Category: রাজনীতি

  • মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের মহান আত্মদান ও সাহসিকতার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শাসকরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথে নতুন আলোর সৃষ্টি হয়েছে। আজকে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্তগুলো পূরণ করতে হবে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি এই মন্তব্য করেন ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ বাণীতে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    তারেক রহমান দেশের মানুষসহ সকলের জন্য আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধুমাত্র রাজনৈতিক মোড় Temer পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের আত্মোৎসাহের এক সংগ্রাম। এই বিপ্লব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে। সেই সময় দেশপ্রেমে উজ্জীবিত এই জনতার আন্দোলনে এক বদলে যাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে দেশকে দুর্বল করে দিয়ে আধিপত্যবাদী চালাকচাতুরির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। এর জন্য তারা একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

    তিনি আরও বলেন, বাকশালী সরকার অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পন্থায় মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকারগুলো হরণ করে। এই চরম সংকটময় সময়ে ৭৫ এর ৩ নভেম্বরের দিন বিপথগামী চক্রেরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। ঐ সময়ই জনতার ও সেনাদের সম্মিলিত ঐক্য ও সংহতির ফলে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এই ঘটনার ফলে রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে, গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয় এবং বাক-স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

    পরে, তবে, আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্টরা ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে। যদিও জিয়াউর শাহাদত বরণ করেছিলেন, কিন্তু তার আদর্শের বলীয়ান নানা মানবতাবাদী নেতা ও কর্মী দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    তিনি মনে করেন, আবারও চক্রান্তের গোপন পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে, দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে তোলে। দুর্বলতাগুলোর জন্য তারা মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিরোধী নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করে, গুম করে, হত্যা করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালায় এবং দুর্নীতি ও অপশাসনের রাজত্ব কায়েম করে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, stolen Democracy এর প্রতীক খালেদা জিয়াকে অনেক বছর ধরে কারাবন্দি রেখে মুক্তি দেয়া হয়নি। তিনি সমাজে ন্যায্য বিচার ও সুস্থ শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানান।

    তিনি শেষ করে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করে। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। এখন সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার, এই মুহূর্তে এর গুরুত্ব অপরিহার্য।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় বন্ধ

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় বন্ধ

    সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাইের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ দফা দাবি জারি সহ অন্যান্য আহ্বানে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতসহ আটটি দলের নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় যমুনার দিকে বিশাল গণমিছিল নিয়ে যান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান। তবে পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দেয়, এতে মিছিল আটকে যায়। এর পর আট দলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীসহ নেতা-কর্মীরা স্মারকলিপি নিয়ে যমুনার দিকে যান। এই আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এর আগে সকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, তারা রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে মিছিল করে পুরানা পল্টনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা, যারা গণভোট, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। দলগুলোর প্রধান পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দ্রুত জারি, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন, উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে প্রমাণিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু, সবার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। তারা আরও দাবি করেন, স্বৈরাচারী সরকারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

  • পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নভেম্বরে জাতীয় গণভোট ও জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি রাজনৈতিক দল। এই দাবিগুলোর অগ্রাহ্য হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি পালটেপড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ন্যাশনাল সার্টিফিকেটের বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবি মেনে না নিলে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন রূপ নেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুত উপদেষ্টা পরিষদ এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে, দাবি আদায়ের জন্য আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপি দেওয়ার পরে জামায়াতের নেতারা উপস্থিত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে যান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ নভেম্বর এই আট দল একত্রে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যে, মহাসমাবেশের আগে দাবি মানা হলে, শান্তিপূর্ণ মতবিনিময় সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ১১ তারিখের সফল সমাবেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যায়।

    স্মারকলিপি দেয়ার সময়, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দাবিগুলো মানা না হয় এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ১১ নভেম্বর ঘোষণা করবেন ‘‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। এতে ঢাকা জনতার শহরে পরিণত হবে, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই হবে। তিনি বলেন, “লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।”

    এদিকে, ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে বিভিন্ন দলের কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা পুরানা পল্টনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এখানে নেতাদের বক্তৃতার শেষের পরে দুপুর ১২:০৫ মিনিটে সবাই যমুনা অভিমুখী পদযাত্রা শুরু করেন।

    এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইহজারা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপা মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণভোটের আয়োজন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা, ফ্যাসিস্ট সরকারের গণকের সাথে সমাপ্ত জুলুম, নিপীড়ন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার, এবং স্বৈরাচারী দোস্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

  • মির্জা ফখরুল: ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন

    মির্জা ফখরুল: ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৭ নভেম্বর আমাদের জন্যে এবং গোটা জাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দিন। আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে যখন মানুষজন নানা অনিশ্চয়তা ও হতাশার মুখোমুখি, তখন আবারো দেশের শত্রুরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে— এই পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের ঐক্যের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। তিনি রোববার (২ নভেম্বর) নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ নভেম্বর দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ১৯৭৫ সালে এই দিনই সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীরা তার বিরুদ্ধে যুঝে, তাকে বন্দি করে রেখেছিল। এই অবস্থা থেকে দেশের প্রবল বিপ্লবী ও জনগণ তাকে মুক্ত করে আনে। এরপরই বাংলাদেশের নতুন সাফল্যের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

    তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আসেন এবং দ্রুতই দেশকে সেই অবস্থানে নিয়ে যান যেখানে আগে বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলা হতো। তিনি দেশকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে নিয়ে যান। তার আমলে বাংলাদেশ পুনর্জাগরণের পথে হাঁটে, একটি emerging tiger হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা নেতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে, ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে একটি অবিচল ঘোষণায় ঘোষণা দেন—‘I hereby declare the independence of Bangladesh.’ এরপরের পাঁচ বছর ছিল দুঃশাসনের অভিশাপে আক্রান্ত। সেই সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি খুবই দুর্বল ছিল, শ্রমিক সংকট, দুর্নীতি ও অপশাসন প্রসারিত। ১৯৭৪ সালে দারুণ দুর্ভিক্ষের ঘটনা ঘটে, লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তখন স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বর্ণমন্দিরে ওই অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অগ্নিপরীক্ষা নিশ্চিত হয়।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেন। তিনি প্রথমে রাজনৈতিক সংস্কার শুরু করেন এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে নিয়ে আসেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন, নিষিদ্ধ পত্রিকা আবার চালু করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন। অর্থনীতিতে তিনি সূচনা করেন নতুন যুগের। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে গার্মেন্টস শিল্প, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা রেমিটেন্সের মূল উৎস। নারীর শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল, কৃষিতে খাল খনন, উচ্চফলনশীল বীজ ও সার ব্যবস্থার সংস্কার, শিল্পে তিন শিফটে উৎপাদন—এসব উদ্যোগে দেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

    তবে দুঃখের বিষয়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা হন। তবে তার দর্শন ও আদর্শ আজও জীবিত। তার প্রদত্ত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভাবনা কখনো পরাজিত হয়নি। তাই বিএনপিও হার মানেনি, তারা বারবার ধ্বংসের আদলে শক্তি ফিরে পেয়েছে এবং তারেক রহমান প্রবাস থেকে আওয়াজ তুলে দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিনটি আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এই দিনটি স্মরণ করি, কারণ এখান থেকেই জেগে উঠে জাতির চেতনাবাহিনী। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব — গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে।

  • নতুন প্রতীকে ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করবে এনসিপি

    নতুন প্রতীকে ‘শাপলা কলি’ গ্রহণ করবে এনসিপি

    নির্বন্ধনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের আওতায় নিজেদের দলীয় প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল হক মুসা।

    রোববার (০২ নভেম্বর) বিকেলে নির্বাচনী কমিশনের সদর দপ্তরে সিইসির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যান এনসিপির প্রতিনিধিরা, যার মধ্যে ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তারা এসব তথ্য ব্যাখ্যা করেন।

    জহিরুল হক মুসা জানান, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন শপিলা, সাদা শাপলা এবং শাপলা কলি এই তিনটি প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রথমে ছিল শাপলা, দ্বিতীয় ছিল সাদা শাপলা, এবং তৃতীয়ত শাপলা কলি। এনসিপি এই তালিকা থেকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী একটি প্রতীক নির্বাচন করে আবেদন করেছে। যদি শাপলা কলি তাদের দেওয়া প্রতীকের মধ্যে থাকে তাহলে তারা এই প্রতীককে মেনে নেবে বলে স্পষ্ট করে বলেন তিনি।

    নিবন্ধনের জন্য তারা এনসিপি পক্ষ থেকে ‘শাপলা’, ‘সাদা শাপলা’ এবং ‘শাপলা কলি’ এই তিনটি প্রতীককে পছন্দ করে আবেদন জানিয়েছে। তারা আবেদন করে বলে, এই প্রতীকগুলো তাদের পছন্দের বিষয়, এবং তারা চাইছে নির্বাচন কমিশন দ্রুত এক জনস্বেবাজ্ঞানপত্র জারি করে এই প্রতীকগুলোকে অনুমোদন দিক।

    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটের প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়। কিন্তু প্রচুর দাবির পরও, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখনো কোনও দলকে ‘শাপলা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচন বিধিতে এই প্রতীকের ব্যবহার বা বরাদ্দের জন্য হুকুম বা ব্যবস্থা এখনও যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে, এনসিপি এখনও তাদের পছন্দের শাপলা প্রতীকের জন্য অপেক্ষা করছে।

    উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়, যেখানে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য প্রতীকের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক যুক্ত থাকলেও, দীর্ঘদিন ধরে এনসিপি এই প্রতীককে তাদের দলের প্রতীক হিসেবে দাবি করে আসছে।

    ২০২৪ সালে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে লক্ষ্য করে নির্বাচন কমিশন দুটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে এনসিপি রয়েছে এবং তাঁদের প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা কলি’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চলমান প্রক্রিয়া চলছে। তবে, এখনও এই বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায়, এনসিপি শীঘ্রই এই প্রতীকের স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করছে।

  • একত্র হয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আহ্বান তারেক রহমানের

    একত্র হয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আহ্বান তারেক রহমানের

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, সমাজের চারপাশে গোপনে থাকা স্বৈরাচারী শক্তিগুলোর হাত থেকে দেশের গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক মূলনীতি রক্ষা করতে তার দল একত্রিত হয়ে কাজ করবে। এই মন্তব্য করে তিনি দলীয় একক প্রার্থীকে বিজয়ী করে যেন এই ‘গুপ্ত স্বৈরাচার’ প্রতিরোধ করা যায়, সেই জন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    রোববার রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে বিএনপির প্রবাসী নেতাকর্মীদের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্যপদ গ্রহণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দলের ওয়েবসাইটের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, শীঘ্রই বিভিন্ন সংসদীয় আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দল যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবে, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে জয়যুক্ত করে সেই প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করে আনতে হবে। তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, আমাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা ও গুপ্ত স্বৈরাচার lurking করছে, তাই নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ ও বিরোধ আসন্ন নির্বাচনে কোনও ধরনের সুযোগ দেবে না।

    তিনি উল্লেখ করেন, ধানের শীষে ভোট দিলে যুব থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ—প্রতিটি বিএনপি কর্মী, সমর্থক ও নেতাকর্মী শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন। এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রগতির বিজয় ঘটবে। তিনি বললেন, ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে অবজ্ঞা করা বা তার অবদানকে প্রশ্ন করার লক্ষণীয় কোনও কাজ যেন না হয়। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    সমাপ্তিতে তিনি স্লোগান দেন, ‘ভোট দিলে ধানের শীষে দেশ গড়ব, মিলে-মিশে।’

    বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সঠিক সময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। এই নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি প্রস্তুত হচ্ছে এবং প্রায় ৩০০ সংসদীয় আসনে দলের বা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকেও বিএনপি সমর্থন দিচ্ছে। এ কারণে কিছু আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারে, তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এটাই আমাদের মূল মানদণ্ড।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তির চার্টার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এই ‘ফোর্থ ইনдуস্ট্রিয়াল রেভলিউশনের’ যুগে আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। সবারই প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার জন্য তিনি দলের সবাইকে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডিজিটাল কার্যক্রমে আরও অগ্রসর হওয়াই আমাদের ভবিষ্যত।

    আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

  • সরকার গোপন সমঝোতা করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হতে পারে

    সরকার গোপন সমঝোতা করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হতে পারে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, গোপন যৌথ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সরকার যদি আরপিওর সর্বশেষ সংশোধনী বাতিল করে দেয়, তবে এটি একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও নিবন্ধিত দলের প্রার্থী যদি জোটের অন্য দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাহলে আইনগতভাবে অনুমোদিত এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বিস্ময়করভাবে, সরকার যদি কোনও দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে, তাহলে তা ন্যাক্কারজনকভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যত্যয় ঘটানোর শঙ্কা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে। রোববার এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী জোট গঠিত হলেও প্রতিটি প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে—গত ২৩ অক্টোবর এই বিধান সংযোজন করে নির্বাচন আইন সংশোধন করা হয়, যা প্রচারিত হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দ্বারা। তবে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বিএনপি’র একজন নেতা ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার মধ্যে গোপন ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’ থাকায়, এই সংশোধনী বাতিলের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। দেশবাসী মনে করে, যদি এই সংশোধনী বাতিল হয়, তবে সেটি অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, যদি এই সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ব্যক্তিগত একটি গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে বাতিল করা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। জনগণের কাছে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি কি? নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার পূরণের জন্য দায়বদ্ধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া কি অন্ধকারে ঢুকবে? চার মাস সময় থাকতে, যদি এমন গোপন যোগসাজшисьল বচáles যায়, তবে নির্বাচন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও ভ্রান্তি মুক্ত হবেনা। জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বহাল রাখা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে এবং সকলের স্বার্থে ন্যায় ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

  • ৮ দলের নতুন কর্মসূচি announced to implement 5-Point Demands

    ৮ দলের নতুন কর্মসূচি announced to implement 5-Point Demands

    বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল আবারও তাদের ৫ দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির প্রধান নেতা, আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাহমুলুল হক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও নির্বাচন কৌশলগতভাবে ঘনিয়ে আসছে, তবে ৭ জুলাই তোরার জন্য প্রণীত সনদ, যার আইনি ভিত্তি প্রয়োজন, এখনও তুলে ধরা হয়নি। জনগণের স্বপ্ন ও রাজনৈতিক প্রত্যাশা পূরণে এই সনদ কার্যকর করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে, সমমনা আটটি দলের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবির আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, অন্যথায় কিছুই সম্ভব নয়।

    তদন্তের পরেও, যথাসময়ে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা এবং সকল প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে, দেশের নির্বাচনী পরিবেশ অনিশ্চিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের আইনি বৈধতা অর্জনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গণভোটের আয়োজন করে জনগণের মতামত নিশ্চিত করতে হবে। নামমাত্র আইনী পরিবর্তন না করে, যদি আরপিও পূর্বের মতোই রাখা হয়, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়া অস্থির হবে। তিনি আশাবাদী যে, রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে, ও জোর দিয়েছেন যে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, অনেক সমমনা দল আগেই বিভিন্ন বৈঠকে একমত হয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ এক দল তাদের ঐকমত্যে সরে আসায় কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পারস্পরিক বিরোধ দ্রুত সমাধান হবে। দাবী করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণভোটের সময়সীমা শিথিল হবে না, কারণ জনগণের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ ছোট হয়ে যাবে। নির্বাচনের দিন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আলোচনাই হবে, ফলে গণভোটের সময় আলাদা করে আয়োজন অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর জন্য একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ নভেম্বর ঢাকায় একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। মামুনুল হক বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সরকার সাত দিন সময় দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে সমাধান করতে সক্ষম হবে। দেশের স্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ।

    এছাড়া, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, যেমন: ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, নেজামে ইসলামের মুফতি হারুন ইজহারসহ এফএএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

    এর আগে সকালে, এই আটটি দল একসঙ্গে বৈঠক করে তাদের মূল অবস্থান ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করে। এ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), খেলাফত আন্দোলন ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা। এই সভার ফলস্বরূপ, জনগণের জন্য এক ছিল কর্মসূচি ও দাবি। তারা উল্লেখ করেন যে, JULY সনদের আইনি কাঠামো স্পষ্ট না হলে, জনগণ আস্থা হারাবে এবং জাতীয় নির্বাচনও অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। তাই, এই দলগুলো মনে করে, সমঝোতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা আশাবাদী যে, একত্রে আলোচনা করে দ্রুত অচিরেই এই সংকট সমাধান হবে।

  • জামায়াতের দাবি, আরপিও সংশোধন এক দলকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার সমান

    জামায়াতের দাবি, আরপিও সংশোধন এক দলকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার সমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীনের নেতারা বর্তমান সরকারের আরপিও সংশোধনের সিদ্ধান্তকে এক দলকে ক্ষুব্ধ করে নতিস্বীকারের মতো বলে মনে করছেন। দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত এই সংশোধনকাজ বিভিন্ন দলের আবদার মেনে নেওয়ার মতো এক ধরনের নতিস্বীকার। তিনি আরও বলেন, এর আগে সরকারের বিভিন্ন পদ্ধতিতে একাধিক বার এক দলের প্রতি বিশেষ অঙ্গীকার ও আনুগত্য প্রকাশ পেয়েছিল। যেমন, প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনে গিয়ে একটি অসম ও অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে একটি দলের চাপের কাছে স্বীকার করেছেন, পাশাপাশি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে গিয়ে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা গেছে। সর্বশেষ, একই উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত আরপি সংশোধনকে এক দলের পক্ষ থেকে দ্বিমত প্রকাশের পরও সেটাকে পুনর্বিবেচনা করার নামে সরকারের পক্ষ থেকে আনুগত্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে বলে মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না এবং এর নিন্দা জানাই। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন কমিশন ও উপদেষ্টা পরিষদে প্রত্যেক দলের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তের সাথে তারা একমত। এ কারণে, তারা এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চাইছে; অন্যথায়, দেশের গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ হবে। তাহের বলেন, বিএনপি নতুন করে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, সেটি জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টা যদি এ চক্রের কাছে নতি স্বীকার করেন, তাহলে জাতির সাথে করা বৈঠকের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হবে বলে মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উনি দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং নির্বাচন সংশোধন নিয়ে সঠিক পথে যাবেন, যেন দেশ ও জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না হয়।

  • বিএনপি: ইসলামকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করছে একটি গোষ্ঠী

    বিএনপি: ইসলামকে রাজনীতির জন্য ব্যবহার করছে একটি গোষ্ঠী

    নেতৃত্বাধীন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান দেশে একটি কিছু গোষ্ঠী রাজনীতির স্বার্থে ইসলাম ধর্মকে অপব্যবহার করছে এবং এর মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে কেউ যেন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে দিকেও নজর রাখতে হবে। শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ সম্মেলনে এগুলো বলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কাসেমী পরিষদ নামে একটি সংগঠন।