Category: রাজনীতি

  • তারেক রহমানের মন্তব্য: অন্তর্বর্তী সরকার দলীয় স্বার্থ নয়

    তারেক রহমানের মন্তব্য: অন্তর্বর্তী সরকার দলীয় স্বার্থ নয়

    বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে কারো নিজেদের দলীয় স্বার্থে কাজ করা নয়। তার মতে, দেশের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও জনগণের দাবি মেনে চলা সরকার প্রতিষ্ঠা। তিনি শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আয়োজিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হলে পরাজিত, ভবিষ্যতে পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ‘গুপ্ত রাজনীতি’ থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, কারণ কৌশলে কিছু অপশক্তি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধীরা গোপন কৌশল অবলম্বন করতো নিজেদের রক্ষা করার জন্য। বর্তমানেও কিছু অপশক্তি একইভাবে গোপন কৌশল ব্যবহার করে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে কি না, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেক রহমান মন্তব্য করেন, রাজপথে আন্দোলনের দায়িত্বশীল কর্মসূচি পালনকারীরা কখনও কখনও দেশের বহু মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষতি করতে পারে। তিনি পতিত ও পলাতক অপশক্তির পুনরায় মাথাচাড়া দিতে দেবেন না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব অপশক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য দরকার একটি ঐক্যবদ্ধ এবং শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য, যার মাধ্যমেই তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবেন। বিএনপি এই ঐক্য বজায় রাখতে সহযোগিতা ও সহমত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

    তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই “শান্তিপ্রিয়, সহনশীল এবং গণমুখী” একটি দল। ভিন্ন মতকে গ্রহণ করে সমন্বয় করার সংস্কৃতি তার দলের মূল বৈশিষ্ট্য। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য বিএনপির এই রাজনীতি অতি জরুরি।

    আসন্ন নির্বাচনে জয় লাভ করলে বিএনপি সরকারের গঠন হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। এই সরকার গঠন হলে ৫০ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, তরুণদের জন্য নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশ ও বিদেশে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার আলোচনা।

    তারেক রহমান বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা দিয়ে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে যেন তারা বাংলাদেশের পাশাপাশি বিদেশেও কাজের সুযোগ পায়।

    বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর তিনি আলোকপাত করে বলেন, এই বৈচিত্র্যই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং এর মধ্যেই ঐক্য নিহিত। তিনি আরও যুক্ত করেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারের কথা। একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে নিজের অধিকার সমানভাবে পাবে, এই বার্তা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি হিন্দু মুসলিম সব সম্প্রদায়ের দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

    অনুষ্ঠানে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সভাপতি সোমনাথ সেনের সভাপতিত্বে ভাইরাসযুক্ত বিষয়গুলো আলোচনা হয়। বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে তার বক্তব্য তুলে ধরেন, যেখানে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্যরা, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আরও অনেক। সব মিলিয়ে এই সমাবেশ দেশের সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে রাজি বিএনপি, অন্য দলের জন্য কেন নয়?

    প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে রাজি বিএনপি, অন্য দলের জন্য কেন নয়?

    প্রধান উপদেষ্টা যদি উল্লিখিত আহ্বান জানান, বিএনপি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করেছিলাম যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারির মতো ভূমিকা পালন করবে। অন্তর্বর্তী সরকার যেন খুবই নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, আপনাদের দ্বারা রেফারি হয়ে হাত দিয়ে একটা গোল দেওয়া হয়েছে। এরপর বলছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নয়তো আপনাদের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    শনিবার (০৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তির স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    সরকারকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আপনাদের সমর্থন দিয়েছি, এই সীমারেখার মধ্যে। তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের আহ্বান জানানো কেনো? আপনি যদি বলতে চান যে, আমাদের জন্য কেউ অন্য রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে আহ্বান পাঠাচ্ছে, তাহলে সেটা বোধগম্য নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে, আমরা সব সময় আগ্রহী ও প্রস্তুত। কিন্তু কেন অন্য একটি রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের ডাকা হচ্ছে?

    অন্তর্বর্তী সরকারের এভাবে সময় বেঁধে দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, আপনি কোনো নির্বাচিত সরকার নন, আর সেই কারণে তাদের এ ধরনের ডিকটেট বা আদেশ দেওয়ার অধিকার নেই। ৭ দিনের মধ্যে যদি সিদ্ধান্ত না হয়, তাহলে আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেব। এত শক্তি প্রদর্শন আপনারা বুঝতে পারবেন না।

    জামায়াতে ইসলামীকে নিশানা করে সালাহউদ্দিন বলেন, যারা ১৯৭১ সালে বিপরীত পথে চলেছিলেন, ১৯৪৭ সালে বিভেদ তৈরি করেছিলেন, হারুনের হাত ধরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন—তারা এখন আবার যদি আওয়ামী লীগের সাথে পুনরায় জড়িয়ে যান, তবে পরিস্থিতি কী রকম হবে, আল্লাহই জানেন। আপনারা যে পথ শুরু করেছেন, সেটি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক, কারণ এতে উৎসাহিত হবে অসংগঠিত ও अधিনষ্ট শক্তি।

    তিনি আরও বলেন, যারা ভয়ে ভাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দরকার মনে করেন, তারা ভবিষ্যতে আর কখনো বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই ধরনের ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেবেন না।

    জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের ঘি খেতে পারেন, কিন্তু আমরা এই দেশে গণতন্ত্র স্থাপন করতে চাই। রাজপথের এই আন্দোলন অগণতান্ত্রিক বা উত্তপ্ত হতেই দেবে না।সরকারের সঙ্গে আলটিমেটামের বিষয়ে তিনি বলেন, কে এই আলটিমেটাম দিচ্ছে? সরকার তো তাদের পক্ষেই কাজ করছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদেরই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। তাই তারা সকল কিছু মান্য করে এসব বলছে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। এছাড়াও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ।

  • দেশের চলমান সংকটের দাবিই ভোটের আসল পন্থা: মির্জা ফখরুল

    দেশের চলমান সংকটের দাবিই ভোটের আসল পন্থা: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমানে চলমান সব সংকটের মূল কারণ হলো রাজনৈতিক নাটক। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এই সব জটিল পরিস্থিতি বোঝে না; তারা শুধু চাই মুক্তভাবে ভোট দিতে। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা কথা ও কাজে একরকম বিশ্বাস রাখি, মুনাফিকির কোনও স্থান নেই আমাদের hoạtিতে।” তিনি উল্লেখ করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এদেশে কিছু লোক দিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল। এবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসনের মাধ্যমে একই ধরনের গণহত্যা চালাচ্ছে।”

    মহাসচিব আরও বলেন, “বর্তমান সরকার সম্পূর্ণই অপ্রতিনিধিত্বশীল। এই কারণেই সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। কৃষকরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, শাকসবজির দাম কমে গেছে। হিমাগারে আলু অগ্রিম বিক্রির জন্য নেই। এছাড়াও, কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সার কেনাও তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সব সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।”

    তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে, যা দিয়ে তারা সস্তায় তেল, চাল, ডাল কিনতে পারবে। একইভাবে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে আসে।”

    মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের সময় গণভোট দিতে হবে। এই গণভোটের সার্টিফিকেট কিনা, সেটি আমাদের বোঝা উচিত। তবে সাধারণ মানুষ এই বিষয়গুলো বুঝতে পারে না, শিক্ষিত মানুষই পারে। আমরা সব রকম সংস্কারে রাজি, তবে যা রাজি হয় না, সেটাই সংসদে পাস হবে।”

    অতঃপর তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা আপনি যারা চেনেন, সেটিও এখন নির্বাচন করছে। ধানের শীষের প্রতীকের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে। এটি আমার শেষ নির্বাচন। এই নির্বাচনে যদি শক্তি না থাকেও, তবুও ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে সহায়তা করুন।”

    অনুষ্ঠানে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।

  • মির্জা ফখরুলের ভাষ্যে একাত্তরের দোসররা আবারও দেশের স্বাধীনতা নষ্টের চেষ্টা করছে

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্যে একাত্তরের দোসররা আবারও দেশের স্বাধীনতা নষ্টের চেষ্টা করছে

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দিতেই এক মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যারা পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোদ্ধা ছিল, তারা আজও দেশের স্বাধীনতাকে হরণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রোববার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের আয়োজনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে— কিন্তু এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। আমাদের অন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকা অব্যাহত থাকবে, এটি আমাদের অস্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফখরুল আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মা-বোনদের পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছিল এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা সহায়তা করেছিল, তাদের সঙ্গে কখনো আপোস হওয়া সম্ভব নয়। এরা বারবার মুখোশ বদলিয়ে দেশের অন্ধকার সময় ডেকে আনে। নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন প্রত্যাহার বা বিলম্বের চেষ্টাও চলছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিলে কোনওভাবেই ক্ষমতা টিকে থাকwardসম্ভব নয়। সভায় বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান অবস্থা, তাদের অধিকার রক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহম্মদ খান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভায় ঠাকুরগাঁও জেলার শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানগণ উপস্থিত ছিলেন। শেষে সকলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতা ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়।

  • মির্জা ফখরুলের উত্সাহী আপীল: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন

    মির্জা ফখরুলের উত্সাহী আপীল: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন

    বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য উজ্জীবিত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ শান্তিপূর্ণ এই শ্লোগানটি সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেন। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই উদ্যোগের কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় বক্তৃতাকালে মতুয়া বহুজন সমাজের পক্ষ থেকে তুলে ধরা সাধারণ মানুষের দাবিগুলোর বিষয়ও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে যখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানোর পথ সুগম হবে। তিনি সাধারণ ভোটারদের অনুরোধ করেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে এই পরিবর্তনের জন্য পাশে থাকুন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আপনি কি আমার নেতাকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন? তাহলে আসুন, একসঙ্গে শ্লোগান দিই: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি সত্যিকার অর্থে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই স্বপ্ন দেখতেন এবং এর ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছিলেন।

    মতুয়া বহুজন সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি উঠেছে, যেমন- অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন কার্যকর, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন, ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মনোনয়ন ও জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি। এসব দাবির মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন অংশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সংহতির বার্তা ফুটে ওঠে।

  • ৫ দফা দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি জামায়াতসহ ৮ দলের

    ৫ দফা দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি জামায়াতসহ ৮ দলের

    অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ দফা দাবি মানতে না চাইলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) জাগপা-র ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে এক যুক্ত Committee বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। এই বৈঠকে বলা হয়, ১১ নভেম্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই সমাবেশের মাধ্যমে অর্থাৎ জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট, উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবিiew। পাশাপাশি, ফ্যাসিস্ট সরকারের এর আগের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিচার ও দমন، জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠে এসেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাগপা-র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফ আলী আকন্দ, খেলাফত মজলিসের নেতারা ও অন্যান্য দলের নেতারা। নেতারা বলেন, তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে বিএনপি আলোচনা করতে না চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যথায়, জনসমাবেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার জন্য সবাই প্রস্তুত। বলতে গেলে, এই ৫ দফার দাবি তারা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

  • তরিক রহমানের মত: অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের নয়

    তরিক রহমানের মত: অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের নয়

    বিএনপি’s ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বা স্বেচ্ছাচারিতা পূরণে কাজ করতে পারবেন না। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এই সাদা পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা হলো ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য একমাত্র পথ হলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

    শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশ অস্থিতিশীল হলে জালিম ও পলাতক শাসক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    তরিক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু বিরোধী মতামত বা আন্দোলন গোপনে চালিয়ে যান, যাতে শত্রু শক্তির পথ সুগম হয়। আজকের সময়েও যাতে সেই অপশক্তি আবার গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কিছু অপ্রিয় আন্দোলন বা সহিংসতা দেশের মানুষের মূল অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তাই এসব থেকে সজাগ থাকতে হবে।

    তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে একজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করে কিছু অশুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে। এসব অপশক্তি যেন পুনরায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, তার জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করে চলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই শান্তিপ্রিয়, সহনশীল ও গণমুখী দল। দেশের ভিন্নমত বা দৃষ্টিভঙ্গি সহনশীলভাবে গ্রহণ করে দেশের সমৃদ্ধি ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তারা অবিচল। নির্বাচনে জিতলে গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ মিলিয়ন পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    বিশেষ করে তরুণদের জন্য তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ট্রেনিং ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রস্তুত বিএনপি। এ ছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তারা করেন, যেখানে সকলের অধিকারে সমান মর্যাদা থাকবে।

    তারেক রহমান শেষবিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ব্যতিরেকে রাখা হবে না। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান নিজে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের দাবি তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ শান্তিপূর্ণ সমাধানে গুরুত্ব দেয়।

  • সালাহউদ্দিনের মন্তব্য: অন্য দল দ্বারা আহ্বান কেন, আমরা যাব

    সালাহউদ্দিনের মন্তব্য: অন্য দল দ্বারা আহ্বান কেন, আমরা যাব

    প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানালে বিএনপি আলোচনা করতে রাজি আছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মনে করেছিলাম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করবে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনা করবে। কিন্তু এখন দেখছি, আপনাদের পক্ষ থেকে রেফারি হয়ে একটি গোল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে।

    শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সরকারকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব রকম চেষ্টা করার আহ্বান জানাই। আমরা স্বেচ্ছা समर्थन দিচ্ছি, তবে সেটি সীমারেখার মধ্যে। যদি মনে করেন, অন্য রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তাহলে প্রশ্ন হলো, তারা কারা? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যদি আমাদের কাউন্সিলে ডেকে নিয়ে আলোচনা করতে আহ্বান জানায়, আমরা সব সময় আলোচনায় আগ্রহী। তবে অন্য এক দলকে দিয়ে কেন আমাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে?

    অন্তর্বর্তী সরকারের এইভাবে সময় বেধে দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নয়, এটাই মনে রাখা জরুরি। আপনাদের কাছে এত ক্ষমতা নেই যে, আমাদের ওপর ডিক্টেট করার অধিকার রাখেন। যদি সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হয়, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেব। এত শক্তি দেখানোর জন্য আপনাদের মানা হয় না।

    জামায়াতকে লক্ষ্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, আপনি ১৯৭১ সালের পরিণতিতে যা করেছিলেন, ১৯৪৭ সালে শুরু করেছিলেন, জাতীয় পার্টির হাত ধরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পাশে ছিলেন—এমন সব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের পরিস্থিতি কী রকম হবে? আবার যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিয়ে পুনরায় ক্ষমতা চান, তাহলে কি হবে? এরাজ্যেতো নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বাড়বে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আপনি বলতে চান, আমাদের কিছু করতে হবে, ভাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেবেন—এমন ভাবনা দেশের মানুষ আর কখনো গ্রহণ করবে না। সুযোগ এড়িয়ে যান।

    জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি চাইলে ঘি খেতে পারেন। কিন্তু আমরা দেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাব, অগণতান্ত্রিক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হতে দেব না। সরকারের উপর আল্টিমেটাম দিয়েছেন কেউ? তাহলে তারা কি এই আল্টিমেটাম দিয়েছে? সরকার তো আপনার কথামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সবসময় মেনে চলেছে। আপনারাও একই সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন।

    ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়সহ অন্যান্যরা।

  • দেশের সব সংকট দেশের নাটকের অংশ, মানুষ ভোট দিতে চায়: মির্জা ফখরুল

    দেশের সব সংকট দেশের নাটকের অংশ, মানুষ ভোট দিতে চায়: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো কেবল এক ধরনের নাটকের অংশ, যেখানে সাধারণ মানুষ আসলে এসবের অর্থ বোঝে না। তারা কেবল চায় ভোট দিতে, নিজেদের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সুযোগ। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএনপি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা শুধু কথা বলছি না, কাজেও বিশ্বাস করি। মুনাফিকিরাই বিশ্বাস করে না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এদেশের কিছু মানুষ নিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল বিরোধী মতাবলম্বী মানুষ। আবার এইবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসন দিয়ে এই দেশেই গণহত্যা চালিয়েছে। স্বজনদের দখলে থাকা ন্যায্য দাবির জন্য তাদের ওপর অত্যाचार চালানো হচ্ছে।’

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয়, তাই তারা সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না। কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না, শাকসবজির দাম ফুরিয়ে যায়। হিমাগারে আলু পড়ে রয়েছে বিক্রির অপেক্ষায়। কৃষি জন্য প্রয়োজনীয় সারও কৃষকদের পাওয়া যাচ্ছে না। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে এই সমস্ত সমস্যা সমাধান হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে তেল, চাল, ডাল সহ অন্যান্য পরিত্যাজ্য পণ্যে পৌছে যাবে। কৃষকদের জন্যও আলাদা কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।’

    মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘নির্বাচনের দিন গণভোটের ব্যবস্থা থাকতে হবে, কারণ বোঝা দরকার, কিসের জন্য কি দরকার। গণভোট-সনদ উপলব্ধি বোঝে সাধারণ মানুষ না, শুধুই শিক্ষিত মানুষ। আমরা সব সংস্কারে সম্মত, তবে এমন কিছু নয় যা সংসদে পাস হতে পারে।

    তিনি শেষবারের মত বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে। এটি আমার শেষ নির্বাচন, তাই আপনাদের ধানের শীষের পক্ষেই ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি চাই আমাদের এই যাত্রা সফল হোক।’

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ অন্য নেতাকর্মীরা।

  • মির্জা ফখরুলের আহ্বান: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন

    মির্জা ফখরুলের আহ্বান: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ এ সময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও এই শ্লোগানে সাড়া দেন। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে তিনি মতুয়া বহুজন সমাজের কাছে থাকা বিভিন্ন দাবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন। এরপর বলেন, ‘এই দাবি আজই বাস্তবায়ন হবে তখনই, যখন আমাদের নেতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসাতে পারবো। ধানের শীষে ভোট দেওয়া আপনারা কি করবেন? আমি আপনারা থেকে সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই। আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, আপনি আমার নেতাকে প্রধানমন্ত্রী করবেন? তাহলে একসঙ্গে শ্লোগান দিই: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ ফখরুল আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্মের নামে বিভেদ থাকবে না। অতীতের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভুলে, সবাই একসঙ্গে থাকব, একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে সব ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত। মতুয়া বহুজন সমাজের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন, ট্রাস্টের বদলে হিন্দু ফাউন্ডেশন স্থাপন, মনোনয়ন ও সংসদসহ জাতীয় জীবনের সব স্তরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি।