দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটসালের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। সাফি ব্যাংককের ননথাবুরি হলে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা ফুটসাল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দল অপরাজিত থেকে শিরোপা জয় করল। এই চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ; তবে তারা তাদের দক্ষতা ও মনোবল দিয়ে সব প্রতিযোগীকে হারিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালদ্বীপ, সেখানে তারা উন্নত ফুটবলের মাধ্যমে ১৪-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে। শুরুতে এক গোল হজম করলেও দ্রুতই দলের খেলায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে তারা টুর্নামেন্টের সেরা স্থান নিশ্চিত করে, আগে থেকেই তাদের জন্য সম্ভব ছিল যদি ড্র করতেও পারত। কিন্তু তারা জয় নিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয়।
পূর্বে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পাওয়ার পর, ভুটানের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করে তারা দুর্দান্ত শুরু করে। এরপর একের পর এক শক্তিশালী দলের সঙ্গে জিতে তারা শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে যায়।
নেপালকে ৩-০ গোলে, শ্রীলঙ্কাকে ৬-২, এবং পাকিস্তানকে বিরাট ব্যবধানে ৯-১ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের ৮ গোলের জয় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। ওই ম্যাচে দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন চারটি গোল করেন, এছাড়া নুসরাত জাহান দুটি এবং কৃষ্ণা রানী সরকারও গোল করে দলের জয়ের সাক্ষর রাখেন। প্রথমার্ধে ম্যাচের ফল ৬-০ থাকতেই বাংলাদেশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রাখে।
শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে, যেখানে সাবিনা খাতুন ও দলের অন্য ফুটবলাররা আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে। অআক্রমণ আদানপ্রদান এবং স্পৃহা দেখিয়ে তারা এই টুর্নামেন্টে ভারত ও ভুটানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের আগেকার অবস্থানকে বদলে দিয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার টানা শিরোপা জিতেছে।
নতুন ফুটসাল ফরম্যাটে নিজেদের সামর্থ্য proved করে, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের স্থান আরও উচ্চতর হয়েছে, যেখানে সাবিনা খাতুন ও তার দল বলছে, তারা এই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও দৃঢ়ভাবে করছেন।
