Category: রাজনীতি

  • একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় দেশজুড়ে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আন্দোলনরত আট দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে বরং একটি দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্তে কাটছাঁট করছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে সেই ঘোষণা, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তগুলোতে সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই গুরুত্ব এখন আর থাকছে না বলে মনে করছেন দলের নেতারা। একইসঙ্গে তারা অন্তত তিনজন উপদেষ্টার অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন, যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এঁরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো ব্যক্ত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোয়াল্লামিনের ন্যায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জনগণ আশা করেছিলেন, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সম্পূর্ণ ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ অনুযায়ী, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অংশ বাদ পড়েছে এবং একটি দলের আপত্তি মেনে নিয়ে সরকার বড় ধরনের কম্প্রোমাইজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নেপথ্যে সরকার নিরপেক্ষতা থেকে সরে এসে একটি দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সংস্কার প্যাকেজের ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ:
    সংস্কার কমিশন প্রথমে বলেছিল, সকল সংস্কার উপাদান একসঙ্গে গণভোটে যাবে। কিন্তু এবার প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী, এটি চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ডা. তাহেরের মতে, এতে ভোটারদের জন্য বিষয়গুলো বোঝা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। নেতারা মনে করছেন, এই বিভাজন বিএনপি বা অন্য কোনো দলের কৌশল—এটা কমিশনের মূলনীতির বিরুদ্ধ, এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট।

    অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব দিকনির্দেশনাও রয়েছে, যার মধ্যে একটি বলছে, পরবর্তী সরকার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা গৃহীত বলে গণ্য হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দিকনির্দেশনা ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি, যা আবার বিএনপি বা অন্যদের মনে আস্থা কমাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ডা. তাহের শেষমেশ সরকারের এই সদিচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অন্তত সাংবিধানিকভাবে সংবিধানে সংশোধন করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বহু দিন ধরে আট দল চেয়েছিল।

    গণভোট ও নির্বাচনের একই দিনে হওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা:
    অত্যন্ত বিপরীত মতামত দিয়ে, ডা. তাহের জানান, দেশের অধিকাংশ মানুষ চাইছিলেন— আগে গনভোট হয় এবং আলাদা দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো যে, দুই ঘটনা একসাথে হবে— যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, একদিনে ভোটের পরিকল্পনা থাকলে, দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, ফলে গণভোটে অংশগ্রহণ কম হতে পারে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ওই ব্যক্তি বা দলগুলো বলবে— জনগণ আসলে সংস্কার চায় না। এটি একটি কূটপ্রকল্প বা ফাঁদ বলেও তিনি মানছেন।

    তাঁর দাবি,তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আলাদা দিনে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করতে হয়।

    নিরপেক্ষতা প্রশ্নে সংশয় এবং উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি:
    তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন আর নিরপেক্ষ নয়, বরং নির্দিষ্ট দলের অনুসারী ব্যক্তিদের প্রশাসনে নিয়োগের মাধ্যমে অবস্থান বদলে চলছে। তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টাকে প্রধান উপদেস্টার ভুল পথে পরিচালিত করছেন, তাদের অপসারণ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

    সংস্কার ও নির্বাচনের একসাথে চলার ব্যাপারে ডা. তাহের সহজভাবে এরূপ তুলনা করেন— যেন আপনি কোনও বই কেনার জন্য দোকানে গিয়ে, দোকানদার পুরো বাজারের তালিকা দেখিয়ে বলছে, “এটা নাও, এটা নাও”। সবাই উপকরণ বা বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, কিন্তু মূল বিষয়ের গুরুত্ব হারিয়ে গেছে।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য ফারাক্কা, তিস্তা এবং অন্যান্য পানিবণ্টন ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের দাদাগিরি না চলায়, সেটি বন্ধ করতে হবে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘পদ্মা বাঁচাও গণসমাবেশ’-এর আগে মহানন্দা রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। যদি বিএনপি জনগণের ভোটে দায়িত্বে আসে, তখন তারা ফারাক্কা, তিস্তা ইস্যুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিবে।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটি ইচ্ছে করলে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাই এখন আরও বেশি সহযোগিতা দরকার।

    আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে पिछले সরকারের সময় ভারত আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তারা আমাদের অনেক কিছু নিয়ে গেছে, বিনিময়ে কিছু দেয়নি। এটা বিএনপি বা হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। পানির হিস্যা, সীমান্তে হত্যা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের জোর দিতেই হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। তবে ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করাও আমাদের আবশ্যক।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, কিছু দল বিএনপিকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এরা রাজনীতিতে ফায়দা নিতে চায় এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দেশের বা দলের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে; কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এই ক্ষমতা পরিবর্তন বা দেশের সার্বভৌম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও পরিষ্কার নয় বলে তিনি মনে করেন। সরকার বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি করেছে, কিন্তু এই আদেশ পর্যালোচনার সময় তিনি লক্ষ্য করেছেন নানা অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকর বিষয়। তিনি জানান, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সরকার এই সনদে তৈরি হওয়া সংকট আর অস্পষ্টতাগুলো সুচারুভাবে সমাধান করবে এবং খুবই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে কীভাবে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে। তবে, আদেশ জারির পরও কিছু জায়গায় স্পষ্টতার অভাব থেকে গেছে, যার কারণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে, এই সনদ সুষ্ঠুভাবে কার্যকরী হবে কিনা।

    শুক্রবার রাতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রসঙ্গসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বেশ বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। কিছু সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখানো হয়েছে এবং রাজনীতির বিবেচনায় আলাদা করে দেখা হচ্ছে।’

    তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু, বর্তমান সনদে এর ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু উল্লেখ করা হয়নি, যা একটি বড় অস্পষ্টতার সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ স্তরের গঠনও নিয়ে প্রশ্ন আছে। নতুন উচ্চকক্ষের সদস্যদের প্রত্যেকের তালিকা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের অর্থ সম্ভবত এই যে, পরবর্তীকালে তালিকা প্রকাশ বা নির্বাচনের সময় নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু, এই বিষয়গুলোও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাইছিলাম, এই সনদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু, যে ভাগে ভাগ করে গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয় আংশিকভাবে কার্যকর হবে এবং কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই আদেশে কোন সময়সূচি নির্ধারিত নেই, তাই যদি এই সব সংস্কার যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কী ফলাফল হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। আমাদের দল এ ব্যাপারে আগেও দাবি জানিয়েছে, যেন গণভোটের ফলাফল বাধ্যতামূলক থাকে এবং কেউ সেই ফল থেকে সরে না যায়।’

    তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের ত্বরিফে জানান, অবিলম্বে এই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাখ্যা ও অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে করতে হবে। সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং এই সংকট নিরসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডাঃ তাসনিম জারা, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

  • আল্লাহ রসুলের মানতে না পারা মুসলিম হতে দেয় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    আল্লাহ রসুলের মানতে না পারা মুসলিম হতে দেয় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ясনিয়েছেন, যারা আল্লাহর রাসূলকে মানে না, তারা কখনো মুসলিম হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এই বিষয়ে একমত। যদি রাজনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও খতমে নবুয়ত সংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, আল্লাহ এক এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী। মুসলিম জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি ও দুর্বলতার কারণেই বর্তমানে ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি দেশবাসী এবং সবাই এগিয়ে আসেন, তবে বিএনপি আইনিভাবে খতমে নবুওয়ত সংশ্লিষ্ট দাবির বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের জন্য বিএনপি মুসলিম মনে করে না।

    সম্মেলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী জানান, এই মহাসম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছে, যাতে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি এবং খতমে নবুওয়ত রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সম্মানিত আলেমগণ অংশ নেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি ফজলুর রহমান, ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    এই মহাসম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে, এর তত্ত্বাবধান করে খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশী আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • জামায়াতের শর্ত: ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা হবে

    জামায়াতের শর্ত: ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে দেশের মুসলমান এবং মুসলিম বিশ্বে কেউ দ্বিমত পোষণ করছেন না। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই সমাবেশে সার্বজনীনভাবে বাংলাদেশের মুসলমানরাই নয়, বরং গোটা মুসলিম পৃথিবীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। উচ্চারিত হয়েছে একটাই বক্তব্য— কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার ব্যাপারে সবাই একমত।

    তিনি আরও যোগ করেন, রাসুলুল্লাহ সা. বহু হাদিসে বলেছেন— তিনিই শেষ নবী, এরপর আর কোনো নবী আসবেন না। এই বিশ্বাসই ইসলামি উম্মাহের ঐক্যবদ্ধ মূল ভিত্তি। যদি বাংলাদেশর জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

    এ দাবিতে অনুষ্ঠিত এই মহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের আলেমরা। এটাই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।

    মঞ্চে ছিলেন জাতীয় নেতারা ও শীর্ষ আলেমরা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক প্রমুখ।

    অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান ও মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম সহ আরও অনেক আলেম ও বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন।

    মহাসম্মেলনের সভাপতিত্বে ছিলেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির, পীর মো: আবদুল হামিদ।

  • আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি, যা আওয়ামী লীগ গত ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করেছিল। এই কর্মসূচিকে বাধা দেওয়ার জন্য, চারঠা দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আজ রাজপথে উপস্থিত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকলে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির সমস্ত নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী রাস্তায় নামবেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদ বিরোধী ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে একত্রিত করে শক্তি প্রদর্শন করা।

    অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেখানে আজ এই দলগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং জনগণকে রাজপথে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির সফলতা ও গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং আট দলের নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

  • গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোটের বিষয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তাতে দেশবাসীর প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে স্বচ্ছ ও সংকটমুক্ত নির্বাচন পূর্বাভাসের আশা করছিলেন সাধারণ মানুষ, কিন্তু আসলে সেটি সম্পন্ন হয়নি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোটের জন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটপেপার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে “হ্যাঁ” বা “না” ভোটের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা স্পষ্ট নয়। গণভোট ও নির্বাচনের ব্যালটের প্রকৃতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে ভাষণে যথেষ্ট ব্যাখ্যা বা স্পষ্টতা ছিল না।

    তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ে জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও এ সংক্রান্ত আদেশের ওপর ভিত্তি করে নভেম্বর মাসে গণভোটের আয়োজনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দেশের মধ‍্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ঝামেলা ও বিভ্রান্তি বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

    গেল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বস্ত দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামোতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে অন্যরা ছিলেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নেতা সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তর বিভাগের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, দক্ষিণ বিভাগের নায়েবে আমির অ্যাড. ড. হেলাল উদ্দিন ও মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

    গোটা আলোচ্য বিষয় হলো, দুইটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে, যা দেশের বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ বিশ্লেষণ করেছেন।

  • বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তাঁরা বিশেষ করে ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ব্যক্ত করে।

    অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা গুলশানে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

    সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনের দিন গণভোটের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

    ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, ১৭ অক্টোবর ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংবিধানের ওপর জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন ও শিগগিরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জুলাই মাসে সরকারের সিদ্ধান্তে গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে, কয়েকটি বাম ঐক্যধারার রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং সংবিধানের বাইরেও বলে মত প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার ভাষণের পর তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ এবং সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

    উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, তিনি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যা রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরে নিশ্চিত হয়েছে। তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং আদেশ জারি করা সংবিধানের বৈধতা না থাকায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ ও সাংঘর্ষিক।” তিনি আরো যোগ করেন, “গণভোট সম্পূর্ণরূপে সংবিধানবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয়, এর কোনও বাস্তবায়ন হওয়া উচিত না।”

    বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐকমত্য কমিশনের প্রধান একই ব্যক্তি, এটা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। গণভোটের প্রয়োজন নেই, এটা অর্থনৈতিকভাবে অসমর্থ এবং গরিব দেশে এর কোনও কোনোটাই দরকার নেই।“ তিনি বললেন, “এই গণভোট অপরিহার্য নয়, এর কোনও আইনি ভিত্তিও নেই। জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল না। এটির কোনও মূল্য নেই এবং সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের কোন বাস্তবতা নেই।”

    ফিরোজ আরও যোগ করেন, “বর্তমানে জনগণের মনোযোগ নির্বাচন কমিশন ও আগামী ভোটের দিকে, গণভোটে নয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় কোনও মন্তব্য না থাকা উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক দলগুলো এই সংক্রান্ত আলোচনা অগ্রাহ্য করেছেন এবং এখন মূল মনোযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায়।“

    বাসদ মার্কসবাদীর মাসুদ রানা বলেন, “নোট-অফ-ডিসেন্টও এড়িয়ে গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাও উপেক্ষা করা হয়েছে। চারটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটিতে সবাই একমত হলেও, একটিতে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগও থাকছে না। ফলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

    সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “সংবিধানে গণভোটের উপায় না থাকায় এখন এ বিষয়ে কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, গণভোটের দরকার নেই।”

    প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “গণভোট অপ্রয়োজনীয় এবং এর জন্য সংবিধানেও কোনও স্থান নেই। জাতীয় নির্বাচন বাদ দিয়ে অন্য কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাগুলো অগ্রহণযোগ্য, এসবের পক্ষে সংগঠন বা ব্যক্তির কোন সমর্থন নেই।”

    অবশেষে, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, “বর্তমানে সরকার এই বিষয়ে মতামত দিচ্ছে না এবং তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। এটা অগত্যা যে কোনও প্রতিক্রিয়া জারি করার আগে প্রক্রিয়াটি সবার কাছে পরিষ্কার করা দরকার।”

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বছর কৃষকরা সম্ভবত আলু নিয়ে বেশ বিপাকের মুখে পড়েছেন। এক একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গেলে রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যয় করে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাবে। এই পরিস্থিতিতে, চাষিদের জন্য আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া খুব জরুরি, গণভোটের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল যদি মনে করে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্বল এবং ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারে; বা জনগণের ভোটে বিএনপি জয় যেন রুখে দেওয়া যায়; তাহলে তা নিজের জন্য ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করলে উল্টো ফল হতে পারে।

    রাজপথের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টায় লিপ্ত, দয়া করে সেটা বন্ধ করুন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের প্রতি তিনি সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।

    তিনি আরো বলেন, বেশ কিছু দল বর্তমানে বিভিন্ন অজুহাতে জাতীয় নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা নিয়ে সুযোগ নিয়ে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চাকা ধাক্কা দিতে চাইছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, ভোটের মুখোমুখি হলেও দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে।

    তারেক রহমান আলু চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। এ বছর আলুর উৎপাদন ও সংগ্রহে খরচ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা কেজিতে পড়েছে। কিন্তু এখন চাষিরা বাজারে এই আলু বিক্রি করতে পারছেন অর্ধেক দামে বা তেমন লাভ নয়। ফলে, এ বছর কৃষকরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। রাষ্ট্রের জন্য এই আলুর ভাণ্ডার সংগ্রহ ও বিক্রির জন্য বাজেটে বিশাল টাকা ব্যয় করতে হবে, যা চাষিদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন—বিশ্বের মধ্যে সম্ভবত বাংলাদেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি যেন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মৌলিক সংস্কার শুরু করেছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার পিতার কাজের দিক থেকে শুরু করে অগ্রগতি আরো এগিয়ে নিয়ে যান; আমরা সব সময় আপনাকে সহযোগিতা করব।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    সভাপতিত্ব করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এপি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।