Category: রাজনীতি

  • ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

    ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরে। তিনি বলেন, দেশের প্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধতা দিয়ে দেশের অন্যতম প্রিয় নেতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হয় এবং দেশের পরিচালনার দায়িত্ব.assign করা হয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, এটি ছিল বাংলাদেশের প্রগতির এক সৃষ্টি পয়েন্ট। জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেন।

    আজ, ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, শুক্রবার (০৭ নভেম্বর), জাতীয় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ সব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান তার চতুর্থ বছরেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পরিহার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যান এবং সংবাদপত্রের মুক্তি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বিচার বিভাগীয় কাঠামো শক্তিশালী করেন, জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করেন। তাঁর এই ভিত্তির ওপর থাকতে গিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। তাই আজকের দিনটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে বাংলাদেশে নানা চক্রান্তের খবর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদেরকে সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়, যেখানে সত্যিকারের গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনগণের ভোটাধিকার, বিচারসংস্থানের অধিকার রক্ষা করে দেশের অগ্রগতি সম্ভব হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

  • নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না

    নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই সনদে কোনো নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না। আমাদের সঙ্গে যা সম্মতি হয়েছে, সেটাই থাকবে, আর জনগণ চাইলে বাকিটা ঠিক করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়িত হবে, এটাই আমাদের আশা। তিনি বিশ্বাস করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচন এগিয়ে যাবে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নেবে, তাদের সবাইকে সংসদে থাকতে হবে। সংসদে ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে নতুন সংবিধানের জন্য কাজ চলবে। শিক্ষকদের অবশ্যই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা জরুরি, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।

    নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের সংসদ ও সংস্কার পরিষদের সভায় তরুণ সমাজ, শিক্ষক, আলেম, নারী, সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন পেশাজীবী একজনের মতো মিলেই আমরা যে জুলাই সনদের পথে রয়েছি, সেই বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবো। তার আগে অবশ্যই আমাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে এই অর্ডারটি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাতে দিয়ে দিতে হবে।

    আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক শামীম হামিদী।

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আমরা আশা করেছিলাম দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করবেন তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা নিজেরাই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যাতে নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। আজ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সন্ধ্যা ৪টার দিকে নয়াপল্টন থেকে শুরু হয় এই র্যালি, যা কাকরাইল, মালিবাগ, বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশের জন্য কার্যালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছি, তারা আজ নিজেই নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক জোটগুলো গণভোটের জন্য চাপ চাপ দিচ্ছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচন নস্ট করার ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই তা হতে হবে, কোনও পূর্বঘোষণার প্রয়োজন নেই। কারণ, দুটি ভোটের জন্য বহু অর্থের প্রয়োজন হবে, যা অপ্রয়োজনীয়।

    অন্য এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে ইতোমধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তবে কিছু অসৎ দলের ষড়যন্ত্রের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে দাবি করছে যে, ভোটের আগেই গণভট হতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোট নির্বাচন এরই মধ্যে হওয়া উচিত, এটা পরিকল্পিতভাবে নয়।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একগুচ্ছ গণতান্ত্রিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই সংস্কার কার্যপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা করলে বিএনপি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে গেছে, বিভিন্ন দলের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর একসময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

    অন্যদিকে, কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একদল উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দেন যে, তাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে— রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হবে। এতে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের প্রতিনিধিরা কাজ করেছিলেন। তিনি জোড়ালোভাবে বলেন, সব টাকা-খরচের পরও কোনো ফলাফল আসেনি, যা মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে।

    সর্বশেষ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় র‌্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি

    বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি

    গণভোটের পরিকল্পনা সম্পর্কে অপ্রতীক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে এটি কি নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্বাচনের আগের দিন অনুষ্ঠিত হবে, এবং জুলাই মাসে সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা কীভাবে নির্ধারণ হবে—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট জানাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই বিশেষ ইস্যুতে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি নন, এমনটাই জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু বিএনপি এতে আগ্রহী নয়। হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে না। তারপরও আমরা যেকোনো সময় আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছি, প্রয়োজন হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ আলোচনায় যুক্ত করতে চাচ্ছি।

    তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠায়, তখনই বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    নেতাকর্মীদের সাথে সংলাপ ও জনমত প্রকাশের গুরুত্বে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংলাপ ও জনমত দুটোই অপরিহার্য। আলোচনাই একমাত্র পথ নয়—অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো ভয়াবহতা বা সহিংসতা করছে না।

    গণভোটের আয়োজন ও পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভিপি, বা দখলের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একই দিনে দুইটি ভোট নেওয়া গেলে সময়ের ব্যাপারটি জটিল হয়ে দাঁড়াবে, ফলে ভোট গণনা কম হয়ে যেতে পারে। এরপর বলবেন, জনগণ জুলাই মাসের চার্টারকে সমর্থন করেনি।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশের প্রশাসন পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। সুতরাং, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরলে পরবর্তী নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।

  • জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান

    জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত কোনও প্রেশার গ্রুপ নয়, বরং জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে রাজপথে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মতভিন্নতা মেনে নিতে পারি, তবে মতবিরোধের রাজনীতি চাই না। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এক সুন্দর ও পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি। সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি জানিয়েছেন, কিছু নোট অব ডিসেন্ট সহ সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সনদের বাইরে, ফলে সেখানে মতবিরোধ প্রকাশ পায়নি। তবে বাস্তবায়নের সময় মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

    তার ভাষায়, নির্বাচনের সময় নিয়ে কমিশনের পাঁজরা রয়েছে। গণভোটের দিন নির্বাচন যখন হয়, তখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, যেমন ভোটগ্রহণ স্থগিত বা অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, মূলত নির্বাচনে বিজয়ই লক্ষ্য, কিন্তু সময়ে ভোট বন্ধ থাকলে ফলাফলের ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই মূল্যায়ন করে নির্ভরযোগ্য ও সমঝোতামূলক ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    জামায়াত নেতা বলেন, আমরা কি আবার ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো সনদের অনিশ্চয়তা ফেরাতে চাই? গণভোটের আগে যদি প্রশাসন ও নির্বাচনী সংস্থাগুলি সঠিকভাবে কাজ করে, তা দেশের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার। এর মাধ্যমে জনগণ বিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশের জনগণের আস্থা খোয়া গেছে, এখন সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে, অথচ জনস্বার্থে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গণভোটের চেষ্টা অপচয় নয় বলেও দৃঢ় বক্তব্য দেন।

    বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি বসতে রাজি হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা চাইনি রাজনীতি আবার ফ্যাসিবাদী চর্চায় ফিরে যাক। তবে, বিএনপি চাইলে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত।

    হামিদুর রহমান যোগ করেন, জামায়াত সব সময়ই আলোচনা চালিয়ে গেছে। পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রুচির কথা বলেও মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা সহিংসতা সমর্থন করি না, বরং পূর্ণ রাজনীতির ধারায় থাকি।

    তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তন আনা একান্ত প্রয়োজন। তরুণরা কী চায়, সেটিও বুঝতে পেরেছি—তাদের জন্য ভবিষ্যতের দিশা উন্মুক্ত করতে হবে।

  • মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মদান স্মরণ করে ফ্যাসিস্ট রাশিনারা দেশ থেকে পলায়ন করে। এই জয় বাংলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ আরও প্রসারিত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে, কারণ এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রয়োজন।

    তিনি এই বক্তব্য ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ব্যক্ত করেন। এছাড়া, তিনি ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

    তারেক রহমান বাংলাদেশবাসীসহ সকলের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই তারিখে জাতি এক নতুন মোড় নেয়। সেনা-জনতার এই বিপ্লব শুধুমাত্র এক পরিবর্তনসাধক ঘটনা নয়, এটি দেশের আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা। এই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে ।

    তিনি বলছেন, ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের যুবসমাজ জাতীয় মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমে আসে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের সংকল্প নিয়ে। তাই এই দিনটি ইতিহাসে অশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতাত্তোর শাসক গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে একদলীয় বাকশাল গঠন ও গণতন্ত্রের হত্যা।

    তিনি বলেন, বাকশালী সরকার কায়েম করে মানুষের ন্যায়সংগত অধিকারগুলো হরণ করে চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদ্ধতিতে। এর সময়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, জাতীয় মুক্তির ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রাখা হয়। তত্কালীন ক্রান্তিকালে, ৭ নভেম্বর, এই সংকটকালীন সময়ের মধ্যে স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং সাধারণ জনগণের একতারা রাস্তায় নেমে আসে, ফলে জিয়াউর রহমান মুক্তি পান।

    এই পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং গণতান্ত্রিক চেতনা মুক্ত হয়। মানুষ শান্তি অনুভব করে। তবে, আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্টরা স্বার্থান্বেষী হয়ে ১৯৮১ সালে হত্যা করে জিয়াউর রহমানকে। তিনি শাহাদত বরণ করলেও তার আদর্শ এখনও মানুষের মধ্যে জীবন্ত এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, যা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

    তিনি আরও বলেন, আবারো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা নিরীহ নেতা-কর্মীদের দমন করে দীর্ঘ ১৬ বছর গণতন্ত্রকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালায়। এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুর্নীতি এবং অপশাসনের ভয়াল রাজত্ব কায়েম করে।

    তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য প্রিয় নেতাদের বন্দী করে দীর্ঘদিন মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু শাসন প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেন।

    তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য ওপর আঘাত হানার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জন্য, আমি মনে করি, ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়তে হবে। এখনই সময়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

    সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের ভোটাধিকার ও জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঘোষণা করা পাঁচ দফা দাবির জন্য আরও এক বড় পদযাত্রা করছিলেন জামায়াতসহ আটটি ইসলামি ও রাজনৈতিক দল। তবে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। এই ঘটনায় সাংবাদিক ও নেতাকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশাল এক মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দাবি করতে যমুনা নদীর পাড়ে এসে পৌঁছানোর সময় পুলিশ তাদেরকে পেছনে ঠেলে দেয়। এ সময় নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত যমুনার তীরে এসে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

    এর আগে সকাল থেকেই এই দলের নেতাকর্মীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে বিশেষ সমাবেশের জন্য জমায়েত করেন। এই সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন ইসলামি দল ও সংগঠনের নেতারা। নেতারা সেখানে সরকারের কাছে জোর দিয়ে বলেছে, যেন তারা জনগণের ভোটাধিকার ও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে। তারা আরও দাবি করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেন অংকের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি — অর্থাৎ, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু হয়।

    তাদের পাঁচ দফা মূল দাবি হলো: প্রথমত, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন; দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে তোলা; তৃতীয়ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; চতুর্থত, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারী জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দায় স্বচ্ছভাবে যাচাই করে বিচারের ব্যবস্থা করা; এবং শেষমেশ, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি।

    এই চলমান আন্দোলন ও প্রতিবাদে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা, যাতে সরকারের অপপ্রয়াস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ফুটপ্রিন্ট তৈরি হয়।

  • পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    নভেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোট ও জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আন্তঃসরকারি সংলাপের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এতদসত্ত্বেও যদি এই দাবিগুলি মানা না হয়, তাহলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আশু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র নতুন করে বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’ এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে।

    এর আগে ওই দাবিগুলোর জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার পরে, সেখানে তিনি বলেন, ‘উচ্চ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে আগামী ১১ নভেম্বর। তার আগে আমাদের দাবি মানা প্রয়োজন।ósitos নির্দেশনাও প্রদান করা হবে।’

    প্রতিটি দলের নেতা লিয়াজোঁ কমিটি গঠন ও সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগেই, উপদেষ্টা কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর, বিভিন্ন দলের নেতারা ঢাকার জনগণকে মুক্ত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

    ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরসহ অন্য নেতারা বলেন, ‘জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১১ নভেম্বরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালন করব। ঢাকা হবে জনতার শহর, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই চলবে।’

    এদিকে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে জামায়াত ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার পর বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলের মাধ্যমে পুরনো পল্টনে একত্রিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর দুপুর ১২:০৫ মিনিটে তারা যমুনা অভিমুখে পথযাত্রা শুরু করেন।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম দলের মহাসচিব মুসা বিন ইহজার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা, এর ওপর নভেম্বরে গণভোট আয়োজন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে পার্লামেন্টে বা উচ্চ পরিষদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি পদ্ধতি চালু, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব মানুষের জন্য সমান ব্যালেন্স তৈরি, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দ্রুত কাজ করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

  • জামায়াতের আমিরের ঘোষণা: ২০০ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারি সুবিধা নেওয়া হবে না

    জামায়াতের আমিরের ঘোষণা: ২০০ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারি সুবিধা নেওয়া হবে না

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে কেউ একজন এমপি হলে, এমনকি যদি ২০০ জন এমপি নির্বাচন করে তবেও জামায়াত কোনও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে না। তিনি এই ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের এক বিশিষ্ট কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সুধী সমাবেশে।

    শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কেউ কোনও অপকর্মে জড়াবেন না। যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি।

    আমির আরো উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যদি সমাজে ন্যায্যতা ও বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতির জাল কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কারণ, দেশের স্বার্থই সব কিছু থেকে আগে।

    এ সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সিলেট মহানগরের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অতি সম্প্রতি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়ার পর, বুধবার (৫ নভেম্বর) নিজ জন্মভূমি সিলেটে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • তরিকুল ইসলাম ছিলেন অবিচল সংগ্রামী ও কিংবদন্তি নেতা

    তরিকুল ইসলাম ছিলেন অবিচল সংগ্রামী ও কিংবদন্তি নেতা

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে। এরা জনগণের অধিকার হরণ করে ক্ষমতা কুক্ষোতে রাখতে এবং নির্বাচনে বাঁধা সৃষ্টি করে আবারও দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে। তিনি বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদী রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জাতি কখনো মেনে নেবে না।

    বৃহস্পতিবার যশোরের টাউন হলে এক স্মরণসভার বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। এটি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে তরিকুল ইসলাম নামে একজন ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আয়োজন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে, অন্যথায় তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে। দেশের জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে শুরু করে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। জনগণের দলের জন্য দয়া করে দেশ অস্থিতিশীল করবেন না, রাজপথে নামলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেবে।

    সংস্কার কমিশনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে কমিশনটি একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সব দলের মতামত নিয়ে এগোতে চাইলে কিছু বিষয় এখনো সমাধানবিহীন রয়ে গেছে, যার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, কমিশনের এই অপ্রত্যাশিত ধীরগতি দেশের রাজনীতি আর পূর্ণাঙ্গ সমাধান থেকে দূরে রাখছে।

    তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের দিনটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভার হাতে নিয়ে দেশের স্বাধিকার রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই ইতিহাসের মহান অর্জন স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে সবার ঐক্যকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলতে থাকে, তার ফল নেতিবাচক হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের গণতন্ত্র আবার দৃঢ় হয়েছে। সেই গণতন্ত্রের পত পত পত স্বরূপের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় ইতিহাসের এমন দিনগুলোর গুরুত্ব আমরা গভীরভাবে জানি। ফলে যেসব চক্রান্ত বা পরিকল্পনায় দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে, সেগুলো প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    মির্জা ফখরুল আরও জানান, তরিকুল ইসলাম ছিলেন সার্বক্ষণিক সংগ্রামী ও আদর্শপরায়ণ নেতা। তিনি মা, পতিতা ও দেশের মুক্তির জন্য নিবেদিত ছিলেন। কখনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের জন্য দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করেছেন, তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার দেখার সৌভাগ্য পাননি। আজকের প্রজন্মের জন্য তার মতো নেতাদের প্রয়োজন রয়েছে।

    শেষে তিনি মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং যশোর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রাথমিক প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি ধানের শীষে ভোট প্রত্যাশা করেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক টিএস আইয়ুব, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ প্রজামাণ্য পেশাজীবী ব্যক্তিরা।

    উল্লেখ্য, এই স্মরণসভা ঐতিহাসিক জনসভায় রূপ নিয়েছে, যেখানে নেতৃবৃন্দ তরিকুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাশাপাশি রাজনীতি ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।