Category: খেলাধুলা

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা — সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসবে

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা — সিদ্ধান্ত শিগগিরই আসবে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান খেলবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বলেছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) অথবা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আসতে পারে।

    পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য: বাংলাদেশ নিরাপত্তা আরও ভেবে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে অনصفমূলক ও দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ বলে মনে করছে এবং পিসিবি এখন বাংলাদেশের পক্ষে موقف নেয়া এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান কার্যত ‘অপেক্ষার কৌশল’ অবলম্বন করছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা প্রথম দুই ম্যাচ (৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে) খেলবে ও জয়ের মাধ্যমে সুপার এইটে যাওয়ার আশা রাখবে, আর এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশাহীন বা বয়কটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতে পারে।

    এমনকী পিসিবি আইসিসিকে টুর্নামেন্ট চলাকালীন ধরনের প্রতিবাদ জানাতে একটি চিঠি পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। সম্ভাব্য প্রতিবাদের দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা হচ্ছে — খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে খেলা, ভারতের বিপক্ষে অংশ না নেওয়া এবং জয়গুলো বাংলাদেশ ও নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতি উৎসর্গ করা।

    গত সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সব বিকল্প খোলা রেখেই সমাধান করা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করবে; নকভি বলেন, সরকার যা বলবে, তা মেনে চলা হবে।

    আইসিসি ইতোমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে — যদি কোনো দল রাজ্য বা টুর্নামেন্টের নিয়ম ভঙ্গ করে বয়কট করে, তা হলে সাসপেনশন, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিশেষত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বড় সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক রাজস্ব আসে; বয়কট হলে ক্ষতিপূরণ দাবি বা আর্থিক চাপও উঠতে পারে।

    আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে তারা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারত-ভিত্তিক ম্যাচ না খেলার বিচার পর্যাপ্ত মনে করেনি এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের হস্তক্ষেপকে কিছু পর্যবেক্ষক অনধিকারপ্রবেশ বা অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ সরাসরি সম্পর্ক সূত্রপাত কম। তবে পাকিস্তান আইসিসির দ্বিমুখী নীতিকেই প্রশ্ন তুলছে — তারা বলছে অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে বা বিশেষ রীতিনীতি মেনে নেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় এখন কেন ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে তা ব্যাখ্যার দাবি করছে।

    পরিস্থিতি এখনও ঝুলেই আছে। কেবল ভারত ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানকে নৈতিক প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকবে এবং বড় ধরনের শাস্তি এড়ানোও সম্ভব হতে পারে; কিন্তু পুরো টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেলে ক্রিকেটে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ও কড়াকড়ি অপেক্ষা করতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পাকিস্তানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায়।

  • আইসিসির র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি, সুখবর পেলেন মোস্তাফিজ

    আইসিসির র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি, সুখবর পেলেন মোস্তাফিজ

    বছরের শুরুটা মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য বৈচিত্র্যময় ও চাপপূর্ণ ছিল। আইপিএলে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি নিয়ে কেউ ছবি টেনে আলোচনায় আসার পর কলকাতা নাইট রাইডার্সের এক পর্যায়ে নাম কাটা এবং সেই ইস্যুতে বিভিন্ন ভারতীয় তারকারাও কথা বলায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবু নতুন বছরের প্রথম মাস না পেরোতেই আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ভালো খবর এসেছে বাঁহাতি পেসারের কাছে।

    আইসিসির সাপ্তাহিক র‍্যাঙ্কিং প্রতিবেদনে মোস্তাফিজ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকায় এক ধাপ উঠে এখন সপ্তম স্থানে আছেন। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ৬৬৫। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শেষবার তিনি খেলেছেন গত বছরের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি; সামগ্রিকভাবে গত বছর টি-টোয়েন্টিতে ২০ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছিলেন এবং ইকোনমি ছিল ৬.০৯।

    তার মতোই উন্নতি হয়েছে তরুণ লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনেরও—এক ধাপ এগিয়ে তিনি এখন টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বরে অবস্থান করছেন; রেটিং পয়েন্ট ৬১৯। গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩৩ উইকেট নিয়ে রিশাদ বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হিসেবে উঠেছেন।

    পাকিস্তানের লেগস্পিনার আবরার আহমেদ এক ধাপ এগিয়ে চারে উঠে এসেছেন; ৬৯১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফির সঙ্গে যৌথভাবে চারে অবস্থান করছেন। আফগানিস্তানের মুজিব উর রহমান পাঁচ ধাপ উন্নতি করে এখন টপ-১০-এ ফিরেছেন—র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনি নবম স্থানে, রেটিং ৬৫৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সিরিজে মুজিব অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন—সিরিজে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল এক হ্যাটট্রিকও।

    বিশাখাপত্তনমে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। সেই ম্যাচের আগে ভারতীয় ক্রিকেটাররাও ভাল খবর পেয়েছেন—জসপ্রীত বুমরা চার ধাপ উঠে টি-টোয়েন্টি বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে এখন ১৩ নম্বরে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে দুই ম্যাচে তিনি ৩ উইকেট নিয়েছেন এবং ইকোনমি ৬.৫৭; গুয়াহাটি ম্যাচে তিনি ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

    এদিকে বরুণ চক্রবর্তীর নেতৃত্ব অব্যাহত; ৭৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বোলারদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। চলমান নিউজিল্যান্ড সিরিজে বরুণ এখন পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়েছেন।

    অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে হার্দিক পান্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে তিন নম্বর স্থানে উঠে এসেছেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের তিনটি টি-টোয়েন্টি পর্যন্ত হার্দিক ৪ উইকেট নিয়েছেন ও ব্যাটিংয়ে করেছেন ২৫ রান; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৪৮। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ২৮৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অলরাউন্ডারদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবও অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই দ্বিতীয় স্থানে; তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৭৭।

    ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে আছেন অভিষেক শর্মা—৯২৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তিনি টপে রয়েছেন। সেই তালিকায় ফিল সল্ট ও তিলক ভার্মা আগের মতোই যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে (৮৪৯ এবং ৭৮১ রেটিং পয়েন্ট)।

    আরেকটি বড় আপডেট—সূর্যকুমার যাদব পাঁচ ধাপ উঠে টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বর হয়েছেন; তাঁর রেটিং ৭১৭। নিউজিল্যান্ড সিরিজে সূর্যকুমার এখন পর্যন্ত দুই ফিফটি করে সিরিজে সর্বোচ্চ ১৭১ রান সংগ্রহ করেছেন। অভিষেক শর্মা সিরিজে ১৫২ রান করেছেন, যার মধ্যে ২৫ জানুয়ারি গুয়াহাটিতে ১৩ বলেই করেছেন এক ফিফটি। ভারত প্রথম তিনটি টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ নিশ্চিত করেছে, ফলে দুই ম্যাচ বাকি থাকলেও সিরিজ তাদের দখলে।

    মোটকথা, দেশের দুই তারকা—মোস্তাফিজ ও রিশাদের র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক সংবাদ। আন্তর্জাতিক মাতৃকায় তারা আগামিতে আরও কৃতিত্ব দেখাতে পারলে দলেরই সুবিধা হবে।

  • পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না—নির্ধারণে অনিশ্চয়তা

    পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না—নির্ধারণে অনিশ্চয়তা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান অংশ নেবে কি না তা এখনও অনিশ্চিত। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে আগামী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কিংবা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)।

    পটভূমি: বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করায় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও দ্বিমুখী নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছে এবং পিসিবি বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদ করেছে।

    একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ‘অপেক্ষার কৌশল’ রাখতে পারে — প্রথম দুই ম্যাচ খেলবে, সেগুলো জিতে সুপার-এইট নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে, এবং এরপর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ (১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বো) বয়কট করে প্রতিবাদ জানাবে। পাকিস্তান প্রথম দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস (৭ ফেব্রুয়ারি) ও যুক্তরাষ্ট্র (১০ ফেব্রুয়ারি)–এর সঙ্গে মুখোমুখি হবে।

    কৌশলগত যুক্তি হলো: যদি প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সুপার-এইটে উঠা নিশ্চিত হয়, তাহলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বাদ পড়ার ঝুঁকি কম থাকবে; তবু তারা প্রতিবাদ জানাতে পারবে। পিসিবি আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে বিশ্বকাপ চলাকালীন বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ করার কথাও ভাবছে—যেমন খেলোয়াড়দের কালো আর্মব্যান্ড পরানো, ভারত ম্যাচ বয়কট করা বা জয়গুলো বাংলাদেশকে উৎসর্গ করা।

    গত সোমবার মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন সব বিকল্প খোলা রেখে পরিস্থিতির সমাধান করা হবে এবং সিদ্ধান্ত সরকারের ওপরই নির্ভর করবে; নকভির বক্তব্য, সরকার যা বলবে, সেটাই মানা হবে।

    আইসিসি ইতোমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে: বয়কট করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাসপেনশন, জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে বড় আসরীয় সম্প্রচার আয় আসে, তাই আয়-ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি ওঠারও সম্ভাবনা রয়েছে।

    আইসিসির অবস্থান হলো—বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ পর্যাপ্ত নয়; বিষয়টি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ অনড় ছিল। অন্যদিকে পাকিস্তান ও সমর্থকেরা আইসিসির নীতিকে দ্বিমুখী বলেও প্রশ্ন তুলেছে, উদাহরণস্বরূপ পূর্বে কখনো নিরাপত্তার জটিলতা দেখিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে। অনেকে বলছেন, এই বিবাদে পাকিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণ ততটা প্রয়োজনীয় নয়, কিন্তু পাকিস্তান বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে সিদ্বান্তের ন্যায় বিচার চাচ্ছে।

    পরিস্থিতি এখনো ঝুলে আছে। শুধু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে খেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারবে কিন্তু বড় ধরনের শাস্তি এড়ানোর সম্ভাবনা থেকে যায়। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করলে পাকিস্তান ক্রিকেটও বড় ধাক্কায় পড়তে পারে। সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা।

  • থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে সুপার সিক্স শুরু বাংলাদেশের

    থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে সুপার সিক্স শুরু বাংলাদেশের

    সুপার সিক্সের উদ্বোধনী ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করলো বাংলাদেশের মেয়েরা। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারির আগ্রাসী অর্ধশতক এবং তাদের ১১০ রানের জুটিতেই ১৬৫ রানের সমৃদ্ধ ইনিংস গড়েছিল টাইগারেসরা। পরে বোলিংয়ে মারুফা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনি ঠিক সময়েই ধাক্কা দেখে দলকে জয় এনে দেন।

    ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশ কিছু দ্রুত উইকেট হারালেও—দিলারা আক্তার টপ-এজ হয়ে কভারে ক্যাচ দেন এবং শারমিন আক্তার সুপ্তা থিপাচা পুথাওয়াংয়ের বলে লেগ-বিফোরে আউট হয়ে ৯ বলে ১১ রান করেন—তারপর জুয়াইরিয়া ও সোবহানা ম্যাচের کہا-কথা নিয়ন্ত্রণে নেন। দুই ওপেনারের ধৈর্য্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দল ধীরে ধীরে আগ্রাসী রানের স্প্রিন্টে যায়।

    জুয়াইরিয়া লাওমির একজন বলকে তুলে ছক্কা মারেন এবং ৪৩ বলেই হাফসেঞ্চুরির মুখে পৌঁছান; শেষ পর্যন্ত তিনি ৪৫ বল খেলে ৪৫ বলে নয়—৪৫ বলে নয়—৪৫ বলে নয়—(বর্ণনার ঠিক অংশটি) ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল চারটি ছয় ও তিনটি চার। সোবহানাও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন—৩৭ বলেই অর্ধশতক স্পর্শ করেন এবং ৪২ বল খেলে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন না; শেষ পর্যন্ত পুথাওয়াংয়ের এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন। এরপর রিতু মনি শেষ দিকের অংশে ৬ বলে ১৫ রানের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংস খেলেন এবং বাংলাদেশ ১৬৫ রানের সংগ্রহ তোলে। থাইল্যান্ডের হয়ে পুথাওয়াং তিনটি ও অন্নিচা কামচোমফুর দুটি উইকেট নেন।

    রান তাড়া করতে নেমে থাইল্যান্ড শুরুতেই একটি উইকেট হারায়—সুয়ানান খিয়াতাও প্রথম সারির ব্যবস্থায় ফিরে যান। এরপর নাথাকান চানথাম ও নান্নাপাট কনচারোয়েনকাই দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রানের অংশীদারি গড়েন। চানথাম ৪১ বলে ৪৬ রান করেন, কিন্তু ফাহিমা খাতুনের একজন উইকেটে তিনি ফিরেন। পরে স্বর্ণার ক্যাচে নান্নাপাটও ফিরে যান।

    চাইওয়াই (নারুমল চায়ওয়াই) একপ্রান্ত ধরে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন এবং শেষ দিকে ২৮ বলে ৩০ রান করে ইনিংস শেষ পর্যন্ত মুখ করে যান। তবে বাকিরা নির্দিষ্টভাবে রান তুলতে পারেননি এবং থাইল্যান্ড পুরো টুর্নামেন্টে ১২৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন; রিতু ও স্বর্ণা দুই করে এবং ফাহিমা একটি উইকেট শিকার করেন।

    শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৬৫-র বিপক্ষে থাইল্যান্ডকে ১২৬ রানে আটকে রেখে ৩৯ রানে জয় তুলে নিল। জুটি গড়া ও সময়োপযোগী আক্রমণে জুয়াইরিয়া ও সোবহানার অবদানকে ভরসা করে টাইগারেসরা সুপার সিক্স সূচনায় মূল্যবান তিন পয়েন্ট পেয়ে গেল।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড়, বাংলাদেশের পুনঃপ্রবেশের সম্ভাবনা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড়, বাংলাদেশের পুনঃপ্রবেশের সম্ভাবনা

    আইসিসি এবং এশিয়া কাপ নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা সবসময়ই চলে আসছে। তবে বর্তমানে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে যে নাটক চলছে, তা সত্যিই চমকপ্রদ। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পরে এবার আইসিসি আবার তাদের ফিরে আনার কথা ভাবছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তার পরিবর্তে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। আইসিসির এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান না খেললে বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে রাখা হতে পারে এবং সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আয়োজনের ঝামেলা কম হবে, যা বিসিবি মূলত চাচ্ছে। এর আগে, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডের নাম দিয়ে নতুন সূচি প্রকাশ করে। একই দিনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসি অন্যায় করেছে। বাংলাদেশ তা চেয়েছিল যে, তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দিতে, কিন্তু আইসিসি সেটিতে রাজি হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যায়। বাংলাদেশ বাদ যাওয়ার দিনই মহসিন নাকভি মন্তব্য করেন, যদি পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে তারা হয়তো শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করতে পারে। এরপর গতকাল তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের ছবি পোস্ট করে বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শুক্রবার বা সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আশা রয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের কাছাকাছি থাকা দলকে সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে এবং বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, ফলে পাকিস্তান সরে গেলে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা তৈরি হয়। এর আগে, বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করায় ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছিল। সব মিলিয়ে, শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে যায়, তাহলে বাংলাদেশের প্রবেশের সম্ভাবনা আবার জেগে উঠবে। সম্ভাব্য ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা বলছে, তবে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • আইসিসি থেকে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

    আইসিসি থেকে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল চারটি ম্যাচ খেলেছে, এবং প্রতিটিতেই তারা জিতেছে। এই ধারাবাহিক সফলতা দলটির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা র‍্যাংকিংয়ে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু বাংলাদেশি ক্রিকেটার তাদের র‍্যাংকিং উন্নতি করেছেন।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি করে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শারমিন আক্তার। তার এই চমৎকার ইনিংসের ফলে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ এগিয়ে ৩৫তম স্থানে পৌঁছেছেন, যা তার ক্যারিয়ারে সেরা অবস্থান।

    একই সঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন ডানহাতি এই ওপেনার দিলারা আক্তার। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ রান করে তিনি দারুণ এক অগ্রগতি করেছেন। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ৩৫ রান করার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সেরা শতাকের ভিতরে অবস্থান করছেন, যেখানে ৩৩ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন যৌথভাবে ৭০তম স্থানে আছেন।

    অন্যদিকে, সবশেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৭ ও ৩০ রান করে সোবহানা মোস্তারি ১১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২তম স্থানে অবস্থান করছেন। স্বর্ণা আক্তারও দুর্দান্ত উত্তরণে ১৭ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ৮৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    বোলারদের মধ্যে উন্নতি হচ্ছে ফাহিমা খাতুনের। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেওয়ার ফলে তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া সানজিদা আক্তার মেঘলা ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে আছেন। রাবেয়া খান, যিনি নামোমিবিয়া ম্যাচে ৩ উইকেট ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১ উইকেট অর্জন করেছেন, তিনি এক ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে অবস্থান করছেন।

  • বাংলাদেশের মেয়েদের সুপার সিক্সের যাত্রা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু

    বাংলাদেশের মেয়েদের সুপার সিক্সের যাত্রা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু

    বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল সফলভাবে সুপার সিক্সে প্রবেশ করেছে, প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া মোটিভেশনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সংযোজন করেছে। ম্যাচের শুরুতে থাইল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত উইকেট হারানো শুরু করে, যা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে দেয়। প্রথম বলে উইকেট হারানো থাইল্যান্ডের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, যখন মারুফা ফেরদৌসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুয়ানান খিয়াতা লেগ বিফোর হয়ে যান। দ্বিতীয় উইকেটে চানথাম ও নান্নাপাটের জুটি ৬৭ রান যোগ করে শান্তি ফেরান, তবে ফাহিমা খাতুনের বুদ্ধিমত্তামূলক বলের ক্যাচে চানথাম ফিরে যান। নান্নাপাটকে স্বর্ণা আক্তার আউট করেন ২৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটসম্যান। স্বর্ণার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নান্নাপাট, এরপর চাইওয়াইয়ের ৩০ রানও স্বর্ণার ঝুলিতে যায়। এই পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ইনিংস ছিল ১২৬ রানে, যা বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ৩৯ রানে কম। বাংলাদেশের জন্য সেরা পারফরম্যান্স ছিল মারুফার, যিনি ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন, এছাড়া রিতু ও স্বর্ণা দুজনই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশি বোলাররা প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও দ্রুত ফিরে আসেন দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে। শারমিন আক্তার সুপ্তা শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন, কিন্তু পরে জুয়াইরিয়া ও সোবহানা নেতৃত্ব দেন দলের ব্যাটিংয়ে। জুয়াইরিয়া ৫৬ রানে ৪৫ বলে চার ছক্কা ও তিন চারে অপরাজেয় থাকেন, वहीं সোবহানা ৫৯ রান করে আপন ক্যারিয়ারে প্রথম পঞ্চাশ স্পর্শ করেন। তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রানে, যা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য জয় নিশ্চিত করে। থাইল্যান্ডের পুথাওয়াং তিনটি এবং অন্নিচা দুটিই উইকেট সংগ্রহ করেন। এই জয়ে বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলের শক্তি ও সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে, এবং তারা সুপার সিক্সে আরও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করছে।

  • ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপের আশঙ্কা বাড়ছে

    ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপের আশঙ্কা বাড়ছে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসন্ন আয়োজনের মাঝে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মূল অয়োজক ভারত ও সহ-অয়োজক শ্রীলঙ্কায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতে থাকবেন আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—পাঁচটি ভেন্যুতে এবং শ্রীলঙ্কায় কলম্বো ও ক্যান্ডিতে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট কেন্দ্রের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। এই ভাইরাসের প্রভাব মেটাতে হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ট্রাভেল ও ট্রেনিং নিয়ম কঠোর হতে পারে, এমনকি পুরো টুর্নামেন্টটাই হয়তো স্থানান্তর বা স্থগিতের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যেমন জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজ এই পরিস্থিতির গুরুত্ব গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করছে, অনেকেই টুর্নামেন্টের শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর বা বন্ধের পরামর্শ দিচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংক্রমণ খুবই ছোট আকারের। তবে আইসিসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    শুধু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার মধ্যে সেমিফাইনালও রয়েছে। যদি সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য ট্রাভেল ও সিকিউরিটির নিয়ম কঠোর হতে পারে। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে, কিছু দেশ ইতিমধ্যে কোয়োরেন্টিন ও ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপ করেছে। এতে উদ্ভিন্ন হতে পারে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা।

    জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণপুরের কাছে বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার দেখা গেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এখনও মৃত্যুর খবর আসেনি। সংক্রমণের মূল উৎস হলো হাসপাতাল পর্যায়ে ফলের বাদুড় থেকে ছড়িয়ে পড়া। কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ১০০-২০০ জন ব্যক্তিকে কোয়ারান্টিনে রেখেছে ও বেশিরভাগের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।

    প্রারম্ভিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেরালায় চারটি নিপাহ কেসের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে दोজনের মৃত্যুও হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক।

    নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা ফলের বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাট থেকে ছড়ায়। সংক্রমণের প্রধান উপায় হলো কাঁচা খেজুরের রস, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ বা মানুষের মধ্যে সবাই রুটিন ক্লোজ কন্টাক্ট। লক্ষণগুলো হলো জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)। মৃত্যুর হার খুবই উচ্চ, ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই, তবে কিছু ওষুধ যেমন রেমডেসিভির ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শেষ তথ্য ও পরিস্থিতি

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শেষ তথ্য ও পরিস্থিতি

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখনও নিশ্চিত নয় তারা 2026 সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী শুক্রবার (30 জানুয়ারি) বা সোমবার (2 ফেব্রুয়ারি)।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তান এটিকে অন্যায় ও দ্বিচারিতার নীতি বলে মনে করে এবং এর প্রতিবাদে পাকিস্তান খানিকটা সমর্থন দিয়েছে।

    এদিকে, ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান এখন ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলছে। তারা চাইছে, প্রথম দুটো ম্যাচে (৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে) জিতে সুপার সেইক্স নিশ্চিত করবে। এরপর তারা ভারতের ম্যাচটি (১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বো) বয়কট করার পরিকল্পনা করছে।

    যদি পাকিস্তান প্রথম দুটো ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তারা ভারত ম্যাচ থেকে বিরত থাকতে পারে, যা প্রায় নিশ্চিত প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এক পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তারা পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ না পড়ে কিছু আঞ্চলিক প্রতিবাদ ও সমর্থন চালিয়ে যেতে পারবে।

    এছাড়াও, পিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপের চলাকালীন প্রতিবাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে, যার মধ্যে একটি হল কালো আর্মব্যান্ড পরা বা ভারতের বিরুদ্ধে খেলায় বয়কট। এই প্রতিবাদগুলো বাংলাদেশের সমর্থন জানাতে উৎসর্গ করারও চিন্তা রয়েছে।

    গত সোমবার, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব বিকল্প খোলা রেখেই সমাধান খোঁজা হবে এবং সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে। মহসিন নকভি বলেন, সরকার যা বলবে, সেই অনুযায়ী চলা হবে।

    অন্যদিকে, আইসিসি কঠোর সতর্ক সংকেত দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানের যদি বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ বা পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তাহলে তাদের সাসপেনশন, অর্থদণ্ড বা আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ অতিরিক্ত ব্রোডকাস্টের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়, যেখানে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে।

    আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি ততটা বেশি নয়; তারা বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, পাকিস্তানের সরাসরি সম্পর্ক নেই এসব ঘটনার সঙ্গে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল ও ঝুলে আছে।

    একদিকে, পাকিস্তান যদি শুধুমাত্র ভারত ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে বড় ধরনের শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া ক্রিকেটের জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা হবে। এখন সবকিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীদের।

  • ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

    ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর چند সপ্তাহ বাকি—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় মোট ৫৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা। ভারতের আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পাঁচটি ভেন্যু এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ভারতের কিছু জেলায় নতুন করে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং সংবাদমাধ্যমে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরামর্শও উঠে এসেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যম এই উদ্বেগ তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ওই আউটব্রেকটি সীমিত মাত্রার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ নিয়ে এখনও কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়নি।

    বিশেষত কলকাতার কাছাকাছি বারাসাত এলাকায় জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নিপাহের একটি ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলা হচ্ছে। সংক্রমণ বেশিরভাগ হাসপাতাল-রিলেটেড (নোসোকোমিয়াল) ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে রিপোর্ট করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ১০০-২০০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য কন্টাক্টকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে এবং শতাধিক নমুনা পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ পাওয়া গেছে। ওই ক্লাস্টারে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু হওয়া খবর পাওয়া যায়নি, এবং জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য দল ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    পূর্বদিকে ২০২৫ সালে কেরালায় নিপাহের চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুইজন মারা গিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে এই উপকেন্দ্রটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস—প্রধান উৎস ফলের বাদুড় (ফ্রুট ব্যাট)। সাধারণভাবে সংক্রমণ ছড়ায় কাঁচা খেজুরের রস বা অন্য জৈবপদার্থ, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ কিংবা মানুষ থেকে মানুষে (বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে) সংক্রমণের মাধ্যমে। রোগীর লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) উল্লেখযোগ্য। পরীক্ষা ও চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ৪০–৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই; কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ও সমর্থনমূলক চিকিৎসা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সতর্কতার একটি রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    সংক্রমণ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্টাফ ও দর্শকদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে—বায়োসিকিউরিটি বিধি জোরদারি, এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিং বৃদ্ধি, কোয়ারেন্টিন বা ট্র্যাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কারণে ওই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এসব নিয়ম খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকসুবিধায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আয়োজক সংস্থা ও ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, এবং ফেরত থাকা বা বাড়তি নিরাপত্তা বিধি কেমন হবে—এসবই নির্ধারণ করবে টুর্নামেন্টে কীভাবে এগোনো হবে। জনগণকে শান্ত থাকতে, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।