বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের ব্যাপারে সকল সম্ভব উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার ফল পাননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) ও দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়ন একসাথে থাকার কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানো হয়নি, জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।
আসিফ আকবর বলেন, সরকারী সিদ্ধান্তে রাখা হয়েছে যে, গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্বেগ ছিল যে ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক কিংবা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সরকার এই ঝুঁকির দায় নিতে রাজি না হওয়ায় দল পাঠানো হয়নি—তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে, সেটার দায় আমরা নিতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।”
সংঘাতের সূত্রপাত বলা হচ্ছে ৩ জানুয়ারি, যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলে সরকারিভাবে দলের ভারতে পাঠানোর বিষয়ে সংশয়ে পড়ে। ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও জানিয়েছিলেন নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসিবির সঙ্গে প্রায় ২১ দিনের তর্ক-বিতর্কের পর আইসিসি অবশ্য গতকাল বাংলাদেশের বিশ্বকাপের নাম প্রত্যাহার করে চলে। আসিফ আকবর তা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দেশের চারটি মন্ত্রণালয় — তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন— মন্ত্রিসভার মাধ্যমে মিলিতভাবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বাংলাদেশকে পাঠাবে না।
আইসিসি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের স্থলে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে যোগ করেছিল এবং নতুন সূচি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড বর্তমানে ১৪ নম্বরে আছে। তাদের ‘সি’ গ্রুপে ইতালি (নবাগত), নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকছে।
বিসিবি ও সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী ও দলের জন্য গভীরভাবে প্রভাব ফেলবে—খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নিতে পারল না এবং বিশ্বকাপের জন্য গঠিত সূচি ও পরিকল্পনাও পাল্টেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে কীভাবে দলকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়, সেটি পরিবেশ-নির্ভর হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
