Category: খেলাধুলা

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে শুক্রবার বা আগামী সোমবার

    পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা আগামী সপ্তাহের সোমবার নেওয়া হবে—এই জানান দিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর বিশ্ব ক্রিকেটের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলের ঘোষণা করার পর থেকেই পাকিস্তানও বয়কটের ইঙ্গিত দেখিয়েছে বলে জানান মহসিন নাকভি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন।

    নাকভি আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় বিকেল приблизত ৫টায় প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে এক টুইট পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানিয়েছি। তিনি সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।”

    এর আগে নাকভি প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে ব্রিফ করেন — এ খবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।”

    পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশ মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলবে না বলে ঘোষণা দেয় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে আইসিসির কাছে। তবে আইসিসি নিরাপত্তা ঝুঁকি খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল; না মানলে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকিও ছিল। বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অটল থাকায় আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ ওয়ার্জ করা ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেয়।

    এই পুরো সময়েই পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন করে এসেছে। নাকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তানও বয়কট নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে, কিন্তু সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। আজকের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে এবং শুক্রবার বা আগামী সোমবার চূড়ান্ত ঘোষণা আসার আশা রাখা হচ্ছে।

  • আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশ দল অংশ নিতে পারছে না—ফলে এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই।

    দলের ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)‑র কাছে এক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। অনেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় গিয়ে মাঠ থেকে সরাসরি কভারেজ দেওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।

    কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত সুপ্রভাতে পরিণত হলো না। আইসিসি সোমবার ই-মেইলের মাধ্যমে জানায় যে, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের কোনো সাংবাদিককে এক্রিডিটেশন দেওয়া হবে না। আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে না, তাই দেশটির সাংবাদিকদের মাঠে গিয়ে কভার করার অনুমতি নেই।

    এর আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও মন্তব্য করেছিলেন যে নিরাপত্তার কারণে ভারত কেবল সীমিত কারণে নয়—খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাঁর বক্তব্যও বিষয়টিকে আরো জোরালো করেছিল।

    ফলত: বাংলাদেশ কেবল খেলায় নয়, সংবাদ পরিবেশনেও এই বিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকল। দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠের সরাসরি কভারেজ না করতে পারায় ক্রিকেট ক্রীড়ার খবরাখবরের প্রকাশভঙ্গিও প্রভাবিত হবে।

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা সোমবার

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুক্রবার বা সোমবার

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার অথবা পরের সোমবার নেওয়া হবে — এমনটাই জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি sozialen মাধ্যম এক্স (টুইটার)-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর বিশ্বক্রিকেটে উত্তেজনা চলছে। একদিকে স্কোয়াড ঘোষণা করেও বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছেন পিসিবি প্রধান, অন্যদিকে তিনি সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করার কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন।

    এ প্রসঙ্গে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে বৈঠক হয়। বাংলাদেশ সময় বিকেল প্রায় পাঁচটায় শুরু হওয়া বৈঠকের পর নাকভি টুইট করে জানান যে তিনি আইসিসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সব বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফলস্বরূপ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরও বৈঠকে নাকভির ব্রিফিংকে স্বীকার করেছে। সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

    পূর্বঘটনায়, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা দেখিয়ে ভারতে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ওই ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল। আইসিসি কোনো নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগ না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বললে তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের স্থানে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    পুরো ঘটনাচক্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে থাকার ইঙ্গিত দেখিয়েছে। নাকভি জানিয়েছিলেন যে তারা বয়কট সংক্রান্ত বিষয়গুলো চিন্হিতভাবে ভাবছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারকে জানাতে হবে। আজকের বৈঠকের পরে তা পরিষ্কার হয়েছে যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবাইকে সময় দেওয়া হবে।

    ক্রিকেট বিশ্ব এখন পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। শুক্রবার বা পরের সোমবার যে সিদ্ধান্তই আসুক, সেটি বিশ্বকাপের ভবিষ্যত ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

  • মেক্সিকোর সালামাঙ্কার ফুটবল মাঠে সশস্ত্র হামলা, নিহত ১১

    মেক্সিকোর সালামাঙ্কার ফুটবল মাঠে সশস্ত্র হামলা, নিহত ১১

    কেন্দ্রীয় মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের সালামাঙ্কা শহরের একটি ফুটবল মাঠে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার বিকেলে লোমা দে ফ্লোরেস এলাকায় মাঠে একটি ম্যাচ চলার সময় বা ম্যাচ শেষের পরই হামলা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।

    সালামাঙ্কার মেয়র সিজার প্রিয়েতো গালার্দো জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় সশস্ত্র চার-পাঁচজন মাঠে ঢুকে খেলোয়াড় ও দর্শকদের লক্ষ্য করে বাঁধা না দিয়ে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ১০ জন মারা যান; পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক জনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে।

    হামলার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিলে স্থানীয় পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। ন্যাশনাল গার্ড, ন্যাশনাল ডিফেন্স সেক্রেটারিয়েট (সেদেনা) এবং স্টেট পাবলিক সিকিউরিটি ফোর্সেস (এফএসপিই)–র সঙ্গে সমন্বয়ে অভিযানের মাধ্যমে হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

    গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর (এফজিই) ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও ফেডারেল কোর্ট রুটিন নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    সালামাঙ্কার মেয়র এই ঘটনার ওপর উদ্বেগ জানিয়ে এটিকে শহরে বাড়তে থাকা ‘অপরাধপ্রবণতার ঢেউ’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, কিছু অপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু তারা তা সফল করবে না।

    ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতারা আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কাজ চালাচ্ছেন। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে।

    মেক্সিকো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। দেশটির তিনটি শহর — মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরেই — ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে। তবে সালামাঙ্কা শহরে কোনো ম্যাচ নির্ধারিত ছিল না।

    পটভূমিতে উল্লেখ্য, গত বছর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যেই সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় অপরাধী চক্র সান্তা রোসা দে লিমা ও শক্তিশালী জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে।

    এদিকে মেক্সিকো সরকার দাবি করেছে, ২০২৫ সালে দেশে হত্যার হার প্রতি এক লাখ মানুষে ১৭.৫ জনে নেমে এসেছে, যা ২০১৬ সালের পরে সর্বনিম্ন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন এই পরিসংখ্যান পুরো দেশের সহিংসতার চিত্র সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে নাও পারে।

  • পিসিবি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতিতে তিন বিকল্প ভাবছে

    পিসিবি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতিতে তিন বিকল্প ভাবছে

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বজায় রেখে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে তিনটি বিকল্প সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    সূত্র বলছে, পিসিবির অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে: কীভাবে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা ও প্রতিবাদ প্রকাশ করা যায়। বিষয়গুলো বোর্ডের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে গুরুত্বসহকারে তোলা হয়েছে এবং কর্মকর্তারা, সাবেক ক্রিকেটাররাও এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।

    পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি বোর্ড কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক খেলোয়াড়দের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পিএসএল–সংক্রান্ত এক কর্মশালাতেও বিষয়টি উঠে আসে এবং সেখানে নকভি বাংলাাদেশ দলের পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেন। নকভি বলেন, বাংলাদেশ দলকে “অবহেলা ও অপমান” করা হয়েছে এবং তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

    পিসিবি যে তিনটি বিকল্প ভাবছে, সেগুলো হলো:

    – কালো বাহুবন্ধনী পরা: পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা ম্যাচে কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামতে পারেন, যা বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রতীক হবে।

    – ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার চিন্তা চলছে, যা ভারতের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে নেওয়া হতে পারে।

    – জয় উৎসর্গ করা: বিশ্বকাপে পাকিস্তান যে ম্যাচগুলো জিতবে, সেগুলো বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সূত্র জানায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের সরকার—প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মোহসিন নকভির সঙ্গে তার একটি বৈঠক আজ নির্ধারিত আছে; ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত করা হবে যে পাকিস্তান বিশ্বকাপে কীভাবে অংশ নিবে এবং কোন প্রতিবাদমূলক পথ অনুসরণ করা হবে।

    পিসিবি কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। মোহসিন নকভি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান নীতিনির্ভর এবং পাকিস্তান সেই নীতিকে সম্মান করে; তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কারও জন্যই ভালো নয়।

    পিসিবি জানিয়েছে, সরকার যা সিদ্ধান্ত দেবে, বোর্ড সেটাই অনুসরণ করবে এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয়টি সেই সিদ্ধান্তের আলোকে চূড়ান্ত হবে।

  • ছাদখোলা বাসে ট্রফি নিয়ে রাজশাহী ঘুরলেন শান্ত-মুশফিকরা

    ছাদখোলা বাসে ট্রফি নিয়ে রাজশাহী ঘুরলেন শান্ত-মুশফিকরা

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শহরজুড়ে উল্লাসে ভাসছে রাজশাহী। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে শিরোপা জেতার আনন্দ ভাগ করার জন্য রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলের খেলোয়াড়রা ট্রফি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ শহরের বিভিন্নস্থলে পদযাত্রা করেন।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাদখোলা বাসে রয়্যালগুলোর ট্রফি মাথায় নিয়ে রাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দলটি। তারা কাজলা গেট দিয়ে ঢুকে প্যারিস রোড ও জোহা চত্বর প্রদক্ষিণ করে মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে যান।

    টিম বাসের চারপাশে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের ভিড় চোখে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেরা পরা টি-শার্ট বাসের দিকে ছুঁড়ে দেওয়ায় শান্ত, মুশফিক ও তামিমের কাছ থেকে অটোগ্রাফ নিয়েছে তারা। ছাদখোলা বাস থেকে খেলোয়াড়রা বা হাতে থাকা জার্সি বাড়িতে ছুড়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়। জার্সি সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা পরিষ্কার দেখা গেছে।

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান বলেন, “রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সরাসরি খেলোয়াড়দের দেখতে পারছি, খুব উত্তেজিত।” তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম অভিজ্ঞতা যেখানে ছাদখোলা বাসে সরাসরি ট্রফি উদযাপন দেখছেন।

    রাবি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সংবর্ধনায় অংশ নেয়। তারা বলেন, বিপিএলে রাজশাহীর জয় মানে তাদেরও আনন্দ; দল দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতায় খুশি। কেউ কেউ আক্ষেপও করেছেন যে সবাই জার্সি পায়নি—কোনো এক শিক্ষার্থী একটুকরো জার্সি পেয়ে সেটিও কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাঈমুর রহমান শান্ত-মুশফিকদের কাছ থেকে জার্সি পেয়েছেন। তিনি বলেন, “জার্সি পেয়ে আমি খুব খুশি। আমি রিজিওনাল লোকাল না হলেও রাজশাহীর জয় আমাকে আনন্দ দিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষকে ধন্যবাদ, তারা ভালো দল গড়েছে এবং এখন শহরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছে।”

    উল্লেখ্য, বিপিএলের ফাইনাল ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে রাজশাহী দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে দলটি প্রথমবার শিরোপা জয় করেছিল। ট্রফি নিয়ে এই আনন্দে রাজশাহী শহর এখন উৎসবমুখর।

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে পাঠানো হয়নি বাংলাদেশ দল

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে পাঠানো হয়নি বাংলাদেশ দল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়মিতভাবে চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবু সরকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দল ভারতে পাঠাতে চাইল না, এবং পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে ছেঁটে দিয়েছে। বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে।

    বস্তুত বিষয়টি ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু করে—মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (আইপিএল) থেকে ছাড়ার খবরের পর থেকেই নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি তুমুল উঠতে থাকে। পরে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছিলেন, সরকারিভাবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে পাঠানো হবে না—এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক এক সভায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। ওই সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর স্পষ্ট করেন যে, সরকার তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সেখানে থাকা নিরাপত্তা–ঝুঁকি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা মাঠে থাকা টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিকাল কর্মী—কারও নিরাপত্তা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায়-বোজা নেওয়া সম্ভব হবে না, তাই রাষ্ট্রসম্মত বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আসিফ আকবর আরও জানান যে, এই বিষয়ে সরকারের তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—এই চারটি মন্ত্রণালয় মিলিয়ে মন্ত্রিসভায় বসে ঝুঁকি নেবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আইসিসি ও বিসিবিকে সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্কতা জাহির করে, তখন সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    পরিশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে তার জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে টপ-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডকে ১৪তম স্থানে দেখা যায়। ‘সি’ গ্রুপে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড অংশগ্রহণ করবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা শুরু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা শুরু

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের আয়োজনে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ১১তম আন্তঃডিসিপ্লিন ভলিবল প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন, শারীরিক পরিচর্যার সুযোগ সবচেয়ে বেশি মেলে আউটডোর গেমসে। একই সময়ে ক্রিকেট ও ভলিবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। এসব খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মঈনুল ইসলাম। উদ্বোধনী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

    প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে ছাত্র অংশগ্রহণকারীদের জন্য মোট ৮টি ম্যাচ এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, চলমান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সাম্প্রदায়িক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি ক্রীড়া দক্ষতা বাড়াতেই লক্ষ্য করা হয়েছে।

  • আইসিসিকে কড়া অভিযোগ: আফ্রিদি ও ইউসুফ বললেন বাংলাদেশের প্রতি ‘দ্বৈত মান’

    আইসিসিকে কড়া অভিযোগ: আফ্রিদি ও ইউসুফ বললেন বাংলাদেশের প্রতি ‘দ্বৈত মান’

    পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে বাংলাদেশের সঙ্গে নিষ্ঠুর ও অসঙ্গত আচরণের অভিযোগ করেন। তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া সিদ্ধান্তে দ্বৈত মান দেখা যাচ্ছে এবং সেটি ন্যায়সঙ্গত নয়।

    আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তার গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বিষয়ে ভারতের পাকিস্তান সফর না করার সিদ্ধান্তে আইসিসি যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ মেনে নিয়েছিল, তার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে আচরণ দেখা যাচ্ছে সেটির তুলনা টানেন। আফ্রিদি লেখেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আমি আজ আইসিসির এই অসঙ্গত আচরণে গভীরভাবে হতাশ। … বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও তাদের কোটি কোটি সমর্থক সম্মান পাওয়ার যোগ্য, দ্বৈত মানদণ্ড নয়।’

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় সমতা ও একই মানদণ্ড বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি—ন্যায্যতাই বৈশ্বিক ক্রিকেটের ভিত্তি। আফ্রিদি মনে করেন আইসিসির উচিত বিভাজন বাড়ানো নয়, সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।

    সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশ নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়ায় ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অতীতে যখন এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তখন নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন দেয়া হয়েছিল—দেশভেদে মানদণ্ড বদলানো যায় না।’

    ইউসুফ আরও জোর দিয়ে বলেন আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ ও ন্যায্য ভূমিকা পালন করা, কোনো একক বোর্ডের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। তার ভাষ্য, ‘আইসিসিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মতো আচরণ করতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়।’

    এদিকে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায় যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারতের ভেন্যু থেকে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন খারিজ করা হয়েছে, কারণ ভারতে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি।

    আফ্রিদি ও ইউসুফ দুইজনেই আইসিসির কাছে অনুরোধ করেছেন—নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, যাতে বৈশ্বিক ক্রিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অধিকার রক্ষা করা যায়।

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেষ্টা করেছিল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার। তবে শেষ পর্যন্ত সরকার ও সংশ্লিষ্টসংস্থার নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি। বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের হাতে থাকা গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত বলা যায় ৩ জানুয়ারি থেকে—যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দলে না রাখার সিদ্ধান্তের পর নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন উঠে। এরপর নিরাপত্তাজনিত সব ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের টিমকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

    বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ বৈঠকে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলার বিষয়টি অবশ্যও আলোচনার বিষয় ছিল। বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, সরকারের হাতে যে গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল, সেটিকেই সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রিপোর্টে খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখানো হয়েছে এবং সেখানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মাথায় রেখে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। কোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায় বিএসিবি আদৌ নিতে পারে না—এরকম অবস্থান সরকার স্পষ্ট করেছে।

    প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই বিসিবি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) কোণঠাসা পরিবেশে আলোচনা-আলাপ চালিয়েছে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়েছে। আসিফ আকবর জানিয়েছেন, ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠ না করা নিয়ে দেশের চারটি মন্ত্রণালয়—তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন—মিলিয়ে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বহন করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও একটি সংস্থা; কিন্তু নিরাপত্তা বিষয়ে যখন রাষ্ট্র কিছু বলে, তখন সেটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পায়।’

    আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সূচিতে যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড এখন ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। গ্রুপ ‘সি’ তে ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে স্কটল্যান্ড খেলবে।