Category: রাজনীতি

  • মির্জা ফখরুলের বললেন, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

    মির্জা ফখরুলের বললেন, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না

    বাংলাদেশে আর কোনও নির্বাচন না হলে দেশটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিশমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, যা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তিনি সতর্ক করে দেন, যারা মুনাফেকি করছে, তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

    একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে পিআর (প্রতীকের নির্বাচন) পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই দলের বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে না।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দল বৈধ ও সংস্কারের বিষয়গুলোতে একমত হলেও কিছু জোর করে চাপিয়ে দিলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি জানান, বিএনপি এমন কর্মকাণ্ডে যাবে না, কারণ জনগণ যদি বুঝতে পারে ঝুঁকি হতে পারে;

    প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা ও সংগীত শিক্ষক বাদ দেওয়াকে তিনি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, এটা শিক্ষাব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চতর মর্যাদার। তিনি রাজনীতিতে নতুন দর্শনের সূচনা করেছিলেন, যা আজও প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।

    মির্জা ফখরুল ভাষ্য দেন, জামায়াতে ইসলামীরা বলছে, তারা যা বলছে সেটাই করতে হবে। তা না করলে ভোট হবে না, এমন ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোট ও নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের এত ভয় কেন? কারণ, ভোটে জয় না হলে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। এ কারণেই তারা ভোট ও নির্বাচনে ভয় পাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে একটাও এনসিপি (ন্যাশনাল অসোশিয়েশন অব পপুলার গ্রুপ) নেই। কিন্তু তারা কীভাবে ভোট পাবে? এজন্য জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রচার করে, পিআর চায়, যদিও মানুষ এই বিষয়গুলো বুঝতে পারে না। এটি হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার এক কৌশল।

    মির্জা ফখরুল দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সংস্কার ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরেও কিছু অমীমাংসিত বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে, তার দুষ্ণা সরকারকেই দিতে হবে বলে জানিয়েছেন।

    অন্তর্বর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে, প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড তৈরির আশ্বাস দেন।

    শেষে, দলটির নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যতের আন্দোলনকে শক্তিশালী ও সফল করে তুলতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে যমুনার সামনে অবস্থানের ঘোষণা

    ১৬ নভেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে যমুনার সামনে অবস্থানের ঘোষণা

    আটটি রাজনৈতিক দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি এবং নভেম্বর মাসের মধ্যে এই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবিকে কেন্দ্র করে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) তারা জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের জনশক্তিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও রাজপথে তারা অবস্থান করবেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য, ১৪ নভেম্বর (শুক্রবার) সরকারবিরোধী ৫ দফা দাবিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। আর ১৬ নভেম্বর (রোববার) দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক বেলা ১১টায় আল-ফালাহ মিলনায়তনে হবে, যেখানে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পরে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি জনগণের দাবি মানা না হয়, তাহলে সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে যে, যমুনার সামনে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হবে অনড় অবস্থান কর্মসূচি।

  • তারেক রহমান চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    তারেক রহমান চলতি মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরছেন: সালাহউদ্দিন আহমদ

    চলতি মাসের শেষ দিকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন বলে আশা করছে দলটি। আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, তারা বিশ্বাস করেন যে, এই মাসের শেষের দিকে তিনি দেশে ফিরবেন। কিছুটা সময় বৈচিত্র্য হতে পারে, কিন্তু মূলত তারা আশাবাদী।

    ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে চলে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। এরপর গত ১৭ বছর তিনি লন্ডনে বাস করছেন। জুলাই মাসে সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা জটিলতা থেকে মুক্তি পেলেও তিনি এখনও দেশে ফিরছেন না।

    বিএনপির বেশ কিছু সদস্য দাবি করছেন যে, তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন, তবে কেউ নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলেননি। ৬ অক্টোবর বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কবে দেশে ফিরছেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, খুব শীঘ্রই ফিরে আসার পরিকল্পনা আছে, ইনশাআল্লাহ।

    সাক্ষাৎকারে আরও জানতে চাওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের আগে তিনি দেশে থাকবেন কি না। তার উত্তরে তিনি বলেছিলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তার দায়িত্ব আছে, তাই নির্বাচনের সময় যেখানে প্রয়োজন, সেখানে থাকবেন। তিনি আরও বলেছিলেন, জনগণের প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন হলে তিনি সেখানে থাকতে ইচ্ছুক এবং চেষ্টা করবেন।

    প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও কখনো সরাসরি নির্বাচনী মাঠে প্রার্থী হননি তারেক রহমান। তবে এবার তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন।

  • আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আজ মাঠে থাকবেন জামায়াতসহ ৮ দল

    আওয়ামী লীগ ঠেকাতে আজ মাঠে থাকবেন জামায়াতসহ ৮ দল

    আওয়ামী লীগ কর্তৃক ১৩ নভেম্বরের জন্য ঘোষণা করা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি প্রতিরোধের জন্য বৃহস্পিতবার রাজপথে জনসাধারণের অবস্থানের পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন আট দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা রোধে তারা দেশব্যাপী জনগণের সহায়তায় রাজপথে থাকবেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে, পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে রাজপথে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যারা এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বছর কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা হলো আলু চাষ। একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গিয়ে সরকারের পক্ষে যদি গণভোট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তবে তা জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ব্যয় হবে। অথচ এই সময়ে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, যা তাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আরও বলেছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল যেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে বা ক্ষমতা দখলের জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে; কিংবা জনগণের দ্বারা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে অপচেষ্টা চালায়— তবে তার ফল বিপরীত হতে পারে। এ বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি রাজপথের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতিকে আরও বিষিয়ে তোলা কেউ চাইছে কি না, তা লক্ষ্য রাখা দরকার। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতের জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু দল নানা শর্ত আরোপ করে জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার মানতে না চাওয়া।

    তারেক রহমান জনগণকে উৎসাহিত করে বলেন, আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসে সব গণতান্ত্রিক দল যেন শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মুখোমুখি হয়। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করেন— পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও সংহতিপূর্ণ পথে চলার জন্য।

    সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, এ বছর আলুর ব্যবসায়ীরা সম্ভবত সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আলুর উৎপাদনে খরচ প্রতি কেজিতে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা, কিন্তু বাজারে চাষিরা সচরাচর অর্ধেক দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন। ফলে এর ফলে চাষিরা তিন হাজার কোটি টাকার মতো লোকসানে পড়তে পারেন। তিনি বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল গণভোটের নামে এই অর্থ ব্যয় করতে চায়, তবে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া এই সময়ে এত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বে সম্ভবত বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চাললেও, সড়ক নিরাপত্তা ইস্যুটি বিচ্ছিন্নভাবে দেখা বা গুরুত্ব না দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের সংস্কার শুরু করেছিলেন, কিন্তু তার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে, আপনার পিতার কাজগুলো যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে শুরু করুন—আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন সিনিয়র নেতারা, কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

  • গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: দিল্লির ষড়যন্ত্রে ১৩ জানুয়ারি লকডাউনের নামে আ.লীগের নাশকতা পরিকল্পনা

    গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: দিল্লির ষড়যন্ত্রে ১৩ জানুয়ারি লকডাউনের নামে আ.লীগের নাশকতা পরিকল্পনা

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দিল্লির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আগামী ১৩ জানুয়ারি লকডাউনের নামে আওয়ামী লীগ নতুন ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে। আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে পাচঁ দফা দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে পল্টন মোড়ে একটি বৃহৎ ও ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ milestones হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরো বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আজ বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে। সরকার গঠনের জন্য সাধারণ ঐক্য ও সংবিধান সংশোধনের জন্য বেশ কিছু সংস্কার হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। তবে ডিসেম্বরের নির্বাচন ঘোষণা করার পর থেকে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

    জামায়াতের এই নেতা সরকারের প্রতি আবেদন করে বলেন, যারা দাবি করছে, একদিনের গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হবে, তাদের এই বিষয়ে পুনরায় ভাবতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ে যে সংবিধানে সংস্কার হয়েছে, এর মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দলের প্রধান ও সরকারের প্রধান পৃথক হওয়া, সাংবিধানিক পদে নিয়োগের স্বাধীনতা, পার্লামেন্টের কাঠামো পরিবর্তনসহ নানা সংস্কার রয়েছে। যদি এই পরিবর্তনগুলো সংবিধানসম্মতভাবে না হয়, তাহলে কিসের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে?

    তিনি আরও বলেন, অনেক সংবিধান বিশ্লেষক মনে করেন, হাইকোর্টের আর্টিকেল ১০৬-এর আওতায় সরকারের বৈধতা প্রমাণের জন্য গণভোট অপরিহার্য। কারণ, এই আইনের ভিত্তি শক্তিশালী না হলে, নির্বাচন ও সংস্কারগুলি বৈধতা পাবে না।

    মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা পাঁচ দফা দাবি করেছিলাম মানবতাবিরোধী অপরাধীদের শাস্তির, তার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। নভেম্বরে কিছু অপরাধীর রায় আসার আশঙ্কা থাকলেও, ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশজুড়ে ককটেল ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ষড়যন্ত্র করছে।

    সরকারী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করুন এবং জুলাইয়ের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করুন। প্রধানমন্ত্রী ও সরকার এই কাজে জনগণের সহযোগিতা নিতে প্রস্তুত।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

  • জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না: জামায়াতের আমির

    জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না: জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না যদি জুলাই সনদকে বৈধভাবে স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে উল্লেখ করেন, আমাদের মূল দাবি হলো জুলাই সনদ ও বিপ্লবের স্বীকৃতি। প্রথমে এই সনদকে আইনি ভিত্তি প্রাপ্ত করতে হবে এবং এর ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। আইনি স্বীকৃতি ব্যতিরেকে কোন নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না।

    সমাবেশটি মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত হয়, যেখানে আটটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে। এই বছর, আন্দোলনকারীরা দাবি করেন যে, এপ্রিলের বিপ্লবের স্বীকৃতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জুলাইয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সবার সম্মতি জরুরি। যদি সবাই একমত হয়ে গণভোটের জন্য পরিষ্কার তারিখ দেওয়া হয়, তাহলে আইনি ভিত্তি স্থাপন হবে এবং এর ভিত্তিতে পরবর্তী নির্বাচন হবে সক্ষম ও বিশ্বাসযোগ্য। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই ফেব্রুয়ারির আগে রমضانুল রহমানের আগে অর্থাৎ শীঘ্রই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। অন্যথায় অন্ধকারে চলে যাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

    তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের আশা এবং দাবি পরিষ্কার—জুলাই সনদ ও বিপ্লবের স্বীকৃতি ব্যতীত কোনো নির্বাচন হবে না। সেই সঙ্গে উপস্থিত নেতারা বলছেন, জনগণের ঐক্য ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, যারা এই আন্দোলনের সঙ্গে একমত নন অথবা দাবির প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্য ভবিষ্যত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, আমরা জনগণের মুক্তি চাই এবং তাদের স্বপ্নের আলো দেখে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।

    তিনি আরও বলেন, ভদ্রতার সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু আমাদের দাবিগুলো অক্ষুণ্ন থাকবেই। কারণ এগুলো জনগণেরই দাবি, কোনো দল বা ব্যক্তির নয়। এই দাবি যেমন বিপ্লবের জন্য, তেমনই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই। জনগণ এই চাপাবাজি, অন্যায় ও অসাংবিধানিক দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।

    আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর আন্দোলনের জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এই নেতৃবৃন্দ। সামনের দিনগুলোতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা শিগগিরই জানানো হবে।

    এর আগে, মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদকে কেবল কাগজের সনদ বলেই না, বরং ভবিষ্যতের রূপরেখা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এই সনদে দেশের মূল কাঠামো বদলের উদ্যোগ গৃহীত হবে, যাকে আইনি প্রতিষ্ঠা দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, সময়ে সময়ে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ সনদ গ্রহণ না করলে বাংলার মাটিতে অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়।

    জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই মানদণ্ডে চললে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের সূচী ঘোষণা সম্ভব হবে। এটি দেশের শান্তি, স্থায়িত্ব ও সম্মান বৃদ্ধির জন্য আবশ্যক বলে তিনি উল্লেখ করেন। আর সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই বিশাল সমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে এবং মুসলিম উম্মার ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রমাণ হিসেবে টিকে থাকবে।

  • ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না, মির্জা ফখরুলের সংকেত

    ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না, মির্জা ফখরুলের সংকেত

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যদি নির্বাচন পেছানো হয়, তাহলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের কিসমত কেশুর বাড়ি লক্ষীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের কাছে ধর্মের অপব্যাখ্যা দেয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। যারা মুনাফেকি করে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পিআর পদ্ধতিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়; এই পদ্ধতিতে দলের বাহিরে কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না।

    মহাসচিব বলেন, ‘সংস্কারের বিষয়ে আমরা একমত, তবে কিছু জোর করে চাপানোর চেষ্টা হলে এর תיקা সরকারকেই নিতে হবে। আমরা এমন কাজ করব না, কারণ তাহলে জনগণ আমাদের তাড়িয়ে দেবে।’

    প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজনেসে ক্ষমতায় গেলে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্ব autónমূলক করা হবে।’

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শরীরচর্চা শিক্ষক ও সংগীত শিক্ষকদের বাদ দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন, কারণ এতে শিক্ষাব্যবস্থায় অসংগতি সৃষ্টি হচ্ছে।

    জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি উজ্জ্বল নাম। তার দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক, তিনি নতুন রাজনৈতিক দর্শনের সূচনা করেছিলেন।’

    মির্জা ফখরুল আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য ওটাই অর্থাৎ যে, ওদের যা বলতে বলা হয়, সেটাই করতে হবে। তা না করলে ভোট হত না—এমনটি বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভাই, এত ভয় কেন ভোটের? কারণ জানো যে, ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এই কারণে তোমরা ভোট এবং নির্বাচনকে ভয় করো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এলাকায় কোনও এনসিপির দেখা মেলেনি। তারপরও তারা কীভাবে ভোট পাবে? এজন্য ওরা জামায়াতের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে। তারা পিআর চায়, জনগণ পিআর বোঝে না; এটা হলো মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

    মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস সংস্কারের নামে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরও যদি অমীমাংসিত বিষয়গুলো চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে এর দায় বিএনপি নেবে না। দায়টি সরকারকে নিতে হবে।

    শেষে তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড চালু করা হবে।

    অবশেষে দলটির নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যতের আন্দোলন আরও জোরদার করার জন্য একতাবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • আট দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা: জুলাই সনদ ও নির্বাচনের দাবি

    আট দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা: জুলাই সনদ ও নির্বাচনের দাবি

    বাংলাদেশের আটটি রাজনৈতিক দল, যার মধ্যে রয়েছে জামায়াতসহ অন্যান্য ইসলামপন্থী দলগুলো, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারা দাবি করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেওয়া অপরিহার্য। এই পাঁচ দফা দাবির জন্য তারা তিন দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা রোধ ও জেলা-এলাকায় সমাবেশ করা। এছাড়া, দাবি না মানা হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি দেবে তারা, যার জন্য আল্টিমেটামও দেয়া হয়েছে।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) বেলা ১টায় রাজধানীর পল্টনে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এর আগে, দেশটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব দল হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি। বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মুজিবুর রহমান।

    তিনি আরও জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার, ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী জনসমর্থনে নেতারা সরব হতে রাজপথে নামবেন। একই সঙ্গে, ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোকেও ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    পরবর্তীতে, ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার, কেন্দ্রীয়ভাবে তালিকা অনুযায়ী পাঁচ দফা দাবির জন্য জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ ও মিছিলের আয়োজন হবে।

    আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, ১৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় জনসভা ও আলোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের পর, দাবি মানা না হলে বিকেল সাড়ে ১২টার দিকে আল-ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    গতকাল মঙ্গলবার, চার মাস ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই আট দল সমাবেশ করে। সেখানে নেতারা স্পষ্টভাবে বলেন, দেশের ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য জরুরি হল—a গত জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি আর গণভোটের আয়োজন। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি এই দাবি মানা না হয়, তবে কোনো নির্বাচনই হবে না।

    জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান একথা বলেছেন, ‘যারা জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দেবে না, তাদের জন্য ২০২৬ সালে নির্বাচন হবে না। ২০২৬ সালের নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবকে স্বীকৃতি দিতে হবে, কারণ তবেই এই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা হবে। ।’

    তাদের পাঁচ দফা মূল দাবি হল:
    ১. জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি ও নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের আয়োজন;
    ২. আগমন জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু;
    ৩. সবার জন্য স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা নিশ্চিত;
    ৪. আওয়ামী লীগের জুলুম ও নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার করুন;
    ৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করুন।

  • বিএনপির ফাঁকা ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির তাসনিম জারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ

    বিএনপির ফাঁকা ঢাকা-৯ আসনে এনসিপির তাসনিম জারা মনোনয়নপত্র গ্রহণ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির অব্যবহৃত ঢাকা-৯ আসনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ডা. তাসনিম জারা। গতকাল সোমবার রাতে তিনি রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

    বেশকিছু দিন ধরেই বিএনপি ঢাকা-৯ আসনটি ফাঁকা রেখেছে, যেখানে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। তার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, এই আসনে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা চলছিল। এই গুঞ্জনকে আরও সেই দিকে ঠেলে দিয়েছে, যখন তাসনিম জারা মনোনয়নপত্র গ্রহণের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, তারা এবার এই আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকের ধারণা, বিএনপির এই সিদ্ধান্তে গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে।

    ঢাকা-৯ আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত। এতে রয়েছে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড, যা সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা থানাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই আসনে এখনো বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি, তবে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কবির আহমদ।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর, তাসনিম জারা বলেন, ‘দলের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৩ তারিখের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আমি সেই প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছি। যদি সুযোগ পাই, তাহলে এনসিপি থেকে আমরা পরিবর্তন এনে সফল হতে পারবো বলে আশা করছি।’

    এনসিপি ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে, যা চলবে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা, তবে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষরা এটি ২ হাজার টাকায় সংগ্রহ করতে পারবে।