকাপে নেওয়া হবে এবং তারা জানিয়েছেন, ভারতে খেললে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই—এই অবস্থান বিসিবি ও সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে মাত্র একটি ভোট পায়; বাকি সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না থাকায় সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত ছিল।

    আজকের বৈঠকে বিসিবি ও সরকারের আমন্ত্রণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বেশকিছু ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন; তাদের মধ্যে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তের মতো কয়েকজনের নাম অনুপস্থিত ছিল না। ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি উভয়েই খেলোয়াড়দের বক্তব্য প্রকাশ করতে চাননি—তিনি বলেন এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    বিশেষ করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি আগে থেকেই আইসিসিকে বলেছিল ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সুসংহতভাবে আয়োজন করা হলে ভালো হবে; কিন্তু আইসিসি ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই ম্য়াচ খেলতে হবে।

    সংক্ষেপে, বর্তমান সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত: সরকার ও বিসিবি জানাচ্ছে—ভারতে না গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। তবুও তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আশা ছাড়েনি।

  • বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে অস্বীকার করে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাতে সম্মিলিতভাবে টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

    জিও নিউজের সূত্র বলেছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বিসিবি যদি পান ভারতীয় ভেন্যুগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে না পারলে দল নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির বোর্ড সভার পর সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্ট হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে। আইসিসি বলেছে, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে সূচি বদলানো বিবেচ্য নয়; এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে।

    আইসিসি সভার ঠিক একদিন আগে বিসিবির আবেদন বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল—কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি।

    বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ড বৃহস্পতিবারই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে দল পাঠানো বা না পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। খেলোয়াড়দের বড় অংশই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছে, তবে শেষ মুহূর্তে বিসিবি যদি পাকিস্তানের মতোই সরে যায় তাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

    বিগত সময়ে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। সেটাই ছিলো বিসিবির অনুরোধ জানার পেছনের প্রধান কারণগুলোর একটি—বিশেষ করে আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাসহ সম্পর্কিত ইস্যুগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করেছে। ঘটনার পরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিসিবি তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জোরালো করেছে।

    এই সব অচলাবস্থায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি আইসিসির কাছ থেকে ‘‘আর একটু সময়’’ চেয়েছেন—২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা—সরকারের সঙ্গে শেষ আলোচনার জন্য। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

    তবে তিনি যোগ করেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারেই তাদের পরামর্শ জানানো হবে। আমিনুল বলেন, ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের প্রত্যাশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চাই আমাদের দল বিশ্বকাপে খেলুক, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কেবল খেলোয়াড়কেই নয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রসঙ্গকেও বিবেচনা করতে হবে।’’

    এ অবস্থায় বিসিবির সামনে মৌলিক দু’টি পথ খুলে গেছে—নিজেরা অবস্থান প্রত্যাহার করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলা, না হলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি।

    সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে; গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে নেপালের বিপক্ষে।

    এই ইস্যু কেবল ক্রীড়াগত সিদ্ধান্ত নয়—এটি কূটনীতি, নিরাপত্তা ও খেলার স্বার্থের সংমিশ্রণ। পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বিসিবি ও সরকারের মধ্যকার আলোচনাই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ফাইনাল সিদ্ধান্ত এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের সামগ্রিক চিত্রও।

  • ভারতে বিশ্বকাপ না খাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    ভারতে বিশ্বকাপ না খাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    আইসিসি সময়সীমা বেঁধে আশ্বাস দিলেও ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।

    উপদেষ্টার কথায়, ভারতের দিক থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই সরকার পুরো দলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং এই অবস্থায় ভারতেই ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

    আইসিসি এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে আশ্বাস দেওয়ায়ও সরকার সেটিতে ভরসা করতে পারছে না, জানান তিনি। তবু ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রচেষ্টা চলবে বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আজ আবারও আইসিসির সঙ্গে বিসিবি যোগাযোগ করবে।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাহার করে টুর্নামেন্ট বর্জন করে, তাহলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে।

    জিও নিউজের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন করেছিল। যদি সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে এবং সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাঠানো হয়েছে।

    বিসিবি বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের বিরুদ্ধে দল পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্রের খবর, খেলোয়াড়দের বড় অংশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বোর্ড যদি সরে যায় তবে পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

    বিগত সময়ে রাজনীতিকভাবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়—আগামী আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে পরে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল; এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার স্থগিত করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিসিবি নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।

    আইসিসি জনপ্রতিনিধিদের এক বোর্ড সভায় বিসিবির আবেদন খারিজ করে বলে জানানো হয়েছে। আইসিসি বলেছে—নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হবে; কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকলে সূচি পরিবর্তন ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য বিপজ্জনক নজির গড়বে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ—ই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে।

    আইসিসি বোর্ডের ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত উত্থাপিত হয়। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল, কিন্তু বোর্ড নিয়মিত সূচি বজায় রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সরকারের সঙ্গে ‘‘আর একবার শেষ আলোচনার’’ জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন। আমিনুলের কথায়, আইসিসি বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করেছে এবং তাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই, কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

    তিনি আরও বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হবে। ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নেবার সময় কেবল খেলোয়াড়দের ইচ্ছাই নয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে,’’ যোগ করেন আমিনুল ইসলাম।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির সামনে দুটি পথ খোলা—নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে—বিসিবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইসিসির চূড়ান্ত বার্তার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

  • উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে। নিরাপত্তার উদ্বেগ উত্থাপন করে বিসিবি আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে দল ভারত যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আইসিসি সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ — তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ম্যাচগুলোই ভারতেই হবে এবং সূচিতে পরিবর্তন গ্রহনযোগ্য নয়। আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পালে আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে; তা না হলে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ (যেমন স্কটল্যান্ড) নেওয়ার কথাও চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে টেলিভিশন আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি, নিউজিল্যান্ড কানাডায় খেলতে যায়নি — তাতে তাদের ক্রিকেট থেমে গিয়েছে কি? যদি বাংলাদেশ একটা বিশ্বকাপ না খেলেই, তাহলে আমাদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে?’’ তাঁর এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে জোর দেন এবং দেশীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

    সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অবশেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

    বিসিবি আগেই আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র (যেমন শ্রীলঙ্কা) আয়োজনের অনুরোধ করেছে। তবে আইসিসি আত্মবিশ্বাসী; তাদের নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো বড় ঝুঁকি পাওয়া যায়নি, ফলে পুরো সূচি বদলানো সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, সূচি বদলালে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা হুমকিতে পড়বে।

    বিসিবি ও সরকারের মধ্যে যে বিতর্ক ও বৈঠক চলছে, তার ফলটাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় খুলে যাবে — চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাকে অনুসরণ করবে, বিসিবি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নাকি আইসিসির অনমনীয় সময়সীমাই চূড়ান্ত করবে। সেক্ষেত্রে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

  • আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) President আমিনুল ইসলাম বুলবুল শেষ মুহূর্তে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা করেছিলেন। গত কয়েক দিনে তিনি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করেন। তবুও অধিকাংশ বোর্ডের সমর্থন মিলেনি এবং বাংলাদেশ সেই লড়াই জিততে পারেনি।

    আজ সন্ধ্যায় আইসিসির বোর্ড বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ভোটে বাংলাদেশ মাত্র ২টি ভোট পেয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২-২ ব্যবধানেই। ভোটে ১২টি পূর্ণ সদস্য বোর্ড ও ২টি সহযোগী দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভোট দিয়েছে।

    ভোটের পর আইসিসি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত সব ম্যাচই ভারতেই হবে। বিসিবি আগেই দাবি করা ছিল যে তাদের সব матч শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে হবে—এই প্রস্তাব নিয়ে আইসিসি বোর্ড ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসি বিসিবিকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিসিবিকে এক দিনের সময় দেয়া হয়েছে। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে দেখা যেতে পারে।

    বর্তমানে সবাই অপেক্ষায় আছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত জানাবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা।

  • আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক’ সমাধান আশা করছেন বিসিবি সভাপতি

    আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক’ সমাধান আশা করছেন বিসিবি সভাপতি

    আতঙ্ক বা প্রত্যাশার এক পঙক্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট: যদি ভারত গিয়ে না খেলতে হয় তাহলে আইসিসির সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়বে বাংলাদেশ। তবুও অংশগ্রহণের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (আইসিসি) আরও সময় চান—সরকারের সঙ্গে ‘শেষবারের মতো’ কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, নিরাপত্তার বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং আইসিসি সেই সময় দিয়েছেন।

    বুলবুল বলেন, “আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সময় চাই। আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই।” তিনি জানান, সরকারের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তা আইসিসিকে জানিয়ে দেয়া হবে।

    বিসিবি সভাপতির কথায় স্পষ্ট হতাশা মিশে আছে—বিশ্বকাপে খেলতে প্রত্যেকের ইচ্ছা আছে, কিন্তু নিরাপত্তা প্রশ্নে সরকারকে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আইসিসির কাছ থেকে কোনো ‘অলৌকিক’ সমাধানের আশাও করছেন বলে জানিয়েছেন।

    ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে বিসিবির একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে দিলেও গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব খারিজ করা হয়েছে। বিসিবি আয়ারল্যান্ড কিংবা জিম্বাবুয়ে’র সঙ্গে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা নতুন কোনো দলকে গ্রুপে নিতে রাজি হয়নি বলে জানা গেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’ তে রয়েছে—একই গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। সূচি অনুযায়ী টাইগারদের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং শেষটি মুম্বাইয়ে। উদ্বোধনী দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি, দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে।

    নিরাপত্তা ইস্যুর সূত্রপাত মূলত ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে বললে বিষয়টি বিবেচনায় আসে। আনুষ্ঠানিক কারণ না জানালেও কূটনৈতিক উত্তাপের প্রেক্ষিতে ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে গুরুতরভাবে দেখা হয়। এর পরদিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে আইসিসিকে জানায়—নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। তারপরেও একাধিক বৈঠকের পর বিসিবির অবস্থান সহজে বদলায়নি।

    অন্যদিকে আইসিসি মোস্তাফিজ ইস্যুকে বিশ্বকাপ নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত নয় বলে বিবেচনা করেছে। তাদের যুক্তি ছিল—একটি ঘরোয়া লিগে একজন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

    এখন দৃষ্টিপথে সরকারি সিদ্ধান্তই—বিসিবি সরকারের চূড়ান্ত অবস্থানের উত্তর অপেক্ষায় আছে। সময় খুবই কম; সিদ্ধান্ত না বদলালে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত বলে দৃশ্যমান।

  • থাইল্যান্ডে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইল্যান্ডে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইল্যান্ডে চলমান সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ফিরে এসেছে বাংলাদেশ। বুধবারের ম্যাচে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন এবং কৃষ্ণা রানী সরকারই দলের জয় নিশ্চিত করেন—দুজনই দুটি করে গোল করেন এবং ম্যাচের খেলাটাই মোড় ঘোরান।

    স্কোরলাইন বড় দেখালেও ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মসৃণ ছিল না। কোচ সাইয়েদ খোদারাহমির দল প্রথম ১৫ মিনিটেই ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। শপনা আক্তার জিলির গোলরক্ষণের কিছু ভুলের সুযোগে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে যায়, যদিও বল দখলে দীর্ঘ সময়ই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের দল।

    চাপে পড়ে গিয়ে আবারও দলের ভরসা হিসেবে নামলেন সাবিনা ও কৃষ্ণা। বিরতির আগে কৃষ্ণা রানী দুইটি অ্যাসিস্ট করে সাবিনাকে দুই বলেই সফল করেন, ফলে হাফটাইমের আগে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

    দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। কৃষ্ণা রানী সরকার এই পর্যায়ে আরও দুটি গোল করে নিজের স্কোর দ্বিগুণ করেন। এ ছাড়া মাতসুশিমা সুমাইয়া ও মাসুরা পারভীন প্রত্যেকে একটি করে গোল যোগ করলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হয় এবং জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে শানু পাস্কারানের গোলে একটি ও ইমেশা কনকানামালাগে শেষ মুহূর্তে একটি সান্ত্বনার গোল করে; মোট স্কোর দাঁড়ায় ৬-৩।

    এই জয়ের ফলে চার ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ১০ পয়েন্ট; এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে ভারত। দলটির অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও মিডফিল্ডম্‌ে শক্তির পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতেও আশা জাগাচ্ছে।

  • ভারতে না গেলে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বিসিবিকে একদিনের সময়

    ভারতে না গেলে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বিসিবিকে একদিনের সময়

    নিরাপত্তা উদ্বেগের বলেই যদি বাংলাদেশ ভারত যেতে অস্বীকার করে, তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের জায়গায় অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। সোমবার হওয়া আইসিসি বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্তটি ভোটাভুটির মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে।

    বিসিবি আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে ভারত যাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা জানিয়েছিল এবং একই বিষয় নিয়ে আইসিসিকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে। সূত্রে জানা যায়, আইসিসি ওই চিঠি এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সভায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) সরকারীর স্তরে আলোচনা করে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে।

    আইসিসি বোর্ড সভায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সহ বিভিন্ন পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইসিসির প্রধান নির্বাহী, ইভেন্টস হেড ও লিগ্যাল অফিসারও উপস্থিত ছিলেন। ক্রিকইনফো সংবাদ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বোর্ড সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই সমর্থন জানিয়েছে যে, বাংলাদেশ যদি নির্ধারিত সময়সীমায় ভারত গিয়ে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাতে তাদের জায়গায় অন্য একটি দলকে টুর্নামেন্টে নেওয়া হবে। আইসিসি জানিয়েছে বিষয়টি কেবল বোর্ডের সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয় — বাংলাদেশ সরকারেরও অবগত করা প্রয়োজন।

    অজানা পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে সবচেয়ে সম্ভাব্য দল হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে, যদিও তারা মূল কোটা থেকে উঠে আসতে পারেনি। ইউরোপীয় কোয়ালিফাইারে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জার্সির পেছনে থেকে স্কটল্যান্ড সরাসরি অংশ পায়নি; তবু আইসিসির কাঠামো অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে স্কটিশ দলকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এর আগে ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে, তবু বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছে। আইসিসি জানিয়েছে সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে — এমন কোনো পরিবর্তন করা হবে না যদি না বাংলাদেশ সরকার বা বিসিবি বাধ্যতামূলক কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি করে।

    এখন পুরো দিক নির্ভর করছে বিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর। আইসিসির দেওয়া একদিনের মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশ যদি ভারত যাত্রা থেকে বিরত থাকে, তাহলে বিশ্বকাপে তাদের জায়গায় বিকল্প দলকে অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।