Category: খেলাধুলা

  • আইসিসি থেকে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

    আইসিসি থেকে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল চারটি ম্যাচ খেলেছে, এবং প্রতিটিতেই তারা জিতেছে। এই ধারাবাহিক সফলতা দলটির পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা র‍্যাংকিংয়ে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু বাংলাদেশি ক্রিকেটার তাদের র‍্যাংকিং উন্নতি করেছেন।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করে ফিফটি করে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন শারমিন আক্তার। তার এই চমৎকার ইনিংসের ফলে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ এগিয়ে ৩৫তম স্থানে পৌঁছেছেন, যা তার ক্যারিয়ারে সেরা অবস্থান।

    একই সঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন ডানহাতি এই ওপেনার দিলারা আক্তার। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ রান করে তিনি দারুণ এক অগ্রগতি করেছেন। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ৩৫ রান করার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সেরা শতাকের ভিতরে অবস্থান করছেন, যেখানে ৩৩ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন যৌথভাবে ৭০তম স্থানে আছেন।

    অন্যদিকে, সবশেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৭ ও ৩০ রান করে সোবহানা মোস্তারি ১১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২তম স্থানে অবস্থান করছেন। স্বর্ণা আক্তারও দুর্দান্ত উত্তরণে ১৭ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ৮৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    বোলারদের মধ্যে উন্নতি হচ্ছে ফাহিমা খাতুনের। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেওয়ার ফলে তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৩০তম স্থানে পৌঁছেছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া সানজিদা আক্তার মেঘলা ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে আছেন। রাবেয়া খান, যিনি নামোমিবিয়া ম্যাচে ৩ উইকেট ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১ উইকেট অর্জন করেছেন, তিনি এক ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে অবস্থান করছেন।

  • ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপের আশঙ্কা বাড়ছে

    ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে নিপাহ ভাইরাস, বিশ্বকাপের আশঙ্কা বাড়ছে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসন্ন আয়োজনের মাঝে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মূল অয়োজক ভারত ও সহ-অয়োজক শ্রীলঙ্কায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচের জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতে থাকবেন আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—পাঁচটি ভেন্যুতে এবং শ্রীলঙ্কায় কলম্বো ও ক্যান্ডিতে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণের ঘটনা কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট কেন্দ্রের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। এই ভাইরাসের প্রভাব মেটাতে হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ট্রাভেল ও ট্রেনিং নিয়ম কঠোর হতে পারে, এমনকি পুরো টুর্নামেন্টটাই হয়তো স্থানান্তর বা স্থগিতের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হাই এলার্ট জারি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যেমন জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজ এই পরিস্থিতির গুরুত্ব গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করছে, অনেকেই টুর্নামেন্টের শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর বা বন্ধের পরামর্শ দিচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সংক্রমণ খুবই ছোট আকারের। তবে আইসিসি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    শুধু কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যার মধ্যে সেমিফাইনালও রয়েছে। যদি সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের জন্য ট্রাভেল ও সিকিউরিটির নিয়ম কঠোর হতে পারে। এয়ারপোর্টে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে, কিছু দেশ ইতিমধ্যে কোয়োরেন্টিন ও ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপ করেছে। এতে উদ্ভিন্ন হতে পারে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকদের অভিজ্ঞতা।

    জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণপুরের কাছে বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার দেখা গেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এখনও মৃত্যুর খবর আসেনি। সংক্রমণের মূল উৎস হলো হাসপাতাল পর্যায়ে ফলের বাদুড় থেকে ছড়িয়ে পড়া। কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ১০০-২০০ জন ব্যক্তিকে কোয়ারান্টিনে রেখেছে ও বেশিরভাগের নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে।

    প্রারম্ভিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কেরালায় চারটি নিপাহ কেসের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে दोজনের মৃত্যুও হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক।

    নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা ফলের বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাট থেকে ছড়ায়। সংক্রমণের প্রধান উপায় হলো কাঁচা খেজুরের রস, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ বা মানুষের মধ্যে সবাই রুটিন ক্লোজ কন্টাক্ট। লক্ষণগুলো হলো জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)। মৃত্যুর হার খুবই উচ্চ, ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন নেই, তবে কিছু ওষুধ যেমন রেমডেসিভির ব্যবহার হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

  • বাংলাদেশের মেয়েদের সুপার সিক্সের যাত্রা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু

    বাংলাদেশের মেয়েদের সুপার সিক্সের যাত্রা থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুরু

    বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল সফলভাবে সুপার সিক্সে প্রবেশ করেছে, প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া মোটিভেশনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সংযোজন করেছে। ম্যাচের শুরুতে থাইল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা দ্রুত উইকেট হারানো শুরু করে, যা বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে দেয়। প্রথম বলে উইকেট হারানো থাইল্যান্ডের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, যখন মারুফা ফেরদৌসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সুয়ানান খিয়াতা লেগ বিফোর হয়ে যান। দ্বিতীয় উইকেটে চানথাম ও নান্নাপাটের জুটি ৬৭ রান যোগ করে শান্তি ফেরান, তবে ফাহিমা খাতুনের বুদ্ধিমত্তামূলক বলের ক্যাচে চানথাম ফিরে যান। নান্নাপাটকে স্বর্ণা আক্তার আউট করেন ২৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটসম্যান। স্বর্ণার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন নান্নাপাট, এরপর চাইওয়াইয়ের ৩০ রানও স্বর্ণার ঝুলিতে যায়। এই পর্যন্ত থাইল্যান্ডের ইনিংস ছিল ১২৬ রানে, যা বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ৩৯ রানে কম। বাংলাদেশের জন্য সেরা পারফরম্যান্স ছিল মারুফার, যিনি ২৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন, এছাড়া রিতু ও স্বর্ণা দুজনই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশি বোলাররা প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও দ্রুত ফিরে আসেন দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলে। শারমিন আক্তার সুপ্তা শুরুতে ব্যাট করতে গিয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হন, কিন্তু পরে জুয়াইরিয়া ও সোবহানা নেতৃত্ব দেন দলের ব্যাটিংয়ে। জুয়াইরিয়া ৫৬ রানে ৪৫ বলে চার ছক্কা ও তিন চারে অপরাজেয় থাকেন, वहीं সোবহানা ৫৯ রান করে আপন ক্যারিয়ারে প্রথম পঞ্চাশ স্পর্শ করেন। তাদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রানে, যা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য জয় নিশ্চিত করে। থাইল্যান্ডের পুথাওয়াং তিনটি এবং অন্নিচা দুটিই উইকেট সংগ্রহ করেন। এই জয়ে বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলের শক্তি ও সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে, এবং তারা সুপার সিক্সে আরও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করছে।

  • পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শেষ তথ্য ও পরিস্থিতি

    পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শেষ তথ্য ও পরিস্থিতি

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখনও নিশ্চিত নয় তারা 2026 সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী শুক্রবার (30 জানুয়ারি) বা সোমবার (2 ফেব্রুয়ারি)।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তান এটিকে অন্যায় ও দ্বিচারিতার নীতি বলে মনে করে এবং এর প্রতিবাদে পাকিস্তান খানিকটা সমর্থন দিয়েছে।

    এদিকে, ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান এখন ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলছে। তারা চাইছে, প্রথম দুটো ম্যাচে (৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে) জিতে সুপার সেইক্স নিশ্চিত করবে। এরপর তারা ভারতের ম্যাচটি (১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বো) বয়কট করার পরিকল্পনা করছে।

    যদি পাকিস্তান প্রথম দুটো ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তারা ভারত ম্যাচ থেকে বিরত থাকতে পারে, যা প্রায় নিশ্চিত প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এক পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তারা পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ না পড়ে কিছু আঞ্চলিক প্রতিবাদ ও সমর্থন চালিয়ে যেতে পারবে।

    এছাড়াও, পিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপের চলাকালীন প্রতিবাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে, যার মধ্যে একটি হল কালো আর্মব্যান্ড পরা বা ভারতের বিরুদ্ধে খেলায় বয়কট। এই প্রতিবাদগুলো বাংলাদেশের সমর্থন জানাতে উৎসর্গ করারও চিন্তা রয়েছে।

    গত সোমবার, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব বিকল্প খোলা রেখেই সমাধান খোঁজা হবে এবং সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে। মহসিন নকভি বলেন, সরকার যা বলবে, সেই অনুযায়ী চলা হবে।

    অন্যদিকে, আইসিসি কঠোর সতর্ক সংকেত দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানের যদি বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ বা পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তাহলে তাদের সাসপেনশন, অর্থদণ্ড বা আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ অতিরিক্ত ব্রোডকাস্টের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়, যেখানে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে।

    আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি ততটা বেশি নয়; তারা বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, পাকিস্তানের সরাসরি সম্পর্ক নেই এসব ঘটনার সঙ্গে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল ও ঝুলে আছে।

    একদিকে, পাকিস্তান যদি শুধুমাত্র ভারত ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে বড় ধরনের শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া ক্রিকেটের জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা হবে। এখন সবকিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীদের।

  • ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

    ভারতে নিপাহ ছড়ায়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর چند সপ্তাহ বাকি—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় মোট ৫৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা। ভারতের আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাইয়ের পাঁচটি ভেন্যু এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ভারতের কিছু জেলায় নতুন করে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং সংবাদমাধ্যমে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরামর্শও উঠে এসেছে। জিও সুপার, ট্যাপম্যাড, হেলথ মাস্টার ও খাইবার নিউজসহ একাধিক গণমাধ্যম এই উদ্বেগ তুলে ধরেছে। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং ওই আউটব্রেকটি সীমিত মাত্রার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এ নিয়ে এখনও কোনো অফিসিয়াল ঘোষণা দেয়নি।

    বিশেষত কলকাতার কাছাকাছি বারাসাত এলাকায় জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে নিপাহের একটি ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত পাঁচটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলা হচ্ছে। সংক্রমণ বেশিরভাগ হাসপাতাল-রিলেটেড (নোসোকোমিয়াল) ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে রিপোর্ট করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ১০০-২০০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য কন্টাক্টকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে এবং শতাধিক নমুনা পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ পাওয়া গেছে। ওই ক্লাস্টারে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু হওয়া খবর পাওয়া যায়নি, এবং জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের স্বাস্থ্য দল ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    পূর্বদিকে ২০২৫ সালে কেরালায় নিপাহের চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুইজন মারা গিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে এই উপকেন্দ্রটি ২০০৭ সালের পর প্রথম বড় আউটব্রেক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস—প্রধান উৎস ফলের বাদুড় (ফ্রুট ব্যাট)। সাধারণভাবে সংক্রমণ ছড়ায় কাঁচা খেজুরের রস বা অন্য জৈবপদার্থ, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ কিংবা মানুষ থেকে মানুষে (বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে) সংক্রমণের মাধ্যমে। রোগীর লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) উল্লেখযোগ্য। পরীক্ষা ও চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ৪০–৭৫ শতাংশ পর্যন্ত রিপোর্ট করা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো ভ্যাকসিন বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই; কিছু ক্ষেত্রে অ্যান্টিভাইরাল ও সমর্থনমূলক চিকিৎসা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সতর্কতার একটি রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    সংক্রমণ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্টাফ ও দর্শকদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে—বায়োসিকিউরিটি বিধি জোরদারি, এয়ারপোর্ট স্ক্রিনিং বৃদ্ধি, কোয়ারেন্টিন বা ট্র্যাভেল রেস্ট্রিকশন আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কারণে ওই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এসব নিয়ম খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও দর্শকসুবিধায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আয়োজক সংস্থা ও ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, এবং ফেরত থাকা বা বাড়তি নিরাপত্তা বিধি কেমন হবে—এসবই নির্ধারণ করবে টুর্নামেন্টে কীভাবে এগোনো হবে। জনগণকে শান্ত থাকতে, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

  • আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা

    আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর পেলেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলেই চারটিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দলের সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও দারুণ—তাই র‍্যাংকিং-লিস্টেও বড় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। একাধিক টাইগারেসের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ফিফটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন শারমিন আক্তার। এই ইনিংসের সুবাদে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ আগিয়ে গিয়ে এখন ৩৫তম স্থানে অবস্থান করছেন, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা পজিশন।

    অভিজ্ঞ শারমিন ছাড়াও ওপেনারে দুর্দান্ত ব্যাট করছেন দিলারা আক্তার। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ রান করা পর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫ রান করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতায় দিলারা প্রথমবারের মতো সেরা একশে জায়গা করে নিয়েছেন—৩৩ ধাপ এগিয়ে এখন তিনি যৌথভাবে ৭০তম স্থানে আছেন।

    সবশেষ দুই ম্যাচে ২৭ ও ৩০ রান করে সোবহানা মোস্তারি র‍্যাংকিংয়ে ১১ ধাপ উন্নতি করে যৌথভাবে ৫২তম স্থানে উঠে এসেছেন। এ ছাড়া স্বর্ণা আক্তারও ১৭ ধাপ এগিয়ে এখন ৮৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।

    বোলিং দিকেও বাংলাদেশের কিছু মুখ উজ্জ্বল হয়েছেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ফাহিমা খাতুন র‍্যাংকিংয়ে ৬ ধাপ করে উঠে ৩০তম স্থানে এসেছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেন সানজিদা আক্তার মেঘলা, যার ফলে তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে পৌঁছেছেন। লেগ স্পিনার রাবeya খান নামিবিয়ার বিপক্ষে ৩টি ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১টি উইকেট নিয়ে ১ ধাপ এগিয়ে এখন ১৪তম স্থানে রয়েছেন।

    বাছাইপর্বে এই ধারার সঙ্গে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে; র‍্যাংকিংয়ে এগোনো খেলোয়াড়রা দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর — বাছাইপর্ব জিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা

    আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে সুখবর — বাছাইপর্ব জিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চার ম্যাচ খেলে সবকটিতেই জয়ের ধারা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। দলীয় সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও চোখে পড়ার মতো; সেই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে।

    সর্বশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ফিফটি করেছেন শারমিন আক্তার। সেই ইনিংসের সুবাদে তিনি টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র‍্যাংকিংয়ে ২২ ধাপ উঠে এখন ৩৫তম স্থানে—এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থান। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার দলের জন্য যে গুরুত্ব রাখেন, তা র‍্যাংকিংয়ে উন্নতিতে স্পষ্ট হয়েছে।

    অপর ওপেনার দিলারা আক্তারও দারুণ ব্যাটিং করেছেন। নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫ ও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৫ রান করে তিনি প্রথমবারের মতো সেরা একশে জায়গা করে নিলেন। র‍্যাংকিংয়ে ৩৩ ধাপ উন্নতি করে এখন তিনি যৌথভাবে ৭০তম স্থানে অবস্থান করছেন।

    গত দুই ম্যাচে যথাক্রমে ২৭ ও ৩০ রান করে নজর কাড়েছেন সোবহানা মোস্তারি; তাতে করে তিনি র‍্যাংকিংয়ে ১১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫২তম স্থান লাভ করেন। এছাড়া স্বর্ণা আক্তারও ভালো পারফরম্যান্সের ফলে ১৭ ধাপ এগিয়ে ৮৩ নম্বরে উঠেছেন।

    বোলিং বিভাগেও অগ্রগতি আছে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৩ উইকেট নিয়ে ফাহিমা খাতুন র‍্যাংকিংয়ে ৬ ধাপ উঠে এখন ৩০তম স্থানে আছেন। একই ম্যাচে চার উইকেট নেন সানজিদা আক্তার মেঘলা; তিনি ৬ ধাপ এগিয়ে ৫৪তম স্থানে অবস্থান করছেন। লেগ স্পিনার রাবেয়া খান নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৩টি ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ১টি উইকেট পেয়ে ১ ধাপ এগিয়ে এখন ১৪তম স্থানে রয়েছেন।

    সংক্ষেপে, বাছাইপর্বে দলের সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলোও র‍্যাংকিংয়ে প্রভাব ফেলেছে। টাইগ্রেসদের ধারাবাহিক এই খেলায় আত্মবিশ্বাস বাড়বে—এটাই আশা করা হচ্ছে।

  • নিপাহের ছায়ায় অনিশ্চয়তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

    নিপাহের ছায়ায় অনিশ্চয়তায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দরজায়, কিন্তু ভারতের সাম্প্রতিক নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আয়োজন সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মূল আয়োজক ভারত ও সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্টটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারতের পাঁচটি ভেন্যু—আহমেদাবাদ, দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বাই—এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বো ও ক্যান্ডির তিনটি ভেন্যুতে মিলিয়ে মোট ৫৫টি ম্যাচ খেলা হবে।

    তবে সাম্প্রতিক নিপাহ সংক্রমণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও ভক্তদের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। কয়েকটি স্বাস্থ্যসংস্থা ও সংবাদমাধ্যম উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং কিছু কণ্ঠ টুর্নামেন্টটি পুরোপুরি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। তেমন আলোচনা চললেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে এবং আউটব্রেকটি আপাতত ছোট আকারের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এই নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেয়নি।

    আন্তর্জাতিক ভ্রমণে কঠোর লেগে যেতে পারে — বিশেষ করে যদি সংক্রমণ বাড়ে। অনেক দেশে ইতোমধ্যে বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং বাড়ানো হয়েছে। কোয়ারেন্টিন বিধি বা ট্রাভেল রেস্ট্রিকশন পুনরায় আরোপ করা হলে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও ভক্তদের খেলার আনন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ (সেমিফাইনালসহ) হওয়ার কথা থাকায় পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বিশেষভাবে নজরদারি দাবি করছে।

    জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত এলাকায় নিপাহ ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে পাঁচ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, যাদের মধ্যে নার্স ও ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে এই ক্লাস্টারে এখনও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ক্লাস্টার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে; ১০০–২০০ জনের বেশি সম্ভাব্য সংস্পর্শ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে এবং শতাধিক নমুনার পরীক্ষায় বেশিরভাগ নেগেটিভ এসেছে। সূত্রভিত্তিক খবরগুলোতে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    এর আগে ২০২৫ সালেও কেরালায় নিপাহ দিয়ে চারটি কেস রিপোর্ট হয়েছিল, যার মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে এটিই ২০০৭ সালের পর সবচেয়ে বড় আউটব্রেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নিপাহ একটি জুনোটিক ভাইরাস; মূল উৎস ফলের বাদুবড় (ফ্রুট ব্যাট)। সংক্রমণ সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস বা দূষিত খাদ্য, সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ, অথবা ক্লোজ কন্টাক্টে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। উপসর্গ হিসেবে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) দেখা দিতে পারে। রোগের মৃত্যুর হার ইতিহাসভিত্তিক রিপোর্টে প্রায় ৪০–৭৫% পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এ মুহূর্তে নিপাহের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা নিশ্চিত নিরাময়ের পথ নেই; কিছু ক্ষেত্রে সমর্থনমূলক চিকিৎসা ও পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যদল, সহায়তাকারী চিকিৎসা টিম এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মিলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিষ্পন্দন কিংবা টুর্নামেন্ট সরানোর মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পরিস্থিতি কড়া নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    স্বল্প সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর কথা হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের প্রবণতা, স্থানীয় স্বাস্থ্যবিধি এবং আইসিসি ও আয়োজকদের অনিয়ন্ত্রিত রণনীতি নির্ধারণি ভূমিকা রাখবে। ক্রিকেট প্রেমীরা এবং অংশগ্রহণকারীরা এখন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত আপডেটগুলোর দিকে নজর রাখছেন।

  • আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আইসিসি বাতিল করল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ এক্রিডিটেশন

    আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশের সরকার খেলোয়াড়দের ভারত যাওয়া নিষেধ করায় জাতীয় দল এবারের বিশ্বকাপে খেলছে না। দলের অনুপস্থিতির প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের উপরও — মাঠ থেকে সরাসরি কভার করার সুযোগ তারা পাচ্ছেন না।

    আইসিসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকরা এক্রিডিটেশনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তারা ভারত ও শ্রীলঙ্কা গিয়ে মাঠ থেকে সরাসরি বিশ্বকাপের কভারেজ করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার আইসিসির কাছ থেকে ই-মেইলে জানানো হয়েছে, এবারের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের কোনো এক্রিডিটেশন দেওয়া হবে না।

    আইসিসির ব্যাখ্যা ছিল যে, বাংলাদেশ দল এইবার খেলায় অংশ নিচ্ছে না; সেই কারণেই বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মাঠে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলত বাংলাদেশের সংবাদকর্মীরা স্টেডিয়ামভিত্তিক কভারেজ থেকে বাদ পড়লেন।

    ঘটনার আগে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বলেছেন, ভারত শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও নিরাপদ নয়। এই মন্তব্যগুলি সরকারি সিদ্ধান্ত ও সাংবাদিকদের এক্রিডিটেশন বাতিলের প্রেক্ষাপটকে আরও সুস্পষ্ট করেছে।

    সব মিলিয়ে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেবল মাঠে উপস্থিত থাকছে না, সংবাদ পরিবেশনের শিপথ থেকেও তারা দূরে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশি ভক্ত ও মিডিয়ার জন্য এটি বড় ধাক্কা, যাকে দ্রুতই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার দাবি উঠছে।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড় — পাকিস্তান না খেললে ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই ক্রিকেট মহলে নতুন এক নাটক চলছে — বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর এবার ফের বিশ্বকাপে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা উঠেছে। ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে তাদের জায়গায় যোগাযোগ করে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    প্রতিবেদনে আইসিসির এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতিও আছে, যেখানে বলা হয়েছে পাকিস্তান না খেললে বাংলাদেশকে ‘এ’ গ্রুপে রাখা হতে পারে এবং অনুষঙ্গ হিসেবে সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হবে। সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হলে আয়োজনে জটিলতা কমে যাবে—এটিই মূলত বিসিবার অনুরোধ ছিল।

    এর আগেই, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে রেখে নতুন সূচি প্রকাশ করে। একই দিন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান মোহসিন নাকভি দাবি করেন যে আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করেছে। নাকভির কথায়, বাংলাদেশ চেয়েছিল তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হোক, কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি—আর ঠিক এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের বাইরে পড়ে।

    বাংলাদেশ বাদ পড়ার দিনেই নাকভি বলেছেন, সরকার নির্দেশ দিলে পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে। এরপরের দিনগুলোতে পাকিস্তানি মিডিয়ায় নানা খবর আসে: কেউ বলছে তারা শুধুমাত্র ভারতের বিরুদ্ধে খেলাটি বয়কট করতে পারে, আবার কেউ বলছে পুরো টুর্নামেন্টই বর্জনের কথা ভাবা হচ্ছে। নাকভি পরে সাংবাদিকদের দেখাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি বৈঠকের ছবি পোস্ট করে জানান যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সব সম্ভাব্য বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে। পিসিবি শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে—সম্ভবত শুক্রবার বা আগামী সোমবার।

    আইসিসির নিয়ম অনুসারে, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে তাদের কাছাকাছি অবস্থান করা দেশের প্রতি সুযোগের অফার যায়। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান আছে ৭ নম্বরে এবং বাংলাদেশ ৯ নম্বরে, তাই পাকিস্তান সরে গেলে বাংলাদেশের নাম উঠে আসার সম্ভাবনা বেশি। আগে বাংলাদেশ নিজে নাম প্রত্যাহার করলে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

    সব মিলিয়ে, যদি পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ বর্জন করে, তাহলে আবারও বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার পথে আইসিসির সিদ্ধান্তে নির্ভর করতে হবে। এমন হলে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে—যা আয়োজকদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে।