Category: রাজনীতি

  • নাহিদ ইসলাম: হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন করছে

    নাহিদ ইসলাম: হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন করছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে ভারত জুলাই গণহত্যাকে সমর্থন করছে। তিনি বলেন, যদি ভারত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দেয় এবং তার অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়বে। রোববার (০২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর হলে দেশের ঐক্য ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা না দেখিয়ে দলীয় স্বার্থে সনদে স্বাক্ষর দেওয়ায় তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তবুও এখনও ঐক্য ধরে রাখতে সম্ভব, বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, এক দল সংস্কারকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে, অন্যরা চায় নির্বাচন পেছাতে। তার মতে, যদি জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি তৈরি হয়, তাহলে গণভোটের দিনও সমস্যা হবে না। তবে, প্রয়োজন হলে অবশ্যই ড. ইউনূসের জন্য এই সনদ জারি করতে হবে। প্রেসিডেন্ট চুপ থাকলে সংস্কারের জন্য এটি ক্ষতিকর হবে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, যদি সংস্কারের পক্ষে কেউ না থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে জোটে যাওয়া সম্ভব নয়। সরকার নানা চাপের কারণে বারবার টেক্সট পরিবর্তন করছে। প্রথম খসড়ায় উল্লেখ ছিল যে, ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে, যা আমরা সমর্থন করি। এর ব্যত্যয় হওয়া মানে আমরা সেই আদেশের সমর্থন না করাও বিবেচনা করব।

    তিনি বলেন, ২৭০ দিনের বাধ্যবাধকতা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ মুজিবের ছবি ব্যবহার করে তাকে ফ্যাসিবাদের আইকন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সংবিধানে থাকতে পারে না। বাস্তবায়ন আদেশে যদি পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে এনসিপি সেটি সমর্থন করতে সক্ষম নয়।

    প্রতীকের ইস্যুতে তিনি বলেন, নতুন দল হিসেবে সহযোগিতা না করে নির্বাচন কমিশন আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। শাপলা আলোচনার সিদ্ধান্ত তারা এত দিন দিতে পারেনি, অথচ আমাদের সেটা এখন চাই। আমরা শাপলার জন্যই চাচ্ছি।

  • ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতিফলন

    ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দেশপ্রেমিক শক্তির প্রতিফলন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন জনগণ অনিশ্চয়তা ও হতাশার মাঝে ডুবে রয়েছে, তখন আবারো দেশের শত্রুদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টাকে রোধ করতে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অপচেষ্টা প্রতিহত করতে ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তিনি আজ রোববার (২ নভেম্বর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালে এই দিনই সেনা ও জনগণের যুগপৎ সফল বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। দেশকে বন্দিশৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সৈনিক-জনতা একযোগে কাজ করে। এরপরই বাংলাদেশে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি হয়, যেখানে দেশের স্বাধীকারের লড়াই আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

    তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় চিহ্ন রেখে গেছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আক্রমণে নিরস্ত্র বাঙালির রক্ষা ও মুক্তির জন্য তিনি চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন, “I hereby declare the independence of Bangladesh.” এরপরের পাঁচ বছর ছিল দুঃশাসন আর অন্ধকারের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তখন একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ১৯৭৪ সালে মহাদুর্ভিক্ষের কারণ হয়। সেই সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি তীব্র অস্তমিতির Facing।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংস্কার আনেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দেয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নেন। অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত সূচনা করেন, গার্মেন্টস শিল্পের বিকাশের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, বিদেশে শ্রমিক প্রেরণের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন হয়। নারী শিক্ষায় ও নারীর ক্ষমতায়নে তিনি এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা শুরু করেন। কৃষিতে খাল খনন και উচ্চফলনশীল বীজনের আমদানি, সার ব্যবস্থার সংস্কার তার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এইসব উদ্যোগের ফলে দেশে শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং কর্মসংস্থান বাড়তে থাকে।

    তিনি আরো বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, ১৯৭৫ সালে শহীদ জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে। তবে তার দর্শন ও আদর্শ আজও অম্লান। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দর্শন কোনও শক্তিই পরাজিত করতে পারেনি। সেই জন্য বিএনপি বারবার ধ্বংসের মুখ থেকেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে ও পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের দিনেও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী তারেক রহমান দেশের প্রবাসে থেকেও প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন তারেক রহমান, যা নতুন দিশার আলো দেখাচ্ছে। অনুতাপ নয়, বরং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তিনি আগামী দিনগুলোতে দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করে যাবেন।শেষে তিনি আবারও উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটি স্মরণ করে আমরা বুঝতে পারি, জাতির স্বপ্ন ও চেতনা জেগে ওঠে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই দর্শনকে উৎসাহিত করে, আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলব—একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে।

  • ফের নির্বাচিত হলেন ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের আমির

    ফের নির্বাচিত হলেন ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য পুনরায় আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম ফলাফল ঘোষণা করেন।

    অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মোট ভোটগ্রহণ গত ৯ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৫ অক্টোবর শেষ হয়। এই সময়ের মধ্যে সারাদেশের জামায়াত সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে, নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম গোপন ভোট গণনা সম্পন্ন করে এবং শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

    প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ডা. শফিকুর রহমান সর্বোচ্চ ভোট পান এবং সেই মোতাবেক তিনি আগামী ২০২৬–২০২৮ কার্যকালের জন্য জামায়াতের আমির হিসেবে নির্বাচিত হন। জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ সাল থেকে জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে উদ্বেলিত হয়। এর পেছনে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব ও বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তার কিছু বক্তব্য ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, তার উপস্থিতি ও নেতৃত্ব জামায়াতের শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছে।

  • বিএনপির লক্ষ্য: ২০৩৪ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি

    বিএনপির লক্ষ্য: ২০৩৪ সাল নাগাদ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা লক্ষ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—একটি অর্থনীতি তৈরি যেখানে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারীরা, গর্বের সঙ্গে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি কর্মজীবী মহিলাদের জন্য কাজের ঘণ্টা কমিয়ে ৮ থেকে ৫ ঘণ্টা করবেন। এর পাশাপাশি, নারীদের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিশু পরিচর্যার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শিশুদের জন্য ভালো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক তরুণী মা চাকরি বা লেখাপড়ায় বাধা পায়, যার ফলে দেশের সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা এবং অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ গড়া যেখানে নারীরা যাতে তার পরিবার ও ভবিষ্যত পৃথক করে না নিতে হয়।’ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, পুরুষের তুলনায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম—মোট পুরুষের ৮০ শতাংশের বিপরীতে নারীর অংশগ্রহণ ৪৩ শতাংশ। এই বিরতিকে কাটিয়ে উঠতে, বিএনপি.Children and women’s empowerment initiatives—including setting up ডে-কেয়ার সেন্টার, সরকারি ও বেসরকারি খাতের জন্য বাধ্যতামূলক শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা, কর সুবিধা ও প্রশিক্ষণ—বিলাপ করে নানা সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘শিশু পরিচর্যা কোনো দয়ামোকারি নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠામোর অপরিহার্য অংশ। ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় অবদান রাখবে, যেন তারা পরিবার ও কর্মক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় রাখতে পারে।’ তিনি দৃঢ়ভাবে বললেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা লক্ষ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে—প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, গর্বের সঙ্গে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নারীর সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে এমন পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করি। শিশু পরিচর্যা, সমান মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নারীর ক্ষমতায়নের মূল চাবিকাঠি—এগুলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়সঙ্গতি ও মানবাধিকারও। চলুন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি মা, প্রতিটি ছাত্রী নিজের স্বপ্নে সফল হওয়ার সুযোগ পায়, যেখানে সমাজের যত্ন ও সহযোগিতা হয় উন্নতির মূল ভিত্তি।’

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী রাজনৈতিক সংকটের জন্য

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী রাজনৈতিক সংকটের জন্য

    দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনগণ দুটি ব্যালটে ভোট দেবে—একটি প্রার্থীর জন্য, আরেকটি গণভোটের জন্য। এভাবে ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ঐকমত্যের চূড়ান্ত নথিতে বিএনপির মতভেদ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ গোপন করে আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনা বাস্তব দৃষ্টান্ত যে, সরকারের আত্মবিশ্বাসের ওপর আঘাত হেনেছে।

    শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার পুরো দায়ীদেন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। বিএনপি মহাসচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকার যে কমিশন গঠন করেছে, তারা প্রায় এক বছর আট-নয় মাস ধরে নানা বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে এসেছে। তারা সংস্কার ও অন্যান্য বিষয়ে বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি, যা মূল সিদ্ধান্তে ঐকমত্যের প্রতিফলন।

    তিনি বলেন, যখন আমরা নির্বাচনে যাবো, তখন ঐকমত্যের বিষয়গুলো আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে থাকবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, আমরা পার্লামেন্টে তা পাশ করব এবং দেশের পরিবর্তন ঘটাব। তালগোলে না দিলে, সেটি বাদ পড়বে।

    ফখরুলের ভাষ্য, সেদিন, ১৭ তারিখে, বৃষ্টি হচ্ছিল, তখন সবাই এক সাথে যুক্ত ছিলাম। সবকিছু এলোমেলো হওয়ার কারণে, আমরা আবার একত্রিত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে স্বাক্ষর করেছিলাম। তবে পরে দেখা গেল, প্রধান উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপনকালে বহু পার্থক্য দেখা গেছে, বিশেষ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো সেখানে ছিল না। ফলে আমরা বলেছি, এটা ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ যা জনগণের আস্থা ভেঙে দিয়েছে।

    অভিযোগে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। আমরা যে বিশ্বাসযোগ্যতা আশা করেছিলাম, তারা তা রাখতে পারেনি। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য পুরো দায়ী অন্তর্বর্তী সরকার।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি হলো সংস্কারকামী দল। এর জন্ম ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে, যখন তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি দেশ এলে সব পত্রিকা খুলে দেন, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনেন।

    তিনি বলেন, শহীদ জিয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছিলেন। পরে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেনশিয়াল ব্যবস্থার পরিবর্তে পার্লামেন্টারি পদ্ধতিতে ফিরে আসেন। তিনি নির্বাচন করে সরকারের মোটামুটি স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন, যা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    সভায় আরও বক্তব্য দেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন ও দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

  • বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার কারণ জানাতে পারলেন না বিএনপি নেতা এহসানুল হক মিলন

    বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার কারণ জানাতে পারলেন না বিএনপি নেতা এহসানুল হক মিলন

    বিএনপি নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন অভিযোগ করেছেন, তাকে বিদেশে যাত্রা করতে না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাননি। তিনি বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।

    এহসানুল হক বলেন, আমি ব্যাংকক থাকাকালে জানতে পারি, বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এক সভায় আমাকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের নির্দেশে আমি চিকিৎসা অর্ধেক রেখে ২৫ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে আসি। এরপর সাময়িকভাবে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৩০ অক্টোবর আবার ব্যাংকক যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। তবে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারি, আমার বিদেশ যাওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সম্পর্কে আমি কোনও স্পষ্ট উত্তর পাইনি।

    তিনি আরও বলেন, আমি স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তি। কখনো কোনও চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলাম না। দেশ ও মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা আমাকে আমেরিকার নাগরিকত্ব ত্যাগ করে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।

    সাবেক এই শিক্ষামন্ত্রীরা মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে তার পরিবারসহ বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। সেই সময় বিরোধী পক্ষের অনেককে বিদেশে যাওয়া থেকেও বাধা দেওয়া হতো, যা এক ধরনের অত্যাচার ছিল।

    তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, কেন তাঁর বিদেশ যাত্রা বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সরকারের কোনও সংস্থা বা বিভাগ ভুল তথ্য বা ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়নি। আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি দেশে বিভিন্ন নাগরিকের মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা হবে।

  • নুরের অভিযোগ: গণভোট ধান্দাবাজি ও স্বার্থপরতা

    নুরের অভিযোগ: গণভোট ধান্দাবাজি ও স্বার্থপরতা

    গণ অধিকার পরিষদের জন নেতা নুরুল হক নুর হামেশাই গণভোটের দাবির পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ ও মানুষের বিভ্রান্তির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে এই দাবি করা হয়ে থাকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মূল উদ্দেশ্য ঢাকার চেষ্টায়। নুর উল্লেখ করেন, ‘গণভোটের দাবি প্রচার করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এর পেছনে রয়েছে অনেকেরই বিরোধী দল হওয়ার জন্য দান-দরবার বা নিজস্ব সুবিধা আদায়ের চেষ্টাই।’

    শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জেএসডির এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘গণভোটের এই দাবি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য; দেশের ও জাতির স্বার্থে নয়। এতে নির্বাচনের সময় ক্ষুণ্ণ হবে এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। যদি সরকার তিন মাস আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শেষ করত, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্ভব হতো। প্রতি নির্বাচন আগে এক মাসের মধ্যে গণভোটের জন্য সময় পাওয়া সম্ভব। তবে দুর্বল প্রশাসন এবং সরকারের বদলে যাওয়া রূপ দেখছি, যারা সময়ের সাথে সাথে চরিত্র পরিবর্তন করে যাচ্ছে।’

    নুর জানিয়েছেন, ‘সত্তর দশকের স্বাক্ষরিত সাংবিধানিক সনদ অনুযায়ী এখন আর নির্বাচনে বাধা নেই। তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের, যাতে নতুন বছরের প্রথম মাসে জাতীয় নির্বাচন হয়। এর সাথে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও, সময়ের জন্য তা সম্ভব।’

    নুরের মতে, ‘গণভোট নিয়ে যদি বিরোধ বা বিভাজন সৃষ্টি হয়, তাহলে আমরা যারা স্বৈরাচার ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, তাদের সুযোগ নেওয়া হবে। আমরা চাই এই ধরনের অপ প্রয়াস প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকুক।’

  • বৃষ্টির মধ্যে সই করে দল বিশ্বাসঘাতকতা: মির্জা ফখরুলের ক্ষোভ

    বৃষ্টির মধ্যে সই করে দল বিশ্বাসঘাতকতা: মির্জা ফখরুলের ক্ষোভ

    একটি মহল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিলম্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই মহলটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অমান্য করে আসছে। বিএনপি এ দৃঢ়ভাবে বলছে, তারা সেই জনগণের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত, যা দেশের মানুষ চায়।

    বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছেন, দলটি সংস্কারের জন্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কমিশন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সংকটের মূল দায় বরং সরকারের উপর থাকছে। তাঁর এই বক্তব্য শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রকাশিত হয়।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা অবশ্যই নির্বাচন করব। বয়সী একজন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে আমরা একমত, তাই আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করতে চাচ্ছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, একদল কিছু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রের মূল সমস্যা সৃষ্টি করছে, যাতে জনগণ বিভ্রান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য এখন আর সুযোগ নেই; প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচন হবে এবং তার সঙ্গে একটি গণভোটের কথাও উল্লেখ করেছেন।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের দিন দুইটি ব্যালটে ভোট দেওয়া হবে—একটি আসন্ন নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। আমি মনে করি, এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত থাকা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা বর্তমানে গোলমাল সৃষ্টি করছে, রাস্তায় নেমেছে, তাদের অনুরোধ করি, জনগণকে বিভ্রান্ত না করে আবেগে না গিয়ে নিজেদের দায়িত্ব নিন। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই দেশের মানুষ যাদের বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করে, তারা ক্ষমা পায় না।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছে। যেখানে সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্বাক্ষর জমা দেওয়ার সময় বছরের শুরুতে বৃষ্টি হচ্ছিল, সেখানে তারা নানা বাহানায় সই করেছেন। তবে, তারপর দেখা গেল, ঐকমত্যের অনেক অংশ উপেক্ষা করা হয়েছে এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ গুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়নি। আমাদের মনে হয়েছে, এই আচরণ বিশ্বাসঘাতকতা।

    তিনি বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, তারা বিশ্বাস হারিয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।’

    তিনি বলছেন, বিএনপি মূলত সংস্কারকামী দল। এই দল প্রায় চার দশক ধরে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই দলের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, সে সময় সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল—তবে জিয়াউর রহমান সেটিকে খোলার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।

    ফখরুল বলেন, ‘শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সূচনা হয়। পরে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্টশিপ থেকে পার্লামেন্টারী পদ্ধতিতে ফিরে আসেন। বিভিন্ন নির্বাচনেও এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে, যেখানে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় সংস্কারের জন্য কাজ করছি। ১০ দফা, ২৭ দফা, ৩১ দফা—সবই ছিল পরিবর্তনের চেষ্টার অংশ। আমরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ থেকেছি এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সকল সম্মতিতে স্বাক্ষর করেছি। তবে বিভ্রান্তির জন্য দায়ী ঐকমত্য কমিশনের কিছু পক্ষ।’

    ফখরুল পরিকল্পনা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আমাদের সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে নিয়ে একটি স্বচ্ছ ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই। সকলের সহযোগিতা নিয়ে দেশের জন্য একটি কার্যকর, মসৃণ নির্বাচন এবং জনগণের প্রতিনিধিত্ব শেখাতে চাচ্ছি।’

    এ ছাড়াও, তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জন্য মূল দায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ও তার নেতৃত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে গণভোটের সুযোগ নেই এবং নির্বাচনের দিন দুটি ব্যালটে ভোটের হতে হবে—একটি রাজনৈতিক প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। বিএনপি বিশ্বাস করে, এই বিশ্বাসঘাতক আচরণ ও বিশ্বাসের সেতু ভেঙে দেওয়ার জন্য এই সরকার দায়ী।

    সবশেষে, মির্জা ফখরুল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের চলমান অচলাবস্থা পুরোপুরি সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এই আলোচনা চলাকালীন তারা অনেক ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলেও, কিছু মতভেদের কারণে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন যা মূল আলোচনা থেকে বাদ যায়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা নতুন পরিবর্তন আনতে পারবো।

  • শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর বিধান বিলুপ্তি নিয়ে বিএনপি’র ক্ষোভ

    শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর বিধান বিলুপ্তি নিয়ে বিএনপি’র ক্ষোভ

    বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানোর নিয়ম সংক্রান্ত বিধানটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি জুলাইয়ের জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত না করাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষোভ জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রিন্টেড সনদের কপি হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগোচরে কয়েকটি সংশোধনী আনা হয়েছে, যা দলের সংশ্লিষ্টদের অজানা ছিল। এর মধ্যে প্রধানটি হলো, শেখ মুজবুর রহমানের ছবি টাঙানোর বিধান সংক্রান্ত বিষয়, যা অনুচ্ছেদ ৪ (ক)-এর অংশ। এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত কিন্তু সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে সম্মতিপত্র দিয়েছে।

    অপরতর, সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ (পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম তফসিল) সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করার প্রস্তাবের বিষয়েও, যে বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সম্মতি জানিয়েছে, সেটির চূড়ান্ত সংশোধনীও অগোচরে সনদে আনা হয়েছে। দলটি এই প্রক্রিয়ার প্রশংসা বা সমর্থন না জানিয়ে, তাদের অজান্তে এই সংশোধনী আনা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

  • এনসিপি বলেছে, তারা ‘শাপলা’ প্রতীক চায়, ‘শাপলা কলি’ নয়

    এনসিপি বলেছে, তারা ‘শাপলা’ প্রতীক চায়, ‘শাপলা কলি’ নয়

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অন্তর্ভুক্তির পর বিএনপি-নজীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্ট طورে জানিয়েছে, তারা ‘শাপলা কলি’ নয়, বরং ‘শাপলা’ প্রতীক চায়। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ইসির প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ার পর এই বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা গণমাধ্যমের কাছে এ কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা ‘শাপলা কলি’ চাচ্ছি না। আমাদের পছন্দ হচ্ছে ‘শাপলা’ প্রতীকের জন্য। ইসি আগে জানিয়েছিল, ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, কিন্তু এখন যেহেতু ‘শাপলা কলি’ নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা চাইলে ‘শাপলা’ প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। আমরা কলি নয়, শুধুমাত্র ‘শাপলা’ প্রতীক চাই। এর বাইরে অন্য কোনো বিকল্প আমরা বিবেচনা করছিনি।” এর আগে আজ দুপুরে ইসি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক দেখিয়ে দিয়েছে। দেশের নির্বাচনের বিষয়ে নেতৃত্বদানকারী এ পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪ অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বিধিমালার বিধি ৯ এর উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নতুন উপ-বিধি (১) ধারা কার্যকর করা হবে। এছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি কোনও প্রতীক পায়, তবে সেই প্রতীকটি ওই প্রার্থীকে বরাদ্দ করা হবে, তবে এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। গত ২৭ অক্টোবর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ইসির বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকায় এনসিপিকে সেটি দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি তখন বলেছিলেন, নির্বাচনী কমিশন অন্য কোনও প্রতীক বরাদ্দ করবেন এবং পরে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি প্রথমে জানিয়েছিল, তারা ‘শাপলা’ প্রতীকের বাইরে কোনও প্রতীক গ্রহণ করবে না। তবে এখনো ‘শাপলা কলি’ প্রতীকেও তারা সন্তুষ্ট নয় এবং এই প্রতীকেই তারা আঁকড়ে আছে।